📄 ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার
হজরত মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামের উপর অসন্তুষ্ট হলেন-কওম গোমরাহ তথা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। এই অসন্তুষ্টির কারণে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এতোটা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, কোন কিছু না শুনেই ভাইয়ের মাথার চুল ধরে টানতে লাগলেন। ভাই যখন বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলেন, হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন সাথে সাথে স্বীয় ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফারের হাত উত্তোলন করলেন। যেমন কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, হে আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। "[২৭]
দ্বিতীয় ঘটনা সুরা ইউসুফে রয়েছে। যেখানে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজের ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَالَ لَا تَغْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, আজ তোমাদের উপর কোন ভর্ৎসনা নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আর তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। "[২৮]
নোট: ভাইদের একে অপরের ইস্তিগফারে উভয় জায়গায়ই আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নাম "আরহামার রাহিমীন" ব্যবহৃত হয়েছে।
টিকাঃ
[২৭] আ'রাফ- ৭: ১৫১
[২৮] ইউসুফ- ১২: ৯২
📄 সন্তানের জন্য ইস্তিগফার
নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফারের বিষয়টিও সুরা ইউসুফেই বর্ণিত হয়েছে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা স্বীয় পিতা হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট তাদের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করল। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাদের আবেদন গ্রহণ করলেন এবং বললেন, খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করব। ইরশাদ হয়েছে-
قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“তারা বলল, হে আমাদের পিতা, আপনি আমাদের পাপ মোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আমরা ছিলাম অপরাধী। সে বলল, অচিরেই আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকট ক্ষমা চাইব, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[২৯]
টিকাঃ
[২৯] প্রাগুক্ত- ১২: ৯৭-৯৮
📄 একটি কথা বলুন তো!
সত্য করে একটি কথা বলুন তো! আপনি কখনো আপনার পিতার নিকট নিজের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করেছেন? আহ! কত মাতা-পিতা তো চলেই গেছেন কিন্তু যাদের নিকট এখনো এই মূল্যবান সম্পদ বিদ্যমান, তারা কবে এই মূল্যবান সম্পদ থেকে এ মহান উপকার লাভ করেছে। হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা! সন্তানের জন্য মাতা-পিতার ইস্তিগফার অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। ভয় ও রেওয়াজ হিসেবে নয়। অনুশোচনা ও আবেদনের দৃষ্টিতে নিজের প্রয়োজন মনে করেই মাতা-পিতাকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করিয়ে নিন এবং করাতেই থাকুন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! মাতা- পিতার সামনে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করুন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। তাদের উপর রাগ ঝারা তো হল নির্বুদ্ধিতা ও দুশ্চরিত্র। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আসুন! ইখলাসের সাথে ইমান তাজা করে নিন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ
📄 এ মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةُ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ؛ فَيَقُوْلُ: يَارَبِّ إِنِّي لِي هذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন। তারা (তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক মর্যাদা দেখে আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করবে, হে আমার পালনকর্তা! আমার এই মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল? আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করার কারণে।"[৩০]
টিকাঃ
[৩০] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১০৬১০