📄 একটি উপকারী শিক্ষা
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ نَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ الَيْكَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ إِلَيْكَ؛ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ أَلَيْكَ؛
অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা ও অন্যকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করানো
আল্লাহ তা'আলা আমার ও আপনাদের সকলের এবং সকল ইমানদারদের মাগফিরাত দান করুন। অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা এবং অন্যকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ আমল। আর এ আমলটি বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে পুনরায় জীবিত করা প্রয়োজন। আজই পবিত্র কুরআনুল কারিম খুলুন এবং চেষ্টা করুন যেন এক বসায়ই এ বিষয়ের সকল আয়াত সামনে এসে যায়।
দেখুন কত বড় উপহার। আল্লাহ তা'আলার দয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত শিরোনামে কুরআনুল কারিমের একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের সারমর্ম এসে যায়। চলুন প্রথমে অন্তরের ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার সাথে কালিমায়ে তায়্যিবা পাঠ করি।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؛ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُولُ اللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؛
এখন আসুন! নিজের সকল কবিরা ও সগিরা গুনাহসমূহ থেকে তাওবা করি।
اسْتَغْفِرُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَاتُوْبُ إِلَيْهِ
নিজের মাতা-পিতা ও সকল মুসলমানের জন্য ইস্তিগফার করি।
اللَّهُمَّ اغْفِرْلِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ الْأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْأَمْوَاتِ
এখন ইখলাসের সাথে দুরূদ শরিফ পড়ন যেন কবুল হয়ে যায়।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَبَارَكَ وَسَلَّمْ تَسْلِيمًا كَثِيرًا كَثِيرًا
📄 ইস্তিগফার সর্বাবস্থায়ই উপকারী
কুরআনুল কারিমে অন্যের জন্য ইস্তিগফারের আয়াত দুই প্রকার। প্রথমত হল ঐ সকল আয়াত যেগুলোতে অন্যের জন্য ইস্তিগফার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলমান নিজেকে ছাড়াও অন্যের জন্যও আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর দ্বিতীয় হল ঐ সকল আয়াত যেগুলোতে কোন কোন লোকদের জন্য ইস্তিগফার করতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ জমিনে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের জন্য না আল্লাহ তা'আলার ফেরেশতারা ইস্তিগফার করে এবং না মুসলমানদের জন্য অনুমতি আছে তাদের জন্য ইস্তিগফার করার।
কাফির-মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করা বৈধ নয়
কাফির-মুশরিক ও মুনাফিক। এরা হল হতভাগা। প্রথমে এই আয়াতসমূহ পাঠ করে নিন। যেন ঐ সকল লোকদের কথা জানা যায়—যাদের জন্য ইস্তিগফার করা যাবে না।
প্রথম আয়াত:
اِسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
"তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দেন না।"/২১।
এই আয়াতটি মুনাফিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। যারা মৌখিকভাবে ছিল মুমিন আর অন্তরে ছিল কাফির। যখন জিহাদের হুকুম আসল, তখন তাদের নিফাক উন্মোচন হয়ে গেল। এমন লোকদের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারও কোন উপকার আসে না।
দ্বিতীয় আয়াত: مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
"নবি ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।" ২২১
এ আয়াতে সকল কাফির-মুশরিকদের জন্য ইস্তিগফার করতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ চাচা আবু তালেবের জন্য ইস্তিগফার করা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ! জীবিত কাফির-মুশরিকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা বৈধ।
তৃতীয় আয়াত: وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لَّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ
"নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহিম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল। "/২৩।
[[ চতুর্থ আয়াত:
سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
“পিছনে পড়ে থাকা বেদুঈনরা আপনাকে অচিরেই বলবে, আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল; অতএব আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আপনি বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান কিংবা কোন উপকার করতে চান, তবে কে আল্লাহর মোকাবিলায় তোমাদের জন্য কোন কিছুর মালিক হবে? বরং তোমরা যে আমল কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।"/২৪।
[[ পঞ্চম আয়াত:
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَاءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
“ইবরাহিম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হল আমাদের-তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ইমান আন। তবে স্বীয় পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিটি ব্যতিক্রম: আমি অবশ্যই তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে।”১৫।
| ষষ্ঠ আয়াত:
سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
"আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ پাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।"২৬।
এ সকল আয়াতে দুই প্রকার মুনাফিকের আলোচনা রয়েছে। এক হল ঐ সকল মুনাফিক যারা উপরে উপরেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ইস্তিগফারের আবেদন করত। আর দ্বিতীয়ত হল ঐ সকল মুনাফিক যারা মোটেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে ইস্তিগফার করাতে চাইত না। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে নিফাক থেকে হেফাজত করুন। তাই আসুন একবার ইখলাসের সাথে কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করে নিজের ইমানকে তাজা করে নেই।
[২৫] মুমতাহিনা- ৬০: ৪
[২৬] মুনাফিকুন- ৬৩: ৬
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ
তাহলে একটি কথা সমাপ্ত হল যে, আমরা কোন কাফির-মুশরিক ও আকীদাগত মুনাফিকের জন্য ইস্তিগফার করতে পারবো না। এবার আসুন দ্বিতীয় বিষয় এবং মূল বিষয়ের দিকে। কুরআনুল কারিমে অন্যের জন্য ইস্তিগফারের যে বিধানসমূহ রয়েছে, তা আমরা কয়েকটি শিরোনামে আলোচনা করব ইন শা'আল্লাহ।
১. ফেরেশতাদের আমল। তারা জমিনের উপর বিদ্যমান সকল মুমিন ও তাওবাকারীর জন্য ইস্তিগফার করে থাকে। বুঝা গেল যে, অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা আল্লাহ তা'আলার এত বেশি প্রিয় যে, আরশ বহনকারী মুকাররাব তথা নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ এবং অন্যান্য অসংখ্য ফেরেশতাগণকে এই ইবাদাতে লাগিয়ে রেখেছেন। “সুবহানাল্লাহি ওয়া বি-হামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম।"
২. কোন মুসলমান সকল মুমিন-মুমিনাতের জন্য ইস্তিগফার করা।
৩. স্বীয় মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার করা।
৪. মাতা-পিতা নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফার করা।
৫. কোন মুসলমান তার ভাই কিংবা ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৬. বড়রা তাদের ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৭. ছোটরা এবং পরবর্তীগণ তাদের বড়দের জন্য এবং পূর্ববর্তীদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৮. তাওবার জন্য আগত নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৯. যে বাস্তব কোন উজরের কারণে কোন ফজিলত কিংবা সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তার জন্য ইস্তিগফার করা।
১০. যে গুনাহগার লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার জন্য ইস্তিগফার করা।
ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার
হজরত মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামের উপর অসন্তুষ্ট হলেন-কওম গোমরাহ তথা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। এই অসন্তুষ্টির কারণে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এতোটা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, কোন কিছু না শুনেই ভাইয়ের মাথার চুল ধরে টানতে লাগলেন। ভাই যখন বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলেন, হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন সাথে সাথে স্বীয় ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফারের হাত উত্তোলন করলেন। যেমন কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, হে আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ১২৭।
দ্বিতীয় ঘটনা সুরা ইউসুফে রয়েছে। যেখানে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজের ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَالَ لَا تَغْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, আজ তোমাদের উপর কোন ভর্ৎসনা নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আর তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। ২৮।
নোট: ভাইদের একে অপরের ইস্তিগফারে উভয় জায়গায়ই আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নাম "আরহামার রাহিমীন" ব্যবহৃত হয়েছে।
সন্তানের জন্য ইস্তিগফার
নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফারের বিষয়টিও সুরা ইউসুফেই বর্ণিত হয়েছে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা স্বীয় পিতা হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট তাদের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করল। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাদের আবেদন গ্রহণ করলেন এবং বললেন, খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করব। ইরশাদ হয়েছে-
قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“তারা বলল, হে আমাদের পিতা, আপনি আমাদের পাপ মোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আমরা ছিলাম অপরাধী। সে বলল, অচিরেই আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকট ক্ষমা চাইব, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”/২৯৷
একটি কথা বলুন তো!
সত্য করে একটি কথা বলুন তো! আপনি কখনো আপনার পিতার নিকট নিজের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করেছেন? আহ! কত মাতা-পিতা তো চলেই গেছেন কিন্তু যাদের নিকট এখনো এই মূল্যবান সম্পদ বিদ্যমান, তারা কবে এই মূল্যবান সম্পদ থেকে এ মহান উপকার লাভ করেছে। হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা! সন্তানের জন্য মাতা-পিতার ইস্তিগফার অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। ভয় ও রেওয়াজ হিসেবে নয়। অনুশোচনা ও আবেদনের দৃষ্টিতে নিজের প্রয়োজন মনে করেই মাতা-পিতাকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করিয়ে নিন এবং করাতেই থাকুন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! মাতা- পিতার সামনে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করুন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। তাদের উপর রাগ ঝারা তো হল নির্বুদ্ধিতা ও দুশ্চরিত্র। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আসুন! ইখলাসের সাথে ইমান তাজা করে নিন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ
এ মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةُ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ؛ فَيَقُوْلُ: يَارَبِّ إِنِّي لِي هذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন। তারা (তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক মর্যাদা দেখে আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করবে, হে আমার পালনকর্তা! আমার এই মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল? আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করার কারণে।"
মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার
কুরআনুল কারিমের সুরা মুমতাহিনার শেষের দিকে নারীদের ইসলামের উপর বাইয়াতের বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। নারীদের সংশোধনের জন্য এ আয়াতটি ভিত্তিস্বরূপ। প্রতিটি মুসলিম নারীর উক্ত আয়াতটি তরজমা ও তাফসিরসহ বুঝে পাঠ করা এবং এর উপর আমল করা আবশ্যক। উক্ত আয়াতের শেষাংশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন-যে সকল নারী কয়েকটি শর্ত মেনে নেবে, যা উক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলে আপনি তাদেরকে বাইয়াত করে নিন এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার করুন। ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
। “হে নবি, যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বাইআত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে তারা আপনার অবাধ্য হবে না। আপনি তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”১০১৯
বুঝা গেল-আমির, শাইখ, উস্তাদ ও অন্যান্য মর্যাদাশীল ব্যক্তিগণ স্বীয় অনুসারী ও দীনি সম্পর্ক রাখে এমন মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা উচিত।
নারীদের জন্য ইস্তিগফারের বিশেষ নির্দেশ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنِ رَسُولِ اللَّهِ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ، وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ، فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ: وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ؟ قَالَ: تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينِ أَغْلَبَ لِذِي لُبِّ مِنْكُنَّ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ؟ قَالَ: أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ، فَهَذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، وَتَمْكُثُ اللَّيَالِي، مَا تُصَلَّى، وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ، فَهَذَا نُقْصَانُ الدِّينِ
"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নারীদেরকে সম্বোধন করে) ইরশাদ করেন-হে নারীদের জামাত! তোমরা সাদকা কর এবং ইস্তিগফার কর। কেননা আমি জাহান্নামে তোমরা নারীদের সংখ্যাই বেশি দেখেছি। তখন তাদের মধ্য হতে একজন বুদ্ধিমান নারী জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! কেন আমাদের সংখ্যা জাহান্নামে বেশি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অবাধ্যতা করে থাক। আমি বিবেক-বুদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে কমতি এবং বুদ্ধিমানকে বোকা বানানোর ক্ষেত্রে তোমাদের থেকে অধিক আর কাউকে দেখিনি। তখন ঐ নারী জিজ্ঞাসা করল, বিবেক-বুদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কমতি রয়েছে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বিবেক-বুদ্ধির কমতি এটা থেকেই বুঝা যায় যে, দুইজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর দীনের কমতি হল নারীরা (হায়েজের কারণে) প্রতি মাসে কয়েকদিন পর্যন্ত সালাত পড়তে পারে না এবং রমজানে (যদি হায়েজ হয়) সিয়াম পালন করতে পারে না।"/০২]
মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার
এখন আসুন মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফারের দিকে। অর্থাৎ সন্তান স্বীয় মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার করা। এ আমলটি আল্লাহ তা'আলার প্রিয় আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণ করেছেন এবং তারা তাদের পিতা-মাতার জন্য ইস্তিগফার করা পবিত্র কুরআনের আয়াতে পরিণত হয়েছে। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আমল। যদিও পরবর্তীতে এ আমল থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেননা তার পিতা মুসলমান হননি। এমনিভাবে হজরত নূহ আলাইহিস সালামের আমল। ইরশাদ হচ্ছে-
প্রথম আয়াত:
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
“হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। ”৩৩।
দ্বিতীয় আয়াত: قَالَ سَلَامُ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا
“ইবরাহিম বলল, আপনার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল। ”[৩৪]
তৃতীয় আয়াত: وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ
"আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।"/৩৫।
চতুর্থ আয়াত: رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنِ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا
“হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ইমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী- পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি জালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।"/৩৬।
ইমানদারদের জন্য ফেরেশতাদের ইস্তিগফার
এখন আসুন ইমানদারদের জন্য ফেরেশতাদের ইস্তিগফারের দিকে। এটা পবিত্র কুরআনের দুই জায়গায় আছে-
■ প্রথম আয়াত: الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
"যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ইমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে (ইস্তিগফার করে) বলে-হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আজাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন।"৩৭।
এ আয়াতে হামালাতুল আরশ তথা আরশ বহনকারী মহান ও নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের আলোচনা করা হয়েছে। তারা ইমানদারদের জন্য ইস্তিগফার করে। এখন আপনারা নিজেরাই চিন্তা করুন যে, এই ইস্তিগফারের আমল আল্লাহ তা'আলার কতটা প্রিয়। সুতরাং আসুন বিলম্ব না করে আজ হতে এই আমলটি শুরু করে দেই। খুব মনোযোগ ও আন্তরিকতার সাথে সকল ইমানদারদের জন্য চাই জীবিত হোক কিংবা মৃত, দৈনিক সকাল-বিকাল ইস্তিগফার করি। যত অধিক হবে তত ভাল। আর না হয় অন্তত কমপক্ষে দৈনিক ২৭ বার। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে। এমনিভাবে ফেরেশতারা আল্লাহ তা'আলার তাসবিহ ও তাহমিদও করেন এবং পৃথিবীবাসীর জন্য ইস্তিগফারও করেন।
■ দ্বিতীয় আয়াত:
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“উপর থেকে আসমান ফেটে পড়ার উপক্রম হয়; আর ফেরেশতারা তাদের রবের প্রশংসায় তাসবিহ পাঠ করে এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; জেনে রেখ, আল্লাহ, তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”৩৮।
এই দুটো আয়াতের তরজমা একবার মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলে এ বিষয়ের গুরুত্ব অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যাবে। এ বিষয়টিকে আরও অধিক গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় হাবীব ও সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন-
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ
"অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও তোমার ও মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং নিবাস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। "৩৯।
এটা উম্মতের জন্য অনেক বড় শিক্ষা যে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর উপর দৃঢ়পদ ও উন্নতির জন্য নিজের জন্যও খুব ইস্তিগফার করা এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্যও ইস্তিগফার করাকে নিজের নিয়মিত আমলে পরিণত করুন। বুঝা গেল যে, নিয়মিত ইস্তিগফার করা অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ আমল।
নিজের বন্ধু-বান্ধব ও ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করা
এখন আসুন নিজের বন্ধু-বান্ধব ও ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করার দিকে।
তাদের জন্য ইস্তিগফার করা
এটাও পবিত্র কুরআনের দুই জায়গায় আছে-
[ প্রথম আয়াত:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نَفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكَّلِينَ
"অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে: রহমতের কারণেই আপনি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলেন। আর যদি আপনি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন, তখন আল্লাহ তা'আলার উপর তাওয়াক্কুল করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন। "[৪০]
এ আয়াতটি গাজওয়ায়ে ওহুদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। অনেক পেরেশানি ও ভয়ভীতির সময় ছিল। মুসলিম বাহিনী কষ্ট ও বেদনায় জর্জরিত ছিল। সাথে এ দুঃখবোধও ছিল যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবাধ্যতা হয়েছে। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
■ দ্বিতীয় আয়াত:
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَبِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأَذَن لِمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
। "মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ইমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় আপনার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ইমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা আপনার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে আপনার যাকে ইচ্ছা আপনি অনুমতি দিন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।”৪১।
এ আয়াতে বড় দুটি শিক্ষা রয়েছে। একটি হল, সম্মিলিত কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার নিয়ম। সম্মিলিত কাজ থেকে কেউই অনুপস্থিত না থাকা। আর যখন কোন ব্যক্তি কোন উজরের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ছুটি কিংবা অব্যাহতি চাইবে, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে ইচ্ছা অব্যাহতি দেবেন। এখন যেহেতু ছুটি নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মা'জুর তথা অক্ষম তাই সম্মিলিত আমলের সৌভাগ্য থেকে সে বঞ্চিত হল। তবে যেহেতু সে উজরের কারণেই গিয়েছে তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য ইস্তিগফার করবেন। বুঝা গেল যে, ইস্তিগফারের বরকতে অনেক কাজের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর দ্বিতীয়টি হল, যিনি কোন দেশের কিংবা জামাতের অথবা প্রতিষ্ঠানের অথবা বংশের বড় হবেন, তিনি তার অধীনস্ত ও অনুসারীদের জন্য ইস্তিগফার করা। বর্তমানে কি এ কাজটি কেউ করেন? প্রিয় পাঠক! সৌভাগ্যের পথকে বুঝুন এবং অবলম্বন করুন। আজ বড়রা ছোটদেরকে দুর্বল মনে করছে এবং ছোটরা বড়দেরকে বোঝা মনে করছে। যেখানে উভয় পক্ষের জন্যই ইস্তিগফারের মত উপহার এবং আমলের নির্দেশ রয়েছে।
ছোটরা বড়দের জন্য ইস্তিগফার করা
পবিত্র কুরআনে ছোটদের পক্ষ থেকে বড়দের জন্য ইস্তিগফারের নির্দেশ এসেছে। মালে ফাই তথা বিনাযুদ্ধে অর্জিত সম্পদ বণ্টনের খাত বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের শত্রুরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাদের থেকে বিনাযুদ্ধে শুধুমাত্র মুসলিম বাহিনীর ভয় ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে যে সম্পদ মুসলমানরা পেয়ে থাকে, তাকে শরিয়াতের পরিভাষায় "মালে ফাই" বলা হয়। এর বিধান পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান। কিন্তু বর্তমান মুসলমানরা এ সম্পদ ভোগ করতে পারে না। আর এটা একমাত্র জিহাদ ত্যাগ করার পরিণাম। আল্লাহ তা'আলা এই মালে ফাইয়ের বণ্টনের খাত বর্ণনা করতে গিয়ে ঐ সকল লোকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা পরে ইমান গ্রহণ করেছেন। তবে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য এমন কল্যাণকামী যে, তাদের জন্য ইস্তিগফার করে থাকে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
"(মালে ফাই, তাদের জন্যও) যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে; হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ইমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ইমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।"[৪২]
এ আয়াতে পরবর্তীতে আগত এবং ছোটরা তাদের বড়দের জন্য ইস্তিগফার করছে এবং আল্লাহ তা'আলা এই আমলটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। বর্তমানের পরবর্তীরা এবং ছোটরাও কি এই বরকতময় আমলটি জীবিত করবে? প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফার একটি আশ্চর্য নি'আমত। বান্দাকে রবের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয় এবং স্বয়ং মুসলমানদের মাঝেও পরস্পর একতা ও মহব্বত সৃষ্টি করে দেয়।
অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানো
আল্লাহ তা'আলা ইমানকে আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দিন। এখন একটি কথা শুনুন! যে ব্যক্তি ইমান অবস্থায় কোন সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুর সংশ্রব পেয়েছেন এবং পুনরায় ইমানের উপর মৃত্যু হয়েছে, তাদেরকে তাবেঈন বলা হয়। আর উক্ত তাবেঈনদের সর্দার কে ছিলেন? হজরত উয়াইস করনী রাহি, সহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। যেমন হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রাহি প্রমুখ। মূলত কেউ ছিলেন ইলমের সর্দার। কেউ ছিলেন যুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে। আবার কেউ অন্য কোন ক্ষেত্রে। হজরত উয়াইস করনী রাহি, খাইরুত-তাবেঈন ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন। নিজ মায়ের শারীরিক অক্ষমতা ও খিদমতের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হতে পারেননি। তাঁর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে এবং ঘটনা অনেক আকর্ষণীয়। ঐ আকর্ষণীয় ঘটনায় ঢুবে যেওনা। আসল কথা আরজ করছি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুকে হজরত উয়াইস করনী রাহি. এর নিদর্শন বর্ণনা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তোমার যদি তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়, তাহলে তাঁকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করাবে এবং আমার উম্মতের জন্যও ইস্তিগফার করাবে।
হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতের যামানায় অনেক কষ্ট করে তাঁকে খুঁজে বের করেছেন এবং নিজের জন্য ও উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করিয়েছেন। একটু ভাবুন তো! ইস্তিগফার কত বড় বস্তু। নির্দেশদাতা কে? যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি কে? একজন মহান খলিফা বহু বছর যাবৎ একজন ফকিরকে খুঁজেছেন। কিন্তু কেন? তাবিজের জন্য? না। শুধুমাত্র ইস্তিগফার করানোর জন্য। বস্তুত তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছিলেন এবং অনেক ফজিলতের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু ইস্তিগফার তো ইস্তিগফারই। এর দ্বারা এ কথা জানা গেল যে, ইস্তিগফার পাওয়ার একটি পদ্ধতি হল-আল্লাহ ত'আলার প্রিয় বান্দাদেরকে দিয়ে ইস্তিগফার করানো এবং নিজেও অন্যদের জন্য ইস্তিগফার করা। আমি আমার নিজের জন্য, আপনাদের সকলের জন্য এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফার করছি-
اسْتَغْفِرُ اللهَ لِي وَلَكُمْ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ
টিকাঃ
[২১] তাওবাহ- ৯: ৮০
[২৩] প্রাগুক্ত- ৯: ১১৪
[২৪] ফাতহ-৪৮: ১১
মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১০৬১০
(৩১) মুমতাহিনা-৬০: ১২
[৩২] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ১৪৬২; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৩৫৬৯
[৩৩] ইবরাহিম- ১৪:৪১
[৩৪] মারইয়াম- ১৯:৪৭
[৩৫] শু'আরা- ২৬: ৮৬
[৩৬] নূহ-৭১: ২৮
[৩৭] মু'মিন- ৪০: ৭
[৩৮] শুরা- ৪২: ৫
[৩৯] মুহাম্মাদ- ৪৭: ১৯
[৪০] আলে-ইমরান-৩: ১৫৯
[৪১] নূর- ২৪: ৬২
[৪২] হাশর-৫৯: ১০
📄 শক্তির রহস্য
যেখানে এমনিতেই মুসলিম উম্মাহর মাঝে ইস্তিগফারের ব্যাপারে ব্যাপক অলসতা রয়েছে। সেখানে অন্যদের জন্য ইস্তিগফার করার বিষয়টি তো অনেক দূরের কথা। বস্তুত সকলেই দিন-রাত শুনে থাকে যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুকে হজরত উয়াইস করনী রাহি. এর নিদর্শন বর্ণনা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তোমার যদি তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়, তাহলে তাঁকে দিয়ে নিজের জন্য এবং আমার উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করাবে। একটু ভাবুন তো! নির্দেশদাতা কে এবং যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি কে? অতঃপর হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতের যামানায় দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ চেষ্টা করার পর হজরত উয়াইস করনী রাহি.-কে খুঁজে বের করেছেন এবং নিজের জন্য ও উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করিয়েছেন। বর্তমানে আপনি কোন বুজুর্গ কিংবা কোন নেককার লোকের নিকট গিয়ে বলুন যে, আমি আপনার জন্য ইস্তিগফার করছি। তখন তার চেহারার রঙই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর বলবে আমি এমন কি গুনাহ করেছি যে, তুমি আমার জন্য ইস্তিগফার করছ? বুঝা গেল যে, বর্তমানে ব্যাপকভাবে মুসলমানদের মাঝে ইস্তিগফারের মর্যাদা নেই। এমনিভাবে আপনি কারো নিকট গিয়ে আবেদন করুন যে, আমার জন্য ইস্তিগফার করে দিন। সে ঘুরে-ফিরে দেখবে যে, এখন আপনি কোন মদ্যশালা থেকে এসেছেন কিনা? বুঝা গেল যে, ইস্তিগফার থেকে বঞ্চিত হওয়া আমাদের সাধারণ মেজাযের অংশ হয়ে গেছে। বস্তুত কুরআনুল কারিমের বেশ কয়েকটি আয়াতেই অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা এবং অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানোর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তাওবাকারী গুনাহগারের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইস্তিগফার
عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِي، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِلِصٌ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ، قَالَ:
بَلَ، فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ وَجِيءَ بِهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ ثَلَاثًا
“হজরত আবু উমাইয়া মাখযুমী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে একজন চোরকে আনা হল, যে চুরির স্বীকারোক্তি দিয়েছে কিন্তু তার নিকট চুরির কোন মালামাল পাওয়া যায়নি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাকে বললেন-আমার মনে হয় না যে, তুমি চুরি করেছো। সে বলল, কেন মনে হবে না। আমি অবশ্যই চুরি করেছি। এমনিভাবে সে দুই বার অথবা তিন বার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে স্বীকারোক্তি দিল। অতঃপর তার উপর দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করা হল তথা তার হাত কেটে ফেলা হল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আনা হল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবা কর। তখন সে বলল- أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ তথা আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বার বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তার তাওবা কবুল করুন। "[৪৩]
মুস্তাজাবুদ-দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুসংবাদ
অন্যের জন্য ইস্তিগফার করলে মুস্তাজাবুদ-দাওয়াত তথা দু'আ কবুল হওয়া ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুসংবাদ
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً أَوْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً كَانَ مِنَ الَّذِينَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ وَيُرْزَقُ بِهِمْ أَهْلُ الْأَرْضِ
"হজরত আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য দৈনিক সাতাইশ অথবা পঁচিশ বার ইস্তিগফার করবে, তাহলে তাকে ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা মুস্তাজাবুদ-দাওয়াত তথা যাদের দু'আ কবুল করা হয় এবং যাদের কারণে জমিনবাসী রিজক পেয়ে থাকে। "[৪৪]
অন্যের জন্য ইস্তিগফারের উপর অসংখ্য নেকি
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ صَامِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ يَقُولُ: مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ حَسَنَةٌ
"হজরত উবাদা ইবনে সামিত রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ইস্তিগফার করবে, তার জন্য প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর পরিবর্তে নেকি লিখে দেওয়া হয়। "[৪৫]
মৃতদের জন্য জীবিতদের হাদিয়া
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا الْمَيِّتُ فِي الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيْقِ الْمُتَغَوَثِ؛ يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُهُ مِنْ آب وَ أَمْرٍ أَوْ آخِ أَوْ صَدِيقٍ؛ فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا مِنْهَا، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيُدْخِلُ عَلَى أَهْلِ الْقُبُوْرِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الْاسْتِغْفَارُ لَهُمْ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- কবরে মৃত ব্যক্তির উপমা হল ঐ ব্যক্তির মত, যে ঢুবে যাচ্ছে এবং সাহায্যের জন্য ডাকছে। ডুবন্ত ব্যক্তি যেভাবে সাহায্যের অপেক্ষা করে থাকে ঠিক তেমনি মৃত ব্যক্তিও অপেক্ষায় থাকে যে, ছেলে-মেয়ে কিংবা ভাই-বেরাদার কিংবা বন্ধু-বান্ধবের পক্ষ থেকে কোন দু'আর হাদিয়া পৌঁছার। যখন সে কোন দু'আ হাদিয়া পায়, তখন এটা তার নিকট দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে প্রিয় হয়ে থাকে। আর বাস্তবতা হল-আল্লাহ তা'আলা কবরবাসীকে দুনিয়াবাসীর দু'আসমূহ পাহাড়ের ন্যায় বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকেন। আর জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের জন্য হাদিয়া হল তাদের জন্য ইস্তিগফার করা।”[৪৬]
টিকাঃ
[৪৩] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৩৮০; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৪৮৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহঃ হাদিস নং ২৫৯৭: সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২২৫০৮
[৪৪] তাবরানীয় সূত্রে মাজমাউয-যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৬০০; জামেউস-সগীর: হাদিস নং ৮৪২০
[৪৫] প্রাগুক্ত: হাদিস নং ১৭৫৯৮; প্রাগুক্ত: হাদিস নং ৪৮১৯
[৪৬] বায়হাকীর সূত্রে মিশকাতুল মাসাবিহ; কিতাবুদ দাওয়াত: ইস্তিগফার ও তাওবা অধ্যায়: হাদিস নং ২৩৫৫
📄 মাগফিরাত একটি মহান নি‘আমত
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
"আর যদি তারা-যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল তখন তোমার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসুলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত তাহলে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী, দয়ালু পেত।"[৬৪]
আপনারা যদি এ আয়াতের পূর্ণ তাফসির পড়েন, তাহলে কয়েকটি বিধান জানতে পারবেন। আপাতত এতটুকু জেনে রাখুন যে, যখন বড় কোন গুনাহ হয়ে যাবে, তখন সাথে সাথে নিজেও ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহ তা'আলার প্রিয় বান্দাদেরকে দিয়েও ইস্তিগফার করানো।
এমনিভাবে যিনি দীনের পথপ্রদর্শক, তার নিকট যদি কোন গুনাহগার লোক ইস্তিগফার করতে আসে এবং তার নিকট ইস্তিগফারের আবেদন করে, তাহলে তার জন্য ইস্তিগফার করা। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ দুটি মাসআলা তো সুস্পষ্টভাবেই জানা হয়ে গেল।
ইস্তিগফারের আবেদনকারীর জন্য নিজের গুনাহের বর্ণনা করা জরুরি নয়। বিশেষ করে বর্তমানে যেখানে ফিতনা-ফাসাদ অত্যন্ত ব্যাপক। তাই নিজের গুনাহের বর্ণনা না দিয়ে শুধুমাত্র ইস্তিগফারের আবেদন করা। কেননা উক্ত ব্যক্তি কতটুকু উদার তা তো জানা নেই। অনেক লোক এতটাই সংকীর্ণ হয়ে থাকে যে, তারা যদি কোন ব্যক্তির কোন একটি গুনাহের কথাও জানতে পারে, তাহলে গোটা জীবনভর চেষ্টা করেও নিজের অন্তর তার প্রতি পরিষ্কার করতে পারে না। সে তাওবা করে সিদ্দিকীনের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও এবং তার উক্ত গুনাহও আমলনামায় নেকিতে পরিণত হয়ে গেলেও। এমনিভাবে যদি আপনার নিকট কেউ ইস্তিগফারের আবেদন নিয়ে আসে- আমার জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করুন, তখন আপনিও তার নিকট তার গুনাহের কথা জিজ্ঞেস করবেন না এবং না এই অনুসন্ধানে যাবেন যে, সে কোন কোন গুনাহ করে। বরং এটা ভাবুন যে, সে কত উত্তম মুসলমান যে আল্লাহ তা'আলার ভয়ে ইস্তিগফার করাতে এসেছে এবং আমি কত অধম যে আমার নিজের গুনাহসমূহ ক্ষমার কোন ভাবনা নেই। আলহামদুলিল্লাহ! এ বিষয়ের মূল কথা সমাপ্ত হল। কুরআনুল কারিমের কোন একটি বিষয়ের সমাপ্তিও সম্ভব নয়। শুধুমাত্র সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করা। আল্লাহ তা'আলা কবুল করুন এবং উপকারী বানান। যদি কোন একজন মুসলিম ভাই কিংবা বোনেরও উপকার হয়, তাহলে সে যেন অধমের জন্য পরিপূর্ণ ইমান এবং উত্তম মৃত্যুর দু'আ এবং ইস্তিগফার করে দেয়। এটা অনেক বড় অনুগ্রহ হবে।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
জীবনের শেষ বয়সে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، يُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَاكَ تُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ؟ فَقَالَ: خَبَرَنِي رَبِّي، أَنِّي سَأَرَى عَلَامَةٌ فِي أُمَّتِي، فَإِذَا رَأَيْتُهَا، أَكْثَرْتُ مِنْ قَوْلِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَدْ رَأَيْتُهَا إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ ، فَتْحُ مَكَّة وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
"হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নিজের শেষ বয়সে) এ দু'আটি বেশি বেশি পড়তেন—
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং প্রশংসা করছি। আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।
হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি (কিছু দিন যাবৎ) আপনাকে এ দু'আটি বেশি বেশি পাঠ করতে দেখছি। এর কারণ কী? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-আমার রব আমাকে বলেছেন যে, আপনি খুব শীঘ্রই আপনার উম্মতের মাঝে একটি নিদর্শন দেখবেন। আর আমি যখন উক্ত নিদর্শন দেখি তখনই এ দু'আটি বেশি বেশি পড়ি। আর উক্ত নিদর্শন হল-
إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ ।
তথা মক্কা বিজয়। ২২
বৈঠকে ইস্তিগফার
عَنْ عَائِشَةَ، أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ: كَانَ إِذَا جَلَسَ مَجْلِسًا أَوْ صَلَّى تَكَلَّمَ بِكَلِمَاتٍ، فَسَأَلَتْهُ عَائِشَةُ عَنِ الْكَلِمَاتِ, فَقَالَ: إِنْ تَكَلَّمَ بِخَيْرٍ كَانَ طَابِعًا عَلَيْهِنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَإِنْ تَكَلَّمَ بِغَيْرِ ذَلِكَ كَانَ كَفَّارَةٌ لَهُ, سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
“হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন বৈঠকে বসতেন অথবা সালাত পড়তেন, তখন কিছু কালিমা পাঠ করতেন।
হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উক্ত কালিমা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-বৈঠকের লোকেরা যদি কোন ভাল কথা বলে থাকে, তাহলে এই কালিমা সে কথার উপর কিয়ামত পর্যন্ত মোহর হয়ে যাবে। আর যদি তারা অন্য কোন কথা বলে থাকে, তাহলে এই কালিমা উক্ত কথার কাফফারা হয়ে যাবে। আর কালিমাটি হল-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার সত্ত্বা পবিত্র। আমি আপনার প্রশংসার মাধ্যমে আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তাওবা করছি। ”[৩]
বৈঠকের কাফ্ফারা
عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِي، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ، يَقُولُ بِأَخَرَةٍ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ مِنَ الْمَجْلِسِ : سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ, فَقَالَ رَجُلٌ، يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ لَتَقُولُ قَوْلًا مَا كُنْتَ تَقُولُهُ فِيمَا مَضَى، فَقَالَ: كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ فِي الْمَجْلِسِ
। “হজরত আবু বারযা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নিজের শেষ বয়সে) যখন কোন বৈঠক থেকে উঠতেন, তখন এ দু'আটি পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন কালিমা পাঠ করছেন যা পূর্বে কখনো পাঠ করেননি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-এই কালিমা বৈঠকের সকল অনর্থক ও বেহুদা কথাবার্তার কাফফারাস্বরূপ। ”[৪]
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে ইমান এবং শাহাদাতের উত্তম মৃত্যু নসিব করুন। চতুর্দিকে জুলুম ও গুনাহের ঘোর অমানিশা চলছে। সুতরাং এই অমানিশা থেকে সে-ই বাঁচতে পারে, যাকে আল্লাহ তা'আলা বাঁচাবেন। আল্লাহ তা'আলা তাকেই বাঁচান যার নিজের বাঁচার ফিকির আছে। আমাদের উচিত যে, প্রতিটি বৈঠকের সমাপ্তির সময় আল্লাহ তা'আলার তাসবীহ, জিকির ও ইস্তিগফার করার সুদৃঢ় অভ্যাস গড়ে তোলা। কেননা মৃত্যুও হতে পারে আমাদের এই জীবন নামক বৈঠকের সমাপ্তি ও আগত মজলিসের সূচনা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান বাণী-
مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ، فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ
। যে ব্যক্তি কোন বৈঠকে বসে অনেক বেহুদা ও অনর্থক কথাবার্তা বলল, অতঃপর উক্ত বৈঠক থেকে উঠার পূর্বে এই কালিমা পাঠ করে নেয়, তাহলে তার উক্ত মজলিসের বেহুদা ও অনর্থক কথা মাফ করে দেওয়া হবে।
সুবহানাল্লাহ! কত বড় নি'আমত। হাদিস শরিফের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ হবে গুনাহের বৈঠকসমূহ। আজকাল তো অসংখ্য গুনাহের বৈঠক বিদ্যমান। টিভির বৈঠক। মোবাইলে গেমস ও পর্ণ ভিডিওর বৈঠক। কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বৈঠক। আগে তো আমাদেরকে এ সকল বৈঠক থেকে বাঁচতে হবে। তবে যদি শয়তান ফাঁসিয়ে দেয় তাহলে আমরা যেন এ দু'আটি পড়তে না ভুলি। ইন শা' আল্লাহ গুনাহ মিটে যাবে। আর আমরা যদি এ দু'আটি পূর্ণ মনোযোগের সাথে নিয়মিত আমল করতে থাকি, তাহলে ইন শা' আল্লাহ অনেক খারাপ বৈঠক থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারব। আবু দাউদ শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে- নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন বৈঠক থেকে উঠতেন, তখন এ দু'আটি নিয়মিত পাঠ করতেন। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আমলটি তো পূর্বে কখনো ছিল না। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ذلِكَ كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ فِي الْمَجْلِسِ
। এ কালিমা বৈঠকের গুনাহসমূহের কাফ্ফারাস্বরূপ।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুনাহ থেকে পবিত্র ছিলেন। কিন্তু উম্মতের তা'লিমের জন্য এবং নিজের মহান মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বরকতময় কালিমার আমল করতেন। বরং এক বর্ণনার দ্বারা তো এটাও জানা যায় যে, এ কালিমার দুটি উপকারীতা রয়েছে। প্রথম উপকার হল বৈঠকে যে সকল নেকি হয়েছে, এই কালিমার বরকতে এ সকল নেকির উপর মোহর লেগে যায়। এ সকল নেকি আর কখনো ধ্বংস হবে না। আর দ্বিতীয় উপকার হল-এ কালিমা বৈঠকের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। সুতরাং উত্তম বৈঠক তথা তিলাওয়াতের বৈঠক, জিকির ও সালাতের বৈঠক, দাওয়াত ও বয়ানের বৈঠকের পরেও এ দু'আটি নিয়মিত পাঠ করা উচিত। সুনানে নাসাঈর বর্ণনায় একদম সুস্পষ্টভাবেই এসেছে যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন বৈঠকে বসতেন অথবা সালাত আদায় করতেন, তখন এ দু'আটি পাঠ করতেন। এজন্য হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু আনহা যখন এ দু'আটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنْ تَكَلَّمَ بِخَيْرٍ كَانَ طَابِعًا عَلَيْهِنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ, وَإِنْ تَكَلَّمَ بِغَيْرِ ذَلِكَ كَانَ كَفَّارَةً لَهُ
বৈঠকের লোকেরা যদি কোন ভাল কথা বলে থাকে, তাহলে এই কালিমা সে কথার উপর কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণের মোহর হয়ে যাবে। আর যদি তারা অন্য কোন কথা বলে থাকে, তাহলে এই কালিমা উক্ত কথার কাফফারা হয়ে যাবে।
অন্য এক বর্ণনায় জিকিরের বৈঠকের ব্যাখ্যায় এসেছে-
فَقَالَ لَهَا فِي مَجْلِسِ ذِكْرٍ كَانَ كَالطَّابِعِ يَطْبَعُ عَلَيْهِ وَمَنْ قَالَ فِي مَجْلِسِ لَغْوِ كَانَ كَفَّارَةٌ لَهُ
জিকিরের বৈঠকে যদি এ দু'আ পাঠ করা হয়, তাহলে উক্ত বৈঠক তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণ হয়ে যায়।
কোন কোন বর্ণনায় এ দু'আটি তিন বার পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এজন্য তিন বার পড়াই অধিক উত্তম। মূলত এ দু'আটি অনেক বড় ভাণ্ডার। প্রত্যেক নেক কাজের পরে এবং প্রত্যেক গুনাহের পরে যদি এ দু'আটি নিয়মিত পড়া হয়, তাহলে ইন শা' আল্লাহ "হুসানে খাতিমা" তথা উত্তম মৃত্যু এর মর্যাদা সহজ হয়ে যাবে।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।
যে সকল মুসলিম ভাই-বোনের এ দু'আটি মুখস্থ আছে, তারা এ দু'আটি নিয়মিত পড়ুন। আজ থেকে যখন তিলাওয়াত করবেন, দীনি কোন বই পড়বেন এবং যেকোন ভাল কিংবা মন্দ বৈঠকে বসেন কিংবা উঠেন, তখনই এ দু'আটি মনোযোগসহ পড়ুন। দেখবেন অন্তরে আশ্চর্য এক প্রশান্তি অনুভব হবে। নেকিসমূহ সংরক্ষণ হওয়া এবং গুনাহ মিটে যাওয়া অনুভব হবে।
মোহর এবং কাফ্ফারা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ: كَلِمَاتُ لَا يَتَكَلَّمُ بِهِنَّ أَحَدٌ فِي مَجْلِسِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ إِلَّا كُفَرَ بِهِنَّ عَنْهُ، وَلَا يَقُولُهُنَّ فِي مَجْلِسِ خَيْرٍ وَمَجْلِسِ ذِكْرٍ إِلَّا خُتِمَ لَهُ بِهِنَّ عَلَيْهِ كَمَا يُخْتَمُ بِالْخَاتَمِ عَلَى الصَّحِيفَةِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, এমন কিছু কালিমা রয়েছে, যা কোন ব্যক্তি যদি বৈঠক থেকে উঠার সময় তা তিন বার পাঠ করে, তাহলে তা উক্ত বৈঠকের কাফফারা হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তিই কোন উত্তম বৈঠক ও জিকিরের বৈঠকে তা পাঠ করবে, তাহলে তা তার জন্য মোহরের ন্যায় হয়ে যাবে। যেমন চিঠির উপর মোহর লাগানো হয়। আর উক্ত কালিমা হল—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।"
ফায়দাঃ কোন সাহাবী যদি কোন আমল সম্পর্কে এ কথা বলেন যে, এই আমলের এই সাওয়াব কিংবা এ পরিমাণ শান্তি, তাহলে এ কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেই বলে থাকেন। এজন্য তা মারফু হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।
তাসবিহ ও ইস্তিগফারের শক্তি
তাফসীরে ইবনে কাসীরে এসেছে—
যখন লটারীতে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের নাম এলো, তিনি তখন সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন। আল্লাহ তা'আলা সমুদ্রের (যেমনি হযরত ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহুর বক্তব্য) একটি বড় মাছকে প্রেরণ করলেন। আর সেই মাছ এসে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে গিলে ফেলল। আল্লাহ তা'আলা তখন মাছকে নির্দেশ দিলেন যেন ইউনুস আলাইহিস সালামের গোশত-হাড়ির কোন কিছুর ক্ষতি না হয়। কেননা ইউনুস আলাইহিস সালাম তোমার রিযিক নয়, বরং তোমার পেট তাঁর জন্য বন্দিশালা।
মাছটি যখন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে পেটে নিয়ে সমুদ্রের কিনারায় পৌঁছল, তখন তিনি সেখানে তাঁর বিশ্রামস্থলে পাথরের তাসবিহ শুনতে পেয়ে তিনিও তাসবিহ পাঠ করলেন—
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আউফ আল-আরাবী রাহি. বলেন—
হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম যখন মাছের পেটে পৌঁছলেন, তখন তিনি মনে করেছিলেন যে, তাঁর মৃত্যু হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি তাঁর পা নাড়ালেন। তখন তিনি সেখানে সিজদা করলেন এবং আরজ করলেন- হে আমার রব! আমি আপনার জন্য এমন জায়গাকে সিজদার জায়গা বানিয়েছি, যেখানে মানুষের মধ্যে কেউই পৌঁছেনি।
হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
আল্লাহ তা'আলা যখন হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছের পেটে বন্দি করার ইচ্ছা করলেন, তখন উক্ত মাছকে নির্দেশ দিলেন যে, তাঁকে তোমার পেটে নিয়ে নাও। এমনভাবে পেটে নেবে যেন না তাঁর শরীরের গোশতের কোন ক্ষতি হয় এবং না তাঁর কোন হাড্ডি ভেঙ্গে যায়। মাছটি যখন হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে পেটে নিয়ে সমুদ্রের কিনারায় পৌঁছল, তখন হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম সেখানে ক্ষীণ একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি তখন নিজের মনে মনে ভাবতে লাগলেন যে, এটা কী? আল্লাহ তা'আলা তখন তাঁর প্রতি ওহী প্রেরণ করলেন যে, এটা হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণীদের তাসবিহ। তখন হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের ভেতরে আল্লাহ তা'আলার তাসবিহ পড়া শুরু করলেন। ফেরেশতারা যখন তাঁর তাসবিহ শুনলেন, তখন বলতে লাগলেন-হে আমাদের রব! আমরা কোন এক আশ্চর্য জায়গা থেকে ক্ষীণ একটি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আল্লাহ তা'আলা বললেন, এটা আমার বান্দা ইউনুস। সে আমার অবাধ্যতা করেছে। তাই আমি তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে মাছের পেটে বন্দি করে রেখেছি। ফেরেশতারা আরজ করলেন-ঐ বান্দা যার নেক আমল প্রতিদিন প্রতিরাত আপনার নিকট পৌঁছত? আল্লাহ তা'আলা বললেন, হ্যাঁ! ফেরেশতারা তখন তাঁর জন্য সুপারিশ করলে আল্লাহ তা'আলা মাছকে নির্দেশ দিলেন যে, তাঁকে সমুদ্রের উপকূলে ছেড়ে দাও।[৭]
ক. আম্বিয়ায়ে কেরাম সকল গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে থাকেন। এখানে নাফরমানী বা অবাধ্যতার দ্বারা উদ্দেশ্য হল-খেলাফে আফজল তথা অনুত্তমকে নিজের মতে অবলম্বন করা।
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ *
ইস্তিগফারের শক্তি ও ক্ষমতা দেখুন। মাছের পেট থেকে আরশ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে এবং ফেরেশতারা শুনেছেন এবং সুপারিশ করেছেন।
সালাতের শুরুতে ইস্তিগফার
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ يَا بُرَيْدَةَ إِذَا كَانَ حِينَ تَفْتَحُ الصَّلَاةَ فَقُلْ سُبْحَانَكَ اللهُمَّ الخ
হজরত বারিদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-হে বারিদা! তুমি যখন সালাত শুরু করবে, তখন এ দু'আ পাঠ করবে-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
আরোহণের সময় ইস্তিগফার
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ ثَلَاثًا، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا، سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، ثُمَّ ضَحِكَ، قُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ
হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার-بِسْمِ اللهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।” [৯]
অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-
سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا انت
অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]
টিকাঃ
[১] নিসা-৪: ৬৪
[২] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৪৮৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৪০৬৫
[৩] সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ১৩৪৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৮৮১৮
(৪) সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৮৫৯; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৩৩; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৭০০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৯৭৬৯
[১] মুসনাদে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৪৫৭
[২] তাফসীরে ইবনে কাসীর
[৭] প্রাগুক্ত
[৮] মাজমাউয-যাওয়ায়েদ
[৯] যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
[১০] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২