📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল হুজরাত

📄 সূরাতুল হুজরাত


সূরাতুল হুজুরাত-এর ৩. ৪. ৫. ১১. ১২ ও ১৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান ও আদব হল- মাগফিরাতের কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম কারণ।

আয়াত নং-৩
إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِندَ رَسُولِ اللَّهِ أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَىٰ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ
"নিশ্চয় যারা আল্লাহর রাসূলের নিকট নিজেদের আওয়াজ অবনমিত করে, আল্লাহ তাদেরই অন্তরগুলোকে তাকওয়ার জন্য বাছাই করেছেন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।"
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে বিনয় ও আদব এবং মর্যাদার সাথে কথা বলে এবং স্বীয় আওয়াজকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে নিচু রাখে, এরা হল তারা যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ তা'আলা আদব, তাকওয়া ও পবিত্রতার জন্য নির্বাচন করেছেন। তাদের এই আমলের বরকতে তাদের গুনাহ মাফ হবে এবং তারা অনেক অধিক প্রতিদান লাভ করবে।

আয়াত নং-৪-৫
إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِن وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"নিশ্চয় যারা আপনাকে হুজরাসমূহের পিছন থেকে ডাকাডাকি করে তাদের অধিকাংশই বুঝে না। আপনি তাদের কাছে বের হয়ে আসা পর্যন্ত যদি তারা ধৈর্যধারণ করত, তাহলে সেটাই তাদের জন্য উত্তম হত। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
কিছু লোক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করতে আসল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরার ভেতরে ছিলেন। আর তারা হুজরার বাহির থেকে আওয়াজ দিতে লাগল। এটা বড় মূর্খতার কথা। তাদেরকে বুঝানো হল-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহিরে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। মোটকথা যে কাজ মূর্খতা ও না জানার কারণে হয়ে গেছে, সেটার জন্য আল্লাহ তা'আলা "গাফুরুর রাহিম" তথা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তাদের উচিত-স্বীয় ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কাজ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

আয়াত নং-১১
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَى أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَى أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَبِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
“হে ইমানদারগণ, কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোন নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরের মন্দ উপনামে ডেকো না। ইমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।”
মুসলমান পরস্পর একে অপরকে ঠাট্টা করো না। এতে অন্যকে লাঞ্ছিত কিংবা ছোট করা হয় এবং একে অপরকে অপছন্দনীয় উপনামে ডেকো না। অতীতের গুনাহসমূহের জন্য একে অপরকে তিরস্কার করো না। যে এ সকল কাজে লিপ্ত আছো তারা তাওবা করে নাও। যে তাওবা করবে না সে আল্লাহ তা'আলার নিকট জালিম হিসেবে আখ্যায়িত হবে।

■ আয়াত নং-১২
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
“হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু।"
মুসলমান একে অপরের প্রতি কুধারণা করো না। একে অপরের উপর অপবাদ আরোপ করো না। একে অপরের দোষ তালাশ করো না। একে অপরের গিবত করো না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করো এবং উপরোক্ত সকল গুনাহ থেকে এবং মন্দ স্বভাব থেকে তাওবা কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাকারী ও অতি দয়ালু।

[[আয়াত নং-১৪
قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الإِيمَانُ في قُلُوبِكُمْ وَإِن تُطِيعُوا اللهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"বেদুঈনরা বলল, আমরা ইমান আনলাম। আপনি বলুন, তোমরা ইমান আননি। বরং তোমরা বল, আমরা আত্মসমর্পণ করলাম। আর এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, তাহলে তোমাদের আমলসমূহের কোন কিছুই নিষ্ফল হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
ঐ সকল লোক যারা বাহ্যিকভাবে মুসলমান হয়েছে কিন্তু ইমান তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। তারা যদি পরিপূর্ণ আনুগত্য অবলম্বন করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা “গাফুরুর রাহিম” তথা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তাদের অতীতের দুর্বলতার কারণে তাদের আমলসমূহকে ধ্বংস করা হবে না। অর্থাৎ তাদেরকে পূর্ণ সাওয়াব প্রদান করা হবে।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল কাহাফ

📄 সূরাতুল কাহাফ


সূরাতুল কাহাফ-এর ৫৫ ও ৫৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৫৫
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا
"আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ইমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আজাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।"
মক্কার কাফিররা যারা ইমান গ্রহণ করছে না এবং স্বীয় কুফরী থেকে তাওবাও করছে না। তারা মূলত নিজেদের উপর আজাবকে দাওয়াত দিচ্ছে। যেন তাদের উপরও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ন্যায় আজাব চলে আসে। অতঃপর এমনটাই হয়েছে এবং বদরের যুদ্ধে আজাবের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে।

আয়াত নং-৫৮
وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابُ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْبِلًا
"আর তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন তবে অবশ্যই তাদের জন্য আজাব ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।"
আল্লাহ তা'আলা গাফুর তথা ক্ষমাপরায়ণ এবং যুর-রাহমাহ তথা দয়া ও অনুগ্রহকারী। অর্থাৎ কাফির ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ড তো এমন যে, আজাব আসতে একটুও বিলম্ব হবার নয় কিন্তু আল্লাহ তা'আলার ধৈর্য্য এবং মাগফিরাত সাথে সাথে আজাব আসতে দেয় না। তিনি তাঁর রহমতের কারণে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন এবং অনেক বড় বড় অপরাধীকেও সুযোগ দেন, যেন তাওবা করে নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নেয় এবং ইমান গ্রহণ করে রহমতের উপযুক্ত হয়ে যায়।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুয-যারিয়ার

📄 সূরাতুয-যারিয়ার


সূরাতুয-যারিয়াত-এর ১৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-১৮
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
। "আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকে।"
ইস্তিগফারের উত্তম সময় হল- তাহাজ্জুদ তথা রাতের শেষ প্রহর বা সেহরীর সময়। আল্লাহ তা'আলা ঐ সময় ইস্তিগফারকারীদের প্রশংসা করেছেন। নিশ্চয় সেহরীর সময়ের ইস্তিগফার অনেক মাকবুল বা প্রিয় এবং অনেক বড় গনিমত। ঐ ব্যক্তি যার ইমান ও তাকওয়াকে আল্লাহ তা'আলা কবুল করেছেন এবং যাদেরকে জান্নাত দান করেছেন তাদের একটি গুণ বর্ণনা করেছেন—وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ অর্থাৎ তারা রাতের শেষ প্রহর তথা সেহরীর সময় আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মাগফিরাত কামনা করে। অর্থাৎ সেহরীর বরকতময় সময়ে নিজের মু'আমালা আল্লাহ তা'আলার থেকে পরিষ্কার করে নেয়। রাতের অধিকাংশ অংশ ইবাদাত-বন্দেগীতে কাটানোর পরও তাদের মধ্যে গর্ব ও অহংকার সৃষ্টি হয় না। বরং সে যে পরিমাণ ইবাদাত-বন্দেগী করে, এতে তার ইবাদাত-বন্দেগীর আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যায় এবং সে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাতের দরখাস্ত করে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুন-নাজম

📄 সূরাতুন-নাজম


সূরাতুন-নাজম-এর ৩২ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৩২
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةَ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
“যারা ছোট-খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।"
আহলে জান্নাত তথা নেককার লোক হল তারা, যারা কবিরা গুনাহসমূহ এবং অশ্লীল কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকে। তবে কিছুটা ভুল-ত্রুটি তো প্রত্যেক মানুষেরই হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত অনেক উদার। নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করো না বরং আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করো। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে ভাল জানেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00