📄 সূরাতুন-নাজম
সূরাতুন-নাজম-এর ৩২ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৩২
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةَ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
“যারা ছোট-খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।"
আহলে জান্নাত তথা নেককার লোক হল তারা, যারা কবিরা গুনাহসমূহ এবং অশ্লীল কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকে। তবে কিছুটা ভুল-ত্রুটি তো প্রত্যেক মানুষেরই হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত অনেক উদার। নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করো না বরং আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করো। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে ভাল জানেন।
📄 সূরাতুল হাদিদ
সূরাতুল হাদিদ-এর ২০. ২১ ও ২৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২০
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانُ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
“তোমরা জেনে রাখ যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে অধিক্যের প্রতিযেগিতা মাত্র। এর উপমা হল বৃষ্টির মত, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখিরাতে আছে কঠিন আজাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।”
আখিরাতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মাগফিরাত ও সন্তুষ্টিও তৈরি করেছেন। এবং স্বীয় কঠিন আজাবও। আখিরাতের এই মাগফিরাত ও আজাব মানুষের দুনিয়ার জীবনের উপর নির্ভর। দুনিয়া বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয়, সবুজ- শ্যামল ও চিত্তাকর্ষক। তাই যে এতে মগ্ন হয়েছে সে আখিরাতে ব্যর্থ। আর যে দুনিয়াতে থেকেও দুনিয়াতে মগ্ন হয়নি এবং এখান থেকে নিজের সাথে ইমান ও নেক আমল নিয়ে গেছে, সে আখিরাতে মাগফুর তথা ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং সফল। দুনিয়ার উপর চিন্তা-ভাবনা করলে বুঝে আসে-দুনিয়াটা হল এমন যেমন বৃষ্টির পরে চারিদিক সবুজ-শ্যামল দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু তা সামান্য কিছুদিনই হয়ে থাকে। কিছু দিন পরে সবুজ-শ্যামলীমা শুকিয়ে হলুদ হয়ে যায় এবং পুনরায় খড়-কুটা হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ অবস্থাই হল দুনিয়ার। শুরুতে অনেক চিত্তাকর্ষক কিন্তু এরপরেই দুর্বলতা, বিরাণভূমি ও ধ্বংস। সুতরাং একজন বুদ্ধিমান এই সামান্য কিছুদিনের ধোঁকায় কীভাবে পড়তে পারে?
দুনিয়ার মানুষগুলো হয়তো আখিরাতের আজাবের দিকে যাচ্ছে অথবা সেখানের মাগফিরাতের দিকে।
আয়াত নং-২১
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
"তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মত। তা প্রস্তুত করা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ইমান আনে তাদের জন্য। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।"
একজন মানুষ যা কিছু করার তা দুনিয়ার জীবনেই করতে হবে। এজন্য ক্ষণস্থায়ী বস্তুসমূহের জন্য একে অপরের মোকাবিলা করে ও প্রতিযোগিতা করে কোন লাভ নেই। তার পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও জান্নাত পাওয়ার জন্য মেহনত, চেষ্টা, প্রতিযোগিতা ও মোকাবিলা করো। মৃত্যুর পূর্বেই এমন পাথেয় তৈরি করে নাও যা তোমাকে আখিরাতে মাগফিরাত এবং জান্নাত দিতে পারে। এ জান্নাত অনেক বড়। যদি আসমান-জমিন উভয়টিকে একসাথে মিলিয়ে রাখা হয় তাহলে জান্নাতের প্রশস্ততার সমপরিমাণ হবে। প্রশস্ততাই যদি এমন হয় তাহলে লম্বা কেমন হবে? এটা আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। এ জান্নাত আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে মুমিনরাই পাবে।
[ আয়াত নং-২৮
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورُ رحيم
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদেরকে নূর দেবেন যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
ইমান এবং তাকওয়া মাগফিরাতের কারণ। এই আয়াতের সম্বোধনটি আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা ইমান এনেছে, তাদের প্রতি করা হয়েছে-তোমরা নিজ নিজ কিতাব ও নবির উপর ইমান আনার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনুল কারিমের উপর ইমান আনার কারণে দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে এবং তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন নূর দান করা হবে এবং মাগফিরাত নসিব হবে।
📄 সূরাতুল মুজাদালা
সূরাতুল মুজাদালা-এর ২. ১২ ও ১৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২
الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَابِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ ۖ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَزُورًا وَإِنَّ اللهَ لَعَفُوٌّ غَفُورُ
“তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের মা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মা নয়। তাদের মা তো কেবল তারাই যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। আর তারা অবশ্যই অসঙ্গত ও অসত্য কথা বলে। আর নিশ্চয় আল্লাহ অধিক পাপ মোচনকারী, বড়ই ক্ষমাশীল।"
ইসলাম পূর্ব জাহেলি যুগে কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলত যে, তুমি আমার মা, তাহলে এটা মনে করা হত যে, এই নারী এখন থেকে সর্বদার জন্য তার স্বামীর উপর হারাম হয়ে গেছে। এই আয়াতে 'যিহার' এর বিধান বর্ণনা করা হয়েছে যে, স্ত্রীকে মা বললে সে প্রকৃত মা হয়ে যায় না। প্রকৃত মা তো সে যে তাকে জন্মদান করেছে। তবে হ্যাঁ! যেহেতু স্বামী স্ত্রীর সাথে অসৎ আচরণ করেছে এবং একটি মিথ্যা ও অনর্থক কথা বলেছে, তাই এর শাস্তি সে পাবে।
আর তা হল-এর কাফ্ফারাস্বরূপ একটি গোলাম আজাদ করবে। আর যদি একটি গোলাম আজাদ করার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে সে লাগাতার এক মাস রোজা রাখবে। আর যদি লাগাতার এক মাস রোজা রাখতেও অপারগ হয়, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াবে। এই কাফফারা আদায় করার পর সে উক্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে পারবে এবং তাদের মাঝে তালাক হবে না। আয়াতের শেষে বলা হয়েছে- ا وَإِنَّ اللهَ لَعَفو غفورশ্চয় আল্লাহ অধিক পাপ মোচনকারী, বড়ই ক্ষমাশীল। অর্থাৎ জাহেলি যুগে যারা এমন কাজ করেছে, তা মাফ। এখন হিদায়াত পাওয়ার পর আর এমনটি করো না। তথাপিও যদি ভুলে করে ফেল, তাহলে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং স্ত্রীর নিকট যাওয়ার পূর্বে কাফফারা আদায় করে দাও। অথবা এর অর্থ হল-যিহারকারী যখন কাফফারা আদায় করে দেবে তখন তার জন্য ক্ষমা এবং অনুগ্রহ।
|| আয়াত নং-১২
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَى نَجْوَاكُمْ صَدَقَةٌ ذَلِكَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَأَظْهَرُ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে মুমিনগণ, তোমরা যখন রাসূলের সাথে একান্তে কথা বলতে চাও, তখন তোমাদের এরূপ কথার পূর্বে কিছু সাদাকা পেশ করো। এটি তোমাদের জন্য শ্রেয়তর ও পবিত্রতর; কিন্তু যদি তোমরা সক্ষম না হও তবে আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।"
মুনাফিকরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে অনর্থক কথা বলত। যেন মানুষের মধ্যে নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশ করা যায় যে, আমরা বিশেষ লোক এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে পৃথকভাবে একান্তে আলাপ করি। এভাবে কোন কোন মুসলমানও কিছু বিষয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একান্তে সাক্ষাত করতে গিয়ে এত অধিক সময় নিতেন যে, অন্যরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলার সময় পেত না। তখন এই হুকুম আসল-যে ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একান্তে সাক্ষাত করতে চায় সে যেন সাক্ষাতের পূর্বে কিছু সাদাকা করে আসে। এতে কয়েকটি ফায়দা রয়েছে। সাদাকাকারী উক্ত সাদাকার সাওয়াব পাবে। সাদাকার কারণে সে গুনাহসমূহ থেকে পবিত্র হবে। উক্ত সাদাকার দ্বারা গরিবদের উপকার হবে। মুখলিস তথা একনিষ্ঠ মুমিন ও মুনাফিকদের পার্থক্য হয়ে যাবে। কেননা মুনাফিকরা সাদাকা দেবে না। সুতরাং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ও নষ্ট হবে না। তবে হ্যাঁ! যার সাদাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার জন্য মাফ। এই হুকুম যখন নাযিল হল মুনাফিকরা তখন কৃপণতার কারণে এই অভ্যাস ছেড়ে দিল এবং মুসলমানরাও বুঝে গেল যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অধিক পরিমাণে একান্তে সাক্ষাতের অভ্যাস আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন না। এজন্যই এই সাদাকার বিধান নাজিল করা হয়েছে। তাই পরিবেশ ঠিক হয়ে যাওয়ার পর এই হুকুম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, যেমনটি এর পূর্বের আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
আয়াত নং-১৩
أَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَى نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الله وَرَسُولَهُ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
“তোমরা কি ভয় পেয়ে গেলে যে, একান্ত পরামর্শের পূর্বে সাদাকা পেশ করবে? হ্যাঁ! যখন তোমরা তা করতে পারলে না, আর আল্লাহও তোমাদের ক্ষমা করে দিলেন, তখন তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একান্তে সাক্ষাতের পূর্বে সাদাকা করার যে হুকুম ছিল, তার লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেছে এবং আল্লাহ তা'আলা এই হুকুমটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে শর্ত হল-দীনের যে স্বতন্ত্র বিধান রয়েছে সেগুলোর পরিপূর্ণ অনুসরণ করা। সালাত এবং জাকাতের পাবন্দি করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা ইত্যাদি।
📄 সূরা হাশর
সূরা হাশর-এর ১০ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-১০
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
"(মালে ফাই, তাদের জন্যও) যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে; হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ইমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ইমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।"
নিজের জন্য ও নিজের পূর্ববর্তীদের জন্য ইস্তিগফারের অনেক ফায়দা। পরবর্তীগণকে তাদের পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিয়ে দেয়। তারা যদি তাদের প্রতি মহব্বত রাখে এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার করে। মালে ফাই তথা কাফিরদের থেকে বিনা যুদ্ধে অর্জিত মালের বিধান বর্ণনা করা হচ্ছে— এতে তাদেরও অংশ রয়েছে যারা পরে এসেছে। তবে তারা এমন হবে যে, তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ করে এবং মুসলিমদের জন্য নিজেদের অন্তরে কোন প্রকার শত্রুতা রাখে না। এই আয়াতটি সকল মুসলিমের জন্য কুরআনে বর্ণিত অত্যন্ত উপকারী একটি ইস্তিগফার-
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ