📄 অন্তরকে আলোকিত করুন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ الْعَبْدَ إذَا أَخطأَ خَطِيئَةً نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، فَإِذَا هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ سُقِلَ قَلْبُهُ، وَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ وَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهِ: كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যে বান্দা গুনাহ করে, (তার ফলস্বরূপ) তার অন্তরে কালো একটি দাগ দেওয়া হয়। অতঃপর যদি সে অনুতপ্ত হয়ে উক্ত গুনাহ ছেড়ে দেয় এবং তাওবা ও ইস্তিগফার করে, তখন তার অন্তরকে আয়নার মত আলোকিত করে দেওয়া হয়। আর যদি (তাওবা করার পরিবর্তে) সে বার বার গুনাহ করে, তাহলে তা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। এমনকি তা তার গোটা অন্তরকে ঢেকে দেয় এবং এটাই ঐ মরিচিকা, যার আলোচনা আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারিমের নিম্নের আয়াতে উল্লেখ করেছেন-
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অর্থ: কখনো নয়, বরং তারা যা অর্জন করত তা-ই তাদের অন্তরসমূহকে ঢেকে দিয়েছে।[৬৫]
টিকাঃ
[৬৫] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৩৪
📄 বৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবাকারীদেরও বৃদ্ধাবস্থায় সেবাকারী নসিব হয়ে থাকে
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে মাতা-পিতার অবাধ্যতা ও কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সকল গুনাহসমূহকে 'কবিরা গুনাহ' আখ্যা দিয়েছেন, তার মধ্য হতে মাতা-পিতার অবাধ্যতা অন্যতম একটি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সুসংবাদও শুনিয়েছেন যে, বৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবাকারীকে আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতেও অনেক নি'আমত দান করেন। যার মধ্যে একটি নি'আমত হল, তারা নিজেরা যখন বৃদ্ধ হবে তখন তাদের সেবাকারী নসিব হবে। যেমন হাদিস শরিফে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَا أَكْرَمَ شَابٌّ شَيْخًا لِسِنِّهِ إِلَّا قَيَّضَ اللَّهُ لَهُ مَنْ يُكْرِمُهُ عِنْدَ سنه
“যে যুবক কোন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার বয়সের কারণে সম্মান করবে, আল্লাহ তা'আলা তার বৃদ্ধাবস্থায় এমন লোক নির্ধারণ করে দেবেন, যে তার সম্মান করবে।"[৬৬]
এই হাদিস সকল বয়োবৃদ্ধের সেবার ব্যাপারেই প্রযোজ্য। মাতা-পিতাও এর অন্তর্ভুক্ত বরং তাদের হক আরও বেশি。
অন্য এক বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তির অন্তরে যে পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার আদব ও সম্মান হবে, সে ঐ পরিমাণ বৃদ্ধ মুসলমানদের সম্মান করবে। যেমন হাদিস শরিফে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ
। “আল্লাহ তা'আলার সম্মানের মধ্যে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে, বৃদ্ধ মুসলমানকে সম্মান করবে।”[৬৭]
মনে রাখবেন! মাতা-পিতাকে কষ্ট দেওয়া ও মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া অনেক বড় কবিরা গুনাহ। যে-ই এই বিপদে লিপ্ত আছেন, তার এর থেকে তাওবা-ইস্তিগফার করতে বিলম্ব করা উচিত নয়。
টিকাঃ
[৬৬] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ২০২২
[৬৭] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৮৪৩
📄 বৃদ্ধাবস্থাকে আলোকিত বানানোর পদ্ধতি
বর্তমানে মাতা-পিতার ব্যাপারে মুসলমানদের গাফলত অনেক বেদনাদায়ক। বৃদ্ধ বেচারা নিজ হাতে বানানো ঘরে 'অচেনা মুসাফির' এর ন্যায় জীবন যাপন করছে এবং যুবক সন্তানরা তাকে দুঃখের নিঃশ্বাস ফেলতে বাধ্য করছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলের উপর এ ব্যাপারে রহম করুন। যুবক সন্তানদেরকে তো বুঝানো অনেক কঠিন। কেননা যৌবনের তাড়না মানুষকে অনেক কমই বুঝতে দেয়। সৌভাগ্যবান যুবকদেরই তাওবা নসিব হয়। কিন্তু বৃদ্ধরা তো বুঝমান হয়ে থাকে। তারা এই অবস্থাকে একটু মেহনত করলেই পরিবর্তন করতে পারে। আর তার পদ্ধতি হল-তারা নিজেদেরকেই তাওবা-ইস্তিগফার এবং আল্লাহ তা'আলার স্মরণ, ইবাদাত ও মহব্বতে লিপ্ত করে দেওয়া। সন্তানদের প্রতি কোন অভিযোগ না রাখা এবং নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা। ইন শা' আল্লাহ তাহলে তার বয়োবৃদ্ধতার মধ্যে বিশেষ একটি নূর চলে আসবে এবং সন্তানরা তাকে বিরক্ত ভাববে না। মনে রাখবেন! চলাফেরার সামর্থ্য থাকাবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়াও একটি নি'আমত। কেননা মানুষ যদি অক্ষম এবং মুখাপেক্ষী হয়ে যায়, তাহলে অনেক পেরেশানী হয় এবং অনুপোযুক্ত লোকও তাকে বোঝা মনে করা শুরু করে। অথচ দুর্বল ও অসহায়দের বরকতে মুসলমানদের উপর রহমত ও নুসরাত নাজিল হয় এবং তাদের খিদমতের দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ হয়। তবে নাচগান, মোবাইল ও ইন্টারনেটের এই যুগে এই বাস্তবতাকে বুঝার মত লোক খুবই কম।
📄 দীনি কাজে উন্নতি
জামাতের দায়িত্বশীল হজরতগণ জামাতের মধ্যে ইস্তিগফারের আমল চালু করুন। আল্লাহ তা'আলা যদি তা কবুল ও সফল করেন, তাহলে অনেক শুকনো ঝরনা প্রবাহিত হয়ে যাবে এবং কমপক্ষে দীনের বরকতময় কাজ দশগুণ বৃদ্ধি পাবে ইন শা' আল্লাহ। ঐ লোকদের থেকেই দীনের মাকবুল কাজ নেওয়া হয়, যারা তা'আল্লুক মা'আল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার সাথে গভীর সম্পর্কের ফিকির করেন। দীনি ও জিহাদি সংগঠনের উন্নতির ফায়দাই এটা যে, অধিক প্রতিদান ও অধিক অনুগ্রহ এবং পরকালের অধিক ফল লাভ করা যাবে। যেন পরকালেও হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালাম ও সাহাবায়ে কেরামগণের ন্যায় এমন উচ্চ মর্যাদা নসিব হয়। নিজ নিজ শাখাসমূহে তাওবা ও ইস্তিগফারের হাকিকত ও ফজিলত বর্ণনা করুন এবং স্বয়ং নিজের প্রতিটি মুহূর্ত নিজের প্রত্যেক ভুল-ত্রুটি ও গুনাহের কথা স্মরণ করে ইস্তিগফার করুন। কতই না আশ্চর্যের বিষয় যে, মুসলমান এর বরকতে একটি স্মরণীয় জিহাদি শক্তি অর্জন করবে।