📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানো

📄 অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানো


আল্লাহ তা'আলা ইমানকে আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দিন। এখন একটি কথা শুনুন! যে ব্যক্তি ইমান অবস্থায় কোন সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুর সংশ্রব পেয়েছেন এবং পুনরায় ইমানের উপর মৃত্যু হয়েছে, তাদেরকে তাবেঈন বলা হয়। আর উক্ত তাবেঈনদের সর্দার কে ছিলেন? হজরত উয়াইস করনী রাহি, সহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। যেমন হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রাহি প্রমুখ। মূলত কেউ ছিলেন ইলমের সর্দার। কেউ ছিলেন যুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে। আবার কেউ অন্য কোন ক্ষেত্রে। হজরত উয়াইস করনী রাহি, খাইরুত-তাবেঈন ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন। নিজ মায়ের শারীরিক অক্ষমতা ও খিদমতের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হতে পারেননি। তাঁর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে এবং ঘটনা অনেক আকর্ষণীয়। ঐ আকর্ষণীয় ঘটনায় ঢুবে যেওনা। আসল কথা আরজ করছি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুকে হজরত উয়াইস করনী রাহি. এর নিদর্শন বর্ণনা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তোমার যদি তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়, তাহলে তাঁকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করাবে এবং আমার উম্মতের জন্যও ইস্তিগফার করাবে।

হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতের যামানায় অনেক কষ্ট করে তাঁকে খুঁজে বের করেছেন এবং নিজের জন্য ও উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করিয়েছেন। একটু ভাবুন তো! ইস্তিগফার কত বড় বস্তু। নির্দেশদাতা কে? যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি কে? একজন মহান খলিফা বহু বছর যাবৎ একজন ফকিরকে খুঁজেছেন। কিন্তু কেন? তাবিজের জন্য? না। শুধুমাত্র ইস্তিগফার করানোর জন্য। বস্তুত তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছিলেন এবং অনেক ফজিলতের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু ইস্তিগফার তো ইস্তিগফারই। এর দ্বারা এ কথা জানা গেল যে, ইস্তিগফার পাওয়ার একটি পদ্ধতি হল-আল্লাহ ত'আলার প্রিয় বান্দাদেরকে দিয়ে ইস্তিগফার করানো এবং নিজেও অন্যদের জন্য ইস্তিগফার করা। আমি আমার নিজের জন্য, আপনাদের সকলের জন্য এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফার করছি-
اسْتَغْفِرُ اللهَ لِي وَلَكُمْ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অন্যদের জন্য ইস্তিগফার

📄 অন্যদের জন্য ইস্তিগফার


যেখানে এমনিতেই মুসলিম উম্মাহর মাঝে ইস্তিগফারের ব্যাপারে ব্যাপক অলসতা রয়েছে। সেখানে অন্যদের জন্য ইস্তিগফার করার বিষয়টি তো অনেক দূরের কথা। বস্তুত সকলেই দিন-রাত শুনে থাকে যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুকে হজরত উয়াইস করনী রাহি. এর নিদর্শন বর্ণনা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তোমার যদি তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়, তাহলে তাঁকে দিয়ে নিজের জন্য এবং আমার উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করাবে। একটু ভাবুন তো! নির্দেশদাতা কে এবং যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি কে? অতঃপর হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতের যামানায় দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ চেষ্টা করার পর হজরত উয়াইস করনী রাহি.-কে খুঁজে বের করেছেন এবং নিজের জন্য ও উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করিয়েছেন। বর্তমানে আপনি কোন বুজুর্গ কিংবা কোন নেককার লোকের নিকট গিয়ে বলুন যে, আমি আপনার জন্য ইস্তিগফার করছি। তখন তার চেহারার রঙই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর বলবে আমি এমন কি গুনাহ করেছি যে, তুমি আমার জন্য ইস্তিগফার করছ? বুঝা গেল যে, বর্তমানে ব্যাপকভাবে মুসলমানদের মাঝে ইস্তিগফারের মর্যাদা নেই। এমনিভাবে আপনি কারো নিকট গিয়ে আবেদন করুন যে, আমার জন্য ইস্তিগফার করে দিন। সে ঘুরে-ফিরে দেখবে যে, এখন আপনি কোন মদ্যশালা থেকে এসেছেন কিনা? বুঝা গেল যে, ইস্তিগফার থেকে বঞ্চিত হওয়া আমাদের সাধারণ মেজাযের অংশ হয়ে গেছে। বস্তুত কুরআনুল কারিমের বেশ কয়েকটি আয়াতেই অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা এবং অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানোর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবাকারী গুনাহগারের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইস্তিগফার

📄 তাওবাকারী গুনাহগারের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইস্তিগফার


عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِي، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِلِصٌ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ، قَالَ: بَلَ، فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ وَجِيءَ بِهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ ثَلَاثًا
“হজরত আবু উমাইয়া মাখযুমী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে একজন চোরকে আনা হল, যে চুরির স্বীকারোক্তি দিয়েছে কিন্তু তার নিকট চুরির কোন মালামাল পাওয়া যায়নি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাকে বললেন-আমার মনে হয় না যে, তুমি চুরি করেছো। সে বলল, কেন মনে হবে না। আমি অবশ্যই চুরি করেছি। এমনিভাবে সে দুই বার অথবা তিন বার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে স্বীকারোক্তি দিল। অতঃপর তার উপর দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করা হল তথা তার হাত কেটে ফেলা হল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আনা হল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবা কর। তখন সে বলল- أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ তথা আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বার বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তার তাওবা কবুল করুন。 "[৪৩]

টিকাঃ
[৪৩] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৩৮০; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৪৮৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহঃ হাদিস নং ২৫৯৭: সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২২৫০৮

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মুস্তাজাবুদ-দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ার সুসংবাদ

📄 মুস্তাজাবুদ-দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ার সুসংবাদ


অন্যের জন্য ইস্তিগফার করলে মুস্তাজাবুদ-দাওয়াত তথা দু'আ কবুল হওয়া ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুসংবাদ
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً أَوْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً كَانَ مِنَ الَّذِينَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ وَيُرْزَقُ بِهِمْ أَهْلُ الْأَرْضِ
"হজরত আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য দৈনিক সাতাইশ অথবা পঁচিশ বার ইস্তিগফার করবে, তাহলে তাকে ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা মুস্তাজাবুদ-দাওয়াত তথা যাদের দু'আ কবুল করা হয় এবং যাদের কারণে জমিনবাসী রিজক পেয়ে থাকে। "[৪৪]

টিকাঃ
[৪৪] তাবরানীয় সূত্রে মাজমাউয-যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৬০০; জামেউস-সগীর: হাদিস নং ৮৪২০

ফন্ট সাইজ
15px
17px