📄 একটি কথা বলুন তো!
সত্য করে একটি কথা বলুন তো! আপনি কখনো আপনার পিতার নিকট নিজের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করেছেন? আহ! কত মাতা-পিতা তো চলেই গেছেন কিন্তু যাদের নিকট এখনো এই মূল্যবান সম্পদ বিদ্যমান, তারা কবে এই মূল্যবান সম্পদ থেকে এ মহান উপকার লাভ করেছে। হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা! সন্তানের জন্য মাতা-পিতার ইস্তিগফার অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। ভয় ও রেওয়াজ হিসেবে নয়। অনুশোচনা ও আবেদনের দৃষ্টিতে নিজের প্রয়োজন মনে করেই মাতা-পিতাকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করিয়ে নিন এবং করাতেই থাকুন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! মাতা- পিতার সামনে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করুন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। তাদের উপর রাগ ঝারা তো হল নির্বুদ্ধিতা ও দুশ্চরিত্র। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আসুন! ইখলাসের সাথে ইমান তাজা করে নিন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ
📄 এ মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةُ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ؛ فَيَقُوْلُ: يَارَبِّ إِنِّي لِي هذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন। তারা (তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক মর্যাদা দেখে আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করবে, হে আমার পালনকর্তা! আমার এই মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল? আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করার কারণে।"[৩০]
টিকাঃ
[৩০] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১০৬১০
📄 মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার
কুরআনুল কারিমের সুরা মুমতাহিনার শেষের দিকে নারীদের ইসলামের উপর বাইয়াতের বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। নারীদের সংশোধনের জন্য এ আয়াতটি ভিত্তিস্বরূপ। প্রতিটি মুসলিম নারীর উক্ত আয়াতটি তরজমা ও তাফসিরসহ বুঝে পাঠ করা এবং এর উপর আমল করা আবশ্যক। উক্ত আয়াতের শেষাংশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন-যে সকল নারী কয়েকটি শর্ত মেনে নেবে, যা উক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলে আপনি তাদেরকে বাইয়াত করে নিন এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার করুন। ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবি, যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বাইআত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে তারা আপনার অবাধ্য হবে মজ। আপনি তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"[৩১]
বুঝা গেল-আমির, শাইখ, উস্তাদ ও অন্যান্য মর্যাদাশীল ব্যক্তিগণ স্বীয় অনুসারী ও দীনি সম্পর্ক রাখে এমন মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা উচিত।
টিকাঃ
[৩১] মুমতাহিনা- ৬০: ১২
📄 নারীদের জন্য ইস্তিগফারের বিশেষ নির্দেশ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنِ رَسُولِ اللَّهِ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ، وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ، فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ: وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ؟ قَالَ: تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينِ أَغْلَبَ لِذِي لُبِّ مِنْكُنَّ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ؟ قَالَ: أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ، فَهَذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، وَتَمْكُثُ اللَّيَالِي، مَا تُصَلَّى، وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ، فَهَذَا نُقْصَانُ الدِّينِ
"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নারীদেরকে সম্বোধন করে) ইরশাদ করেন-হে নারীদের জামাত! তোমরা সাদকা কর এবং ইস্তিগফার কর। কেননা আমি জাহান্নামে তোমরা নারীদের সংখ্যাই বেশি দেখেছি। তখন তাদের মধ্য হতে একজন বুদ্ধিমান নারী জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! কেন আমাদের সংখ্যা জাহান্নামে বেশি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অবাধ্যতা করে থাক। আমি বিবেক-বুদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে কমতি এবং বুদ্ধিমানকে বোকা বানানোর ক্ষেত্রে তোমাদের থেকে অধিক আর কাউকে দেখিনি। তখন ঐ নারী জিজ্ঞাসা করল, বিবেক-বুদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কমতি রয়েছে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বিবেক-বুদ্ধির কমতি এটা থেকেই বুঝা যায় যে, দুইজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর দীনের কমতি হল নারীরা (হায়েজের কারণে) প্রতি মাসে কয়েকদিন পর্যন্ত সালাত পড়তে পারে না এবং রমজানে (যদি হায়েজ হয়) সিয়াম পালন করতে পারে না।"[৩২]
টিকাঃ
[৩২] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ১৪৬২; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৩৫৬৯