📄 এটা আশ্চর্য এক ইসলামী রাষ্ট্র
এটা আশ্চর্য এক ইসলামী রাষ্ট্র। যেখানে সিনেমা বানানো সহজ এবং মসজিদ বানানো কঠিন। মনে রাখবেন! যতক্ষণ পর্যন্ত এ দেশে দীনদার শ্রেণির সাথে সম্পৃক্ত মুসলমানদের স্বাধীন নাগরিক অধিকার অর্জিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ দেশ না কোন উন্নতি করতে পারে, না কোন নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। ফিরআউনের আইন স্বয়ং ফিরআউনকেই সফল করতে পারেনি। তাহলে অন্য কাউকে কীভাবে সফল করতে পারে। হে মুসলমানগণ! ইস্তিগফার, তাওবা, ইস্তিগফার। সকাল-বিকাল ইস্তিগফার। হে মুজাহিদীনে কেরাম! দুনিয়ার মহব্বত থেকে হেফাজতের দু'আ কালিমায়ে তাইয়্যেবা তথা ইমানের জোরদার মেহনত। ইকামাতে সালাত এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বিরামহীন মেহনত এবং সকাল-বিকাল ইস্তিগফার।
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব। গোটা জগতের ব্যবস্থাপক। আর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি।"[৬৮]
টিকাঃ
[৬৮] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৭; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৭; মুসনাদে আহমদ: হাদিস নং ১১০৭৪
📄 নিজের আঁচল দেখতে হবে
হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা! শুধুমাত্র শাসকদেরকে অভিশাপ দিয়ে কাজ হবে না। বরং আমাদের সকলকে নিজের আঁচলও দেখতে হবে। দেখুন! শ্রোতের পানি মাথার উপর এসে গেছে। এখন তো একটু ভাবুন যে, আমরা দীনের ব্যাপারে সামনে অগ্রসর হচ্ছি নাকি পেছনে হাঁটছি। আমার গতি জান্নাতের দিকে নাকি জাহান্নামের দিকে। আমাদের ইমানের মধ্যে উন্নতি হচ্ছে নাকি কমতি হচ্ছে? অনেক লোক বলে থাকেন যে, পূর্বে আমরা অমুক নেক কাজ করতাম কিন্তু এখন আর করা হয় না। এটা কমতি ও ঘাটতির নিদর্শন। মুমিন তো সে, যার জীবনের প্রতিটি আগত দিন ইমানের মধ্যে পূর্বের দিনের চেয়ে উত্তম হয়ে থাকে। কেননা কালিমায়ে তাইয়্যেবা- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللهِ যত পুরাতন হয়, তত তার রঙ মজবুত হয়।
আমাদের অবস্থা যদি এমন হয় যে, আমরা পূর্বে ভাল ছিলাম এবং এখন খারাপ হয়ে গিয়েছি, তাহলে এটা অনেক ভয়াবহ ব্যাপার। কেননা এটা এ কথার নিদর্শন যে, আমরা কালিমা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। কালিমার পাওয়ার হাউজের সাথে যদি যুক্ত থাকতাম তাহলে প্রতিদিন নতুন শক্তি পেতাম। প্রতিদিন নতুন বিদ্যুৎ পেতাম এবং প্রতিটি মুহূর্তে নতুন মনজিল অতিক্রম করতাম। তাকিয়ে দেখুন! বিপদ শ্রোতের ন্যায় ধেয়ে আসছে। এখন তো আমরা সকলে হৃদয়ের গহীন থেকে তাওবা করে নেওয়া উচিত এবং ইয়াকিনের সাথে কালিমায়ে তাইয়্যেবা পাঠ করা উচিত। لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللهِ
📄 আজাবের ধাক্কা
দেখুন কত সুস্পষ্ট বিষয়। মোবাইল হাতে আছে তো চোখের গুনাহ উপছে পড়ছে। হয়তো হঠাৎ আল্লাহ তা'আলার আজাবের কোন ধাক্কা এসে লাগে। ঐ লোকেরা শুকরিয়া আদায় করুন, যাদের উপর এমন ছোট ধাক্কা লেগেছে যে, জীবন চলে যায়নি এবং তাওবার জন্য সময় পেয়েছেন। আর না হয় আজাবের কোন কোন ধাক্কা তো তাওবার সময়ও দেয় না। আল্লাহ! আল্লাহ।
লক্ষ্য করে দেখুন! সিন্ধুর (পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ একটি বন্দরনগরী) শহর ও গ্রামে বন্যার পানি চলে এসেছে। আহ! সিন্ধু ডুবে যাচ্ছে। আমাদের আমল পানির মত একটি মিষ্টি নি'আমতকে আজাবে পরিণত করে দিয়েছে। চল্লিশ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তথাপিও শ্রোত ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই বন্যার গতি এখন পাঞ্জাবের দিকে। এখনো বিগত বছরের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে আবার নতুন বন্যা হামলে পড়েছে। হায় আমার দেশ পাকিস্তান! দশ বছরের ব্যবধানে ভেতর- বাহির সর্বত্র ক্ষত-বিক্ষত। কখনো ভূমিকম্প। কখনো বন্যা। কখনো বোমা নিক্ষেপ এবং কখনো যুদ্ধ। কখনো বিস্ফোরণ তো কখনো অপারেশন। এক পাগল বনমানুষ এ দেশকে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়েছে এবং নিজের পেছনে এমন লোকদেরকে বসিয়ে গিয়েছে, যারা এই আগুনকে আরও অধিক প্রজ্জ্বলিত করছে। আল্লাহ তা'আলাকে ছেড়ে তাগুতের গোলামী অবলম্বনকারীদের পরিণাম এটাই হয়ে থাকে। আমেরিকা আফগানিস্তানে তার সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করেছে। কিন্তু সেখানে এত লোক শহিদ হয়নি, যত লোক এ সময়ে পাকিস্তানে নিহত হয়েছে। তারপরও শাসকদের দাবি হল, আমরা আমেরিকার সঙ্গ দিয়ে পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
📄 জমিন বিদীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে
আরবী একটি প্রবাদ আছে যে, উত্থানের শেষ প্রান্তে ধ্বংসের সূচনা হয়ে থাকে। পৃথিবীতে একটি অসমাপ্ত যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধকে প্রতিরোধ করা তো এখন অসম্ভব মনে হচ্ছে। কুদরত এবং ফিতরাত জমিনের অধিবাসীদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তি ডেকে ডেকে আজাবকে আহ্বান করছে। উপরে-নিচে, ডানে-বামে সর্বদিকে শুধু গুনাহ আর গুনাহ। কুফর, শিরক, বিদ'আত, সুদ, বেহায়াপনা, খিয়ানত, ধোঁকা, হত্যা ও লুণ্ঠন, ব্যক্তিপূজা, দুনিয়াপূজা, ক্যাবল, ইন্টারনেট, মোবাইল এবং মাদক। মানুষের অন্তর গুনাহের আকর্ষণে এমনভাবে পূর্ণ যে, কারো অন্তরই পূর্ণ হয় না। এক গুনাহের পরে অপর গুনাহ এবং তার থেকেও আরও সামনে। হে আল্লাহ রহম করুন। বর্তমানে যুদ্ধ থেকে পৃথিবীকে কে বাঁচাবে। লোভ-লালসার আগুন যুদ্ধে পরিণত হয়ে পৃথিবীকে গ্রাস করে নিচ্ছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা হোক কিংবা কমিউনিজম সবকিছুর পেছনেই রয়েছে বিভিন্ন লোভ-লালসা। জমিনের অধিবাসীরা জমিনকে গুনাহ দিয়ে ভরে ফেলেছে। তাই এখন জমিন বিদীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আগে তো কাফিরদের মধ্যে শোনা যেত, এখন মুসলমানদের মধ্যেও এ ধরনের ঘটনাবলী ব্যাপক হয়ে গেছে যে, ভাইয়ের হাতে বোনের এবং বাবার হাতে কন্যার ইজ্জত নিরাপদ নয়। হ্যাঁ! বর্তমানে জমিন গাফলত, গুনাহ ও ধ্বংসে ভরপুর হয়ে গেছে।
এমতাবস্থায় তো যুদ্ধ হয় এবং তাও অন্ধ যুদ্ধ। আর এ অন্ধ যুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত কঠিন হয়ে থাকে যে, কে হক আর কে বাতিল। যেখানেই মুসলমান পরস্পরে যুদ্ধ করছে সেখানে উভয় পক্ষের অবস্থাই অনেক শোচনীয়। কারোই শরীয়াতের কোন তোয়াক্কা নেই। শুধু রাগ, ক্রোধ ও প্রতিশোধ। এমন মনে হয় যে, পৃথিবীর অনেক বড় একটি জনপদ যুদ্ধের শিকার হয়ে মারা যাবে। বর্তমান যুগের প্রযুক্তি পরস্পরে লড়াই করে জীবন দিয়ে দেবে। এখন এমতাবস্থায় আমাদের কি করা উচিত? অবশ্যই রুজু ইলাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন, তাওবা ও ইস্তিগফার, ইমানের উপর অটল থাকা এবং খালেস শরয়ী জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।