📄 সূরাতুল মুনাফিকুন
সূরাতুল মুনাফিকুন-এর ৫ ও ৬ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৫
۞ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُءُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ
"আর তাদেরকে যখন বলা হয় এসো, আল্লাহর রাসুল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর আপনি তাদেরকে দেখতে পাবেন, অহংকারবশত বিমুখ হয়ে চলে যেতে।"
মুনাফিকের অন্তরে ইস্তিগফারের কোন গুরুত্ব হয় না। মদিনা মুনাওয়ারায় যখন কোন মুনাফিকের খিয়ানত প্রকাশ হয়ে যেত, তখন কল্যাণকামী লোকেরা তাকে বলত যে, এখনো সময় আছে, আসো! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে নিজের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করিয়ে নাও। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের বরকতে আল্লাহ তা'আলা তোমার ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। সে তখন তার গর্ব ও অহঙ্কারের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিত। বরং কোন কোন কুলাঙ্গার তো সুস্পষ্ট বলে দিত যে, আমার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের প্রয়োজন নেই।
■ আয়াত নং-৬
سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
“আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করেনও তাহলেও আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমা পাবে না। কেননা তারা নিজেরাই ক্ষমা চায় না এবং মাগফিরাত কামনা করে না।
📄 সূরাতুত-তাগাবুন
সূরাতুত-তাগাবুন-এর ৯. ১৪ ও ১৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৯
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"স্মরণ করো, যেদিন সমাবেশ দিবসের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তোমাদের সমবেত করবেন, ঐ দিন হচ্ছে লাভ-ক্ষতির দিন। আর যে আল্লাহর প্রতি ইমান আনে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দিবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণধারা প্রবাহিত হয়, তথায় তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।”
একটি দিন আসবে। সেই দিনটির নাম হল-“ইয়াউমুত-তাগাবুন” তথা হার-জিতের দিন। লাভ এবং ক্ষতি প্রকাশ হওয়ার দিন। এটা কিয়ামতের দিনেরই একটি নাম। ঐ দিন সে-ই জিতে যাবে যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে আর সে-ই হেরে যাবে, যে ইমান ও নেক আমল শূন্য হবে।
সেদিন জাহান্নামীগণ হেরে যাবে। আর হেরে যাওয়ার কারণ হল-আল্লাহ তা'আলার দেওয়া শক্তি-সামর্থ্যকে কুপথে ব্যয় করে মূল পুঁজি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলা। আর জান্নাতিরা জিতে যাবে। আর জিতে যাওয়ার কারণ হল- সেদিন তাদের নিকট ইমান ও নেক আমলের মত মহা সম্পদ থাকবে। যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে, সেদিন তার গুনাহ মাফ করা হবে। যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে না তার নেক আমলও কোন কাজে আসবে না। ইমান এবং নেক আমল মাগফিরাতের কারণ।
আয়াত নং-১৪
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর যদি তোমরা মার্জনা কর, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।"
অর্থাৎ সন্তানসন্ততি যদি পরকালে শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অথবা তাদের ইচ্ছা হয় যে, তুমি জিহাদ এবং হিজরত থেকে বিরত থাক কিংবা তারা তোমাকে দুনিয়াতে এমনভাবে ব্যস্ত করে দেয় যে, তুমি দীন ও আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে যাও, তাহলে এমন সন্তানসন্ততি তোমাদের দুশমন। সুতরাং তোমরা তাদের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাক। অর্থাৎ তাদের অন্যায় আবদার মানবে না। তবে হ্যাঁ! এইটুকু চেষ্টা কর যে, নিজের দীনও বাঁচে এবং তাদের সাথেও ক্ষমাসূলভ সম্পর্ক বজায় রাখা যায়। এতে অসংখ্য ফায়দা। এই উত্তম আখলাকের জন্য আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সাথে অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করবেন। তিনি "গাফুরুর রাহিম” তথা পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
আয়াত নং-১৭
إِن تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفُهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ
شَكُورٌ حَلِيمٌ
“যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।”
ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ তথা আল্লাহর রাস্তায় উত্তম মাল আনন্দচিত্তে খরচ করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ। এর বরকতে মালও অনেক বৃদ্ধি হয়।
📄 সূরাতুত-তালাক
সূরাতুত-তালাক-এর ৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৫
ذلِكَ أَمْرُ اللَّهِ أَنزَلَهُ إِلَيْكُمْ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا
“এটি আল্লাহর নির্দেশ, তিনি তা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তার প্রতিদানকে মহান করে দেন।"
তাকওয়া তথা আল্লাহ তা'আলার ভয় মাগফিরাতের অন্যতম কারণ।
📄 সূরাতুত-তাহরিম
সূরাতুত-তাহরিম-এর ১. ৪. ৫ ও ৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবি, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করেছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশি করার জন্যে তা নিজের জন্যে কেন হারাম করেছেন? আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার বৈধ কসম খেয়েছেন। উক্ত কসমের উপর বলা হয়েছে-হে নবি আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশি করার জন্যে নিজের উপর কোন হালাল বস্তুকে হারাম করার তথা নিষিদ্ধ করার কষ্ট করবেন না এবং এ ব্যাপারে কসম করবেন না। আল্লাহ তা'আলা “গাফুরুর রাহিম” তথা পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
তিনি তো অনেক বড় বড় গুনাহও ক্ষমা করে দেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তো কোন গুনাহও হয়নি। একটি অনুত্তম কাজ কাজ হয়েছে যা ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
আয়াত নং-৪
إِن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا وَإِن تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرُ
"যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা কর (তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম)। কারণ তোমাদের উভয়ের অন্তর বাঁকা হয়েছে, আর তোমরা যদি তার বিরুদ্ধে পরস্পরকে সাহায্য কর তবে আল্লাহই তার অভিভাবক এবং জিবরাইল ও সৎকর্মশীল মুমিনরাও। তাছাড়া অন্যান্য ফেরেশতারাও তার সাহায্যকারী।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্য হতে দু'জনকে তাওবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একটি ব্যাপারে তোমরা দু'জন ভুলের দিকে অগ্রসর হয়েছ। এজন্য তাওবা করো এবং ভবিষ্যতে এমন সীমালঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাকবে।
আয়াত নং-৫
عَسَى رَبُّهُ إِن طَلَّقَكُنَّ أَن يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُّؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَابِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَابِحَاتٍ ثَيْبَاتٍ وَأَبْكَارًا
“সে যদি তোমাদেরকে তালাক দেয়, তবে আশা করা যায় তার রব তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী তাকে দিবেন, যারা মুসলিম, মুমিনা, অনুগত, তাওবাকারী, ইবাদাতকারী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী।"
আল্লাহ তা'আলার নিকট এমন পছন্দনীয় ও বরকতময় নারী যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত, তাদের একটি গুণ হল-তারা তাওবাকারী হবে। এর দ্বারা তাওবার ফজিলত, প্রয়োজন ও মর্যাদা অনুমান করা যেতে পারে।
আয়াত নং- ৮
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلُكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِى اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ
“হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবি ও তার সাথে যারা ইমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।"
হে ইমানদারগণ! খাঁটি তাওবা কর। এমন খাঁটি তাওবা যেন পুনরায় উক্ত গুনাহের দিকে ফিরে আসার ইচ্ছাই অন্তর থেকে নিঃশেষ হয়ে যায়। যদি এমন তাওবা কর তাহলে তোমাদের উপর থেকে গুনাহসমূহের বোঝা ও ক্ষতি মিটে যাবে। তোমরা জান্নাত পেয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন লাঞ্ছনা থেকে বেঁচে যাবে। কিয়ামতের অন্ধকারে তোমরা নূর এবং আলো পাবে। যা তোমাদের সাথে সাথে দৌড়াবে। অর্থাৎ আমাদের আলো শেষ পর্যন্ত চালু থাকবে। নিভিয়ে দেওয়া হবে না। যেমনটি মুনাফিকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে- তাদের আলো নিভে যাবে এবং তারা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকবে। কুরআনুল কারিমে বর্ণিত ইস্তিগফারের অন্তর্ভুক্ত একটি কার্যকরী দু'আ-
رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ