📄 ইস্তিগফারের দ্বারা জবানের সংশোধন
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: يَارَسُوْلَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ ذَرِبُ اللَّسَانِ وَإِنَّ عَامَّةَ ذَلِكَ عَلَى أَهْلِي فَقَالَ: فَأَيْنَ أَنْتَ مِنَ الْإِسْتِغْفَارِ إِنِّي لَاسْتَغْفِرُ اللهَ فِي الْيَوْمِ وَ اللَّيْلَةِ أَوِ اللَّيْلَةِ أَوْ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ
“হজরত হুযাইফা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরজ করলাম! হে আল্লাহর রাসুল! আমি অনেক কটুভাষী এবং আমার এই কটুভাষা অধিকাংশই আমার পরিবার- পরিজনের বিরুদ্ধেই হয়ে থাকে। (আমাকে এর প্রতিষেধক বলুন) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- তুমি ইস্তিগফার করো না কেন? আমি তো দিনে-রাতে অথবা বলেছেন প্রতি রাতে অথবা বলেছেন প্রতিদিন একশত বার ইস্তিগফার করি। "[৪২]
টিকাঃ
[৪২] হাকেম; বায়হাকী
📄 দুনিয়াবী পরক্ষা ও বিপদাপদ থেকে মুক্তি
এক বর্ণনায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- আমি কি তোমাদেরকে এমন বস্তুর কথা বলব না, যা তোমাদের কারও উপর যখন কোন বিপদ কিংবা দুনিয়াবী বিষয়ে কোন পরীক্ষা ও দুঃখ-কষ্ট আসবে, তখন তোমরা এর দ্বারা দু'আ করবে। তাহলে উক্ত বিপদ ও পরীক্ষা তার কাছ থেকে দূর হয়ে যাবে। আর তা হল মাছওয়ালা তথা হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দু'আ-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন-আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা যেকোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যদি তা পাঠ করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর তা হল আমার ভাই হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দু'আ-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
"অর্থ: আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম। "[৪৩]
টিকাঃ
[৪৩] যাদুল মা'আদ: ৪/১৫; কানযুল উম্মাল: হাদিস নং ৩৪২৭
📄 দুশ্চিন্তা, বিপদ-মুসিবত ও ঋণ থেকে মুক্তি
হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আমার ভাই ইউনুসের দু'আটি খুবই আশ্চর্য ছিল। তার শুরুটা হল তাহলীল। মাঝের অংশ হল তাসবিহ এবং শেষের অংশ হল গুনাহের স্বীকারোক্তি।
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
যে কোন দুরবস্থা, বিপদ ও মুসিবতগ্রস্ত এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি দৈনিক এই বাক্যসমূহ দ্বারা দু'আ করবে, তার দু'আ অবশ্যই কবুল করা হবে। [৪৪]
এই বর্ণনায় চার শ্রেণীর ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যথা-
ক. পেরেশানী ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তি
খ. বিপদগ্রস্ত ও অভাবী ব্যক্তি
গ. কঠিন কোন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি
ঘ. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
টিকাঃ
[৪৪] দায়লামী; কানযুল উম্মাল; আল-আযকার
📄 বোঝা হালকা করুন
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ أَمَامَكُمْ عَقَبَةٌ كَنُودٌ لَّا يَجُوْزُهَا الْمُثْقِلُوْنَ
"হজরত আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সামনে অনেক কঠিন একটি ঘাঁটি রয়েছে। যা (গুনাহের বোঝার) ওজনের কারণে মানুষ পাড়ি দিতে পারবে না। "[৪৫]
সুতরাং মানুষের উচিত বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করে নিজের গুনাহের বোঝা হালকা করতে থাকা।
টিকাঃ
[৪৫] হাকেম; শু'আবুল ইমান; বায়হাকী