📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল কাহাফ

📄 সূরাতুল কাহাফ


সূরাতুল কাহাফ-এর ৫৫ ও ৫৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৫৫
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا
"আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ইমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আজাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।"
মক্কার কাফিররা যারা ইমান গ্রহণ করছে না এবং স্বীয় কুফরী থেকে তাওবাও করছে না। তারা মূলত নিজেদের উপর আজাবকে দাওয়াত দিচ্ছে। যেন তাদের উপরও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ন্যায় আজাব চলে আসে। অতঃপর এমনটাই হয়েছে এবং বদরের যুদ্ধে আজাবের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে।

আয়াত নং-৫৮
وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابُ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْبِلًا
"আর তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন তবে অবশ্যই তাদের জন্য আজাব ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।"
আল্লাহ তা'আলা গাফুর তথা ক্ষমাপরায়ণ এবং যুর-রাহমাহ তথা দয়া ও অনুগ্রহকারী। অর্থাৎ কাফির ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ড তো এমন যে, আজাব আসতে একটুও বিলম্ব হবার নয় কিন্তু আল্লাহ তা'আলার ধৈর্য্য এবং মাগফিরাত সাথে সাথে আজাব আসতে দেয় না। তিনি তাঁর রহমতের কারণে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন এবং অনেক বড় বড় অপরাধীকেও সুযোগ দেন, যেন তাওবা করে নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নেয় এবং ইমান গ্রহণ করে রহমতের উপযুক্ত হয়ে যায়।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুয-যারিয়ার

📄 সূরাতুয-যারিয়ার


সূরাতুয-যারিয়াত-এর ১৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-১৮
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
। "আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকে।"
ইস্তিগফারের উত্তম সময় হল- তাহাজ্জুদ তথা রাতের শেষ প্রহর বা সেহরীর সময়। আল্লাহ তা'আলা ঐ সময় ইস্তিগফারকারীদের প্রশংসা করেছেন। নিশ্চয় সেহরীর সময়ের ইস্তিগফার অনেক মাকবুল বা প্রিয় এবং অনেক বড় গনিমত। ঐ ব্যক্তি যার ইমান ও তাকওয়াকে আল্লাহ তা'আলা কবুল করেছেন এবং যাদেরকে জান্নাত দান করেছেন তাদের একটি গুণ বর্ণনা করেছেন—وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ অর্থাৎ তারা রাতের শেষ প্রহর তথা সেহরীর সময় আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মাগফিরাত কামনা করে। অর্থাৎ সেহরীর বরকতময় সময়ে নিজের মু'আমালা আল্লাহ তা'আলার থেকে পরিষ্কার করে নেয়। রাতের অধিকাংশ অংশ ইবাদাত-বন্দেগীতে কাটানোর পরও তাদের মধ্যে গর্ব ও অহংকার সৃষ্টি হয় না। বরং সে যে পরিমাণ ইবাদাত-বন্দেগী করে, এতে তার ইবাদাত-বন্দেগীর আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যায় এবং সে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাতের দরখাস্ত করে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুন-নাজম

📄 সূরাতুন-নাজম


সূরাতুন-নাজম-এর ৩২ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৩২
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةَ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
“যারা ছোট-খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।"
আহলে জান্নাত তথা নেককার লোক হল তারা, যারা কবিরা গুনাহসমূহ এবং অশ্লীল কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকে। তবে কিছুটা ভুল-ত্রুটি তো প্রত্যেক মানুষেরই হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত অনেক উদার। নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করো না বরং আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করো। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে ভাল জানেন।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল হাদিদ

📄 সূরাতুল হাদিদ


সূরাতুল হাদিদ-এর ২০. ২১ ও ২৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-২০
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانُ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
“তোমরা জেনে রাখ যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে অধিক্যের প্রতিযেগিতা মাত্র। এর উপমা হল বৃষ্টির মত, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখিরাতে আছে কঠিন আজাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।”
আখিরাতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মাগফিরাত ও সন্তুষ্টিও তৈরি করেছেন। এবং স্বীয় কঠিন আজাবও। আখিরাতের এই মাগফিরাত ও আজাব মানুষের দুনিয়ার জীবনের উপর নির্ভর। দুনিয়া বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয়, সবুজ- শ্যামল ও চিত্তাকর্ষক। তাই যে এতে মগ্ন হয়েছে সে আখিরাতে ব্যর্থ। আর যে দুনিয়াতে থেকেও দুনিয়াতে মগ্ন হয়নি এবং এখান থেকে নিজের সাথে ইমান ও নেক আমল নিয়ে গেছে, সে আখিরাতে মাগফুর তথা ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং সফল। দুনিয়ার উপর চিন্তা-ভাবনা করলে বুঝে আসে-দুনিয়াটা হল এমন যেমন বৃষ্টির পরে চারিদিক সবুজ-শ্যামল দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু তা সামান্য কিছুদিনই হয়ে থাকে। কিছু দিন পরে সবুজ-শ্যামলীমা শুকিয়ে হলুদ হয়ে যায় এবং পুনরায় খড়-কুটা হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ অবস্থাই হল দুনিয়ার। শুরুতে অনেক চিত্তাকর্ষক কিন্তু এরপরেই দুর্বলতা, বিরাণভূমি ও ধ্বংস। সুতরাং একজন বুদ্ধিমান এই সামান্য কিছুদিনের ধোঁকায় কীভাবে পড়তে পারে?
দুনিয়ার মানুষগুলো হয়তো আখিরাতের আজাবের দিকে যাচ্ছে অথবা সেখানের মাগফিরাতের দিকে।

আয়াত নং-২১
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
"তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মত। তা প্রস্তুত করা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ইমান আনে তাদের জন্য। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।"
একজন মানুষ যা কিছু করার তা দুনিয়ার জীবনেই করতে হবে। এজন্য ক্ষণস্থায়ী বস্তুসমূহের জন্য একে অপরের মোকাবিলা করে ও প্রতিযোগিতা করে কোন লাভ নেই। তার পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও জান্নাত পাওয়ার জন্য মেহনত, চেষ্টা, প্রতিযোগিতা ও মোকাবিলা করো। মৃত্যুর পূর্বেই এমন পাথেয় তৈরি করে নাও যা তোমাকে আখিরাতে মাগফিরাত এবং জান্নাত দিতে পারে। এ জান্নাত অনেক বড়। যদি আসমান-জমিন উভয়টিকে একসাথে মিলিয়ে রাখা হয় তাহলে জান্নাতের প্রশস্ততার সমপরিমাণ হবে। প্রশস্ততাই যদি এমন হয় তাহলে লম্বা কেমন হবে? এটা আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। এ জান্নাত আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে মুমিনরাই পাবে।

[ আয়াত নং-২৮
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورُ رحيم
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদেরকে নূর দেবেন যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
ইমান এবং তাকওয়া মাগফিরাতের কারণ। এই আয়াতের সম্বোধনটি আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা ইমান এনেছে, তাদের প্রতি করা হয়েছে-তোমরা নিজ নিজ কিতাব ও নবির উপর ইমান আনার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনুল কারিমের উপর ইমান আনার কারণে দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে এবং তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন নূর দান করা হবে এবং মাগফিরাত নসিব হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00