📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফারের মহান পুরস্কার

📄 ইস্তিগফারের মহান পুরস্কার


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فِيمَا يَحْكِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ: أَذْنَبَ عَبْدُ ذَنْبًا، فَقَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَذْنَبَ عَبْدِي ذَنْبًا، فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ ثُمَّ عَادَ، فَأَذْنَبَ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: عَبْدِي أَذْنَبَ ذَنْبًا، فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ، ثُمَّ عَادَ، فَأَذْنَبَ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَذْنَبَ عَبْدِي ذَنْبًا، فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ اعْمَلْ مَا شِئْتَ، فَقَدْ غَفَرْتُ لَكَ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় প্রভুর নিকট হতে বর্ণনা করেন-এক বান্দা একটি গুনাহ করল এবং সাথে সাথে অনুতপ্ত হয়ে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন-আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং তার জানা আছে যে, তার একজন রব আছে যিনি গুনাহ ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের উপর শাস্তিও দিতে পারেন। তারপর আবার সে গুনাহ করল এবং আবার অনুতপ্ত হয়ে বলল, হে আমার রব! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন-আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছেন যিনি গুনাহ ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের উপর শাস্তিও দিতে পারেন। সুতরাং আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর আবার সে গুনাহে লিপ্ত হল এবং অনুতপ্ত হয়ে বলল, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছেন যিনি গুনাহ ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের উপর শাস্তিও দিতে পারেন। হে বান্দা! তুমি যা ইচ্ছা কর। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।”১২০১
ফায়দা: তুমি যা ইচ্ছা কর। এর উদ্দেশ্য হল-তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত এই আলোর উপর থাকবে যে, প্রত্যেক বার গুনাহ সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পরে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করতে থাকবে। তখন আমিও তোমাকে ক্ষমা করতে থাকব।

টিকাঃ
[২০] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৫৮

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় নাম

📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় নাম


আল্লাহ তা'আলা "গাফির" তথা ক্ষমাকারী ও "গাফুর" তথা পরিপূর্ণ ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রদানকারী এবং "গাফফার" তথা বার বার ক্ষমাকারী।
আল্লাহ তা'আলা "সাতির" তথা দোষসমূহ গোপনকারী ও "সাত্তির" তথা মন্দ এবং দুর্বলতাকে গোপনকারী এবং "সাত্তার" তথা মন্দ মানুষের উপর ভালোর পর্দা দানকারী।
এগুলো আল্লাহ তা'আলার ছয়টি আসমাউল হুসনা তথা সুন্দর গুণবাচক নাম যেগুলো আমাদের সামনে আলোচনা করা হল। নামগুলো হল-
الْغَافِرُ الْغَفُوْرُ الْغَفَّارُ السَّائِرُ السَّتَيْرُ السَّتَّارُ
এখন অত্যন্ত আদব ও মনোযোগ এবং বিনয়ের সাথে ডাকুন- একটু তথা হে ক্ষমাকারী। তথা হে পরিপূর্ণ ক্ষমাকারী। তথা হে বার বার ক্ষমাকারী। اغْفِرْلِي؛ اغْفِرْلِي: الصان তথা আমাকে ক্ষমা করুন। আমাকে ক্ষমা করুন। আমাকে ক্ষমা করুন। তথা হে গোপনকারী। তথা পর্দা দানকারী। তথা হে সর্ব প্রকার দুর্বলতা ও দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমাকারী। أُسْتُرْ عَوْرَتِنَا وَأَمِنْ رَوْعَتِنَا তথা আমাদের দুর্বলতার উপর আপনার পর্দা ফেলে দিন এবং আমাদের ভয়ের উপর আপনার নিরাপত্তা ঢেলে দিন।
প্রথম তিনটি নাম কুরআনুল কারিমে এসেছেবার বার الْغَائِز এটা কুরআনুল কারিমের এক জায়গায় এসেছে। النفوز এটা কুরআনুল কারিমে ৯১ বার এসেছে। النقارُ এটা কুরআনুল কারিমে ৫ বার এসেছে।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 মাগফিরাতের সমুদ্র

📄 মাগফিরাতের সমুদ্র


কুরআনুল কারিমে মাগফিরাতের এই নুর তথা আলো মুসলমানদের উপর ১৭ বার বর্ষিত হয়েছে। যদি একবারও বর্ষিত হত, তাহলেও সকল মুমিনের জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখানে তো "রাব্বে গাফুর" তথা দয়াময় প্রভুর মাগফিরাতের সমুদ্র। পুরো সমুদ্র। এজন্যই আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও রহমত থেকে নৈরাশ হওয়া অনেক বড় গুনাহ। তবে হ্যাঁ! আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে কবিরা গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আল্লামা ইমাম কুরতুবী রাহি. স্বীয় তাফসীরে ঐ সকল হাদিস ও বক্তব্যসমূহ একত্র করেছেন, যেগুলোতে 'কাবায়ের' তথা কবিরা গুনাহসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। যা সাত থেকে নিয়ে সাতশত পর্যন্ত। তবে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহুর একটি বক্তব্য হল—কবিরা গুনাহ হল মোট চারটি। যথা—
الْيَأْسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ . তথা আল্লাহ তা'আলার রহমত এবং সাহায্য থেকে নৈরাশ হয়ে যাওয়া।
اَلْقُنُوْطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ তথা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত এবং রহমত থেকে আশাহত হয়ে পড়া।
وَالأَمْنُ مِنْ مَّكْرِ اللهِ তথা আল্লাহ তা'আলার শান্তি এবং অদৃশ্য ব্যবস্থাপনা থেকে নির্ভয় হয়ে যাওয়া।
ঘ. وَالشَّرْكُ بِاللهِ তথা আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরক করা।
কিছু লোক গুনাহ করে এবং গুনাহের চোরাবালিতে ফেঁসে যায়। অতঃপর যখন নিজেকে সর্বদিক থেকে গুনাহে জর্জরিত দেখতে পায়, তখন আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে একেবারে নিরাশ হয়ে না ইস্তিগফার করে, না তাওবা করে। তারা বলে যে, আমরা তো গুনাহ থেকে মুক্তই হতে পারছি না। সুতরাং মৌখিক তাওবা করে কি লাভ? আমাদের ইস্তিগফার করতে লজ্জা লাগে। কারণ বার বার তাওবা ভেঙ্গে যায়। বাহ্যিকভাবে দেখতে এটা অনেক ভাল চিন্তা মনে হলেও কিন্তু বাস্তবে এটা শয়তানি চিন্তা-ভাবনা। এটা আল্লাহ তা'আলা থেকে সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে শয়তানের কোলে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ঘোষণা। এটা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ ও মাগফিরাতের শক্তিকে অস্বীকারের নামান্তর। এমন কোন গুনাহ আছে যেটা আল্লাহ তা'আলার শক্তি ও ক্ষমতা থেকে বড়? এমন কোন গুনাহ আছে যেটা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত থেকেও পশস্ত? আল্লাহ তা'আলা যখন মাগফিরাত প্রদান করেন, তখন এমন শক্তিশালী মাগফিরাতই প্রদান করেন, যা গুনাহের সকল কার্যকারিতাকে ধ্বংস করে দেয়। কারো গুনাহের সীমা যদি এমন বিস্তীর্ণ হয়ে যায় যে, গুনাহের শাখা-প্রশাখা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্মৃত হয়ে গেছে, তাহলেও আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত যখন আসে, তখন সকল গুনাহ তার সকল কার্যকারিতাকে ধ্বংস করে দেয় এবং লোকদের যে সকল হকসমূহ গুনাহগারের যিম্মায় থাকে, সেগুলোও আদায় করিয়ে দেন এবং যে সকল গুনাহের দাগ অনেক গভীর হয়ে থাকে সেখানে অনেক গভীর নেক কাজের তাওফিক নিয়ে আসে।
কোন ব্যক্তি যদি লক্ষ টাকা খেয়ানত করে খাঁটি তাওবা করে নেয়, আল্লাহ তা'আলা তখন তাকে কোটি টাকা দিয়ে দেন। যেন সে খেয়ানতকৃত লক্ষ টাকাও ফেরত দিতে পারে এবং সর্বোপরি আরও লক্ষ লক্ষ টাকা সাদকায়ে জারিয়াও করে আসতে পারে। আল্লাহ তা'আলা কোন সাধারণ ক্ষমাকারী নন। গাফুরই গাফুর। গাফফারই গাফ্ফার। হজরত ওয়াহশী রাদিআল্লাহু আনহু যিনি সায়্যিদুশ শুহাদা হজরত হামজা রাদিআল্লাহু আনহুকে হত্যা করার অপরাধ করেছিল। তাওবা করার এবং তাওবা কবুল হওয়ার পরও পেরেশানিতে ভুগছিলেন। দয়াময় প্রভু ব্যবস্থা করে দিলেন। আল্লাহ তা'আলার বড় এক দুশমনকে হত্যার সৌভাগ্য দান করলেন। যেন মনের পেরেশানির বোঝা হালকা হয়ে যায়। সুপ্রিয় পাঠক! খাঁটি মনে তাওবা তো করুন। খাঁটি অন্তরে তাওবার দরজায় তো আসুন। আল্লাহ তা'আলা গাফির ও গাফুর। মাগফিরাতের আসল অর্থ তো হল—পর্দাবৃত করা এবং গোপন করা। আগেকার যুগে যুদ্ধসমূহের মধ্যে মাথায় লোহার যে টুপি পড়া হত, তাকে মাগফার বলা হত। তা মাথাকে নিরাপদে ঢেকে দিত। ঠিক এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতও মানুষকে গুনাহের ক্ষতি থেকে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপদ করে দেয় ও ঢেকে ফেলে। তাই আল্লাহওয়ালাগণ বলেন-গুনাহ হল একটি জুলুম বা অন্ধকার যা মানুষের স্বীয় সত্তার উপর ছেয়ে যায়।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সর্বপ্রকার গুনাহগারের জন্য মাগফিরাতের মর্যাদা

📄 সর্বপ্রকার গুনাহগারের জন্য মাগফিরাতের মর্যাদা


গুনাহগার তিন প্রকার। যথা-
ক. “জালিম” তথা সাধারণ গুনাহগার।
খ. "জুলুম” তথা কঠিন গুনাহগার।
গ. "জাল্লাম” তথা বার বার গুনাহকারী।
কিন্তু আল্লাহ তা'আলার রহমত দেখুন-যে বান্দা জালিম আল্লাহ তা'আলা তার জন্য "গাফির” তথা ক্ষমাকারী। আর যে বান্দা জুলুম তথা কঠিন গুনাহগার তার জন্য আল্লাহ তা'আলা "গাফুর" তথা অত্যন্ত ক্ষমাকারী। আর যে বান্দা "জাল্লাম” তথা বার বার গুনাহকারী তার জন্য আল্লাহ তা'আলা "গাফ্ফার" তথা বার বার ক্ষমাকারী। আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। মাগফিরাত কামনা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করাকেই ইস্তিগফার বলে। অনুতপ্ত অন্তরে ইস্তিগফার। আলোচনা চলছিল আল্লাহ তা'আলার রহমত এবং মাগফিরাত থেকে নৈরাশ হওয়া অনেক বড় কবিরা গুনাহ। অপর দিকে কিছু লোক (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ তা'আলার প্রতি কুধারণার শিকার হয়ে যায়। তারা দুনিয়াতে দুঃখ-কষ্ট দেখে শয়তানের জালে ফেঁসে যায় যে, আল্লাহ তা'আলা (নাউযুবিল্লাহ) শোনে না। আল্লাহ তা'আলা সাহায্য করে না। এমন দৃষ্টিভঙ্গিও অনেক বড় কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই শোনেন এবং তিনি সাহায্যও করেন। তবে তাড়াহুড়াপ্রবণ মানুষ তাঁর সাহায্যের ধরনকে সব সময় বুঝতে পারে না। তারা মনে করে যে, সাহায্য আসে না। বস্তুত সাহায্য অবশ্যই আসে। সাহায্য যদি না-ই আসতো, তাহলে জানা নেই মানুষের কী অবস্থা হত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00