📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল মুমতাহিনা

📄 সূরাতুল মুমতাহিনা


সূরাতুল মুমতাহিনা-এর ৪. ৫. ৭ ও ১২ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৪-৫
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَاءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
“ইবরাহিম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হল আমাদের—তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ইমান আন। তবে স্বীয় পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিটি ব্যতিক্রম: আমি অবশ্যই তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”
কাফিরদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মুমিনকে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গী-সাথীদের পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। তারা কাফিরদেরকে সুস্পষ্ট দুশমনি ও শত্রুতা এবং সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন এবং সুস্পষ্ট বলে দিয়েছেন- যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ইমান না আনবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। সাথে সাথে তারা এই দু'আও করেছেন-
رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ۖ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আপনার শক্তি ও প্রজ্ঞার প্রতি এটাই আশা ও প্রত্যাশা যে, আপনি আপনার বিশ্বস্তদেরকে শত্রুর মোকাবিলায় পরাজিত এবং লাঞ্ছিত করবেন না। এই দু'আটিও কুরআনে বর্ণিত অত্যন্ত উপকারী একটি ইস্তিগফার।

■ আয়াত নং-৭
عَسَى اللَّهُ أَن يَجْعَلَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ الَّذِينَ عَادَيْتُم مِّنْهُم مَّوَدَّةً ۚ وَاللَّهُ قَدِيرٌ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"যাদের সাথে তোমরা শত্রুতা করছ, আশা করা যায় আল্লাহ তোমাদের ও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আর আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এবং আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
কাফিরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ব্যাপারে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তার মুমিন সঙ্গী-সাথীদের পথে চল। যদি তার বিপরীত কর এবং আল্লাহর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব কর, তাহলে তোমরা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। কারও বন্ধুত্ব কিংবা শত্রুতায় আল্লাহ তা'আলার কি আসে যায়। তিনি তো প্রাচুর্যবান ও সকল সৌন্দর্যের মালিক। আর আল্লাহ তা'আলার রহমতের দ্বারা এটাও সম্ভব যে, ঐ কাফিরগণ যাদের সাথে আজ তোমাদের বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হচ্ছে, আগামি দিন যখন তারা ইমান গ্রহণ করবে, তখন তাদের মধ্যে এবং তোমাদের মধ্যে অত্যন্ত মহব্বত সৃষ্টি হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা "কাদির" তথা সর্ব শক্তিমান এবং তাঁর মাগফিরাত ও রহমতের দরজা উন্মুক্ত। এজন্য যে-ই সত্যিকারের তাওবা করে আসে তাকেই কবুল করা হয়। আর তাঁর হুকুমের ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে যে কারও কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়, সে যেন আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে। আল্লাহ তা'আলা অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আলহামদুলিল্লাহ মক্কা বিজয়ের পর মক্কার প্রায় সকলে মুসলমান হয়ে যায় এবং গতকাল পর্যন্ত যারা ছিল জানের দুশমন, তারাই হয়ে গেল মুসলমানদের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বন্ধু।

■ আয়াত নং-১২
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবি, যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বাইআত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে তারা আপনার অবাধ্য হবে না। আপনি তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
এই আয়াতকে "আয়াতে বাইআত" তথা বাইআতের আয়াত বলা হয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট নারীরা বাইআতের জন্য আসলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ওয়াদা নিতেন- ১. শিরক করবে না। ২. চুরি করবে না। ৩. ব্যভিচার করবে না। ৪. নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। ৫. জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না। ৬. সৎকাজে তারা আপনার অবাধ্য হবে না।
তবে এই বাইআত হত মৌখিক বাইআত। এতে কখনো কোন নারীর হাত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাত মোবারক স্পর্শ করেনি। وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ বাইআত গ্রহণের পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হয়েছে, তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করুন-তাদের থেকে অতীতে যে সকল ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি এ সকল বিধানের আমলের মধ্যে হবে, এর উপর তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন। আল্লাহ তা'আলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের বরকতে তাদের ভুল-ক্রাটিসমূহ মাফ করে দেবেন।
এই আয়াত থেকে বুঝা গেল-শাইখ তার মুরিদদের জন্য (চাই মুরিদ পুরুষ হোক কিংবা নারী হোক) নিয়মিত ইস্তিগফার করা উচিত।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরা-সফ

📄 সূরা-সফ


সূরাতুস-সফ- এর ১২ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-১২
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসগুলোতেও (প্রবেশ করাবেন)। এটাই মহাসাফল্য।"
এমন একটি লাভজনক ব্যবসা যা মাগফিরাতও দান করে এবং আজাবে ইলাহী তথা আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকেও বাঁচায়। আর তা হল- মুমিনগণ স্বীয় জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ তথা কিতাল করা। কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ মাগফিরাতের কারণ। সর্বোপরি এতে জান্নাতের আবাসসমূহেরও ওয়াদা রয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলার নুসরাত ও বিজয়ও। অর্থাৎ চিরস্থায়ী সফলতা ও লাভজনক ব্যবসা। يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।"

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল মুনাফিকুন

📄 সূরাতুল মুনাফিকুন


সূরাতুল মুনাফিকুন-এর ৫ ও ৬ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৫
۞ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُءُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ
"আর তাদেরকে যখন বলা হয় এসো, আল্লাহর রাসুল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর আপনি তাদেরকে দেখতে পাবেন, অহংকারবশত বিমুখ হয়ে চলে যেতে।"
মুনাফিকের অন্তরে ইস্তিগফারের কোন গুরুত্ব হয় না। মদিনা মুনাওয়ারায় যখন কোন মুনাফিকের খিয়ানত প্রকাশ হয়ে যেত, তখন কল্যাণকামী লোকেরা তাকে বলত যে, এখনো সময় আছে, আসো! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে নিজের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করিয়ে নাও। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের বরকতে আল্লাহ তা'আলা তোমার ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। সে তখন তার গর্ব ও অহঙ্কারের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিত। বরং কোন কোন কুলাঙ্গার তো সুস্পষ্ট বলে দিত যে, আমার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তিগফারের প্রয়োজন নেই।

■ আয়াত নং-৬
سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
“আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি মুনাফিকদের জন্য ইস্তিগফার করেনও তাহলেও আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমা পাবে না। কেননা তারা নিজেরাই ক্ষমা চায় না এবং মাগফিরাত কামনা করে না।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুত-তাগাবুন

📄 সূরাতুত-তাগাবুন


সূরাতুত-তাগাবুন-এর ৯. ১৪ ও ১৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৯
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"স্মরণ করো, যেদিন সমাবেশ দিবসের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তোমাদের সমবেত করবেন, ঐ দিন হচ্ছে লাভ-ক্ষতির দিন। আর যে আল্লাহর প্রতি ইমান আনে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দিবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণধারা প্রবাহিত হয়, তথায় তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।”
একটি দিন আসবে। সেই দিনটির নাম হল-“ইয়াউমুত-তাগাবুন” তথা হার-জিতের দিন। লাভ এবং ক্ষতি প্রকাশ হওয়ার দিন। এটা কিয়ামতের দিনেরই একটি নাম। ঐ দিন সে-ই জিতে যাবে যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে আর সে-ই হেরে যাবে, যে ইমান ও নেক আমল শূন্য হবে।
সেদিন জাহান্নামীগণ হেরে যাবে। আর হেরে যাওয়ার কারণ হল-আল্লাহ তা'আলার দেওয়া শক্তি-সামর্থ্যকে কুপথে ব্যয় করে মূল পুঁজি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলা। আর জান্নাতিরা জিতে যাবে। আর জিতে যাওয়ার কারণ হল- সেদিন তাদের নিকট ইমান ও নেক আমলের মত মহা সম্পদ থাকবে। যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে, সেদিন তার গুনাহ মাফ করা হবে। যার নিকট ইমান ও নেক আমল থাকবে না তার নেক আমলও কোন কাজে আসবে না। ইমান এবং নেক আমল মাগফিরাতের কারণ।

আয়াত নং-১৪
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর যদি তোমরা মার্জনা কর, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।"
অর্থাৎ সন্তানসন্ততি যদি পরকালে শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অথবা তাদের ইচ্ছা হয় যে, তুমি জিহাদ এবং হিজরত থেকে বিরত থাক কিংবা তারা তোমাকে দুনিয়াতে এমনভাবে ব্যস্ত করে দেয় যে, তুমি দীন ও আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে যাও, তাহলে এমন সন্তানসন্ততি তোমাদের দুশমন। সুতরাং তোমরা তাদের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাক। অর্থাৎ তাদের অন্যায় আবদার মানবে না। তবে হ্যাঁ! এইটুকু চেষ্টা কর যে, নিজের দীনও বাঁচে এবং তাদের সাথেও ক্ষমাসূলভ সম্পর্ক বজায় রাখা যায়। এতে অসংখ্য ফায়দা। এই উত্তম আখলাকের জন্য আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সাথে অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করবেন। তিনি "গাফুরুর রাহিম” তথা পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

আয়াত নং-১৭
إِن تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفُهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ
شَكُورٌ حَلِيمٌ
“যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।”
ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ তথা আল্লাহর রাস্তায় উত্তম মাল আনন্দচিত্তে খরচ করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ। এর বরকতে মালও অনেক বৃদ্ধি হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00