📄 ঈমানদারদের জন্য ফেরেশতাদের ইস্তিগফার
এখন আসুন ইমানদারদের জন্য ফেরেশতাদের ইস্তিগফারের দিকে। এটা পবিত্র কুরআনের দুই জায়গায় আছে-
প্রথম আয়াত: الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
"যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ইমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে (ইস্তিগফার করে) বলে-হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আজাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন।"[৩৭]
এ আয়াতে হামালাতুল আরশ তথা আরশ বহনকারী মহান ও নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের আলোচনা করা হয়েছে। তারা ইমানদারদের জন্য ইস্তিগফার করে। এখন আপনারা নিজেরাই চিন্তা করুন যে, এই ইস্তিগফারের আমল আল্লাহ তা'আলার কতটা প্রিয়। সুতরাং আসুন বিলম্ব না করে আজ হতে এই আমলটি শুরু করে দেই। খুব মনোযোগ ও আন্তরিকতার সাথে সকল ইমানদারদের জন্য চাই জীবিত হোক কিংবা মৃত, দৈনিক সকাল-বিকাল ইস্তিগফার করি। যত অধিক হবে তত ভাল। আর না হয় অন্তত কমপক্ষে দৈনিক ২৭ বার। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে। এমনিভাবে ফেরেশতারা আল্লাহ তা'আলার তাসবিহ ও তাহমিদও করেন এবং পৃথিবীবাসীর জন্য ইস্তিগফারও করেন।
দ্বিতীয় আয়াত: تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“উপর থেকে আসমান ফেটে পড়ার উপক্রম হয়; আর ফেরেশতারা তাদের রবের প্রশংসায় তাসবিহ পাঠ করে এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; জেনে রেখ, আল্লাহ, তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"[৩৮]
এই দুটো আয়াতের তরজমা একবার মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলে এ বিষয়ের গুরুত্ব অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যাবে। এ বিষয়টিকে আরও অধিক গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় হাবীব ও সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন-
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ
"অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও তোমার ও মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং নিবাস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। "[৩৯]
এটা উম্মতের জন্য অনেক বড় শিক্ষা যে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর উপর দৃঢ়পদ ও উন্নতির জন্য নিজের জন্যও খুব ইস্তিগফার করা এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্যও ইস্তিগফার করাকে নিজের নিয়মিত আমলে পরিণত করুন। বুঝা গেল যে, নিয়মিত ইস্তিগফার করা অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ আমল।
টিকাঃ
[৩৭] মু'মিন- ৪০: ৭
[৩৮] শুরা- ৪২: ৫
[৩৯] মুহাম্মাদ- ৪৭: ১৯
📄 নিজের বন্ধু-বান্ধব ও ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করা
এখন আসুন নিজের বন্ধু-বান্ধব ও ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করার দিকে। এটাও পবিত্র কুরআনের দুই জায়গায় আছে-
প্রথম আয়াত: فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نَفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكَّلِينَ
"অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে: রহমতের কারণেই আপনি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলেন। আর যদি আপনি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন, তখন আল্লাহ তা'আলার উপর তাওয়াক্কুল করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন। "[৪০]
এ আয়াতটি গাজওয়ায়ে ওহুদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। অনেক পেরেশানি ও ভয়ভীতির সময় ছিল। মুসলিম বাহিনী কষ্ট ও বেদনায় জর্জরিত ছিল। সাথে এ দুঃখবোধও ছিল যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবাধ্যতা হয়েছে। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
দ্বিতীয় আয়াত: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَبِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأَذَن لِمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
। "মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ইমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় আপনার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ইমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা আপনার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে আপনার যাকে ইচ্ছা আপনি অনুমতি দিন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।"[৪১]
এ আয়াতে বড় দুটি শিক্ষা রয়েছে। একটি হল, সম্মিলিত কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার নিয়ম। সম্মিলিত কাজ থেকে কেউই অনুপস্থিত না থাকা। আর যখন কোন ব্যক্তি কোন উজরের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ছুটি কিংবা অব্যাহতি চাইবে, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে ইচ্ছা অব্যাহতি দেবেন। এখন যেহেতু ছুটি নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মা'জুর তথা অক্ষম তাই সম্মিলিত আমলের সৌভাগ্য থেকে সে বঞ্চিত হল। তবে যেহেতু সে উজরের কারণেই গিয়েছে তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য ইস্তিগফার করবেন। বুঝা গেল যে, ইস্তিগফারের বরকতে অনেক কাজের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর দ্বিতীয়টি হল, যিনি কোন দেশের কিংবা জামাতের অথবা প্রতিষ্ঠানের অথবা বংশের বড় হবেন, তিনি তার অধীনস্ত ও অনুসারীদের জন্য ইস্তিগফার করা। বর্তমানে কি এ কাজটি কেউ করেন? প্রিয় পাঠক! সৌভাগ্যের পথকে বুঝুন এবং অবলম্বন করুন। আজ বড়রা ছোটদেরকে দুর্বল মনে করছে এবং ছোটরা বড়দেরকে বোঝা মনে করছে। যেখানে উভয় পক্ষের জন্যই ইস্তিগফারের মত উপহার এবং আমলের নির্দেশ রয়েছে。
টিকাঃ
[৪০] আলে-ইমরান-৩: ১৫৯
[৪১] নূর- ২৪: ৬২
📄 ছোটরা বড়দের জন্য ইস্তিগফার করা
পবিত্র কুরআনে ছোটদের পক্ষ থেকে বড়দের জন্য ইস্তিগফারের নির্দেশ এসেছে। মালে ফাই তথা বিনাযুদ্ধে অর্জিত সম্পদ বণ্টনের খাত বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের শত্রুরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাদের থেকে বিনাযুদ্ধে শুধুমাত্র মুসলিম বাহিনীর ভয় ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে যে সম্পদ মুসলমানরা পেয়ে থাকে, তাকে শরিয়াতের পরিভাষায় "মালে ফাই" বলা হয়। এর বিধান পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান। কিন্তু বর্তমান মুসলমানরা এ সম্পদ ভোগ করতে পারে না। আর এটা একমাত্র জিহাদ ত্যাগ করার পরিণাম। আল্লাহ তা'আলা এই মালে ফাইয়ের বণ্টনের খাত বর্ণনা করতে গিয়ে ঐ সকল লোকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা পরে ইমান গ্রহণ করেছেন। তবে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য এমন কল্যাণকামী যে, তাদের জন্য ইস্তিগফার করে থাকে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
"(মালে ফাই, তাদের জন্যও) যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে; হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ইমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ইমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।"[৪২]
এ আয়াতে পরবর্তীতে আগত এবং ছোটরা তাদের বড়দের জন্য ইস্তিগফার করছে এবং আল্লাহ তা'আলা এই আমলটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। বর্তমানের পরবর্তীরা এবং ছোটরাও কি এই বরকতময় আমলটি জীবিত করবে? প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফার একটি আশ্চর্য নি'আমত। বান্দাকে রবের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয় এবং স্বয়ং মুসলমানদের মাঝেও পরস্পর একতা ও মহব্বত সৃষ্টি করে দেয়।
টিকাঃ
[৪২] হাশর-৫৯: ১০
📄 অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানো
আল্লাহ তা'আলা ইমানকে আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দিন। এখন একটি কথা শুনুন! যে ব্যক্তি ইমান অবস্থায় কোন সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুর সংশ্রব পেয়েছেন এবং পুনরায় ইমানের উপর মৃত্যু হয়েছে, তাদেরকে তাবেঈন বলা হয়। আর উক্ত তাবেঈনদের সর্দার কে ছিলেন? হজরত উয়াইস করনী রাহি, সহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। যেমন হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রাহি প্রমুখ। মূলত কেউ ছিলেন ইলমের সর্দার। কেউ ছিলেন যুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে। আবার কেউ অন্য কোন ক্ষেত্রে। হজরত উয়াইস করনী রাহি, খাইরুত-তাবেঈন ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন। নিজ মায়ের শারীরিক অক্ষমতা ও খিদমতের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হতে পারেননি। তাঁর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে এবং ঘটনা অনেক আকর্ষণীয়। ঐ আকর্ষণীয় ঘটনায় ঢুবে যেওনা। আসল কথা আরজ করছি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুকে হজরত উয়াইস করনী রাহি. এর নিদর্শন বর্ণনা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তোমার যদি তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়, তাহলে তাঁকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করাবে এবং আমার উম্মতের জন্যও ইস্তিগফার করাবে।
হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতের যামানায় অনেক কষ্ট করে তাঁকে খুঁজে বের করেছেন এবং নিজের জন্য ও উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করিয়েছেন। একটু ভাবুন তো! ইস্তিগফার কত বড় বস্তু। নির্দেশদাতা কে? যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি কে? একজন মহান খলিফা বহু বছর যাবৎ একজন ফকিরকে খুঁজেছেন। কিন্তু কেন? তাবিজের জন্য? না। শুধুমাত্র ইস্তিগফার করানোর জন্য। বস্তুত তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছিলেন এবং অনেক ফজিলতের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু ইস্তিগফার তো ইস্তিগফারই। এর দ্বারা এ কথা জানা গেল যে, ইস্তিগফার পাওয়ার একটি পদ্ধতি হল-আল্লাহ ত'আলার প্রিয় বান্দাদেরকে দিয়ে ইস্তিগফার করানো এবং নিজেও অন্যদের জন্য ইস্তিগফার করা। আমি আমার নিজের জন্য, আপনাদের সকলের জন্য এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফার করছি-
اسْتَغْفِرُ اللهَ لِي وَلَكُمْ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ