📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বৃদ্ধাবস্থাকে আলোকিত বানানোর পদ্ধতি

📄 বৃদ্ধাবস্থাকে আলোকিত বানানোর পদ্ধতি


বর্তমানে মাতা-পিতার ব্যাপারে মুসলমানদের গাফলত অনেক বেদনাদায়ক। বৃদ্ধ বেচারা নিজ হাতে বানানো ঘরে 'অচেনা মুসাফির' এর ন্যায় জীবন যাপন করছে এবং যুবক সন্তানরা তাকে দুঃখের নিঃশ্বাস ফেলতে বাধ্য করছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলের উপর এ ব্যাপারে রহম করুন। যুবক সন্তানদেরকে তো বুঝানো অনেক কঠিন। কেননা যৌবনের তাড়না মানুষকে অনেক কমই বুঝতে দেয়। সৌভাগ্যবান যুবকদেরই তাওবা নসিব হয়। কিন্তু বৃদ্ধরা তো বুঝমান হয়ে থাকে। তারা এই অবস্থাকে একটু মেহনত করলেই পরিবর্তন করতে পারে। আর তার পদ্ধতি হল-তারা নিজেদেরকেই তাওবা-ইস্তিগফার এবং আল্লাহ তা'আলার স্মরণ, ইবাদাত ও মহব্বতে লিপ্ত করে দেওয়া। সন্তানদের প্রতি কোন অভিযোগ না রাখা এবং নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা। ইন শা' আল্লাহ তাহলে তার বয়োবৃদ্ধতার মধ্যে বিশেষ একটি নূর চলে আসবে এবং সন্তানরা তাকে বিরক্ত ভাববে না। মনে রাখবেন! চলাফেরার সামর্থ্য থাকাবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়াও একটি নি'আমত। কেননা মানুষ যদি অক্ষম এবং মুখাপেক্ষী হয়ে যায়, তাহলে অনেক পেরেশানী হয় এবং অনুপোযুক্ত লোকও তাকে বোঝা মনে করা শুরু করে। অথচ দুর্বল ও অসহায়দের বরকতে মুসলমানদের উপর রহমত ও নুসরাত নাজিল হয় এবং তাদের খিদমতের দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ হয়। তবে নাচগান, মোবাইল ও ইন্টারনেটের এই যুগে এই বাস্তবতাকে বুঝার মত লোক খুবই কম।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 দীনি কাজে উন্নতি

📄 দীনি কাজে উন্নতি


জামাতের দায়িত্বশীল হজরতগণ জামাতের মধ্যে ইস্তিগফারের আমল চালু করুন। আল্লাহ তা'আলা যদি তা কবুল ও সফল করেন, তাহলে অনেক শুকনো ঝরনা প্রবাহিত হয়ে যাবে এবং কমপক্ষে দীনের বরকতময় কাজ দশগুণ বৃদ্ধি পাবে ইন শা' আল্লাহ। ঐ লোকদের থেকেই দীনের মাকবুল কাজ নেওয়া হয়, যারা তা'আল্লুক মা'আল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার সাথে গভীর সম্পর্কের ফিকির করেন। দীনি ও জিহাদি সংগঠনের উন্নতির ফায়দাই এটা যে, অধিক প্রতিদান ও অধিক অনুগ্রহ এবং পরকালের অধিক ফল লাভ করা যাবে। যেন পরকালেও হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালাম ও সাহাবায়ে কেরামগণের ন্যায় এমন উচ্চ মর্যাদা নসিব হয়। নিজ নিজ শাখাসমূহে তাওবা ও ইস্তিগফারের হাকিকত ও ফজিলত বর্ণনা করুন এবং স্বয়ং নিজের প্রতিটি মুহূর্ত নিজের প্রত্যেক ভুল-ত্রুটি ও গুনাহের কথা স্মরণ করে ইস্তিগফার করুন। কতই না আশ্চর্যের বিষয় যে, মুসলমান এর বরকতে একটি স্মরণীয় জিহাদি শক্তি অর্জন করবে।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 জীবন উৎসর্গকারী ওলী

📄 জীবন উৎসর্গকারী ওলী


আমাদের যুগ তো মা শা' আল্লাহ জিহাদের যুগ। এ যুগের ওলী অনেক উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। যে নফসের ইসলাহ থেকে অগ্রগামী হয়ে নফসকে উৎসর্গকারী হয়ে থাকে। এই তো দু-একদিন পূর্বে ইটালীর সরকার দুঃখ করছিল যে, আফগানিস্তানে তাদের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হল ২৭ রমজানের দিন একজন আল্লাহওয়ালা মুজাহিদ নিজের গাড়িতে বোম ভর্তি করে ইটালীয়ান সৈন্যদের এক প্লাটুনকে উড়িয়ে দেয়। তালেবানদের সংবাদপত্রের ভাষ্যমতে-আল্লাহর ঐ ওলীর বয়স সতেরো বছর। সে কাবুলের উপকণ্ঠে ইটালীয়ান সৈন্যদের একটি ছাউনি গুঁড়িয়ে দেয়। দুটি গাড়ি ও আটজন সৈন্য তো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস হয়ে যায়। যেখানে আহতদের সংখ্যা ভিন্ন। মুসলিম উম্মাহর এক সতেরো বছরের কিশোর এতটা শক্তিশালী ও এতটা সাহসী। সালাম তার পিতা-মাতাকে এবং সালাম তার ইমানী পরিচর্যাকারীদেরকে। অবশ্যই এটা মুসলমানদের উপর আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় অনুগ্রহ যে, সকল যুগেই মু'আয ও মু'আওয়ায রাদিআল্লাহু আনহুম তৈরী হতে থাকবে। সতেরো বছরের এই ওলী ও তার শাহাদাত আমাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষা রেখে গেছেন। আর তা হল-হে মুসলমানেরা! কোন কাজে আর কোন গুনাহের মধ্যে ডুবে আছো? আল্লাহ তা'আলার জান্নাত এবং জান্নাতের হুরেরা তোমাদের অপেক্ষায় আছে। যখন তোমরা তাওবার চিন্তাও করো না এবং তোমরা সর্বদা আল্লাহ তা'আলার নিকট তোমাদের বিপদ-মুসিবতের অভিযোগ করে যাচ্ছ। একটু ভাবুন তো! এই যুবক যখন রোজা রেখে নিজের জীবন উৎসর্গের জন্য যাচ্ছিলেন, তখন তার অন্তরে কি পরিমাণ ইমান আর কি পরিমাণ ইয়াকীন ছিল? তার উপর ঐ সময়ে কি পরিমাণ নূর আর সাকিনা তথা প্রশান্তি বর্ষিত হচ্ছিল? তা কি কেউ স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারে? সে না ভীত হয়েছে, না সে শত্রুর বাহিনীকে ভয় পেয়েছে। তাকে না দুনিয়ার মহব্বত ফিরাতে পেরেছে, না জীবিত থাকার আকাঙ্ক্ষা। সে ধীরস্থীরভাবে সামনে অগ্রসর হয়েছে এবং উম্মাহর বিজয়ীদের মধ্যে নিজের নাম লিখিয়ে শুহাদায়ে কেরামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ফিরআউনি শাসন ব্যবস্থা

📄 ফিরআউনি শাসন ব্যবস্থা


এ দেশে দীনদার শ্রেণীকে একেবারে এমনভাবে গোলাম বানিয়ে রাখা হয়েছে যেমনিভাবে ফিরআউন বনি ইসরাইলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছিল। পবিত্র কুরআনুল কারিম বিশ্ব রাজনীতির এই আশ্চর্য তথ্যটি বার বার তুলে ধরেছে। ফিরআউন তার জাতিকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছিল। একটি শ্রেণি হাকিম তথা শাসক এবং দ্বিতীয় শ্রেণি মাহকুম তথা শাসিত। রাজনীতির এই স্বৈরাচারী পদ্ধতি বেশি দিন চলে না। আর যে-ই এই ফিরআউনী শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তার হাশর ফিরআউনের মতই হবে। পাকিস্তানী শাসকদের পরিণাম দেখে নিন। তাওবা! তাওবা! অধিকাংশেরই কেমন ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। স্বয়ং শাসকই শুধু নয়, বরং তার পুরো বংশই ধ্বংস ও বরবাদ হয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তীগণ তা থেকে কোন শিক্ষাই গ্রহণ করেনি। তারা চোখ বন্ধ করে ফিরআউনী শাসন ব্যবস্থাকেই গ্রহণ করেছে। দেশের সেকুলার শ্রেণি হল শাসক আর দীনদার শ্রেণি শাসিত। সেকুলার শ্রেণি হল আস্থাভাজন আর দীনদার শ্রেণি সন্দেহভাজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফাইলসমূহের মধ্যে আজও ইংরেজ আমলের ন্যায় উলামায়ে কেরাম এবং দীনদার মুসলমান নজরদারীর আওতাভুক্ত। মাদরাসাসমূহের উপর সন্দেহের তীর, মসজিদসমূহের উপর হামলা ও নিষেধাজ্ঞা এবং দীনি জামাতসমূহের ও রাহবারদের চলার পথ রুদ্ধ। হে দীনদার মুসলমানগণ! ইস্তিগফারের দ্বারা শক্তি অর্জন হয়। তাসবিহ দ্বারা সামর্থ্য অর্জন হয়। বেশি বেশি ইস্তিগফারের গুরুত্বারোপ করুন। তাহলে জিহাত এবং অন্যান্য দীনি কাজসমূহে শক্তি আসবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px