📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় বান্দা
খালিদ বিন মা'দান রাহি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- আমার বান্দাদের মধ্যে আমার নিকট অধিক প্রিয় হল ঐ বান্দা, যে আমার মহব্বতের কারণেই পরস্পরে মহববত রাখে এবং তার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। আর ভোরে ঘুম থেকে উঠে ইস্তিগফার করে। এরা হল ঐ লোক, আমি যখন জমিনের অধিবাসীদেরকে আজাব দিতে চাই, তখন তাদের কথা স্মরণ হয়ে যায়। যার ফলে তাদের খাতিরে জমিনের অধিবাসীদেরকে মুক্তি দান করি এবং তাদের থেকে আজাবকে উঠিয়ে নিই।
কোন কোন উলামায়ে কেরাম বলেন- বান্দার অবস্থান হল গুনাহ এবং নি'আমতের মধ্যবর্তী স্থানে। এ উভয় বস্তুর সংশোধন ইস্তিগফার এবং শুকরিয়া ব্যতীত আর কিছুই নেই। অর্থাৎ নি'আমতের জন্য শুকুর এবং গুনাহের জন্য ইস্তিগফার। [৫৪]
কোন কোন মণীষী বলেছেন-যে কেউ অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া ব্যতীত ইস্তিগফার করে অর্থাৎ নিজের গুনাহের উপর অনুতপ্ত না হয়ে শুধুমাত্র মুখে মুখে আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ বলে, তাহলে সে যেন আল্লাহ তা'আলার সাথে ঠাট্টা করে। (মা'আযাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার পানাহ) [৫৫]
সুতরাং স্বীয় গুনাহের উপর অনুতপ্ত হয়ে আন্তরিকতার সাথে ইস্তিগফার করা উচিত。
টিকাঃ
[৫৪] এহইয়াউল উলুম
[৫৫] প্রাগুক্ত
📄 আনন্দ দানকারী আমলনামা
عَنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ تَسُرَّ صَحِيفَتُهُ فَلْيُكْثِرْفِيْهَا مِنَ الْإِسْتِغْفَارِ
“হজরত যুবাইর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি চায় যে, কাল কিয়ামতের দিন তার আমলনামা তাকে আনন্দিত করুক, তার জন্য উচিত হল অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা। [৫৬]
টিকাঃ
[৫৬] তাবরানী; বায়হাকী
📄 নিজের আমলনামা ইস্তিগফার দ্বারা পূর্ণ করুন
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: طُوبُى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- সুসংবাদ ও আনন্দ ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি (দুনিয়াতে ইস্তিগফার করে এবং কাল কিয়ামতের দিন) নিজের আমলনামায় অনেক ইস্তিগফার পাবে। "[৬০]
টিকাঃ
[৬০] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮১৮
📄 সুসংবাদ
আমরা অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করে সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট, সকল প্রকার বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা, সকল প্রকার রোগশোক ও সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে বাঁচতে পারি। আর মূল প্রতিদান ও সাওয়াব তো পরকালে। যার সম্পর্কে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহার বাণী-
طوبى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا
অনেক মহান সুসংবাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও জান্নাত ঐ ব্যক্তির জন্য, যার আমলনামায় অধিক ইস্তিগফার হবে। কালিমায়ে তাইয়্যেবা, সালাত এবং জিহাদের বরকতে আলহামদুলিল্লাহ অধিক ইস্তিগফারের দিকে পথ প্রদর্শন হয়েছে। কালিমায়ে তাইয়্যেবার জিকির কখনো ছাড়বেন না। সর্বনিম্ন পরিমাণ বারোশত বার। আল্লাহর জন্য এতে অনেক গুরুত্ব প্রদান করুন। তিলাওয়াত ও দুরূদ শরিফ কখনোই ছাড়বেন না। সাথে সাথে অধিক ইস্তিগফারকেও নিজের নিয়মিত আমলের অংশ বানান।