📄 হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর বাণী
হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর বাণী- الْاِسْتِغْفَارُ : الْعَجْبُ مِمَّنْ يَّهْلِكُ وَمَعَهُ النَّجَاةُ قِيْلَ وَمَا هِيَ قَالَ “আশ্চর্য তার উপর যে ধ্বংস হয়েছে অথচ তার নিকট মুক্তির উপায় বিদ্যমান ছিল। আরজ করা হল, মুক্তির উপায় কী? তিনি বললেন- ইস্তিগফার।”[২৫]
টিকাঃ
[২৫] দিওয়ানে আলী রাদিআল্লাহু আনহু
📄 মাগফিরাত ও সোজা পথ
ইস্তিগফারের এই বাক্যও হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে- رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَاهْدِنِي لِلسَّبِيْلِ الْأَقْوَمِ “অর্থ: হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন। অনুগ্রহ করুন এবং আমাকে সোজা পথ প্রদর্শন করুন।"
📄 দুনিয়া-আখিরাতের সকল কল্যাণ
হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে মারফু সনদে বর্ণিত আছে যে, আমি তোমাকে পাঁচ হাজার বকরী দেব অথবা পাঁচটি এমন বাক্য শিক্ষা দেব যার মধ্যে তোমাদের জন্য দীন ও দুনিয়ার কল্যাণ নিহিত। তোমরা বল— اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسَعْ لِي خُلُقِي؛ وَطَيِّبْ لِي كَسَبِي؛ وَقَنَعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي، وَلَا تُذْهِبْ طَلَبِيْ إِلَى شَيْءٍ صَرَفْتَهُ عَنِّي “অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমার চরিত্রে প্রশস্ততা দান করুন। আমার উপার্জনকে পবিত্র বানিয়ে দিন। আপনি আমাকে যা কিছু দান করেছেন, তার উপর আমাকে সন্তুষ্টি দান করুন এবং আমার শক্তিমত্তাকে ঐ বস্তুর মধ্যে লাগাবেন না, যা আপনি আমার থেকে ফিরিয়ে নিয়েছেন।" (অর্থাৎ যে সকল বস্তু আমার ভাগ্যে নেই, তার চিন্তা-ভাবনা ও তালাশে আমাকে লাগাবেন না।) [২৯]
টিকাঃ
[২৯] ইবনুন নাজ্জার; কানযুল উম্মাল
📄 হজরত লোকমান আলাইহিস সালামের উপদেশ
হজরত লোকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে বললেন-হে আমার প্রিয় পুত্র! স্বীয় জিহ্বাকে اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِی তথা হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। এই দু'আয় অভ্যস্ত বানাও। কেননা আল্লাহ তা'আলার নিকট অনেক মুহূর্ত এমন রয়েছে, যে মুহূর্তে তিনি কারো দু'আ ফিরিয়ে দেন না। দেখুন! মাগফিরাত কতটা জরুরি বস্তু যে, সর্বদা কামনা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
হজরত কাতাদাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-এই পবিত্র কুরআন তোমাদের রোগও বলে দেয় এবং উক্ত রোগের চিকিৎসাও বলে দেয়। সুতরাং তোমাদের রোগ হল গুনাহ। আর তোমাদের চিকিৎসা হল ইস্তিগফার। আবুল মাহবাল রাহি. বলেন-কবরে কোন বান্দার জন্য ইস্তিগফারের চেয়ে অধিক প্রিয় কোন সঙ্গি হবে না।
শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহি. এর নিকট কেউ একজন জিজ্ঞেস করল যে, আমরা কি অধিক পরিমাণে তাসবিহ পড়ব নাকি ইস্তিগফার? তিনি বললেন-কাপড় যদি পবিত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়, তাহলে সুগন্ধি ব্যবহার করাই উত্তম। আর যদি কাপড় অপবিত্র ও অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন এবং ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময় হয়, তাহলে সাবান ব্যবহার করাই উত্তম। আর আমরা তো অধিকাংশ লোক অপবিত্র ও অপরিষ্কার- অপরিচ্ছন্ন এবং ময়লাযুক্তই থাকি। অর্থাৎ তাসবিহ হল সুগন্ধির মত। আর ইস্তিগফার হল সাবানের মত। মূলত ইস্তিগফার হল পবিত্রতা ও পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার ঐ মুষলধার বৃষ্টি, যা মানুষকে ভেতর-বাহির উভয় দিক থেকে পবিত্র করে দেয়। সবচেয়ে বড় পবিত্রতা তো হল এর দ্বারা আমলনামা পবিত্র হয়ে যায়। এই আমলনামা কাউকে ডান হাতে এবং কাউকে বাম হাতে প্রদান করা হবে। একটি ফিল্ম দেখলে আমলনামা কি পরিমাণ কালো হয়? মিথ্যা বললে আমলনামা কি পরিমাণ কালো হয়? অধিক কথাবলা ব্যক্তিরা তো একাধারে বলতেই থাকে। ফরায়েজের মধ্যে দুর্বলতা। বদ নজর বা কুদৃষ্টি, হারামখোরী ও খিয়ানত। কোন কোন গুনাহ আজ উম্মতকে বেষ্টন করে আছে, তা যদি তালিকা করা হয়, তাহলে স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থের রূপ ধারণ করবে। তার বিপরীতে তাওবার পরিমাণ কত? ইস্তিগফারের পরিমাণ কত? গুনাহ মূলত ঐ চর্বির মত যা অন্তরের ধমনীতে যদি জমে যায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়। গুনাহ ঐ জালের ন্যায়, যা মুক্তারূপে দৃষ্টিগোচর হলে চোখ খারাপ হয়ে যায়। গুনাহ হল ঐ কাদার ন্যায়, যা পানির পাইপে আটকে গেলে পানি বন্ধ হয়ে যায়। গুনাহ হল ঐ ময়লা- আবর্জনার ন্যায়, যা কোন জায়গায় জমা হয়ে গেলে সেখানে পোকা- মাকড় সৃষ্টি হয়ে যায়। গুনাহ হল ঐ মরিচার ন্যায়, যা বড় বড় কার্যকরী মেশিনারিজকেও বেকার করে দেয়। গুনাহ হল ঐ বিষের ন্যায়, যা রক্ত কিংবা অন্য কোন অঙ্গে যদি হয়ে যায়, তাহলে ক্যান্সার হয়ে যায়। আর ইস্তিগফার হল উক্ত সকল রোগের চিকিৎসা। আমাদের গুনাহসমূহ উক্ত পাইপলাইন ও পথসমূহকে বন্ধ করে রেখেছে, যা দিয়ে রহমত, প্রশান্তি, শক্তি ও হালাল রিজিক অবতীর্ণ হয় এবং যা অতিক্রম করে আমাদের দু'আসমূহ উপরে আরশ পর্যন্ত পৌছে।