📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 একটি পরীক্ষিত সত্য

📄 একটি পরীক্ষিত সত্য


হজরত শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহি. তাফসীরে আযীযীতে লিখেন-হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি কোন বিপদ ও মুসিবতে পতিত হয়ে এই আয়াতটি পাঠ করবে-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আল্লাহ তা'আলা তাকে বিপদ ও মুসিবত থেকে মুক্তি দান করবেন। নির্ভরযোগ্য উলামা-মাশায়েখদের থেকেও বর্ণিত আছে যে, যে কোন বিপদ-মুসিবত থেকে মুক্তির জন্য এই আয়াত পাঠ করা অনেক পরীক্ষিত আমল। আর এই আমলটি দুটি নিয়মে করা যায়। যথা-
প্রথম নিয়ম হল-একাধিক ব্যক্তি একই নিয়মে ধারাবাহিকভাবে এক বৈঠকে কিংবা তিন বৈঠকে একলক্ষ পঁচিশ হাজার বার পড়া।
দ্বিতীয় নিয়ম হল-এক ব্যক্তি একাকী অন্ধকার ঘরে পাক-পবিত্র হয়ে কিবলামুখী হয়ে ইশার সালাতের পর জায়নামাজে বসে তিনশত বার এই আয়াতটি পড়বে এবং একটি পাত্রে পানি ভরে নিজের কাছে রাখবে এবং একটু পর পর নিজের হাত উক্ত পানিতে চুবিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল ও শরীরে মুছবে। এভাবে তিন দিন অথবা সাত দিন কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পড়বে। [৫২]

টিকাঃ
[৫২] তাফসীরে আযীযী: ৩য় খন্ড এই আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অসুস্থদের জন্য সুসংবাদ

📄 অসুস্থদের জন্য সুসংবাদ


হাকেম রাহি, হজরত সা'আদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিআল্লাহু আনহুর মাধ্যমে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার ইসমে আজম শেখাব না? তা হল হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দু'আ-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
যে মুসলিম নিজের অসুস্থতায় চল্লিশ বার এই দু'আ পাঠ করবে। পাঠ করে যদি উক্ত অসুস্থতায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে শহীদের সাওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে। আর যদি সে সুস্থতা লাভ করে, তাহলে তার সকল গুনাহ ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে সুস্থতা লাভ করবে। [৫৩]
অর্থাৎ কোন ব্যক্তির কোন রোগ ও অসুস্থতা দেখা দিলে, সে যেন এই দু'আটি চল্লিশ বার পড়ে আল্লাহ তা'আলার নিকট সুস্থতা কামনা করে।
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

টিকাঃ
[৫৩] মুস্তাদরাকে হাকেম; ফাজায়েলে হিফজুল কুরআন: পৃষ্ঠা- ৪৯৩

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় বান্দা

📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় বান্দা


খালিদ বিন মা'দান রাহি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- আমার বান্দাদের মধ্যে আমার নিকট অধিক প্রিয় হল ঐ বান্দা, যে আমার মহব্বতের কারণেই পরস্পরে মহববত রাখে এবং তার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। আর ভোরে ঘুম থেকে উঠে ইস্তিগফার করে। এরা হল ঐ লোক, আমি যখন জমিনের অধিবাসীদেরকে আজাব দিতে চাই, তখন তাদের কথা স্মরণ হয়ে যায়। যার ফলে তাদের খাতিরে জমিনের অধিবাসীদেরকে মুক্তি দান করি এবং তাদের থেকে আজাবকে উঠিয়ে নিই।
কোন কোন উলামায়ে কেরাম বলেন- বান্দার অবস্থান হল গুনাহ এবং নি'আমতের মধ্যবর্তী স্থানে। এ উভয় বস্তুর সংশোধন ইস্তিগফার এবং শুকরিয়া ব্যতীত আর কিছুই নেই। অর্থাৎ নি'আমতের জন্য শুকুর এবং গুনাহের জন্য ইস্তিগফার। [৫৪]
কোন কোন মণীষী বলেছেন-যে কেউ অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া ব্যতীত ইস্তিগফার করে অর্থাৎ নিজের গুনাহের উপর অনুতপ্ত না হয়ে শুধুমাত্র মুখে মুখে আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ বলে, তাহলে সে যেন আল্লাহ তা'আলার সাথে ঠাট্টা করে। (মা'আযাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার পানাহ) [৫৫]
সুতরাং স্বীয় গুনাহের উপর অনুতপ্ত হয়ে আন্তরিকতার সাথে ইস্তিগফার করা উচিত。

টিকাঃ
[৫৪] এহইয়াউল উলুম
[৫৫] প্রাগুক্ত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আনন্দ দানকারী আমলনামা

📄 আনন্দ দানকারী আমলনামা


عَنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ تَسُرَّ صَحِيفَتُهُ فَلْيُكْثِرْفِيْهَا مِنَ الْإِسْتِغْفَارِ
“হজরত যুবাইর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি চায় যে, কাল কিয়ামতের দিন তার আমলনামা তাকে আনন্দিত করুক, তার জন্য উচিত হল অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা। [৫৬]

টিকাঃ
[৫৬] তাবরানী; বায়হাকী

ফন্ট সাইজ
15px
17px