📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সর্বপ্রকার গুনাহগারের জন্য মাগফিরাতের মর্যাদা

📄 সর্বপ্রকার গুনাহগারের জন্য মাগফিরাতের মর্যাদা


গুনাহগার তিন প্রকার। যথা-
ক. “জালিম” তথা সাধারণ গুনাহগার।
খ. "জুলুম” তথা কঠিন গুনাহগার।
গ. "জাল্লাম” তথা বার বার গুনাহকারী।
কিন্তু আল্লাহ তা'আলার রহমত দেখুন-যে বান্দা জালিম আল্লাহ তা'আলা তার জন্য "গাফির” তথা ক্ষমাকারী। আর যে বান্দা জুলুম তথা কঠিন গুনাহগার তার জন্য আল্লাহ তা'আলা "গাফুর" তথা অত্যন্ত ক্ষমাকারী। আর যে বান্দা "জাল্লাম” তথা বার বার গুনাহকারী তার জন্য আল্লাহ তা'আলা "গাফ্ফার" তথা বার বার ক্ষমাকারী। আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। মাগফিরাত কামনা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করাকেই ইস্তিগফার বলে। অনুতপ্ত অন্তরে ইস্তিগফার। আলোচনা চলছিল আল্লাহ তা'আলার রহমত এবং মাগফিরাত থেকে নৈরাশ হওয়া অনেক বড় কবিরা গুনাহ। অপর দিকে কিছু লোক (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ তা'আলার প্রতি কুধারণার শিকার হয়ে যায়। তারা দুনিয়াতে দুঃখ-কষ্ট দেখে শয়তানের জালে ফেঁসে যায় যে, আল্লাহ তা'আলা (নাউযুবিল্লাহ) শোনে না। আল্লাহ তা'আলা সাহায্য করে না। এমন দৃষ্টিভঙ্গিও অনেক বড় কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই শোনেন এবং তিনি সাহায্যও করেন। তবে তাড়াহুড়াপ্রবণ মানুষ তাঁর সাহায্যের ধরনকে সব সময় বুঝতে পারে না। তারা মনে করে যে, সাহায্য আসে না। বস্তুত সাহায্য অবশ্যই আসে। সাহায্য যদি না-ই আসতো, তাহলে জানা নেই মানুষের কী অবস্থা হত।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 আমলের ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

📄 আমলের ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


আমলের ব্যাপারে একটি জরুরি বিষয় স্মরণ রাখতে হবে। তা হল যদি স্বীয় ইমান নিরাপদ রাখতে চান তাহলে গায়রে মাসনুন তথা সুন্নাত নয় এমন অজিফা ও আমল অধিক না করা। আমলকারী হওয়ার উৎসাহ অন্তর থেকে বের করুন। মুমিন এবং তাওবাকারী হওয়ার উৎসাহ অন্তরে বদ্ধমূল করুন। কামেল কোন পীর-মুরশীদ বা শায়েখ যদি নসিব হয়ে যায়, তাহলে জিজ্ঞেস করে করে অজিফা আদায় করা। আর যদি কামেল কোন পীর-মুরশীদ বা শায়েখ নসিব না হয়, তাহলে কুরআন তিলাওয়াত, নফল রোজা, সাদাকা, কালিমায়ে তায়্যিবা, ইস্তিগফার ও দুরুদ শরিফের আমল করতে থাকুন। অর্থাৎ ফরজ ইবাদাতের পরে যেটুকু সময় পাবেন, এই সময়ের মধ্যে এগুলোই আমল করুন এবং মাসনুন দু'আসমূহের গুরুত্বারোপ করুন। এগুলোর জন্য না কোন পীর-মুরশীদ বা শায়েখের অনুমতির প্রয়োজন এবং না এগুলোতে কোন আশঙ্কা বিদ্যমান। এছাড়া অন্যান্য অজিফাসমূহ হয়তো অবশেষে নিরাশায় নিক্ষেপ করবে অথবা নাউযুবিল্লাহ অন্তরে নিজের সত্তার অহংকার এসে যাবে। যা আত্মাধ্যিক রোগের মূল এবং অনেক ধ্বংসাত্মক ক্যান্সার।
হজরত উসমান গনী রাদিআল্লাহু আনহু যিন-নুরাইন ছিলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। দানশীলদের সর্দার ছিলেন। সদকায়ে জারিয়ার ইমাম ছিলেন। লজ্জাশীলতার ক্ষেত্রে তাঁর উপমা তিনি নিজেই। তবুও কবরের পাশ দিয়ে যেতে জার জার করে কাঁদতেন এবং কবরের আজাবের ভয়ে থর থর করে কাঁপতেন। তথাপিও আমাদের এ অবস্থা কিভাবে হয়? কবরের ভয়ে আমাদের এক ফোঁটা অশ্রুও বের হয় না। বুঝা গেল যে, নফস এবং অন্তরে পাপাচার এবং অহংকার রয়েছে। এজন্যই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-
দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ তা'আলার শাস্তি থেকে বেপরোয়া হয়ে যাওয়াও কবিরা গুনাহ। এ অবস্থাটা মন্দ সংশ্রবের কারণেই তৈরী হয় এবং অধিক পরিমাণে গায়রে শরয়ী অজিফার কারণেও মানুষের মৃত্যুর ভয়, কবর-হাশর ও আখিরাতের ফিকির থাকে না। এজন্য যখনই অজিফা পাঠ করবেন, তখনই খাঁটি ইস্তিগফার করবেন। ইস্তিগফারের বরকতে আল্লাহ মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করে দেন।
গুনাহের প্রচার করো না
আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার নিকট এক মহিলা আসলো। এসে মাসআলা জিজ্ঞেস করার মত করে নিজের গুনাহের আলোচনা করতে লাগল। সম্ভবত ইহরাম অবস্থায় কেউ তার হাতের কব্জি ধরেছে অথবা স্পর্শ করেছে। সে যখনই এ কথা বলেছে অমনি আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন-
থাম! থাম! অতঃপর বললেন-
হে ইমানদার নারীগণ! তোমাদের কারো যদি কোন গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে অন্য কাউকে বলো না। বরং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করো। মনে রাখবে! বান্দা শুধু লজ্জা দেয়, কোন পরিবর্তন করতে পারে না। অপর দিকে আল্লাহ তা'আলা পরিবর্তন করে দেন, লজ্জা দেন না। অর্থাৎ তোমরা যদি তোমাদের গুনাহসমূহ মানুষের নিকট বলে বেড়াও, মানুষ তোমাদের এ সকল গুনাহ ক্ষমা ও মুছে দিতে পারবে না। না তোমাদের অবস্থাকে পরিবর্তন করতে পারবে এবং না তোমাদেরকে গুনাহের ক্ষতিসমূহ থেকে বাঁচাতে পারবে। তবে হ্যাঁ! অবশ্যই তারা তোমাদেরকে বদনাম এবং লজ্জায় ফেলতে পারবে। যখনই সুযোগ পাবে তখনই তারা উক্ত গুনাহের কারণে লজ্জা, অপমান ও বদনামে লিপ্ত করতে পারবে। যেখানে আল্লাহ তা'আলা না লজ্জিত করেন। না বদনাম করেন এবং না অপমান করেন। বরং তিনি তোমাদের দুরবস্থাকে ভাল অবস্থায় উন্নীত করে দেন। তিনি তোমাদের গুনাহের ক্ষতিসমূহ থেকে বাঁচিয়ে দেন। তিনি "আল-আফু" তথা ক্ষমাকারী। তিনি গুনাহকে মুছে দেন। তিনি "আল-গাফুর" তথা তিনি গুনাহকে গোপন করেন এবং কোন কোন সময় তো এমন রহমত এবং পরিবর্তন করে দেন যে, স্বয়ং গুনাহগার বান্দারও স্বীয় গুনাহ মনে থাকে না। মনে হয় যেন সর্বদিক থেকে গুনাহের নাম-নিশানা পর্যন্ত মুছে গেছে। না তা আমলনামায় অবশিষ্ট আছে, না তা গুনাহ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতার স্মরণ আছে। না তা এ জমিনের স্বরণ আছে, যেখানে তা সংঘটিত হয়েছিল। না তা সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্মরণ আছে যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে সেই গুনাহ করেছিল এবং না স্বয়ং গুনাহগার বান্দার স্মরণ আছে।
এমন দয়া ও মাগফিরাত আর কে করতে পারে? যতক্ষণ জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলমান। যতক্ষণ সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে, তাওবার দরজাও ততক্ষণ খোলা। প্রিয় পাঠক! বেশি বেশি ইস্তিগফার। অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার। খাঁটি ইস্তিগফার। উত্তম তাওবা। খাঁটি তাওবা। সত্য তাওবা। পাক্কা তাওবা।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 একটি উপকারী শিক্ষা

📄 একটি উপকারী শিক্ষা


سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ نَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ الَيْكَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ إِلَيْكَ؛ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ أَلَيْكَ؛
অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা ও অন্যকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করানো
আল্লাহ তা'আলা আমার ও আপনাদের সকলের এবং সকল ইমানদারদের মাগফিরাত দান করুন। অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা এবং অন্যকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ আমল। আর এ আমলটি বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে পুনরায় জীবিত করা প্রয়োজন। আজই পবিত্র কুরআনুল কারিম খুলুন এবং চেষ্টা করুন যেন এক বসায়ই এ বিষয়ের সকল আয়াত সামনে এসে যায়।
দেখুন কত বড় উপহার। আল্লাহ তা'আলার দয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত শিরোনামে কুরআনুল কারিমের একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের সারমর্ম এসে যায়। চলুন প্রথমে অন্তরের ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার সাথে কালিমায়ে তায়্যিবা পাঠ করি।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؛ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُولُ اللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؛
এখন আসুন! নিজের সকল কবিরা ও সগিরা গুনাহসমূহ থেকে তাওবা করি।
اسْتَغْفِرُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَاتُوْبُ إِلَيْهِ
নিজের মাতা-পিতা ও সকল মুসলমানের জন্য ইস্তিগফার করি।
اللَّهُمَّ اغْفِرْلِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ الْأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْأَمْوَاتِ
এখন ইখলাসের সাথে দুরূদ শরিফ পড়ন যেন কবুল হয়ে যায়।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَبَارَكَ وَسَلَّمْ تَسْلِيمًا كَثِيرًا كَثِيرًا

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফার সর্বাবস্থায়ই উপকারী

📄 ইস্তিগফার সর্বাবস্থায়ই উপকারী


কুরআনুল কারিমে অন্যের জন্য ইস্তিগফারের আয়াত দুই প্রকার। প্রথমত হল ঐ সকল আয়াত যেগুলোতে অন্যের জন্য ইস্তিগফার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলমান নিজেকে ছাড়াও অন্যের জন্যও আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর দ্বিতীয় হল ঐ সকল আয়াত যেগুলোতে কোন কোন লোকদের জন্য ইস্তিগফার করতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ জমিনে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের জন্য না আল্লাহ তা'আলার ফেরেশতারা ইস্তিগফার করে এবং না মুসলমানদের জন্য অনুমতি আছে তাদের জন্য ইস্তিগফার করার।
কাফির-মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করা বৈধ নয়
কাফির-মুশরিক ও মুনাফিক। এরা হল হতভাগা। প্রথমে এই আয়াতসমূহ পাঠ করে নিন। যেন ঐ সকল লোকদের কথা জানা যায়—যাদের জন্য ইস্তিগফার করা যাবে না।
প্রথম আয়াত:
اِسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن ‎يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِى ‎الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
"তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দেন না।"/২১।
এই আয়াতটি মুনাফিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। যারা মৌখিকভাবে ছিল মুমিন আর অন্তরে ছিল কাফির। যখন জিহাদের হুকুম আসল, তখন তাদের নিফাক উন্মোচন হয়ে গেল। এমন লোকদের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারও কোন উপকার আসে না।
দ্বিতীয় আয়াত: مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
"নবি ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।" ২২১
এ আয়াতে সকল কাফির-মুশরিকদের জন্য ইস্তিগফার করতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ চাচা আবু তালেবের জন্য ইস্তিগফার করা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ! জীবিত কাফির-মুশরিকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা বৈধ।
তৃতীয় আয়াত: وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لَّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ
"নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহিম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল। "/২৩।
[[ চতুর্থ আয়াত:
سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
“পিছনে পড়ে থাকা বেদুঈনরা আপনাকে অচিরেই বলবে, আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল; অতএব আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আপনি বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান কিংবা কোন উপকার করতে চান, তবে কে আল্লাহর মোকাবিলায় তোমাদের জন্য কোন কিছুর মালিক হবে? বরং তোমরা যে আমল কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।"/২৪।
[[ পঞ্চম আয়াত:
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَاءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
“ইবরাহিম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হল আমাদের-তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ইমান আন। তবে স্বীয় পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিটি ব্যতিক্রম: আমি অবশ্যই তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে।”১৫।
| ষষ্ঠ আয়াত:
سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
"আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ پাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।"২৬।
এ সকল আয়াতে দুই প্রকার মুনাফিকের আলোচনা রয়েছে। এক হল ঐ সকল মুনাফিক যারা উপরে উপরেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ইস্তিগফারের আবেদন করত। আর দ্বিতীয়ত হল ঐ সকল মুনাফিক যারা মোটেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে ইস্তিগফার করাতে চাইত না। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে নিফাক থেকে হেফাজত করুন। তাই আসুন একবার ইখলাসের সাথে কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করে নিজের ইমানকে তাজা করে নেই।
[২৫] মুমতাহিনা- ৬০: ৪
[২৬] মুনাফিকুন- ৬৩: ৬
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ
তাহলে একটি কথা সমাপ্ত হল যে, আমরা কোন কাফির-মুশরিক ও আকীদাগত মুনাফিকের জন্য ইস্তিগফার করতে পারবো না। এবার আসুন দ্বিতীয় বিষয় এবং মূল বিষয়ের দিকে। কুরআনুল কারিমে অন্যের জন্য ইস্তিগফারের যে বিধানসমূহ রয়েছে, তা আমরা কয়েকটি শিরোনামে আলোচনা করব ইন শা'আল্লাহ।
১. ফেরেশতাদের আমল। তারা জমিনের উপর বিদ্যমান সকল মুমিন ও তাওবাকারীর জন্য ইস্তিগফার করে থাকে। বুঝা গেল যে, অন্যের জন্য ইস্তিগফার করা আল্লাহ তা'আলার এত বেশি প্রিয় যে, আরশ বহনকারী মুকাররাব তথা নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ এবং অন্যান্য অসংখ্য ফেরেশতাগণকে এই ইবাদাতে লাগিয়ে রেখেছেন। “সুবহানাল্লাহি ওয়া বি-হামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম।"
২. কোন মুসলমান সকল মুমিন-মুমিনাতের জন্য ইস্তিগফার করা।
৩. স্বীয় মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার করা।
৪. মাতা-পিতা নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফার করা।
৫. কোন মুসলমান তার ভাই কিংবা ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৬. বড়রা তাদের ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৭. ছোটরা এবং পরবর্তীগণ তাদের বড়দের জন্য এবং পূর্ববর্তীদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৮. তাওবার জন্য আগত নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা।
৯. যে বাস্তব কোন উজরের কারণে কোন ফজিলত কিংবা সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তার জন্য ইস্তিগফার করা।
১০. যে গুনাহগার লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার জন্য ইস্তিগফার করা।
ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার
হজরত মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামের উপর অসন্তুষ্ট হলেন-কওম গোমরাহ তথা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। এই অসন্তুষ্টির কারণে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এতোটা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, কোন কিছু না শুনেই ভাইয়ের মাথার চুল ধরে টানতে লাগলেন। ভাই যখন বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলেন, হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন সাথে সাথে স্বীয় ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফারের হাত উত্তোলন করলেন। যেমন কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, হে আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ১২৭।
দ্বিতীয় ঘটনা সুরা ইউসুফে রয়েছে। যেখানে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজের ভাইদের জন্য ইস্তিগফার করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَالَ لَا تَغْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, আজ তোমাদের উপর কোন ভর্ৎসনা নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আর তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। ২৮।
নোট: ভাইদের একে অপরের ইস্তিগফারে উভয় জায়গায়ই আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নাম "আরহামার রাহিমীন" ব্যবহৃত হয়েছে।
সন্তানের জন্য ইস্তিগফার
নিজ সন্তানের জন্য ইস্তিগফারের বিষয়টিও সুরা ইউসুফেই বর্ণিত হয়েছে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা স্বীয় পিতা হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট তাদের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করল। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাদের আবেদন গ্রহণ করলেন এবং বললেন, খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করব। ইরশাদ হয়েছে-
قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“তারা বলল, হে আমাদের পিতা, আপনি আমাদের পাপ মোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আমরা ছিলাম অপরাধী। সে বলল, অচিরেই আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকট ক্ষমা চাইব, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”/২৯৷
একটি কথা বলুন তো!
সত্য করে একটি কথা বলুন তো! আপনি কখনো আপনার পিতার নিকট নিজের জন্য ইস্তিগফারের আবেদন করেছেন? আহ! কত মাতা-পিতা তো চলেই গেছেন কিন্তু যাদের নিকট এখনো এই মূল্যবান সম্পদ বিদ্যমান, তারা কবে এই মূল্যবান সম্পদ থেকে এ মহান উপকার লাভ করেছে। হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা! সন্তানের জন্য মাতা-পিতার ইস্তিগফার অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। ভয় ও রেওয়াজ হিসেবে নয়। অনুশোচনা ও আবেদনের দৃষ্টিতে নিজের প্রয়োজন মনে করেই মাতা-পিতাকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করিয়ে নিন এবং করাতেই থাকুন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! মাতা- পিতার সামনে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করুন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। তাদের উপর রাগ ঝারা তো হল নির্বুদ্ধিতা ও দুশ্চরিত্র। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আসুন! ইখলাসের সাথে ইমান তাজা করে নিন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّسُوْلُ اللَّهِ
এ মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةُ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ؛ فَيَقُوْلُ: يَارَبِّ إِنِّي لِي هذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
"হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে নেক বান্দাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন। তারা (তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক মর্যাদা দেখে আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করবে, হে আমার পালনকর্তা! আমার এই মর্যাদা কীভাবে অর্জন হল? আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করার কারণে।"
মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার
কুরআনুল কারিমের সুরা মুমতাহিনার শেষের দিকে নারীদের ইসলামের উপর বাইয়াতের বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। নারীদের সংশোধনের জন্য এ আয়াতটি ভিত্তিস্বরূপ। প্রতিটি মুসলিম নারীর উক্ত আয়াতটি তরজমা ও তাফসিরসহ বুঝে পাঠ করা এবং এর উপর আমল করা আবশ্যক। উক্ত আয়াতের শেষাংশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন-যে সকল নারী কয়েকটি শর্ত মেনে নেবে, যা উক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলে আপনি তাদেরকে বাইয়াত করে নিন এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার করুন। ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
। “হে নবি, যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বাইআত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে তারা আপনার অবাধ্য হবে না। আপনি তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”১০১৯
বুঝা গেল-আমির, শাইখ, উস্তাদ ও অন্যান্য মর্যাদাশীল ব্যক্তিগণ স্বীয় অনুসারী ও দীনি সম্পর্ক রাখে এমন মুসলিম নারীদের জন্য ইস্তিগফার করা উচিত।
নারীদের জন্য ইস্তিগফারের বিশেষ নির্দেশ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنِ رَسُولِ اللَّهِ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ، وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ، فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ: وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ؟ قَالَ: تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينِ أَغْلَبَ لِذِي لُبِّ مِنْكُنَّ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ؟ قَالَ: أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ، فَهَذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ، وَتَمْكُثُ اللَّيَالِي، مَا تُصَلَّى، وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ، فَهَذَا نُقْصَانُ الدِّينِ
"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নারীদেরকে সম্বোধন করে) ইরশাদ করেন-হে নারীদের জামাত! তোমরা সাদকা কর এবং ইস্তিগফার কর। কেননা আমি জাহান্নামে তোমরা নারীদের সংখ্যাই বেশি দেখেছি। তখন তাদের মধ্য হতে একজন বুদ্ধিমান নারী জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! কেন আমাদের সংখ্যা জাহান্নামে বেশি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অবাধ্যতা করে থাক। আমি বিবেক-বুদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে কমতি এবং বুদ্ধিমানকে বোকা বানানোর ক্ষেত্রে তোমাদের থেকে অধিক আর কাউকে দেখিনি। তখন ঐ নারী জিজ্ঞাসা করল, বিবেক-বুদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কমতি রয়েছে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বিবেক-বুদ্ধির কমতি এটা থেকেই বুঝা যায় যে, দুইজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর দীনের কমতি হল নারীরা (হায়েজের কারণে) প্রতি মাসে কয়েকদিন পর্যন্ত সালাত পড়তে পারে না এবং রমজানে (যদি হায়েজ হয়) সিয়াম পালন করতে পারে না।"/০২]
মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার
এখন আসুন মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফারের দিকে। অর্থাৎ সন্তান স্বীয় মাতা-পিতার জন্য ইস্তিগফার করা। এ আমলটি আল্লাহ তা'আলার প্রিয় আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণ করেছেন এবং তারা তাদের পিতা-মাতার জন্য ইস্তিগফার করা পবিত্র কুরআনের আয়াতে পরিণত হয়েছে। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আমল। যদিও পরবর্তীতে এ আমল থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেননা তার পিতা মুসলমান হননি। এমনিভাবে হজরত নূহ আলাইহিস সালামের আমল। ইরশাদ হচ্ছে-
প্রথম আয়াত:
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
“হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। ”৩৩।
দ্বিতীয় আয়াত: قَالَ سَلَامُ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا
“ইবরাহিম বলল, আপনার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল। ”[৩৪]
তৃতীয় আয়াত: وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ
"আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।"/৩৫।
চতুর্থ আয়াত: رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنِ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا
“হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ইমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী- পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি জালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।"/৩৬।
ইমানদারদের জন্য ফেরেশতাদের ইস্তিগফার
এখন আসুন ইমানদারদের জন্য ফেরেশতাদের ইস্তিগফারের দিকে। এটা পবিত্র কুরআনের দুই জায়গায় আছে-
■ প্রথম আয়াত: الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
"যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ইমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে (ইস্তিগফার করে) বলে-হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আজাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন।"৩৭।
এ আয়াতে হামালাতুল আরশ তথা আরশ বহনকারী মহান ও নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের আলোচনা করা হয়েছে। তারা ইমানদারদের জন্য ইস্তিগফার করে। এখন আপনারা নিজেরাই চিন্তা করুন যে, এই ইস্তিগফারের আমল আল্লাহ তা'আলার কতটা প্রিয়। সুতরাং আসুন বিলম্ব না করে আজ হতে এই আমলটি শুরু করে দেই। খুব মনোযোগ ও আন্তরিকতার সাথে সকল ইমানদারদের জন্য চাই জীবিত হোক কিংবা মৃত, দৈনিক সকাল-বিকাল ইস্তিগফার করি। যত অধিক হবে তত ভাল। আর না হয় অন্তত কমপক্ষে দৈনিক ২৭ বার। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে। এমনিভাবে ফেরেশতারা আল্লাহ তা'আলার তাসবিহ ও তাহমিদও করেন এবং পৃথিবীবাসীর জন্য ইস্তিগফারও করেন।
■ দ্বিতীয় আয়াত:
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“উপর থেকে আসমান ফেটে পড়ার উপক্রম হয়; আর ফেরেশতারা তাদের রবের প্রশংসায় তাসবিহ পাঠ করে এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; জেনে রেখ, আল্লাহ, তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”৩৮।
এই দুটো আয়াতের তরজমা একবার মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলে এ বিষয়ের গুরুত্ব অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যাবে। এ বিষয়টিকে আরও অধিক গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় হাবীব ও সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন-
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ
"অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও তোমার ও মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং নিবাস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। "৩৯।
এটা উম্মতের জন্য অনেক বড় শিক্ষা যে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর উপর দৃঢ়পদ ও উন্নতির জন্য নিজের জন্যও খুব ইস্তিগফার করা এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্যও ইস্তিগফার করাকে নিজের নিয়মিত আমলে পরিণত করুন। বুঝা গেল যে, নিয়মিত ইস্তিগফার করা অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ আমল।
নিজের বন্ধু-বান্ধব ও ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করা
এখন আসুন নিজের বন্ধু-বান্ধব ও ছোটদের জন্য ইস্তিগফার করার দিকে।
তাদের জন্য ইস্তিগফার করা
এটাও পবিত্র কুরআনের দুই জায়গায় আছে-
[ প্রথম আয়াত:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نَفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكَّلِينَ
"অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে: রহমতের কারণেই আপনি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলেন। আর যদি আপনি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন, তখন আল্লাহ তা'আলার উপর তাওয়াক্কুল করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন। "[৪০]
এ আয়াতটি গাজওয়ায়ে ওহুদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। অনেক পেরেশানি ও ভয়ভীতির সময় ছিল। মুসলিম বাহিনী কষ্ট ও বেদনায় জর্জরিত ছিল। সাথে এ দুঃখবোধও ছিল যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবাধ্যতা হয়েছে। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
■ দ্বিতীয় আয়াত:
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَبِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأَذَن لِمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
। "মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ইমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় আপনার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ইমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা আপনার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে আপনার যাকে ইচ্ছা আপনি অনুমতি দিন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।”৪১।
এ আয়াতে বড় দুটি শিক্ষা রয়েছে। একটি হল, সম্মিলিত কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার নিয়ম। সম্মিলিত কাজ থেকে কেউই অনুপস্থিত না থাকা। আর যখন কোন ব্যক্তি কোন উজরের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ছুটি কিংবা অব্যাহতি চাইবে, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে ইচ্ছা অব্যাহতি দেবেন। এখন যেহেতু ছুটি নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মা'জুর তথা অক্ষম তাই সম্মিলিত আমলের সৌভাগ্য থেকে সে বঞ্চিত হল। তবে যেহেতু সে উজরের কারণেই গিয়েছে তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য ইস্তিগফার করবেন। বুঝা গেল যে, ইস্তিগফারের বরকতে অনেক কাজের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর দ্বিতীয়টি হল, যিনি কোন দেশের কিংবা জামাতের অথবা প্রতিষ্ঠানের অথবা বংশের বড় হবেন, তিনি তার অধীনস্ত ও অনুসারীদের জন্য ইস্তিগফার করা। বর্তমানে কি এ কাজটি কেউ করেন? প্রিয় পাঠক! সৌভাগ্যের পথকে বুঝুন এবং অবলম্বন করুন। আজ বড়রা ছোটদেরকে দুর্বল মনে করছে এবং ছোটরা বড়দেরকে বোঝা মনে করছে। যেখানে উভয় পক্ষের জন্যই ইস্তিগফারের মত উপহার এবং আমলের নির্দেশ রয়েছে।
ছোটরা বড়দের জন্য ইস্তিগফার করা
পবিত্র কুরআনে ছোটদের পক্ষ থেকে বড়দের জন্য ইস্তিগফারের নির্দেশ এসেছে। মালে ফাই তথা বিনাযুদ্ধে অর্জিত সম্পদ বণ্টনের খাত বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের শত্রুরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাদের থেকে বিনাযুদ্ধে শুধুমাত্র মুসলিম বাহিনীর ভয় ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে যে সম্পদ মুসলমানরা পেয়ে থাকে, তাকে শরিয়াতের পরিভাষায় "মালে ফাই" বলা হয়। এর বিধান পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান। কিন্তু বর্তমান মুসলমানরা এ সম্পদ ভোগ করতে পারে না। আর এটা একমাত্র জিহাদ ত্যাগ করার পরিণাম। আল্লাহ তা'আলা এই মালে ফাইয়ের বণ্টনের খাত বর্ণনা করতে গিয়ে ঐ সকল লোকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা পরে ইমান গ্রহণ করেছেন। তবে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য এমন কল্যাণকামী যে, তাদের জন্য ইস্তিগফার করে থাকে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
"(মালে ফাই, তাদের জন্যও) যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে; হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ইমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ইমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।"[৪২]
এ আয়াতে পরবর্তীতে আগত এবং ছোটরা তাদের বড়দের জন্য ইস্তিগফার করছে এবং আল্লাহ তা'আলা এই আমলটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। বর্তমানের পরবর্তীরা এবং ছোটরাও কি এই বরকতময় আমলটি জীবিত করবে? প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফার একটি আশ্চর্য নি'আমত। বান্দাকে রবের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয় এবং স্বয়ং মুসলমানদের মাঝেও পরস্পর একতা ও মহব্বত সৃষ্টি করে দেয়।
অন্যের দ্বারা ইস্তিগফার করানো
আল্লাহ তা'আলা ইমানকে আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দিন। এখন একটি কথা শুনুন! যে ব্যক্তি ইমান অবস্থায় কোন সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুর সংশ্রব পেয়েছেন এবং পুনরায় ইমানের উপর মৃত্যু হয়েছে, তাদেরকে তাবেঈন বলা হয়। আর উক্ত তাবেঈনদের সর্দার কে ছিলেন? হজরত উয়াইস করনী রাহি, সহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। যেমন হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রাহি প্রমুখ। মূলত কেউ ছিলেন ইলমের সর্দার। কেউ ছিলেন যুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে। আবার কেউ অন্য কোন ক্ষেত্রে। হজরত উয়াইস করনী রাহি, খাইরুত-তাবেঈন ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন। নিজ মায়ের শারীরিক অক্ষমতা ও খিদমতের কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হতে পারেননি। তাঁর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে এবং ঘটনা অনেক আকর্ষণীয়। ঐ আকর্ষণীয় ঘটনায় ঢুবে যেওনা। আসল কথা আরজ করছি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুকে হজরত উয়াইস করনী রাহি. এর নিদর্শন বর্ণনা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তোমার যদি তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়, তাহলে তাঁকে দিয়ে নিজের জন্য ইস্তিগফার করাবে এবং আমার উম্মতের জন্যও ইস্তিগফার করাবে।
হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতের যামানায় অনেক কষ্ট করে তাঁকে খুঁজে বের করেছেন এবং নিজের জন্য ও উম্মতের জন্য ইস্তিগফার করিয়েছেন। একটু ভাবুন তো! ইস্তিগফার কত বড় বস্তু। নির্দেশদাতা কে? যাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি কে? একজন মহান খলিফা বহু বছর যাবৎ একজন ফকিরকে খুঁজেছেন। কিন্তু কেন? তাবিজের জন্য? না। শুধুমাত্র ইস্তিগফার করানোর জন্য। বস্তুত তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছিলেন এবং অনেক ফজিলতের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু ইস্তিগফার তো ইস্তিগফারই। এর দ্বারা এ কথা জানা গেল যে, ইস্তিগফার পাওয়ার একটি পদ্ধতি হল-আল্লাহ ত'আলার প্রিয় বান্দাদেরকে দিয়ে ইস্তিগফার করানো এবং নিজেও অন্যদের জন্য ইস্তিগফার করা। আমি আমার নিজের জন্য, আপনাদের সকলের জন্য এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফার করছি-
اسْتَغْفِرُ اللهَ لِي وَلَكُمْ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ

টিকাঃ
[২১] তাওবাহ- ৯: ৮০
[২৩] প্রাগুক্ত- ৯: ১১৪
[২৪] ফাতহ-৪৮: ১১
মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১০৬১০
(৩১) মুমতাহিনা-৬০: ১২
[৩২] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ১৪৬২; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৩৫৬৯
[৩৩] ইবরাহিম- ১৪:৪১
[৩৪] মারইয়াম- ১৯:৪৭
[৩৫] শু'আরা- ২৬: ৮৬
[৩৬] নূহ-৭১: ২৮
[৩৭] মু'মিন- ৪০: ৭
[৩৮] শুরা- ৪২: ৫
[৩৯] মুহাম্মাদ- ৪৭: ১৯
[৪০] আলে-ইমরান-৩: ১৫৯
[৪১] নূর- ২৪: ৬২
[৪২] হাশর-৫৯: ১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00