📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফারকারী নাম মিথ্যাবাদী ও অলসদের তালিকা থেকে বাদ

📄 ইস্তিগফারকারী নাম মিথ্যাবাদী ও অলসদের তালিকা থেকে বাদ


হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
مِنِ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ فِي كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً لَمْ يُكْتَبُ مِنَ الْكَاذِبِينَ وَمَنِ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ فِي لَيْلَةٍ سَبْعِينَ مَرَّةً لَّمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ
"যে ব্যক্তি দৈনিক ৭০ বার ইস্তিগফার করবে, তার নাম মিথ্যাবাদীর তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি প্রতি রাতে ৭০ বার ইস্তিগফার করবে, তার নাম অলসদের তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হবে। "[১৪]

টিকাঃ
[১৪] ইবনুস সুন্নাহ; দায়লামী

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফার হল প্রশান্তি ও নিরাপত্তা

📄 ইস্তিগফার হল প্রশান্তি ও নিরাপত্তা


ইস্তিগফার হল দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের ভাণ্ডার এবং চাবি। কুরআনুল কারিমের উপর চিন্তা-ভাবনা করুন। দেখবেন কালিমার পরেই রয়েছে ইস্তিগফার। বুঝা গেল ইমানের নিরাপত্তা হল ইস্তিগফার। সালাতের পরে ইস্তিগফার। জাকাতের পরে ইস্তিগফার। বুঝা গেল আমলের গ্রহণীয়তার মাধ্যম হল ইস্তিগফার। জিহাদে পরাজয়ের পরে ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুঝা গেল, আঘাতের উপশম হল ইস্তিগফার। জিহাদে বিজয় লাভের পর ইস্তিগফার। বুঝা গেল, নি'আমতের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার মাধ্যম হল ইস্তিগফার। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন জায়গায় ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইস্তিগফারের প্রতি মুসলমানদের মনোযোগ নিবদ্ধ হয় না। বুঝা গেল ইস্তিগফারের বিরুদ্ধে শয়তানি অনেক বড় চক্রান্তের জাল সর্বদা চলমান। এই চক্রান্তের জালে ঐ সকল লোকও অন্তর্ভুক্ত যারা বলে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সকল গুনাহ না ছাড়তে পারবে, ততক্ষণ ইস্তিগফারের কোন ফায়দা নেই। তাওবা! তাওবা! এটা কেমন জুলুম ও মূর্খতার কথা। ইস্তিগফারের অর্থই হল ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর গুনাহের জন্যই তো ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এবং বার বার ক্ষমা প্রার্থনার দ্বারা কঠিন থেকে কঠিন গুনাহের রশিও ছিঁড়ে যায়। গুনাহ হয়ে গেছে! তো সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করে ফেলুন। তারপর যদি আবার হয়ে যায় আবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আবার হয়ে গেলে আবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন। পুরোপুরি লজ্জা ও অনুতপ্তের সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 বান্দার নিরাপত্তা

📄 বান্দার নিরাপত্তা


হজরত ফুজালা বিন উবায়দুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-
الْعَبْدُ أَمِنْ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مَا اسْتَغْفَرَ اللَّهَ عَزَّ وَ جَلَّ
"বান্দা যতক্ষণ ইস্তিগফার করে, ততক্ষণ আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নিরাপদ থাকে।"১৫।
চার প্রকার ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ
হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
"চার প্রকার ব্যক্তি জান্নাতের বিশেষ পবিত্র বাগানে বিচরণ করবে। যথা-
ক. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি। যে এই কালিমায় কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করে না।
খ. ঐ ব্যক্তি যার নেক কাজ করলে খুশি লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে।
গ. ঐ ব্যক্তি যার গুনাহের কাজ করলে খারাপ লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করে।
ঘ. ঐ ব্যক্তি যে কোন বিপদে পড়লে إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পাঠ করে। ১৪
হে আল্লাহ আমাদেরকে ইস্তিগফারকারী বানিয়ে দিন
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ هِ . كَانَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা এই দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন, যারা ভাল কাজ করে খুশি হয় এবং মন্দ কাজ করে ইস্তিগফার করে।”১৭।

টিকাঃ
[১৫] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৩৯৫৩
[১৬] সুনানে বায়হাকী

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 চার প্রকার ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ

📄 চার প্রকার ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ


হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
"চার প্রকার ব্যক্তি জান্নাতের বিশেষ পবিত্র বাগানে বিচরণ করবে। যথা-
ক. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি। যে এই কালিমায় কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করে না।
খ. ঐ ব্যক্তি যার নেক কাজ করলে খুশি লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে।
গ. ঐ ব্যক্তি যার গুনাহের কাজ করলে খারাপ লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করে।
ঘ. ঐ ব্যক্তি যে কোন বিপদে পড়লে إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পাঠ করে। ১৪
হে আল্লাহ আমাদেরকে ইস্তিগফারকারী বানিয়ে দিন
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ هِ . كَانَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা این দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন, যারা ভাল কাজ করে খুশি হয় এবং মন্দ কাজ করে ইস্তিগফার করে।”১৭।
■ হে মানুষ! তাওবা কর
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ، فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
হে মানুষ! আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা কর। দেখ! আমি নিজেই দৈনিক ৭০ বার আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা করে থাকি।”১৮।
দৈনিক ৭০ বার ইস্তিগফার
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ فِي مَسِيْرِهِ فَقَالَ اسْتَغْفِرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرْنَا فَقَالَ: أَتِمُوْهَا سَبْعِينَ مَرَّةً؛ فَأَتْمَمْنَاهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ عَبْدٍ وَلَا أَمَةٍ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي يَوْمِهِ سَبْعِينَ مَرَّةً إِلَّا غَفَرَ اللهُ لَهُ سَبْعَمِائَةِ ذَنْبٍ وَقَدْ خَابَ عَبْدُ أَوْ امَةٌ عَمِلَ فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِمِائَةِ ذَنْبٍ
। “হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে যাওয়ার সময় ইরশাদ করেন-তোমরা ইস্তিগফার কর, আমরা ইস্তিগফার করলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় ইরশাদ করেন- দৈনিক ৭০ বার পূর্ণ কর। আমরা ৭০ বার পূর্ণ করলাম। অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যে বান্দা-বান্দি দৈনিক ৭০ বার আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করবে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা'আলা তার সাতশত গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর ধ্বংস হোক ঐ বান্দা-বান্দি যে দৈনিক সাতশতেরও অধিক পরিমাণ গুনাহ করে। অর্থাৎ সাধারণত এমনটি হয় না। কোন মানুষের গুনাহ যদি সাতশতের অধিক হয়েও যায়, তাহলেও ইস্তিগফার করলে তার সকল গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়।”১৯৷

টিকাঃ
[১৬] সুনানে বায়হাকী
[১৭] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮২০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৪৯৮০
[১৮] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭০২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ১০৮১; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৮২৯৩
[১৯] সুনানে বায়হাকী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00