📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 নিজের আমলনামা ইস্তিগফার দ্বারা পূর্ণ করুন

📄 নিজের আমলনামা ইস্তিগফার দ্বারা পূর্ণ করুন


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: طُوبُى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- সুসংবাদ ও আনন্দ ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি (দুনিয়াতে ইস্তিগফার করে এবং কাল কিয়ামতের দিন) নিজের আমলনামায় অনেক ইস্তিগফার পাবে। "[৬০]

টিকাঃ
[৬০] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮১৮

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সুসংবাদ

📄 সুসংবাদ


আমরা অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করে সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট, সকল প্রকার বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা, সকল প্রকার রোগশোক ও সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে বাঁচতে পারি। আর মূল প্রতিদান ও সাওয়াব তো পরকালে। যার সম্পর্কে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহার বাণী-
طوبى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا
অনেক মহান সুসংবাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও জান্নাত ঐ ব্যক্তির জন্য, যার আমলনামায় অধিক ইস্তিগফার হবে। কালিমায়ে তাইয়্যেবা, সালাত এবং জিহাদের বরকতে আলহামদুলিল্লাহ অধিক ইস্তিগফারের দিকে পথ প্রদর্শন হয়েছে। কালিমায়ে তাইয়্যেবার জিকির কখনো ছাড়বেন না। সর্বনিম্ন পরিমাণ বারোশত বার। আল্লাহর জন্য এতে অনেক গুরুত্ব প্রদান করুন। তিলাওয়াত ও দুরূদ শরিফ কখনোই ছাড়বেন না। সাথে সাথে অধিক ইস্তিগফারকেও নিজের নিয়মিত আমলের অংশ বানান।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফার

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফার


قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ؛ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: وَاللَّهُ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- আল্লাহর কসম! আমি দিনে সত্তরবারেরও অধিক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা ও ইস্তিগফার করি। "[৬১]

টিকাঃ
[৬১] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩০৭

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইস্তিগফার হল আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দাদের আমল

📄 ইস্তিগফার হল আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দাদের আমল


যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার যত প্রিয় হয়, সে তত অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করে থাকে। হজরত আদম আলাইহিস সালামের অশ্রু, হজরত নূহ আলাইহিস সালাম ও হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের অশ্রু, গোটা জমিনের অধিবাসীদের অশ্রুর চেয়ে অধিক ছিল। আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একেক মজলিসে শত বার ইস্তিগফার করতেন। জনৈক মহিলা হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুর ঘরে আসলেন। বিছানা ভেজা দেখে বললেন, কোন বাচ্চা কি পেশাব করে দিয়েছে? হজরত উম্মে কুলসুম রাদিআল্লাহু আনহা বললেন- এগুলো শাইখ তথা হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুর অশ্রু। সালাত কত বড় ইবাদাত। কিন্তু তার পরও তিন বার ইস্তিগফার। তাহাজ্জুদ কতটা প্রেমিকসূলভ আমল। তাহাজ্জুদ তো নেককার লোকেরাই পড়ে থাকে। এমন লোকদের ইস্তিগফারের কথা কুরআনুল কারিমে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বুঝা গেল, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে যতটুকু চেনে, ঐ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদাকে বুঝে। তখন সে তার নিজ সত্তা ও নিজ আমলকে অসম্পূর্ণ মনে হয়। আর তখনই সে ইস্তিগফারের মধ্যে ঢুবে যায়। গুনাহে অভ্যস্ত লোক ইস্তিগফারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। যেমনটি নেশাখোর মেথর লোক যত ময়লা ও দুর্গন্ধময় হয়ে যাক গোসলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। যেখানে পানি পছন্দকারী ব্যক্তি সামান্য ময়লা হলেই অস্থির হয়ে যায়। আয়না ও সাদা কাপড়ের মধ্যে সামান্য দাগও সহ্য করে না। মুমিনের অন্তরও আয়নার মত হয়ে থাকে। তাই সে তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে তাকে পাক-পবিত্র করে থাকে। প্রিয় পাঠক! প্লেনকে প্রত্যেক ফ্লাইটের পরে পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। দাঁত দৈনিক কত বার পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। যেন তাতে পোকায় না ধরে। গাড়ি প্রতিটি সফরের পরেই পরিষ্কার করা হয়। ঐ ঝরনা এবং কূপ, যা শুকিয়ে গেছে, তা খোদাই ও পরিষ্কার করার দ্বারা পুনরায় চালু হয়ে যায়। ইস্তিগফার হল অন্তরের পরিচ্ছন্নতা। আত্মার পরিচ্ছন্নতা। ইমানের পরিচ্ছন্নতা। এটা কালিমায়ে তাইয়্যেবার ইয়াকীনকে সুদৃঢ় করে এবং এটা আল্লাহ তা'আলার এমন প্রিয় আমল যে, যদি জমিনের সকল অধিবাসী ভাল মানুষ হয়ে যায় এবং ইস্তিগফার ছেড়ে দেয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সরিয়ে এমন লোকদেরকে নিয়ে আসবেন, যারা ভুলভ্রান্তি করে এবং তারপর ইস্তিগফার করে। প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফারের দিকে মনোযোগী হওয়া ইমানের আলামত। কোন প্রকার সাদৃশ্য ব্যতীত ভাবুন তো, কোন ছেলে যদি তার মায়ের নিকট ক্ষমা চায়, কোন বিশ্বস্ত স্ত্রী যদি স্বামীর পা ধরে অশ্রু প্রবাহিত করে ক্ষমা করে দিন, ক্ষমা করে দিন বলে। সত্যিকার ও প্রকৃত মহব্বত এবং ভালোবাসা তো বান্দাকে ইস্তিগফারের পথ দেখায়। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ফিল্ম দেখে এবং ইন্টারনেটে ডুবে থাকে। ইস্তিগফার তো মধুর চেয়েও মিষ্টি আমল। অধিক ইস্তিগফারের দ্বারা না হয় সামান্য ক্লান্তি হবে। একটু জ্বর হবে। কিন্তু এটা প্রেমের জোয়ার প্রবাহিত করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px