📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরা-সফ

📄 সূরা-সফ


সূরাতুস-সফ- এর ১২ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-১২
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসগুলোতেও (প্রবেশ করাবেন)। এটাই মহাসাফল্য।"
এমন একটি লাভজনক ব্যবসা যা মাগফিরাতও দান করে এবং আজাবে ইলাহী তথা আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকেও বাঁচায়। আর তা হল- মুমিনগণ স্বীয় জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ তথা কিতাল করা। কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ মাগফিরাতের কারণ। সর্বোপরি এতে জান্নাতের আবাসসমূহেরও ওয়াদা রয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলার নুসরাত ও বিজয়ও। অর্থাৎ চিরস্থায়ী সফলতা ও লাভজনক ব্যবসা। يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।"

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল মুনাফিকুন

📄 সূরাতুল মুনাফিকুন


সূরাতুল মুনাফিকুন-এর ৫ ও ৬ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৫
۞ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُءُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ
"আর তাদেরকে যখন বলা হয় এসো, আল্লাহর রাসুল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর আপনি তাদেরকে দেখতে পাবেন, অহংকারবশত বিমুখ হয়ে চলে যেতে।"
মুনাফিকের অন্তরে ইস্তিগফারের কোন গুরুত্ব হয় না। মদিনা মুনাওয়ারায় যখন কোন মুনাফিকের খিয়ানত প্রকাশ হয়ে যেত, তখন কল্যাণকামী লোকেরা তাকে বলত যে, এখনো সময় আছে, আসো! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে নিজের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করিয়ে নাও। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের বরকতে আল্লাহ তা'আলা তোমার ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। সে তখন তার গর্ব ও অহঙ্কারের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিত। বরং কোন কোন কুলাঙ্গার তো সুস্পষ্ট বলে দিত যে, আমার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের প্রয়োজন নেই।

■ আয়াত নং-৬
سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
“আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করেনও তাহলেও আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমা পাবে না। কেননা তারা নিজেরাই ক্ষমা চায় না এবং মাগফিরাত কামনা করে না।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুত-তাগাবুন

📄 সূরাতুত-তাগাবুন


সূরাতুত-তাগাবুন-এর ৯. ১৪ ও ১৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৯
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"স্মরণ করো, যেদিন সমাবেশ দিবসের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তোমাদের সমবেত করবেন, ঐ দিন হচ্ছে লাভ-ক্ষতির দিন। আর যে আল্লাহর প্রতি ইমান আনে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দিবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণধারা প্রবাহিত হয়, তথায় তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।”
একটি দিন আসবে। সেই দিনটির নাম হল-“ইয়াউমুত-তাগাবুন” তথা হার-জিতের দিন। লাভ এবং ক্ষতি প্রকাশ হওয়ার দিন। এটা কিয়ামতের দিনেরই একটি নাম। ঐ দিন সে-ই জিতে যাবে যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে আর সে-ই হেরে যাবে, যে ইমান ও নেক আমল শূন্য হবে।
সেদিন জাহান্নামীগণ হেরে যাবে। আর হেরে যাওয়ার কারণ হল-আল্লাহ তা'আলার দেওয়া শক্তি-সামর্থ্যকে কুপথে ব্যয় করে মূল পুঁজি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলা। আর জান্নাতিরা জিতে যাবে। আর জিতে যাওয়ার কারণ হল- সেদিন তাদের নিকট ইমান ও নেক আমলের মত মহা সম্পদ থাকবে। যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে, সেদিন তার গুনাহ মাফ করা হবে। যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে না তার নেক আমলও কোন কাজে আসবে না। ইমান এবং নেক আমল মাগফিরাতের কারণ।

আয়াত নং-১৪
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর যদি তোমরা মার্জনা কর, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।"
অর্থাৎ সন্তানসন্ততি যদি পরকালে শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অথবা তাদের ইচ্ছা হয় যে, তুমি জিহাদ এবং হিজরত থেকে বিরত থাক কিংবা তারা তোমাকে দুনিয়াতে এমনভাবে ব্যস্ত করে দেয় যে, তুমি দীন ও আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে যাও, তাহলে এমন সন্তানসন্ততি তোমাদের দুশমন। সুতরাং তোমরা তাদের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাক। অর্থাৎ তাদের অন্যায় আবদার মানবে না। তবে হ্যাঁ! এইটুকু চেষ্টা কর যে, নিজের দীনও বাঁচে এবং তাদের সাথেও ক্ষমাসূলভ সম্পর্ক বজায় রাখা যায়। এতে অসংখ্য ফায়দা। এই উত্তম আখলাকের জন্য আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সাথে অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করবেন। তিনি "গাফুরুর রাহিম” তথা পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

আয়াত নং-১৭
إِن تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفُهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ
شَكُورٌ حَلِيمٌ
“যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।”
ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ তথা আল্লাহর রাস্তায় উত্তম মাল আনন্দচিত্তে খরচ করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ। এর বরকতে মালও অনেক বৃদ্ধি হয়।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুত-তালাক

📄 সূরাতুত-তালাক


সূরাতুত-তালাক-এর ৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

■ আয়াত নং-৫
ذلِكَ أَمْرُ اللَّهِ أَنزَلَهُ إِلَيْكُمْ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا
“এটি আল্লাহর নির্দেশ, তিনি তা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তার প্রতিদানকে মহান করে দেন।"
তাকওয়া তথা আল্লাহ তা'আলার ভয় মাগফিরাতের অন্যতম কারণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00