📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফার
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ؛ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: وَاللَّهُ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- আল্লাহর কসম! আমি দিনে সত্তরবারেরও অধিক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা ও ইস্তিগফার করি। "[৬১]
টিকাঃ
[৬১] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩০৭
📄 ইস্তিগফার হল আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দাদের আমল
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার যত প্রিয় হয়, সে তত অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করে থাকে। হজরত আদম আলাইহিস সালামের অশ্রু, হজরত নূহ আলাইহিস সালাম ও হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের অশ্রু, গোটা জমিনের অধিবাসীদের অশ্রুর চেয়ে অধিক ছিল। আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একেক মজলিসে শত বার ইস্তিগফার করতেন। জনৈক মহিলা হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুর ঘরে আসলেন। বিছানা ভেজা দেখে বললেন, কোন বাচ্চা কি পেশাব করে দিয়েছে? হজরত উম্মে কুলসুম রাদিআল্লাহু আনহা বললেন- এগুলো শাইখ তথা হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুর অশ্রু। সালাত কত বড় ইবাদাত। কিন্তু তার পরও তিন বার ইস্তিগফার। তাহাজ্জুদ কতটা প্রেমিকসূলভ আমল। তাহাজ্জুদ তো নেককার লোকেরাই পড়ে থাকে। এমন লোকদের ইস্তিগফারের কথা কুরআনুল কারিমে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বুঝা গেল, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে যতটুকু চেনে, ঐ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদাকে বুঝে। তখন সে তার নিজ সত্তা ও নিজ আমলকে অসম্পূর্ণ মনে হয়। আর তখনই সে ইস্তিগফারের মধ্যে ঢুবে যায়। গুনাহে অভ্যস্ত লোক ইস্তিগফারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। যেমনটি নেশাখোর মেথর লোক যত ময়লা ও দুর্গন্ধময় হয়ে যাক গোসলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। যেখানে পানি পছন্দকারী ব্যক্তি সামান্য ময়লা হলেই অস্থির হয়ে যায়। আয়না ও সাদা কাপড়ের মধ্যে সামান্য দাগও সহ্য করে না। মুমিনের অন্তরও আয়নার মত হয়ে থাকে। তাই সে তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে তাকে পাক-পবিত্র করে থাকে। প্রিয় পাঠক! প্লেনকে প্রত্যেক ফ্লাইটের পরে পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। দাঁত দৈনিক কত বার পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। যেন তাতে পোকায় না ধরে। গাড়ি প্রতিটি সফরের পরেই পরিষ্কার করা হয়। ঐ ঝরনা এবং কূপ, যা শুকিয়ে গেছে, তা খোদাই ও পরিষ্কার করার দ্বারা পুনরায় চালু হয়ে যায়। ইস্তিগফার হল অন্তরের পরিচ্ছন্নতা। আত্মার পরিচ্ছন্নতা। ইমানের পরিচ্ছন্নতা। এটা কালিমায়ে তাইয়্যেবার ইয়াকীনকে সুদৃঢ় করে এবং এটা আল্লাহ তা'আলার এমন প্রিয় আমল যে, যদি জমিনের সকল অধিবাসী ভাল মানুষ হয়ে যায় এবং ইস্তিগফার ছেড়ে দেয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সরিয়ে এমন লোকদেরকে নিয়ে আসবেন, যারা ভুলভ্রান্তি করে এবং তারপর ইস্তিগফার করে। প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফারের দিকে মনোযোগী হওয়া ইমানের আলামত। কোন প্রকার সাদৃশ্য ব্যতীত ভাবুন তো, কোন ছেলে যদি তার মায়ের নিকট ক্ষমা চায়, কোন বিশ্বস্ত স্ত্রী যদি স্বামীর পা ধরে অশ্রু প্রবাহিত করে ক্ষমা করে দিন, ক্ষমা করে দিন বলে। সত্যিকার ও প্রকৃত মহব্বত এবং ভালোবাসা তো বান্দাকে ইস্তিগফারের পথ দেখায়। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ফিল্ম দেখে এবং ইন্টারনেটে ডুবে থাকে। ইস্তিগফার তো মধুর চেয়েও মিষ্টি আমল। অধিক ইস্তিগফারের দ্বারা না হয় সামান্য ক্লান্তি হবে। একটু জ্বর হবে। কিন্তু এটা প্রেমের জোয়ার প্রবাহিত করে।
📄 সকল গুনাহ ক্ষমা পাওয়ার গ্যারান্টি হল ইস্তিগফার
“নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম হজরত যায়েদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এই দু'আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে যুদ্ধ থেকে পলায়নকারী হোক। (যা কবিরা গুনাহ) দু'আটি হল-
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব। গোটা জগতের ব্যবস্থাপক। আর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। "[৬২]
টিকাঃ
[৬২] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৭; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১০৭৪
📄 একটি মহান উপহার
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে অনেকবারই নসিহতস্বরূপ ইরশাদ করেছেন-হে আমার সাহাবীরা! স্বীয় গুনাহসমূহকে সামান্য কয়েকটি বাক্য দ্বারা মিটিয়ে ফেলতে কোন বস্তু তোমাদেরকে ফিরিয়ে রেখেছে? সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুম আজমাঈন আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! উক্ত বাক্যসমূহ কী? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ভাই হজরত খাজির আলাইহিস সালামের দু'আটিই সেই বাক্যসমূহ। আমরা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! উনার দু'আটি কি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তাঁর দু'আটি হল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ؛ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا أَعْطَيْتُكَ مِنْ نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِهِ؛ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِلنِّعَمِ الَّتِي أَنْعَمْتَ بِهَا عَلَى فَتَقَوَّيْتُ بِهَا عَلَى مَعَاصِيْكَ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِكُلِّ خَيْرٍ أَرَدْتُ بِهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَنِي فِيْهِ مَا لَيْسَ لَكَ اللَّهُمَّ لَا تُخْزِنِي فَإِنَّكَ بِي عَالِمٌ ؛ وَلَا تُعَذِّبْنِي فَإِنَّكَ عَلَى قَادِرُ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, ঐ গুনাহের জন্য যেগুলোর জন্য তাওবা করেছি এবং পুনরায় তা করেছি। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ ওয়াদার ব্যাপারে, যা আমার পক্ষ থেকে করেছিলাম এবং অতঃপর তা পূর্ণ করিনি। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ নি'আমতসমূহের ব্যাপারে, যার থেকে আমি শক্তি অর্জন করে তা আপনার অবাধ্যতায় ব্যয় করেছি। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ নেকির ব্যাপারে, যা শুধুমাত্র আপনার জন্যই করতে চেয়েছি, অতঃপর তাতে ঐ সকল বস্তুকে মিশিয়ে ফেলেছি, যা আপনার জন্য ছিল না। হে আল্লাহ! আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা আপনি আমাকে (অর্থাৎ আমার দুর্বলতা, আমার অবস্থা ও নিয়তকে) ভাল করেই জানেন এবং আমাকে শাস্তি দেবেন না। বাস্তবতা হল আপনি আমার উপর (সর্বপ্রকার) ক্ষমতা রাখেন।”।৬৪।
টিকাঃ
[৬৪] দায়লামী