📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবাকারী গুনাহগারের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইস্তিগফার

📄 তাওবাকারী গুনাহগারের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইস্তিগফার


عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِي، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِلِصٌ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ، قَالَ: بَلَ، فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ وَجِيءَ بِهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ ثَلَاثًا
“হজরত আবু উমাইয়া মাখযুমী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে একজন চোরকে আনা হল, যে চুরির স্বীকারোক্তি দিয়েছে কিন্তু তার নিকট চুরির কোন মালামাল পাওয়া যায়নি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাকে বললেন-আমার মনে হয় না যে, তুমি চুরি করেছো। সে বলল, কেন মনে হবে না। আমি অবশ্যই চুরি করেছি। এমনিভাবে সে দুই বার অথবা তিন বার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে স্বীকারোক্তি দিল। অতঃপর তার উপর দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করা হল তথা তার হাত কেটে ফেলা হল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আনা হল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবা কর। তখন সে বলল- أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ তথা আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বার বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তার তাওবা কবুল করুন。 "[৪৩]

টিকাঃ
[৪৩] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৩৮০; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৪৮৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহঃ হাদিস নং ২৫৯৭: সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২২৫০৮

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মুস্তাজাবুদ-দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ার সুসংবাদ

📄 মুস্তাজাবুদ-দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ার সুসংবাদ


অন্যের জন্য ইস্তিগফার করলে মুস্তাজাবুদ-দাওয়াত তথা দু'আ কবুল হওয়া ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুসংবাদ
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً أَوْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً كَانَ مِنَ الَّذِينَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ وَيُرْزَقُ بِهِمْ أَهْلُ الْأَرْضِ
"হজরত আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য দৈনিক সাতাইশ অথবা পঁচিশ বার ইস্তিগফার করবে, তাহলে তাকে ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা মুস্তাজাবুদ-দাওয়াত তথা যাদের দু'আ কবুল করা হয় এবং যাদের কারণে জমিনবাসী রিজক পেয়ে থাকে। "[৪৪]

টিকাঃ
[৪৪] তাবরানীয় সূত্রে মাজমাউয-যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৬০০; জামেউস-সগীর: হাদিস নং ৮৪২০

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অন্যের জন্য ইস্তিগফারের উপর অসংখ্য নেকি

📄 অন্যের জন্য ইস্তিগফারের উপর অসংখ্য নেকি


عَنْ عُبَادَةَ بْنِ صَامِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ يَقُولُ: مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ حَسَنَةٌ
"হজরত উবাদা ইবনে সামিত রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ইস্তিগফার করবে, তার জন্য প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর পরিবর্তে নেকি লিখে দেওয়া হয়। "[৪৫]

টিকাঃ
[৪৫] প্রাগুক্ত: হাদিস নং ১৭৫৯৮; প্রাগুক্ত: হাদিস নং ৪৮১৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মৃতদের জন্য জীবিতদের হাদিয়া

📄 মৃতদের জন্য জীবিতদের হাদিয়া


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا الْمَيِّتُ فِي الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيْقِ الْمُتَغَوَثِ؛ يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُهُ مِنْ آب وَ أَمْرٍ أَوْ آخِ أَوْ صَدِيقٍ؛ فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا مِنْهَا، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيُدْخِلُ عَلَى أَهْلِ الْقُبُوْرِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الْاسْتِغْفَارُ لَهُمْ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- কবরে মৃত ব্যক্তির উপমা হল ঐ ব্যক্তির মত, যে ঢুবে যাচ্ছে এবং সাহায্যের জন্য ডাকছে। ডুবন্ত ব্যক্তি যেভাবে সাহায্যের অপেক্ষা করে থাকে ঠিক তেমনি মৃত ব্যক্তিও অপেক্ষায় থাকে যে, ছেলে-মেয়ে কিংবা ভাই-বেরাদার কিংবা বন্ধু-বান্ধবের পক্ষ থেকে কোন দু'আর হাদিয়া পৌঁছার। যখন সে কোন দু'আ হাদিয়া পায়, তখন এটা তার নিকট দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে প্রিয় হয়ে থাকে। আর বাস্তবতা হল-আল্লাহ তা'আলা কবরবাসীকে দুনিয়াবাসীর দু'আসমূহ পাহাড়ের ন্যায় বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকেন। আর জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের জন্য হাদিয়া হল তাদের জন্য ইস্তিগফার করা।”[৪৬]

টিকাঃ
[৪৬] বায়হাকীর সূত্রে মিশকাতুল মাসাবিহ; কিতাবুদ দাওয়াত: ইস্তিগফার ও তাওবা অধ্যায়: হাদিস নং ২৩৫৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px