📄 বান্দার নিরাপত্তা
হজরত ফুজালা বিন উবায়দুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-
الْعَبْدُ أَمِنْ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مَا اسْتَغْفَرَ اللَّهَ عَزَّ وَ جَلَّ
"বান্দা যতক্ষণ ইস্তিগফার করে, ততক্ষণ আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নিরাপদ থাকে।"১৫।
চার প্রকার ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ
হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
"চার প্রকার ব্যক্তি জান্নাতের বিশেষ পবিত্র বাগানে বিচরণ করবে। যথা-
ক. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি। যে এই কালিমায় কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করে না।
খ. ঐ ব্যক্তি যার নেক কাজ করলে খুশি লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে।
গ. ঐ ব্যক্তি যার গুনাহের কাজ করলে খারাপ লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করে।
ঘ. ঐ ব্যক্তি যে কোন বিপদে পড়লে إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পাঠ করে। ১৪
হে আল্লাহ আমাদেরকে ইস্তিগফারকারী বানিয়ে দিন
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ هِ . كَانَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা এই দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন, যারা ভাল কাজ করে খুশি হয় এবং মন্দ কাজ করে ইস্তিগফার করে।”১৭।
টিকাঃ
[১৫] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৩৯৫৩
[১৬] সুনানে বায়হাকী
📄 চার প্রকার ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ
হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
"চার প্রকার ব্যক্তি জান্নাতের বিশেষ পবিত্র বাগানে বিচরণ করবে। যথা-
ক. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি। যে এই কালিমায় কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করে না।
খ. ঐ ব্যক্তি যার নেক কাজ করলে খুশি লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে।
গ. ঐ ব্যক্তি যার গুনাহের কাজ করলে খারাপ লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করে।
ঘ. ঐ ব্যক্তি যে কোন বিপদে পড়লে إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পাঠ করে। ১৪
হে আল্লাহ আমাদেরকে ইস্তিগফারকারী বানিয়ে দিন
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ هِ . كَانَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা این দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন, যারা ভাল কাজ করে খুশি হয় এবং মন্দ কাজ করে ইস্তিগফার করে।”১৭।
■ হে মানুষ! তাওবা কর
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ، فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
হে মানুষ! আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা কর। দেখ! আমি নিজেই দৈনিক ৭০ বার আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা করে থাকি।”১৮।
দৈনিক ৭০ বার ইস্তিগফার
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ فِي مَسِيْرِهِ فَقَالَ اسْتَغْفِرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرْنَا فَقَالَ: أَتِمُوْهَا سَبْعِينَ مَرَّةً؛ فَأَتْمَمْنَاهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ عَبْدٍ وَلَا أَمَةٍ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي يَوْمِهِ سَبْعِينَ مَرَّةً إِلَّا غَفَرَ اللهُ لَهُ سَبْعَمِائَةِ ذَنْبٍ وَقَدْ خَابَ عَبْدُ أَوْ امَةٌ عَمِلَ فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِمِائَةِ ذَنْبٍ
। “হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে যাওয়ার সময় ইরশাদ করেন-তোমরা ইস্তিগফার কর, আমরা ইস্তিগফার করলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় ইরশাদ করেন- দৈনিক ৭০ বার পূর্ণ কর। আমরা ৭০ বার পূর্ণ করলাম। অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যে বান্দা-বান্দি দৈনিক ৭০ বার আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করবে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা'আলা তার সাতশত গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর ধ্বংস হোক ঐ বান্দা-বান্দি যে দৈনিক সাতশতেরও অধিক পরিমাণ গুনাহ করে। অর্থাৎ সাধারণত এমনটি হয় না। কোন মানুষের গুনাহ যদি সাতশতের অধিক হয়েও যায়, তাহলেও ইস্তিগফার করলে তার সকল গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়।”১৯৷
টিকাঃ
[১৬] সুনানে বায়হাকী
[১৭] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮২০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৪৯৮০
[১৮] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭০২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ১০৮১; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৮২৯৩
[১৯] সুনানে বায়হাকী
📄 ইস্তিগফারের মহান পুরস্কার
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فِيمَا يَحْكِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ: أَذْنَبَ عَبْدُ ذَنْبًا، فَقَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَذْنَبَ عَبْدِي ذَنْبًا، فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ ثُمَّ عَادَ، فَأَذْنَبَ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: عَبْدِي أَذْنَبَ ذَنْبًا، فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ، ثُمَّ عَادَ، فَأَذْنَبَ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، فَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَذْنَبَ عَبْدِي ذَنْبًا، فَعَلِمَ أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بِالذَّنْبِ اعْمَلْ مَا شِئْتَ، فَقَدْ غَفَرْتُ لَكَ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় প্রভুর নিকট হতে বর্ণনা করেন-এক বান্দা একটি গুনাহ করল এবং সাথে সাথে অনুতপ্ত হয়ে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন-আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং তার জানা আছে যে, তার একজন রব আছে যিনি গুনাহ ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের উপর শাস্তিও দিতে পারেন। তারপর আবার সে গুনাহ করল এবং আবার অনুতপ্ত হয়ে বলল, হে আমার রব! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন-আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছেন যিনি গুনাহ ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের উপর শাস্তিও দিতে পারেন। সুতরাং আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর আবার সে গুনাহে লিপ্ত হল এবং অনুতপ্ত হয়ে বলল, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-আমার বান্দা গুনাহ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছেন যিনি গুনাহ ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের উপর শাস্তিও দিতে পারেন। হে বান্দা! তুমি যা ইচ্ছা কর। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।”১২০১
ফায়দা: তুমি যা ইচ্ছা কর। এর উদ্দেশ্য হল-তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত এই আলোর উপর থাকবে যে, প্রত্যেক বার গুনাহ সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পরে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করতে থাকবে। তখন আমিও তোমাকে ক্ষমা করতে থাকব।
টিকাঃ
[২০] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৫৮
📄 আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় নাম
আল্লাহ তা'আলা "গাফির" তথা ক্ষমাকারী ও "গাফুর" তথা পরিপূর্ণ ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রদানকারী এবং "গাফফার" তথা বার বার ক্ষমাকারী।
আল্লাহ তা'আলা "সাতির" তথা দোষসমূহ গোপনকারী ও "সাত্তির" তথা মন্দ এবং দুর্বলতাকে গোপনকারী এবং "সাত্তার" তথা মন্দ মানুষের উপর ভালোর পর্দা দানকারী।
এগুলো আল্লাহ তা'আলার ছয়টি আসমাউল হুসনা তথা সুন্দর গুণবাচক নাম যেগুলো আমাদের সামনে আলোচনা করা হল। নামগুলো হল-
الْغَافِرُ الْغَفُوْرُ الْغَفَّارُ السَّائِرُ السَّتَيْرُ السَّتَّارُ
এখন অত্যন্ত আদব ও মনোযোগ এবং বিনয়ের সাথে ডাকুন- একটু তথা হে ক্ষমাকারী। তথা হে পরিপূর্ণ ক্ষমাকারী। তথা হে বার বার ক্ষমাকারী। اغْفِرْلِي؛ اغْفِرْلِي: الصان তথা আমাকে ক্ষমা করুন। আমাকে ক্ষমা করুন। আমাকে ক্ষমা করুন। তথা হে গোপনকারী। তথা পর্দা দানকারী। তথা হে সর্ব প্রকার দুর্বলতা ও দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমাকারী। أُسْتُرْ عَوْرَتِنَا وَأَمِنْ رَوْعَتِنَا তথা আমাদের দুর্বলতার উপর আপনার পর্দা ফেলে দিন এবং আমাদের ভয়ের উপর আপনার নিরাপত্তা ঢেলে দিন।
প্রথম তিনটি নাম কুরআনুল কারিমে এসেছেবার বার الْغَائِز এটা কুরআনুল কারিমের এক জায়গায় এসেছে। النفوز এটা কুরআনুল কারিমে ৯১ বার এসেছে। النقارُ এটা কুরআনুল কারিমে ৫ বার এসেছে।