📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফার শয়তানের কোমর ভেঙ্গে দেয়

📄 ইস্তিগফার শয়তানের কোমর ভেঙ্গে দেয়


শয়তান এবং তার চ্যালাচামুণ্ডরা মূলত অনেক মেহনত করছে যেন মুসলমান তাওবা-ইস্তিগফার থেকে দূরে এবং বঞ্চিত থাকে। এর কারণ সুস্পষ্ট। তাওবা-ইস্তিগফারের দ্বারা অভিশপ্ত শয়তানের কোমর ভেঙ্গে যায় এবং সে এত পরিশ্রম করে যে সকল গুনাহ করায়, তা সব মাফ হয়ে যায়। বরং খাঁটি তাওবার দ্বারা ঐ সব গুনাহও নেকিতে পরিণত হয়ে যায়। মা-শা' আল্লাহ! উম্মতের মধ্যে কিছু লোক সর্বদাই শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুসলমানদেরকে তাওবা-ইস্তিগফারের দিকে নিয়ে আসার কাজ করে যাচ্ছেন। এমন লোকগুলো উম্মতের জন্য অনেক বড় অনুগ্রহকারী। কথিত আছে-আরবের কোন এক দেশে একজন বৃদ্ধ বুজুর্গ সর্বদা মসজিদে পড়ে থাকতেন। আর তার কাজ ছিল শুধু সমাজের সর্বস্তরের মুসলমানদেরকে তাওবা-ইস্তিগফারের দিকে নিয়ে আসা। এক ব্যক্তি ছিল যার অনেক বৎসর যাবত কোন সন্তান হচ্ছিল না। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে খুবই পেরেশান। কেউ একজন স্বামীকে বলল যে, অমুক মসজিদে যাও। সেখানে এক বুজুর্গ আছেন যিনি এই রোগের ঔষধ দেয় এবং তার সেই ঔষধে এক বছরের মধ্যেই সন্তান হয়ে যায়। সে ব্যক্তি উক্ত মসজিদে গেলেন। গিয়ে দেখেন একজন সাধারণ বুজুর্গ। যার না আছে কোন মুরিদ। না আছে কোন হাদিয়া-তোহফা। না আছে কোন কাশফ-ইলহাম। না আছে নিজের জন্য কোন দাবি-দাওয়া। উক্ত ব্যক্তি তার সমস্যা বলার পর বুজুর্গ বললেন-ছেলে! একটি ঔষধ আছে যা তোমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সেবন করতে হবে। তবে তা অনেক তিতা। খেতে পারবে তো? সে বলল, অবশ্যই খেতে পারব। অনেক পেরেশানিতে আছি। বুজর্গ বললেন, ফজরের এক ঘণ্টা পূর্বে উভয়ে ঘুম থেকে উঠে অজু করে নেবে। তারপর আধাঘণ্টা নফল সালাত পড়বে এবং আধাঘণ্টা ইস্তিগফার করবে। তারপরে ফজরের সালাত পড়বে। অনেক কার্যকরী ঔষধ এটা। স্বামী গিয়ে স্ত্রীকে বলল। তখন রাত হয়ে গিয়েছিল। স্বামী বললেন আগামী কাল থেকে কি শুরু করবে? আল্লাহর বান্দী বললেন, আগামী কাল থেকে কেন? ইন শা' আল্লাহ আজ থেকেই শুরু করব। এমন ঔষধ তো অনেক বড় নি'আমত। উভয়ে আমল শুরু করল। মা-শা' আল্লাহ এই আমল শুরু করার ছয় মাস পরেই তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে গেল। তারপর একাধারে সন্তানের ধারাবাহিকতা চলছে। তবে সন্তানের চেয়েও অধিক সে যে বস্তুটি পেয়েছে তা হল ইস্তিগফারের নি'আমত।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফারকারী নাম মিথ্যাবাদী ও অলসদের তালিকা থেকে বাদ

📄 ইস্তিগফারকারী নাম মিথ্যাবাদী ও অলসদের তালিকা থেকে বাদ


হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
مِنِ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ فِي كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً لَمْ يُكْتَبُ مِنَ الْكَاذِبِينَ وَمَنِ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ فِي لَيْلَةٍ سَبْعِينَ مَرَّةً لَّمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ
"যে ব্যক্তি দৈনিক ৭০ বার ইস্তিগফার করবে, তার নাম মিথ্যাবাদীর তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি প্রতি রাতে ৭০ বার ইস্তিগফার করবে, তার নাম অলসদের তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হবে। "[১৪]

টিকাঃ
[১৪] ইবনুস সুন্নাহ; দায়লামী

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 ইস্তিগফার হল প্রশান্তি ও নিরাপত্তা

📄 ইস্তিগফার হল প্রশান্তি ও নিরাপত্তা


ইস্তিগফার হল দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের ভাণ্ডার এবং চাবি। কুরআনুল কারিমের উপর চিন্তা-ভাবনা করুন। দেখবেন কালিমার পরেই রয়েছে ইস্তিগফার। বুঝা গেল ইমানের নিরাপত্তা হল ইস্তিগফার। সালাতের পরে ইস্তিগফার। জাকাতের পরে ইস্তিগফার। বুঝা গেল আমলের গ্রহণীয়তার মাধ্যম হল ইস্তিগফার। জিহাদে পরাজয়ের পরে ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুঝা গেল, আঘাতের উপশম হল ইস্তিগফার। জিহাদে বিজয় লাভের পর ইস্তিগফার। বুঝা গেল, নি'আমতের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার মাধ্যম হল ইস্তিগফার। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন জায়গায় ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইস্তিগফারের প্রতি মুসলমানদের মনোযোগ নিবদ্ধ হয় না। বুঝা গেল ইস্তিগফারের বিরুদ্ধে শয়তানি অনেক বড় চক্রান্তের জাল সর্বদা চলমান। এই চক্রান্তের জালে ঐ সকল লোকও অন্তর্ভুক্ত যারা বলে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সকল গুনাহ না ছাড়তে পারবে, ততক্ষণ ইস্তিগফারের কোন ফায়দা নেই। তাওবা! তাওবা! এটা কেমন জুলুম ও মূর্খতার কথা। ইস্তিগফারের অর্থই হল ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর গুনাহের জন্যই তো ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এবং বার বার ক্ষমা প্রার্থনার দ্বারা কঠিন থেকে কঠিন গুনাহের রশিও ছিঁড়ে যায়। গুনাহ হয়ে গেছে! তো সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করে ফেলুন। তারপর যদি আবার হয়ে যায় আবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আবার হয়ে গেলে আবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন। পুরোপুরি লজ্জা ও অনুতপ্তের সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 বান্দার নিরাপত্তা

📄 বান্দার নিরাপত্তা


হজরত ফুজালা বিন উবায়দুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-
الْعَبْدُ أَمِنْ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مَا اسْتَغْفَرَ اللَّهَ عَزَّ وَ جَلَّ
"বান্দা যতক্ষণ ইস্তিগফার করে, ততক্ষণ আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নিরাপদ থাকে।"১৫।
চার প্রকার ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ
হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
"চার প্রকার ব্যক্তি জান্নাতের বিশেষ পবিত্র বাগানে বিচরণ করবে। যথা-
ক. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি। যে এই কালিমায় কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করে না।
খ. ঐ ব্যক্তি যার নেক কাজ করলে খুশি লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে।
গ. ঐ ব্যক্তি যার গুনাহের কাজ করলে খারাপ লাগে এবং এর জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে তথা ক্ষমা প্রার্থনা করে।
ঘ. ঐ ব্যক্তি যে কোন বিপদে পড়লে إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পাঠ করে। ১৪
হে আল্লাহ আমাদেরকে ইস্তিগফারকারী বানিয়ে দিন
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ هِ . كَانَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা এই দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا؛ وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন, যারা ভাল কাজ করে খুশি হয় এবং মন্দ কাজ করে ইস্তিগফার করে।”১৭।

টিকাঃ
[১৫] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৩৯৫৩
[১৬] সুনানে বায়হাকী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00