📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সকল গুনাহ ক্ষমা পাওয়ার গ্যারান্টি হল ইস্তিগফার

📄 সকল গুনাহ ক্ষমা পাওয়ার গ্যারান্টি হল ইস্তিগফার


“নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম হজরত যায়েদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এই দু'আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে যুদ্ধ থেকে পলায়নকারী হোক। (যা কবিরা গুনাহ) দু'আটি হল-
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব। গোটা জগতের ব্যবস্থাপক। আর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। "[৬২]

টিকাঃ
[৬২] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৭; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১০৭৪

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 একটি মহান উপহার

📄 একটি মহান উপহার


“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে অনেকবারই নসিহতস্বরূপ ইরশাদ করেছেন-হে আমার সাহাবীরা! স্বীয় গুনাহসমূহকে সামান্য কয়েকটি বাক্য দ্বারা মিটিয়ে ফেলতে কোন বস্তু তোমাদেরকে ফিরিয়ে রেখেছে? সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুম আজমাঈন আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! উক্ত বাক্যসমূহ কী? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ভাই হজরত খাজির আলাইহিস সালামের দু'আটিই সেই বাক্যসমূহ। আমরা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! উনার দু'আটি কি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তাঁর দু'আটি হল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ؛ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا أَعْطَيْتُكَ مِنْ نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِهِ؛ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِلنِّعَمِ الَّتِي أَنْعَمْتَ بِهَا عَلَى فَتَقَوَّيْتُ بِهَا عَلَى مَعَاصِيْكَ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِكُلِّ خَيْرٍ أَرَدْتُ بِهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَنِي فِيْهِ مَا لَيْسَ لَكَ اللَّهُمَّ لَا تُخْزِنِي فَإِنَّكَ بِي عَالِمٌ ؛ وَلَا تُعَذِّبْنِي فَإِنَّكَ عَلَى قَادِرُ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, ঐ গুনাহের জন্য যেগুলোর জন্য তাওবা করেছি এবং পুনরায় তা করেছি। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ ওয়াদার ব্যাপারে, যা আমার পক্ষ থেকে করেছিলাম এবং অতঃপর তা পূর্ণ করিনি। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ নি'আমতসমূহের ব্যাপারে, যার থেকে আমি শক্তি অর্জন করে তা আপনার অবাধ্যতায় ব্যয় করেছি। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ নেকির ব্যাপারে, যা শুধুমাত্র আপনার জন্যই করতে চেয়েছি, অতঃপর তাতে ঐ সকল বস্তুকে মিশিয়ে ফেলেছি, যা আপনার জন্য ছিল না। হে আল্লাহ! আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা আপনি আমাকে (অর্থাৎ আমার দুর্বলতা, আমার অবস্থা ও নিয়তকে) ভাল করেই জানেন এবং আমাকে শাস্তি দেবেন না। বাস্তবতা হল আপনি আমার উপর (সর্বপ্রকার) ক্ষমতা রাখেন।”।৬৪।

টিকাঃ
[৬৪] দায়লামী

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অন্তরকে আলোকিত করুন

📄 অন্তরকে আলোকিত করুন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ الْعَبْدَ إذَا أَخطأَ خَطِيئَةً نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، فَإِذَا هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ سُقِلَ قَلْبُهُ، وَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ وَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهِ: كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যে বান্দা গুনাহ করে, (তার ফলস্বরূপ) তার অন্তরে কালো একটি দাগ দেওয়া হয়। অতঃপর যদি সে অনুতপ্ত হয়ে উক্ত গুনাহ ছেড়ে দেয় এবং তাওবা ও ইস্তিগফার করে, তখন তার অন্তরকে আয়নার মত আলোকিত করে দেওয়া হয়। আর যদি (তাওবা করার পরিবর্তে) সে বার বার গুনাহ করে, তাহলে তা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। এমনকি তা তার গোটা অন্তরকে ঢেকে দেয় এবং এটাই ঐ মরিচিকা, যার আলোচনা আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারিমের নিম্নের আয়াতে উল্লেখ করেছেন-
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অর্থ: কখনো নয়, বরং তারা যা অর্জন করত তা-ই তাদের অন্তরসমূহকে ঢেকে দিয়েছে।[৬৫]

টিকাঃ
[৬৫] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৩৪

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবাকারীদেরও বৃদ্ধাবস্থায় সেবাকারী নসিব হয়ে থাকে

📄 বৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবাকারীদেরও বৃদ্ধাবস্থায় সেবাকারী নসিব হয়ে থাকে


আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে মাতা-পিতার অবাধ্যতা ও কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সকল গুনাহসমূহকে 'কবিরা গুনাহ' আখ্যা দিয়েছেন, তার মধ্য হতে মাতা-পিতার অবাধ্যতা অন্যতম একটি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সুসংবাদও শুনিয়েছেন যে, বৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবাকারীকে আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতেও অনেক নি'আমত দান করেন। যার মধ্যে একটি নি'আমত হল, তারা নিজেরা যখন বৃদ্ধ হবে তখন তাদের সেবাকারী নসিব হবে। যেমন হাদিস শরিফে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَا أَكْرَمَ شَابٌّ شَيْخًا لِسِنِّهِ إِلَّا قَيَّضَ اللَّهُ لَهُ مَنْ يُكْرِمُهُ عِنْدَ سنه
“যে যুবক কোন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার বয়সের কারণে সম্মান করবে, আল্লাহ তা'আলা তার বৃদ্ধাবস্থায় এমন লোক নির্ধারণ করে দেবেন, যে তার সম্মান করবে।"[৬৬]
এই হাদিস সকল বয়োবৃদ্ধের সেবার ব্যাপারেই প্রযোজ্য। মাতা-পিতাও এর অন্তর্ভুক্ত বরং তাদের হক আরও বেশি。
অন্য এক বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তির অন্তরে যে পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার আদব ও সম্মান হবে, সে ঐ পরিমাণ বৃদ্ধ মুসলমানদের সম্মান করবে। যেমন হাদিস শরিফে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ
। “আল্লাহ তা'আলার সম্মানের মধ্যে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে, বৃদ্ধ মুসলমানকে সম্মান করবে।”[৬৭]
মনে রাখবেন! মাতা-পিতাকে কষ্ট দেওয়া ও মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া অনেক বড় কবিরা গুনাহ। যে-ই এই বিপদে লিপ্ত আছেন, তার এর থেকে তাওবা-ইস্তিগফার করতে বিলম্ব করা উচিত নয়。

টিকাঃ
[৬৬] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ২০২২
[৬৭] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৮৪৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px