📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 কাফির-মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করা বৈধ নয়

📄 কাফির-মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করা বৈধ নয়


কাফির-মুশরিক ও মুনাফিক। এরা হল হতভাগা। প্রথমে এই আয়াতসমূহ পাঠ করে নিন। যেন ঐ সকল লোকদের কথা জানা যায়—যাদের জন্য ইস্তিগফার করা যাবে না।

প্রথম আয়াত: ‎اِسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن ‎يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِى ‎الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
"তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দেন না।"[২১]

এই আয়াতটি মুনাফিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। যারা মৌখিকভাবে ছিল মুমিন আর অন্তরে ছিল কাফির। যখন জিহাদের হুকুম আসল, তখন তাদের নিফাক উন্মোচন হয়ে গেল। এমন লোকদের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারও কোন উপকার আসে না。

দ্বিতীয় আয়াত: مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لَّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ
"নবি ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।"[২২]

এ আয়াতে সকল কাফির-মুশরিকদের জন্য ইস্তিগফার করতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ চাচা আবু তালেবের জন্য ইস্তিগফার করা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ! জীবিত কাফির-মুশরিকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা বৈধ。

তৃতীয় আয়াত: وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لَّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ
"নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহিম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল। "[২৩]

চতুর্থ আয়াত:
سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
“পিছনে পড়ে থাকা বেদুঈনরা আপনাকে অচিরেই বলবে, আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল; অতএব আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আপনি বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান কিংবা কোন উপকার করতে চান, তবে কে আল্লাহর মোকাবিলায় তোমাদের জন্য কোন কিছুর মালিক হবে? বরং তোমরা যে আমল কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।"[২৪]

পঞ্চম আয়াত:
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَاءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
“ইবরাহিম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হল আমাদের-তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ইমান আন। তবে স্বীয় পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিটি ব্যতিক্রম: আমি অবশ্যই তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে।"[২৫]

ষষ্ঠ আয়াত: سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
"আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।"[২৬]

এ সকল আয়াতে দুই প্রকার মুনাফিকের আলোচনা রয়েছে। এক হল ঐ সকল মুনাফিক যারা উপরে উপরেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ইস্তিগফারের আবেদন করত। আর দ্বিতীয়ত হল ঐ সকল মুনাফিক যারা মোটেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে ইস্তিগফার করাতে চাইত না। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে নিফাক থেকে হেফাজত করুন। তাই আসুন একবার ইখলাসের সাথে কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করে নিজের ইমানকে তাজা করে নেই।
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ

তাহলে একটি কথা সমাপ্ত হল যে, আমরা কোন কাফির-মুশরিক ও আকীদাগত মুনাফিকের জন্য ইস্তিগফার করতে পারবো না। এবার আসুন দ্বিতীয় বিষয় এবং মূল বিষয়ের দিকে। কুরআনুল কারিমে অন্যের জন্য ইস্তিগফারের যে বিধানসমূহ রয়েছে, তা আমরা কয়েকটি শিরোনামে আলোচনা করব ইন শা'আল্লাহ।
১. ফেরেশতাদের আমল। তারা জমিনের উপর বিদ্যমান সকল মুমিন ও তাওবাকারীর জন্য ইস্তিগফার করে থাকে। বুঝা গেল যে, অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা আল্লাহ তা'আলার এত বেশি প্রিয় যে, আরশ বহনকারী মুকাররাব তথা নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ এবং অন্যান্য অসংখ্য ফেরেশতাগণকে এই ইবাদাতে লাগিয়ে রেখেছেন। “সুবহানাল্লাহি ওয়া বি-হামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম।”
২. কোন মুসলমান সকল মুমিন-মুমিনাতের জন্য ইস্তিগফার করা।
৩. স্বীয় মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার করা।
৪. মাতা-পিতা নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফার করা।
৫. কোন মুসলমান তার ভাই কিংবা ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৬. বড়রা তাদের ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৭. ছোটরা এবং পরবর্তীগণ তাদের বড়দের জন্য এবং পূর্ববর্তীদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৮. তাওবার জন্য আগত নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৯. যে বাস্তব কোন উজরের কারণে কোন ফজিলত কিংবা সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তার জন্য ইস্তিগফার করা।
১০. যে গুনাহগার লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার জন্য ইস্তিগফার করা।

টিকাঃ
[২১] তাওবাহ- ৯: ৮০
[২২] তাওবাহ- ৯: ১১৩
[২৩] প্রাগুক্ত- ৯: ১১৪
[২৪] ফাতহ-৪৮: ১১
[২৫] মুমতাহিনা- ৬০: ৪
[২৬] মুনাফিকুন- ৬৩: ৬

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার

📄 ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার


হজরত মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামের উপর অসন্তুষ্ট হলেন-কওম গোমরাহ তথা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। এই অসন্তুষ্টির কারণে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এতোটা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, কোন কিছু না শুনেই ভাইয়ের মাথার চুল ধরে টানতে লাগলেন। ভাই যখন বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলেন, হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন সাথে সাথে স্বীয় ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফারের হাত উত্তোলন করলেন। যেমন কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, হে আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। "[২৭]

দ্বিতীয় ঘটনা সুরা ইউসুফে রয়েছে। যেখানে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজের ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَالَ لَا تَغْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, আজ তোমাদের উপর কোন ভর্ৎসনা নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আর তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। "[২৮]

নোট: ভাইদের একে অপরের ইস্তিগফারে উভয় জায়গায়ই আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নাম "আরহামার রাহিমীন" ব্যবহৃত হয়েছে।

টিকাঃ
[২৭] আ'রাফ- ৭: ১৫১
[২৮] ইউসুফ- ১২: ৯২

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সন্তানের জন্য ইস্তিগফার

📄 সন্তানের জন্য ইস্তিগফার


নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফারের বিষয়টিও সুরা ইউসুফেই বর্ণিত হয়েছে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা স্বীয় পিতা হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট তাদের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করল। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাদের আবেদন গ্রহণ করলেন এবং বললেন, খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করব। ইরশাদ হয়েছে-
قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“তারা বলল, হে আমাদের পিতা, আপনি আমাদের পাপ মোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আমরা ছিলাম অপরাধী। সে বলল, অচিরেই আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকট ক্ষমা চাইব, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[২৯]

টিকাঃ
[২৯] প্রাগুক্ত- ১২: ৯৭-৯৮

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 একটি কথা বলুন তো!

📄 একটি কথা বলুন তো!


সত্য করে একটি কথা বলুন তো! আপনি কখনো আপনার পিতার নিকট নিজের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করেছেন? আহ! কত মাতা-পিতা তো চলেই গেছেন কিন্তু যাদের নিকট এখনো এই মূল্যবান সম্পদ বিদ্যমান, তারা কবে এই মূল্যবান সম্পদ থেকে এ মহান উপকার লাভ করেছে। হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা! সন্তানের জন্য মাতা-পিতার ইস্তিগফার অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। ভয় ও রেওয়াজ হিসেবে নয়। অনুশোচনা ও আবেদনের দৃষ্টিতে নিজের প্রয়োজন মনে করেই মাতা-পিতাকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করিয়ে নিন এবং করাতেই থাকুন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! মাতা- পিতার সামনে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করুন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। তাদের উপর রাগ ঝারা তো হল নির্বুদ্ধিতা ও দুশ্চরিত্র। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আসুন! ইখলাসের সাথে ইমান তাজা করে নিন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ

ফন্ট সাইজ
15px
17px