📄 সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার
হজরত আবু মূসা আশআরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু'আটি পাঠ করতেন-
رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي، وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَايَ، وَعَمْدِى، وَجَهْلِي، وَهَزْلِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে আমার রব! আমার ভুল-ত্রুটি এবং আমার অজ্ঞতা এবং সকল কাজে আমার সীমালঙ্ঘনকে ক্ষমা করুন এবং ঐ সকল গুনাহ যা আপনি আমার থেকে ভাল জানেন। হে আল্লাহ! আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং জেনে-বুঝে করা এবং না জেনে করা এবং হাসি-ঠাট্টার ছলে করা গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। এ সকল প্রকারের গুনাহই আমি করেছি। হে আল্লাহ! আমার পূর্বের ও পরের, গোপনে করা ও প্রকাশ্যে করা গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। আপনিই সর্বপ্রথম এবং আপনিই সর্বশেষ। আর আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [৫]
টিকাঃ
[৫] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩৯৮; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭১৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৯৭৩৮
📄 ইস্তিগফারের উপর নিশ্চিত মাগফিরাতের ওয়াদা
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ: وَعِزَّتِكَ يَا رَبِّ لَا أَبْرَحُ أُغْوِى عِبَادَكَ مَا دَامَتْ أَرْوَاحُهُمْ فِي أَجْسَادِهِمْ : فَقَالَ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَزَالُ اغْفِرْ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِي
“হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-শয়তান বলেছে, হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! নিশ্চয় আমি আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে থাকব যতক্ষণ তাদের শরীরে রূহ থাকবে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- আমার ইজ্জত ও সম্মানের কসম! যতক্ষণ তারা আমার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে ততক্ষণ আমি তাদেরকে মাগফিরাত তথা ক্ষমা করতে থাকব।”১৬।
টিকাঃ
(৬) মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১২৩৭
📄 দীন ও জিহাদের মেহনতের পরে তাসবিহ ও ইস্তিগফার
বরকতময় হোক যে দীনের জন্য যতটুকু মেহনত করেছে সে ততটুকুই নিজের সত্তার কল্যাণ করেছে। বুদ্ধিমান এমনটিই করে থাকে। কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কি করতে হবে? কুরআনুল কারিম বলছে-এখন স্বীয় কাজটি সংরক্ষণ করতে হবে। স্বীয় আমলটিকে বাঁচাতে হবে। তা কীভাবে? তা এভাবে-
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ
। “আপনি আপনার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন”৷ [৭]
কাজ দুটি হল-তাসবিহ এবং ইস্তিগফার। দুর্বল অবস্থায় শয়তান প্রচণ্ড আক্রমণ করে। যেন আমল ছিনিয়ে নিতে পারে। গাফলত বা অলসতা, গুনাহ, আরাম ও স্বাধীনতার চাহিদা। কোন গোলাম কি স্বাধীন হয়? আমরা তো আমাদের প্রিয় রবের বান্দা এবং গোলাম। আর আমাদের পারিশ্রমিক এবং আরাম তো এখানে নয়, ওখানে। হ্যাঁ! সেখানে, যেখানে প্রেমময়ী ও পবিত্র হরেরা অপেক্ষা করছে-স্বীয় স্বামীকে বলবে যে, তোমাদের মালিক তোমার উপর সন্তুষ্ট। দৈনিক কমপক্ষে ১০০০ বার তাসবিহ এবং ইস্তিগফার। প্রিয় পাঠক! এত উপকারী যা গণনার বাহিরে। আল্লাহ তা'আলার রহমত। আমলনামার পবিত্রতা। অন্তরের আলো। শারীরিক শক্তি ও সুস্থতা। সময়ের বরকত। আজাব থেকে হেফাজত। রিজিকের প্রশস্ততা। নিঃসন্তানের সন্তান লাভ। পেরেশানির প্রশান্তি। অসুস্থতার সুস্থতা। কুরআনুল কারিমে ইস্তিগফারের উপকারীতাসমূহ পড়ে দেখুন। অনেক বড় সুসংবাদ তার জন্য যার আমলনামায় অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার থাকবে। তাসবিহ এবং ইস্তিগফার।
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّnَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
প্রথম দু'আটি কুরআনের এবং দ্বিতীয়টি হাদিসের। যার যেটা ইচ্ছা আমল করুন। প্রিয় পাঠক! বোঝা মনে করবেন না। নি'আমত আর নি'আমত। নিজের নফসকে অলস বানাবেন না। আমদেরকে অনেক দূর যেতে হবে। অনেক উপরে যেতে হবে।
টিকাঃ
[৭] নাসর: আয়াত-৩
📄 হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর ইস্তিগফার
হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু যখন কোন বিষয়ে পেরেশানিতে পড়তেন অথবা কোন দুঃখ-কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতি সামনে আসত, তিনি তখন একাকী নির্জনে গিয়ে বসতেন এবং প্রথমে তিন বার নিম্নের বাক্য দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে ডাকতেন-
يَا كَهيعص - يَا نُورُ - يَا قُدُّوسُ - يَا أَوَّلَ الْأَوَّلِينَ يَا آخِرَ الْآخِرِينَ يَا حَيُّ - يَا اللَّهُ - يَا رَحْمَنُ - يَا رَحِيمُ
অতঃপর নিম্নের ১৩ প্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বলতেন-
يَا حَيُّ - يَا اللَّهُ - يَا رَحْمَنُ - يَا رَحِيمُ اغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُحِلُّ النِّقَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُغَيِّرُ النِّعَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُوْرِثُ النَّدَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَجِسُ الْقِسَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُنْزِلُ الْبَلَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَهْتِكُ الْعِصَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُعْجِلُ الْفَنَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَزِيدُ الْأَعْدَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَقْتَعُ الرَّجَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَرُدُّ الدُّعَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُمْسِكُ غَيْثَ السَّمَاءِ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوْبَ الَّتِي تَظْلِمُ الْهَوَاءَ وَاغْفِرْلِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَكْشِفُ الْغِطَاءَ
। অর্থ: হে পবিত্রতার মালিক! হে আউয়ালাল আউয়ালীন ও আখিরাল আখিরীন। হে চিরঞ্জীব! হে ব্যাপক রহমতকারী! হে ভরপুর রহমতকারী! আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা গজবকে ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা নি'আমতসমূহ পরিবর্তন করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা রিজিককে বন্ধ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা বিপদাপদ ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা গুনাহ থেকে বাঁচার ক্ষমতাকে নিঃশেষ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা দ্রুত ধ্বংস ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা শত্রু বৃদ্ধি করে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা দু'আ কবুলে প্রতিবন্ধক হয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আকাশের বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আবহাওয়াকে খারাপ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা পর্দাকে উন্মোচন করে দেয় ৮।
গুনাহের ১৩ টি ক্ষতি
গুনাহের ১৩টি ক্ষতি আল্লাহ তা'আলা আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। এই মুহূর্তে খাঁটি অন্তরে ইস্তিগফার করা অনেক বেশি প্রয়োজন। গুনাহ ইমানদারদেরকে এই দুনিয়াতেও দুঃখ এবং কষ্ট দেয়। হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর উপরোক্ত দু'আটি থেকে জানা গেল যে, গুনাহের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নের ক্ষতিসমূহ হয়ে থাকে। যথা-
১. কিছু গুনাহ রয়েছে এমন যা আল্লাহ তা'আলার রাগ ও প্রতিশোধকে ডেকে নিয়ে আসে।
২. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের কাছ থেকে আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহ ছিনিয়ে নেয়।
৩. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষকে অনুতাপ-অনুশোচনা ও পেছনের দিকে নিক্ষেপ করে।
৪. কিছু গুনাহ আছে এমন যা আসমান থেকে অবতীর্ণ কল্যাণ, বরকত ও রুজি মানুষের নিকট আসা বন্ধ করে দেয়।
৫. কিছু গুনাহ আছে এমন যা বিপদ-মুসিবত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৬. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষকে উপস্থিত গুনাহসমূহ থেকে বাঁচার শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয় এবং তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেয়।
৭. কিছু গুনাহ আছে এমন যা ধ্বংসকে খুব দ্রুত ডেকে আনে।
৮. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের শত্রু বৃদ্ধি করে দেয়।
৯. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নিঃশেষ করে মানুষকে নিরাশার অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে।
১০. কিছু গুনাহ আছে এমন যা দু'আসমূহ কবুল হওয়া বন্ধ করে দেয়।
১১. কিছু গুনাহ আছে এমন যা বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়।
১২. কিছু গুনাহ আছে এমন যা বাতাসকে ক্ষতিকর করে দেয়।
১৩. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের দোষ-ত্রুটি জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেয়। হে আল্লাহ আমাদের এ সকল গুনাহ থেকে হেফাজত করুন।
এখানে গুনাহের সম্ভাব্য ১৩টি ক্ষতি বর্ণনা করা হল। আল্লাহ তা'আলা আমাদের অবস্থার উপর রহম করুন। আমার মনে হয়, আমরা সামাজিকভাবেই এ সকল গুনাহে লিপ্ত আছি। এজন্য এ সকল গুনাহের তিক্ত ফল আস্বাদন করছি। তাই আমাদের অত্যন্ত দূরদৃষ্টির সাথে নিজেদের আত্মপর্যালোচনা করা প্রয়োজন এবং খাঁটি অন্তরে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার এবং সকল গুনাহ ত্যাগ করা আবশ্যক।
গুনাহের দুনিয়াবী ক্ষতিসমূহ
গুনাহ বলা হয় আল্লাহ তা'আলার নাফরমানী তথা অবাধ্যতাকে। গুনাহ থেকে তাওবা ও ইস্তিগফার করতে বিলম্ব করা উচিত নয়। গুনাহের আসল আজাব তো মৃত্যুর পরে তবে গুনাহের কুপ্রভাব দুনিয়াতেও প্রকাশ হয়ে যায়। ইমাম গাজালী রাহি, লিখেন-
অধিকাংশই এমন হয় যে, ব্যক্তির উপর দুনিয়াতেই গুনাহের কুপ্রভাব শুরু হয়ে যায়। এমনকি কোন কোন সময় গুনাহের প্রভাবে রিজিক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। কখনো গুনাহের কারণে মানুষের অন্তর থেকে সম্মান ও মর্যাদা উঠে যায় এবং শত্রু বিজয়ী হয়ে যায়। হাদিস শরিফে এসেছে যে, বান্দা গুনাহ করার কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-আমার জানামতে, গুনাহের কারণে মানুষ ইলম ভুলে যায়। আর এ অর্থেই হাদিসে এসেছে-যে ব্যক্তি গুনাহে লিপ্ত হয় তার বিবেক তার থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং পুনরায় কখনো আর তার নিকট ফিরে আসে না। কোন কোন আকাবিরের বক্তব্য হল- লা'নত বা অভিশাপ চেহারা কালো হয়ে যাওয়া ও ধন-সম্পদ কমে যাওয়ার নাম নয় বরং লা'নত বা অভিশাপ হল-ব্যক্তি একটি গুনাহ থেকে বের হয়ে একই ধরনের অপর আরেকটি গুনাহ অথবা এর চেয়েও আরও বড় কোন গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ গুনাহের একটি শাস্তি হল- একটি গুনাহের কারণে মানুষ অপর আরেকটি গুনাহে লিপ্ত হয়। হজরত ফুজাইল রাহি. বলেছেন-মানুষের উপর যে সকল বিপদ কিংবা মানুষের দুঃখ-কষ্ট আসে, তুমি জেনে রাখ যে, এগুলো সব গুনাহের কারণেই আসে। আর কোন কোন মনীষীর বক্তব্য হল- যদি আমার গাধার অভ্যাসও পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে আমি মনে করি যে, এটাও আমার কোন ভুল-ত্রুটির কারণেই হয়েছে। এক সূফী বুজুর্গের ঘটনা আছে যে, তিনি একটি সুদর্শন বালককে দেখে তাকিয়েই রয়েছেন। আরেক বুজর্গ এসে তার হাত ধরে বলল, এর (কু-নজরের) শাস্তি তুমি কিছু দিন পরে পাবে। ঠিকই এর ৩০ বছর পরে এর শাস্তি তিনি পেয়েছেন। হজরত আবু সুলাইমান দারানী রাহি. বলেন-স্বপ্নদোষ হওয়াও একটি শাস্তি। তিনি আরও বলেন যে, কোন ব্যক্তির কোন নামাজের জামাত ছুটে যাওয়াও কোন না কোন গুনাহের কারণেই হয়ে থাকে। একটি হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—বান্দা যখন স্বীয় কামনা-বাসনাকে আমার আনুগত্যের উপর প্রাধান্য দেয়, তখন তার সর্বনিম্ন অবস্থা হয়-তাকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মজাদার মুনাজাত থেকে বঞ্চিত করে দেন। আল্লাহ তা'আলার অনুগত বান্দাদের উপর যে বিপদাপদ আসে, এগুলো তাদের গুনাহের কাফফারা হয়ে থাকে এবং এ বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করার ফলে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি হয়।
ইস্তিগফারের একটি অতি উপকারী ও মর্যাদাপূর্ণ কুরআনী অজিফা
আসুন! একটি উপকারী অজিফা শিখে নেই। পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়াতে শয়তান অনেক কেঁদেছে। অনেক চিৎকার করেছে। এই দুঃখে সে তার নিজেই নিজের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করেছে এবং চিৎকার করে করে তার সকল চ্যালাচামুণ্ডাকে একত্রিত করেছে। যে সমুদ্রে ছিল সেও একত্রিত হয়েছে এবং যে স্থলে ছিল সেও এসেছে। অর্থাৎ শয়তানের লক্ষ-কোটি চ্যালাচামুণ্ডার সমাবেশ। আপনি কি জানেন কোন সে আয়াত? পুরো বর্ণনাটি মুসান্নাফে আবদুর রায্যাকে রয়েছে। হ্যাঁ! এটা ঐ আয়াত যার সম্পর্কে উম্মাহর অনেক বড় ফকীহ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এমন একটি আয়াত দান করেছেন, যা আমার নিকট সমগ্র দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে সকল কিছু থেকে প্রিয়। আর তা হল সুরাআলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
“আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করছে, জেনে শুনে তা তারা বার বার করে না। ”১০।
আয়াতের মর্ম হল-আল্লাহ তা'আলার মুত্তাকী বান্দাদের একটি গুণ হল, যখন তাদের গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে, ছোট কিংবা বড় কোন গুনাহ হয়ে যায়, কোন অশ্লীল কাজ হয়ে যায়, তারা তখন আল্লাহ তা'আলার জিকির করে এবং স্বীয় গুনাহের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করে। আর তারা জানে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমাকারী নেই। তারা তাদের কৃত গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তির উপর অটল থাকে না। এমন লোকদের জন্য পেছনের আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মাগফিরাতের ওয়াদা করেছেন।
সবচেয়ে ভাল হয় সরাসরি কুরআনুল কারিম খুলে এ আয়াতটি (সুরা আলে- ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত) আজকেই মুখস্থ করে নিলে। এর সাথে আরও একটি আয়াতও আছে। উভয় আয়াত মিলে একটি চমৎকার অজিফা এবং জীবন্ত আমলের রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় আয়াতটি সামনে আসছে। তার পূর্বে একটি কথা শুনি। "মাগফিরাত" আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত।
মাগফিরাতের মর্ম হল- ইমান কবুল হয়েছে এবং আমল কবুল ও গৃহিত হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! আর কি চাই? ইমানের দাবি তো অনেক মানুষই করে থাকে। সুরাবাকারার দ্বিতীয় রুকুর শুরুতে দেখুন। কিছু লোক বলে যে, আমরা ইমান এনেছি। বস্তুত তারা মুমিন নয়। ঠিক তেমনিভাবে আমলও অনেক লোকই করে থাকে কিন্তু এমন অনেক দুর্ভাগা আছে যাদের আমল আল্লাহ তা'আলার নিকট গৃহিত হয় না। "মাগফিরাত” হল ঐ নি'আমত, যাকেই আল্লাহ তা'আলা এটা নসিব করেন, তার তরী পার হয়ে যায়। তার ইমানও কবুল আমলও কবুল। এজন্যই সুরাতুল ফাতাহ-এর শুরুতে যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর সর্বশেষ ও সবচেয়ে প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য "মাগফিরাত" এর ঘোষণা করলেন তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুশি ছিল দেখার মত। অথচ আমরা মাগফিরাতকে ছোটখাট বস্তু মনে করি। কোন বুজুর্গ ইন্তেকাল করলে তার জন্য যদি মাগফিরাতের দু'আ করা হয়, তাহলে তার অনুসারীরা অসন্তুষ্ট হয় যে, আমাদের শায়েখ কি গুনাহগার ছিল? আর এজন্য মর্যাদা বৃদ্ধির দু'আ করা হয়। বস্তুত কারও জন্য যদি মাগফিরাতের দরজা খোলে তবেই সে মর্যাদা পাবে। আর যদি মাগফিরাতই না পায়, তাহলে কিসের মর্যাদা আর কিসের মর্যাদা বৃদ্ধি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য “মাগফিরাত” এর ঘোষণা হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন। আর আমাদের কাছে এ বাক্যটি ছোট মনে হয়। বাস্তবিকই এটা মূর্খতার কথা। মূলত অধিকাংশ লোকই "মাগফিরাত” এর অর্থ এবং "মাগফিরাত” এর মর্ম বুঝে না। সুবহানাল্লহা! ইস্তিগফার হল এক আশ্চর্য নি'আমত। আর তাওবা এর চেয়েও বেশি। আলহামদুলিল্লাহ! মুসলমান যথেষ্ট পরিমাণে তাওবা ও ইস্তিগফারের দিকে মনোযোগী হয়েছে এবং অত্যন্ত উপকৃত হচ্ছে। অধিকাংশ বন্ধু-বান্ধব ও অনুসারীগণ দৈনিক ১০০০ বার ইস্তিগফারের আমল নিয়মিত করছে। ১২০০ বার কালিমায়ে তাইয়্যেবা, ১০০০ বার দুরূদ শরিফ এবং ১০০০ বার ইস্তিগফার এবং কুরআনুল করিমের তিলাওয়াত এ চারটি আমল মৌলিক আমল হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহ প্রেমিকগণ আল্লাহ আল্লাহর জিকিরে আর তাসবিহ তথা সুবহানাল্লাহ যুক্ত জিকিরসমূহে উৎসাহ বেশি পায়। একটি কথা মনে রাখবেন, যেখানেই তাসবিহ এবং ইস্তিগফার উভয়টি একসাথে পাওয়া যায় সেখানে আশ্চর্য রহমত ও নি'আমত নাযিল হয়। কুরআনুল কারিমের শেষ পারায় সুরাতুন নাসরের তাফসির পাঠ করুন। তাহলে গোটা বিষয়টি বুঝে এসে যাবে।
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرُهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাসবিহ এবং ইস্তিগফারকে যে বাক্যে একত্রিত করেছেন তা পাঠ করুন। নুর এবং স্বাদে অন্তর ভরে যাবে-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
এখন আরও একটি বিষয় বুঝুন। কোন দু'আতে যদি কালিমায়ে তাইয়্যেবা, তাসবিহ ও ইস্তিগফার এ তিনটি একসাথে একত্রিত হয়ে যায়, তাহলে তা "ইসমে আজম" এর মর্যাদা লাভ করে। এমন ইসমে আজম যা সমুদ্রের গভীরে মাছের পেট থেকেও যদি ডাকা হয়, তাহলে তা সোজা আরশে গিয়ে পৌঁছে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঐ দু'আ, যা তিনি মাছের পেটে বন্দি অবস্থায় করেছিলেন, তাতে উক্ত তিনটি বিষয় একত্রিত হয়েছে। যথা-
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
এই দু'আর মধ্যে কালিমায়ে তাইয়্যেবাও রয়েছে এবং তাসবিহ ও ইস্তিগফারও রয়েছে। এজন্য এই বরকতময় দু'আটি ইসমে আজমের মর্যাদা লাভ করেছে। এখন ফিরে আসি আমাদের অজিফার দিকে। এ অজিফা এই উম্মাহর মহান ফকীহ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস শরীফের অনেক কিতাবেই রয়েছে। যেমন: মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, তাবরানী ও বায়হাকী ইত্যাদি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-
কুরআনুল কারিমে দুটি আয়াত এমন রয়েছে যে, কোন বান্দা যদি কোন গুনাহ করে এই দুটি আয়াত পাঠ করে আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে, তাহলে তাকে অবশ্যই মাগফিরাত প্রদান করা হবে। অর্থাৎ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। প্রথম আয়াত তো হল সুরাআলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত। আর দ্বিতীয় আয়াত হল সুরানিসার ১১০ নং আয়াত।
وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِد اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
“আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ”১১।
সুবহানাল্লাহ! কত সহজ অজিফা। আজই চেষ্টা করে দুটি আয়াত অর্থসহ মুখস্থ করে নিন। যখনই কোন গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যাবে, তখনই অজু করে কয়েক রাকাত সালাত আদায় করে এই দুটি আয়াত মনোযোগ দিয়ে পাঠ করুন এবং খাঁটি অন্তরে ইস্তিগফার করুন এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাত এবং ক্ষমার দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন।
এমনিতেও ইস্তিগফারের পূর্বে এই দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে ইন শা' আল্লাহ ইস্তিগফার অধিক কার্যকরী হবে। আর অজু করা ও সালাত আদায় করাও জরুরি নয় তবে উত্তম। এই আয়াত সামনে আসাতে আরও একটি বিষয় সামনে এসে গেল। আমাদের হজরত মাওলানা আহমাদ আলী লাহোরী রাহি, সুরা নিসার এই আয়াতটিও (১১০ নং) জিহাদ সংক্রান্ত আয়াতের সাথে উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেন - وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا "আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে" এই মন্দ কাজের উপমা দিয়েছেন- যেমন জিহাদের ফরজিয়াতকে অস্বীকার করে। আর أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ "নিজের প্রতি জুলুম করবে" এর উপমা দিয়েছেন-সালাت কিংবা জামাত ত্যাগ করে। এমন ব্যক্তির জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করা প্রয়োজন। সে যদি খাঁটি অন্তরে তাওবা-ইস্তিগফার করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা ও মাগফিরাতের ওয়াদা করেছেন। হজরত লাহোরী রাহি, লিখেন-কুরআনুল কারিমের তা'লিমের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করা দুই প্রকারে হতে পারে। এক হল রূহে তা'লিম তথা তা'লিমের প্রাণকে উড়িয়ে দেওয়া। যেমন: কুরআনুল কারিমে জিহাদকে ফরজ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশাল এক শ্রেণি তৈরি হয়েছে যে, তারা জিহাদের ফরজিয়াতকে উড়িয়ে দেয়। তাহলে এটা وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا “আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে" এর অন্তর্ভুক্ত। আর দ্বিতীয় প্রকার হল-হুকুম তথা নির্দেশের রূপ-রেখাকে ভেঙ্গে দেয়। তাহলে এটা أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ “নিজের প্রতি জুলুম করবে” অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন: কোন ব্যক্তি জামাতের সাথে সালাত আদায়ে অলসতা করে। উক্ত দুটি অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিও যদি আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। [১২]
দু'আ হল মুমিনের জন্য শ্বাস গ্রহণের ন্যায় প্রশান্তিদায়ক
অনেক লোক বলে থাকে যে, এত এত দু'আ। কোনটা আমল করব? তাদের খিদমতে আরজ হল-মানুষের কন্ঠ কথা বলে ক্লান্ত হয় না। সবজি বিক্রেতা কি পরিমাণ ডাকাডাকি করে? বাসের হেল্পার-কন্ট্রাক্টর কি পরিমাণ ডাকাডাকি করে? যে সকল লোকের বক-বক করার কিংবা গল্প-গুজব করার অভ্যাস, তারা কি পরিমাণ কথাবার্তা বলে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু'আসমূহ তো মুমিনের জন্য শ্বাস গ্রহণের ন্যায় প্রশান্তিদায়ক। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে দীনের যত কাজ করেছেন, অন্য আর কেউ কি এ পরিমাণ কাজ করতে পারবে? কক্ষনো নয়। তাহলে এত অধিক পরিমাণে কাজ করা সত্ত্বেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সকল দু'আ নিয়মিত আমল করতেন। তাহলে বুঝা গেল- আমাদের মত অবসর লোকদের জন্য তো আরও অধিক পরিমাণে আমল করা সম্ভব। সুতরাং অন্তরে যদি আল্লাহ তা'আলার যিকিরের উৎসাহ- উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়ে যায় এবং এ কথা অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যায় যে, আমি জিকির ও ইস্তিগফারের দ্বারা স্বীয় জান্নাতকে আবাদ করতে হবে। মানুষ দুনিয়ার বাড়ি-ঘর বানানোর জন্য কি পরিমাণ কষ্ট করে? জান্নাত তো এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি মূল্যবান।
শয়তান তো মানুষকে পথভ্রষ্ট করার কসম খেয়েছে
আল্লাহ তা'আলা আসমান-জমিন বানানোর সময়ই পশ্চিম দিকে তাওবার অনেক বড় দরজা বানিয়ে রেখেছেন। যেন তাঁর বান্দারা উক্ত দরজা দিয়ে অতিক্রম করে তাঁর নিকট পৌঁছতে পারে। অভিশপ্ত শয়তান আমাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিক্ষেপ করছে। আমাদের নফস শয়তানের সহযোগিতা করছে। শয়তান সামান্য একটি মুহূর্তও স্বস্তিতে বসে থাকে না। সে কসম খেয়েছে যে, আমি লোকদের সামনে-পেছনে, ডানে-বামে চতুর্দিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ করব। সে কসম খেয়েছে যে, আমি লোকদেরকে পথ ভ্রষ্ট করব। সে কসম খেয়েছে যে, আমি মানুষকে নিজের সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জোরদার মেহনত করব। শয়তান তার সৈন্যসামন্তসহ আমাদের উপর আক্রমণরত। সে ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ পরিবর্তন করে। সে আমাদেরকে পরকাল থেকে উদাসীন করে দেয়। সে আমাদের সময়কে ধ্বংস করে। সে আমাদেরকে নষ্ট বন্ধুত্বে ফাঁসিয়ে দেয়। সে আমাদেরকে জিহাদ-কিতাল থেকে দূরে রাখে। সে আমাদেরকে দুনিয়ার চাকচিক্যের মাঝে ফাঁসিয়ে দেয়। আর আমরা দুর্বল মানুষ ঝড়ে আক্রান্ত নৌকার মত ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাদের নিচে জাহান্নামের অতল গহ্বর এবং জান্নাত অনেক উপরে এবং অনেক দূরে। আশ্চর্য রকম কষ্ট ও পেরেশানির এক পরিবেশ। এক গুনাহের পর আরেক গুনাহ। এক ভুলের পর আরেক ভুল এবং এক ব্যর্থতার পর আরেক ব্যর্থতা। শয়তান ডেকে ডেকে বলছে— তোমরা জান্নাতের ধারে-কাছেও যেতে পারবে না। সুতরাং মেহনত করা ছেড়ে দাও এবং দুনিয়ায় কিছু দিন আনন্দ-ফুর্তি করে নাও। আর আমাদের নফসও আমাদেরকে বার বার শয়তানের সাথে মিলিত করছে। আর বুঝাচ্ছে যে, নেকির রাস্তা অনেক কঠিন এবং তোমরা দুর্বল। নিরাশার এই অমানিশায় কুরআনুল কারিমের একেকটি বাক্য আলো হয়ে ঝরে। আমার আল্লাহ শয়তানকে বলেন—
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانُ
“(হে শয়তান! তুমি যতই চেষ্টা কর) নিশ্চয় আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই।”১৩
আল্লাহ তা'আলার বান্দা, আল্লাহ তা'আলার প্রকৃত গোলাম। তাদের বড় গুণ হল-"ইখলাস"। আর ইখলাস হল সকল আমল একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্যই করে এবং তাওবার দরজার দিকে দৌড়ে চলে যায়। অর্থাৎ দ্রুত তাওবা করে। শয়তান তাকে ফেলে দেয় সে আবার উঠে দৌড় দেয়। নফস তাকে বসিয়ে দেয়, সে দাঁড়িয়ে পুনরায় দৌড় দেয়। আল্লাহ তা'আলার দিকে এবং তাওবার দরজার দিকে দৌড়ায়। সে জানে যে, তার গুনাহ আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে বেশি নয়। সে জানে যে, আল্লাহ তা'আলার ব্যবস্থাপনা দুনিয়ার ব্যবস্থাপনার থেকে ভিন্ন। এক দিনে যদি সত্তরটি গুনাহও হয়ে যায়, তাহলেও তাওবার দরজা খোলা। তাওবার এক ফোঁটা অশ্রু জাহান্নামের ভয়াবহ আগুনকে নিভিয়ে দেয়। সে জানে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত এমন কেউ নেই, যার নিকট আমাদের আশ্রয় মিলবে এবং আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের উপর অনেক অনুগ্রহশীল।
টিকাঃ
[৮] কানযুল উম্মাল: ১/২৭৮; ইবনু আবিদ-দুনিয়া; ইবনুন-নাজ্জার; জামেউল আহাদিস: ৩/৯৮
(৯) এহইয়াউল উলূম: ইমাম গাজালী রাহি,
[১০] আলে ইমরান- ৩: ১৩৫
[১১] নিসা-৪: ১১০
[১২] হাশিয়ায়ে লাহোরী: সুরা নিসার ১১০ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য
হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু যখন কোন বিষয়ে পেরেশানিতে পড়তেন অথবা কোন দুঃখ-কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতি সামনে আসত, তিনি তখন একাকী নির্জনে গিয়ে বসতেন এবং প্রথমে তিন বার নিম্নের বাক্য দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে ডাকতেন-
يَا كَهيعص - يَا نُورُ - يَا قُدُّوسُ - يَا أَوَّلَ الْأَوَّلِينَ يَا آخِرَ الْآخِرِينَ يَا حَيُّ - يَا اللَّهُ - يَا رَحْمَنُ - يَا رَحِيمُ
অতঃপর নিম্নের ১৩ প্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বলতেন-
يَا حَيُّ - يَا اللَّهُ - يَا رَحْمَنُ - يَا رَحِيمُ اغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُحِلُّ النِّقَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُغَيِّرُ النِّعَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُوْرِثُ النَّدَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَجِسُ الْقِسَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُنْزِلُ الْبَلَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَهْتِكُ الْعِصَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُعْجِلُ الْفَنَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَزِيدُ الْأَعْدَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَقْتَعُ الرَّجَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَرُدُّ الدُّعَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُمْسِكُ غَيْثَ السَّمَاءِ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوْبَ الَّتِي تَظْلِمُ الْهَوَاءَ وَاغْفِرْلِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَكْشِفُ الْغِطَاءَ
অর্থ: হে পবিত্রতার মালিক! হে আউয়ালাল আউয়ালীন ও আখিরাল আখিরীন। হে চিরঞ্জীব! হে ব্যাপক রহমতকারী! হে ভরপুর রহমতকারী! আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা গজবকে ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা নি'আমতসমূহ পরিবর্তন করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা রিজিককে বন্ধ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা বিপদাপদ ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা গুনাহ থেকে বাঁচার ক্ষমতাকে নিঃশেষ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা দ্রুত ধ্বংস ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা শত্রু বৃদ্ধি করে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা দু'আ কবুলে প্রতিবন্ধক হয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আকাশের বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আবহাওয়াকে খারাপ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা পর্দাকে উন্মোচন করে দেয়।[৮]
টিকাঃ
[৮] কানযুল উম্মাল: ১/২৭৮; ইবনু আবিদ-দুনিয়া; ইবনুন-নাজ্জার; জামেউল আহাদিস: ৩/৯৮
হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু যখন কোন বিষয়ে পেরেশানিতে পড়তেন অথবা কোন দুঃখ-কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতি সামনে আসত, তিনি তখন একাকী নির্জনে গিয়ে বসতেন এবং প্রথমে তিন বার নিম্নের বাক্য দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে ডাকতেন-
يَا كَهيعص - يَا نُورُ - يَا قُدُّوسُ - يَا أَوَّلَ الْأَوَّلِينَ يَا آخِرَ الْآخِرِينَ يَا حَيُّ - يَا اللَّهُ - يَا رَحْمَنُ - يَا رَحِيمُ
অতঃপর নিম্নের ১৩ প্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বলতেন-
يَا حَيُّ - يَا اللَّهُ - يَا رَحْمَنُ - يَا رَحِيمُ اغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُحِلُّ النِّقَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُغَيِّرُ النِّعَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُوْرِثُ النَّدَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَجِسُ الْقِسَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُنْزِلُ الْبَلَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَهْتِكُ الْعِصَمَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُعْجِلُ الْفَنَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَزِيدُ الْأَعْدَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَقْتَعُ الرَّجَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَرُدُّ الدُّعَاءَ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُمْسِكُ غَيْثَ السَّمَاءِ وَاغْفِرْ لِيَ الذُّنُوْبَ الَّتِي تَظْلِمُ الْهَوَاءَ وَاغْفِرْلِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تَكْشِفُ الْغِطَاءَ
অর্থ: হে পবিত্রতার মালিক! হে আউয়ালাল আউয়ালীন ও আখিরাল আখিরীন। হে চিরঞ্জীব! হে ব্যাপক রহমতকারী! হে ভরপুর রহমতকারী! আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা গজবকে ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা নি'আমতসমূহ পরিবর্তন করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা রিজিককে বন্ধ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা বিপদাপদ ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা গুনাহ থেকে বাঁচার ক্ষমতাকে নিঃশেষ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা দ্রুত ধ্বংস ডেকে আনে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা শত্রু বৃদ্ধি করে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা দু'আ কবুলে প্রতিবন্ধক হয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আকাশের বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আবহাওয়াকে খারাপ করে দেয়। আমার ঐ গুনাহ ক্ষমা করুন, যা পর্দাকে উন্মোচন করে দেয়।[৮]
টিকাঃ
[৮] কানযুল উম্মাল: ১/২৭৮; ইবনু আবিদ-দুনিয়া; ইবনুন-নাজ্জার; জামেউল আহাদিস: ৩/৯৮