📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সন্তানের জন্য ইস্তিগফার

📄 সন্তানের জন্য ইস্তিগফার


নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফারের বিষয়টিও সুরা ইউসুফেই বর্ণিত হয়েছে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা স্বীয় পিতা হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট তাদের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করল। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাদের আবেদন গ্রহণ করলেন এবং বললেন, খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করব। ইরশাদ হয়েছে-
قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“তারা বলল, হে আমাদের পিতা, আপনি আমাদের পাপ মোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আমরা ছিলাম অপরাধী। সে বলল, অচিরেই আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকট ক্ষমা চাইব, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[২৯]

টিকাঃ
[২৯] প্রাগুক্ত- ১২: ৯৭-৯৮

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 একটি কথা বলুন তো!

📄 একটি কথা বলুন তো!


সত্য করে একটি কথা বলুন তো! আপনি কখনো আপনার পিতার নিকট নিজের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করেছেন? আহ! কত মাতা-পিতা তো চলেই গেছেন কিন্তু যাদের নিকট এখনো এই মূল্যবান সম্পদ বিদ্যমান, তারা কবে এই মূল্যবান সম্পদ থেকে এ মহান উপকার লাভ করেছে। হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা! সন্তানের জন্য মাতা-পিতার ইস্তিগফার অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। ভয় ও রেওয়াজ হিসেবে নয়। অনুশোচনা ও আবেদনের দৃষ্টিতে নিজের প্রয়োজন মনে করেই মাতা-পিতাকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করিয়ে নিন এবং করাতেই থাকুন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! মাতা- পিতার সামনে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করুন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। তাদের উপর রাগ ঝারা তো হল নির্বুদ্ধিতা ও দুশ্চরিত্র। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আসুন! ইখলাসের সাথে ইমান তাজা করে নিন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 এ মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল?

📄 এ মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল?


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةُ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ؛ فَيَقُوْلُ: يَارَبِّ إِنِّي لِي هذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন। তারা (তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক মর্যাদা দেখে আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করবে, হে আমার পালনকর্তা! আমার এই মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল? আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করার কারণে।"[৩০]

টিকাঃ
[৩০] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১০৬১০

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার

📄 মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার


কুরআনুল কারিমের সুরা মুমতাহিনার শেষের দিকে নারীদের ইসলামের উপর বাইয়াতের বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। নারীদের সংশোধনের জন্য এ আয়াতটি ভিত্তিস্বরূপ। প্রতিটি মুসলিম নারীর উক্ত আয়াতটি তরজমা ও তাফসিরসহ বুঝে পাঠ করা এবং এর উপর আমল করা আবশ্যক। উক্ত আয়াতের শেষাংশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন-যে সকল নারী কয়েকটি শর্ত মেনে নেবে, যা উক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলে আপনি তাদেরকে বাইয়াত করে নিন এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার করুন। ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবি, যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বাইআত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে তারা আপনার অবাধ্য হবে মজ। আপনি তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"[৩১]

বুঝা গেল-আমির, শাইখ, উস্তাদ ও অন্যান্য মর্যাদাশীল ব্যক্তিগণ স্বীয় অনুসারী ও দীনি সম্পর্ক রাখে এমন মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা উচিত।

টিকাঃ
[৩১] মুমতাহিনা- ৬০: ১২

ফন্ট সাইজ
15px
17px