📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন

📄 আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন


আল্লাহ তা'আলা কত বড় অনুগ্রহ করেছেন—যেদিন আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন "তাওবার দরজাও" বানিয়েছেন এবং এই দরজা ঐ সময় পর্যন্ত খোলা থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় না হবে। আল্লাহু আকবার কাবীরা! কত বড় দয়া আর কত বড় অনুগ্রহ। তাওবার এই দরজা পশ্চিম দিকে অবস্থিত এবং অনেক বড়। সত্তর বছর পর্যন্ত যদি কোন অরোহী তার বাহন নিয়ে দৌড়ায়, তাহলে তার প্রশ্বস্ততা শেষ হবে না। আমাদের সকলের উচিত যে, সত্যিকারের তাওবা করে উক্ত দরজায় প্রবেশ করা। আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। হ্যাঁ! ঐ সকল অপরাধী ও গুনাহগারকে, যারা খাঁটি অন্তরে তাওবা করে তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন। আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাতের কোন কমতি নেই। তাঁর রহমত অনেক অনেক বড়।
সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার
হজরত শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার তথা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার হল-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ আপনিই আমার রব, আপনাকে ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে করা প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গিকারের উপর রয়েছি। আমি আমার সকল কৃতকর্মের কুফল থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই। আপনি আমার প্রতি আপনার যে নিয়ামত দান করেছেন তা স্বীকার করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না। ”১।
সর্বোত্তম দু'আ কোনটি?
عَنْ عَلِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدُّعَاءِ الاسْتِغْفَارُ وَ خَيْرُ الْعِبَادَةِ قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
“হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, শ্রেষ্ঠ দু'আ হল-ইস্তিগফার করা এবং সর্বোত্তম ইবাদাত হল—লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা।”।২।

টিকাঃ
[১] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩০৩; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৫০৭০; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৩; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৫৫২২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮৭২; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৭১১১

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইস্তিগফার করা

📄 নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইস্তিগফার করা


মানুষের দীনি ও দুনিয়াবী প্রয়োজনসমূহ অসংখ্য। ধন-সম্পদ, স্ত্রী-সন্তান, সুখ-শান্তি, সুস্থতা, মেধা, জ্ঞান-বুদ্ধি, ইবাদাতের তাওফিক ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে মানুষের যে বস্তুর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তা হল—গুনাহসমূহ ক্ষমা পাওয়া। আল্লাহ তা'আলার গজব এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচা।
হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত—তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মৃত্যুর সময় এই দু'আ পাঠ করতে দেখেছেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
"হে আল্লাহ আমাকে মাগফিরাত দান করুন। আমার উপর দয়া করুন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ বন্ধুর (নবিগণ ও ফেরেশতাগণ) সাথে মিলিয়ে দিন।"।৩।

টিকাঃ
(২) তারীখে হাকেম।
(৩) সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৯৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ১৬১৯; মুয়াত্তা মালেক: হাদিস নং ৬৩৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৪৭৭৪

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ জীবনে অধিক পরিমাণে তাসবিহ ও ইস্তিগফার করা

📄 নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ জীবনে অধিক পরিমাণে তাসবিহ ও ইস্তিগফার করা


হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন—নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় রুকু এবং সিজদায় অধিক পরিমাণে এই দু'আ পাঠ করতেন। যেন কুরআনুল কারিমের আয়াত— فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ
। "আপনি আপনার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন"
এর উপর আমল হয়ে যায়। দু'আটি হল-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
“হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।” [৪]

টিকাঃ
[৪] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৫৭৩; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৪৮৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৩১২৭

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার

📄 সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার


হজরত আবু মূসা আশআরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু'আটি পাঠ করতেন-
رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي، وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَايَ، وَعَمْدِى، وَجَهْلِي، وَهَزْلِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে আমার রব! আমার ভুল-ত্রুটি এবং আমার অজ্ঞতা এবং সকল কাজে আমার সীমালঙ্ঘনকে ক্ষমা করুন এবং ঐ সকল গুনাহ যা আপনি আমার থেকে ভাল জানেন। হে আল্লাহ! আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং জেনে-বুঝে করা এবং না জেনে করা এবং হাসি-ঠাট্টার ছলে করা গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। এ সকল প্রকারের গুনাহই আমি করেছি। হে আল্লাহ! আমার পূর্বের ও পরের, গোপনে করা ও প্রকাশ্যে করা গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। আপনিই সর্বপ্রথম এবং আপনিই সর্বশেষ। আর আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [৫]

টিকাঃ
[৫] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩৯৮; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭১৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৯৭৩৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00