📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল ফাতহ

📄 সূরাতুল ফাতহ


সূরাতুল ফাতহ-এর ১. ২. ৫. ১১. ১৪ ও ২৯ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-১-২
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا لِّيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطًا مُّسْتَقِيمًا
"নিশ্চয় আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি; যেন আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের পাপ ক্ষমা করেন, আপনার উপর তাঁর নি'আমত পূর্ণ করেন আর আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।"
গাজওয়ায়ে হোদাইবিয়াতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে বিজয় অর্জন হয়েছে, উক্ত বিজয়ের পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ তা'আলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চারটি মহান নি'আমত দান করেছেন।
উক্ত চারটি মহান নিআমতের প্রথম নি'আমত হচ্ছে-মাগফিরাত। অর্থাৎ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সদা-সর্বদার জন্য মাগফিরাত দান করা হয়েছে তথা ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রকার গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তি থেকে পবিত্র। কিন্তু তারপরও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এ নি'আমতটিকে 'ফাতহে মুবীন' তথা সুস্পষ্ট বিজয় হিসেবে পুরস্কারস্বরূপ প্রদান করা হয়েছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উচ্চ মর্যাদা অনুযায়ী যে বিষয়সমূহ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদার পরিপন্থী মনে হতে পারে, সেগুলো সদা-সর্বদার জন্য পরিপূর্ণভাবে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সুসংবাদের ফলে ইরশাদ করেন— আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সুরানাযিল হয়েছে, যা আমার নিকট ঐ সকল বস্তু থেকে উত্তম যার উপর সূর্য উদিত হয়।
কিয়ামতের দিন যখন সকল নবি-রাসুল শাফাআত করতে অপারগ হবেন তখন হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম মাখলুকদেরকে বলবেন যে, তোমরা হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট যাও। যিনি খাতামুন নাবিয়্যীন তথা সর্বশেষ নবি এবং যার পূর্বের-পরের সকল গুনাহ আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। এটা তাকে ছাড়া আর কারও কাজ নয়। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দরখাস্ত করা হবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন শাফাআত করবেন। এই আয়াতটিতে মাগফিরাত তথা আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাত কামনা করার এবং ইস্তিগফার করার গুরুত্ব ও মর্যাদা বুঝানো হয়েছে।

আয়াত নং-৫
لِيُدْخِلَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَيُكَفِّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَكَانَ ذُلِكَ عِندَ اللَّهِ فَوْزًا عَظِيمًا
"যেন তিনি মুমিন নারী ও পুরুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর তিনি তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন; আর এটি ছিল আল্লাহর নিকট এক মহাসাফল্য।"
এই মহান বিজয়ের সুবাদে আল্লাহ তা'আলা হোদাইবিয়া ও বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের জন্যও বড় বড় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। যার মধ্যে একটি পুরস্কার হল- গুনাহসমূহ ক্ষমা করা। আর এই পুরস্কারকে আল্লাহ তা'আলা فَوْزًا عَظِيمًا তথা মহা সফলতা আখ্যা দিয়েছেন। বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রকৃত সফলতা হল- কোন মুমিনের মাগফিরাত এবং জান্নাত পাওয়া।

আয়াত নং-১১
سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
“পিছনে পড়ে থাকা বেদুঈনরা আপনাকে অচিরেই বলবে, আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবর-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল; অতএব আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আপনি বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান কিংবা কোন উপকার করতে চান, তবে কে আল্লাহর মোকাবিলায় তোমাদের জন্য কোন কিছুর মালিক হবে? বরং তোমরা যে আমল কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।"
ইস্তিগফারের মিথ্যা দরখাস্ত করলে ক্ষমা পাওয়া যাবে না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কায় রওয়ানা করলেন তখন কিছু গ্রাম্য লোক মুশরিকদের ভয়ে বাড়িতে থেকে গেলেন। তারা মনে করল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এই সফর থেকে জীবিত ফিরে আসবে না। এই আয়াতে তাদের নিফাকের পর্দা উন্মোচন করা হয়েছে এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যখন মদিনায় ফিরে আসবেন তখন এ সকল ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে সাথে না যাওয়ার জন্য মিথ্যা উজর পেশ করবে এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দরখাস্ত করবে- فَاسْتَغْفِرْ لَنَا তথা আপনি আমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তাদের এ কথা তাদের অন্তরের কথা নয়, শুধুমাত্র মুখের কথা।

আয়াত নং-১৪
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহর; তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
কাউকে ক্ষমা করা কিংবা শাস্তি দেওয়া এটা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছাধীন ও ক্ষমতাধীন। তবে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও রহমত তাঁর গজব তথা শাস্তির অগ্রগামী। সুতরাং যে অন্তর থেকে মাগফিরাত কামনা করে, তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলা "গাফুরুর রাহিম" তথা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

আয়াত নং-২৯
مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنَ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
"মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকুকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হল একটি চারাগাছের মত, যে তার কচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাণ্ডের উপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন।"
এই আয়াতের শুরুতে হজরত সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমদের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। আর আয়াতের শেষাংশে তাদের জন্য অনেক বড় মহা পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। আর তা হল—আল্লাহ তা'আলা তাদের সকলের জন্য মাগফিরাত এবং মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। এজন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঐকমত্য হল—সকল সাহাবায়ে কেরام উদ্‌ল তথা সত্যের মাপকাঠি এবং সকল সাহাবায়ে কেরাম মাগফুর তথা ক্ষমাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদের সকলের মাগফিরাতের ঘোষণা দিয়েছেন। এজন্য তারা সকলে সফল ও জান্নাতি।
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرًا عَظِيمًا

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল হুজরাত

📄 সূরাতুল হুজরাত


সূরাতুল হুজুরাত-এর ৩. ৪. ৫. ১১. ১২ ও ১৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান ও আদব হল- মাগফিরাতের কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম কারণ।

আয়াত নং-৩
إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِندَ رَسُولِ اللَّهِ أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَىٰ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ
"নিশ্চয় যারা আল্লাহর রাসূলের নিকট নিজেদের আওয়াজ অবনমিত করে, আল্লাহ তাদেরই অন্তরগুলোকে তাকওয়ার জন্য বাছাই করেছেন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।"
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে বিনয় ও আদব এবং মর্যাদার সাথে কথা বলে এবং স্বীয় আওয়াজকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে নিচু রাখে, এরা হল তারা যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ তা'আলা আদব, তাকওয়া ও পবিত্রতার জন্য নির্বাচন করেছেন। তাদের এই আমলের বরকতে তাদের গুনাহ মাফ হবে এবং তারা অনেক অধিক প্রতিদান লাভ করবে।

আয়াত নং-৪-৫
إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِن وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"নিশ্চয় যারা আপনাকে হুজরাসমূহের পিছন থেকে ডাকাডাকি করে তাদের অধিকাংশই বুঝে না। আপনি তাদের কাছে বের হয়ে আসা পর্যন্ত যদি তারা ধৈর্যধারণ করত, তাহলে সেটাই তাদের জন্য উত্তম হত। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
কিছু লোক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করতে আসল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরার ভেতরে ছিলেন। আর তারা হুজরার বাহির থেকে আওয়াজ দিতে লাগল। এটা বড় মূর্খতার কথা। তাদেরকে বুঝানো হল-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহিরে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। মোটকথা যে কাজ মূর্খতা ও না জানার কারণে হয়ে গেছে, সেটার জন্য আল্লাহ তা'আলা "গাফুরুর রাহিম" তথা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তাদের উচিত-স্বীয় ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কাজ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

আয়াত নং-১১
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَى أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَى أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَبِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
“হে ইমানদারগণ, কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোন নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরের মন্দ উপনামে ডেকো না। ইমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।”
মুসলমান পরস্পর একে অপরকে ঠাট্টা করো না। এতে অন্যকে লাঞ্ছিত কিংবা ছোট করা হয় এবং একে অপরকে অপছন্দনীয় উপনামে ডেকো না। অতীতের গুনাহসমূহের জন্য একে অপরকে তিরস্কার করো না। যে এ সকল কাজে লিপ্ত আছো তারা তাওবা করে নাও। যে তাওবা করবে না সে আল্লাহ তা'আলার নিকট জালিম হিসেবে আখ্যায়িত হবে।

■ আয়াত নং-১২
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
“হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু।"
মুসলমান একে অপরের প্রতি কুধারণা করো না। একে অপরের উপর অপবাদ আরোপ করো না। একে অপরের দোষ তালাশ করো না। একে অপরের গিবত করো না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করো এবং উপরোক্ত সকল গুনাহ থেকে এবং মন্দ স্বভাব থেকে তাওবা কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাকারী ও অতি দয়ালু।

[[আয়াত নং-১৪
قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الإِيمَانُ في قُلُوبِكُمْ وَإِن تُطِيعُوا اللهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"বেদুঈনরা বলল, আমরা ইমান আনলাম। আপনি বলুন, তোমরা ইমান আননি। বরং তোমরা বল, আমরা আত্মসমর্পণ করলাম। আর এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, তাহলে তোমাদের আমলসমূহের কোন কিছুই নিষ্ফল হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
ঐ সকল লোক যারা বাহ্যিকভাবে মুসলমান হয়েছে কিন্তু ইমান তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। তারা যদি পরিপূর্ণ আনুগত্য অবলম্বন করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা “গাফুরুর রাহিম” তথা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তাদের অতীতের দুর্বলতার কারণে তাদের আমলসমূহকে ধ্বংস করা হবে না। অর্থাৎ তাদেরকে পূর্ণ সাওয়াব প্রদান করা হবে।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুল কাহাফ

📄 সূরাতুল কাহাফ


সূরাতুল কাহাফ-এর ৫৫ ও ৫৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৫৫
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا
"আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ইমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আজাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।"
মক্কার কাফিররা যারা ইমান গ্রহণ করছে না এবং স্বীয় কুফরী থেকে তাওবাও করছে না। তারা মূলত নিজেদের উপর আজাবকে দাওয়াত দিচ্ছে। যেন তাদের উপরও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ন্যায় আজাব চলে আসে। অতঃপর এমনটাই হয়েছে এবং বদরের যুদ্ধে আজাবের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে।

আয়াত নং-৫৮
وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابُ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْبِلًا
"আর তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন তবে অবশ্যই তাদের জন্য আজাব ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।"
আল্লাহ তা'আলা গাফুর তথা ক্ষমাপরায়ণ এবং যুর-রাহমাহ তথা দয়া ও অনুগ্রহকারী। অর্থাৎ কাফির ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ড তো এমন যে, আজাব আসতে একটুও বিলম্ব হবার নয় কিন্তু আল্লাহ তা'আলার ধৈর্য্য এবং মাগফিরাত সাথে সাথে আজাব আসতে দেয় না। তিনি তাঁর রহমতের কারণে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন এবং অনেক বড় বড় অপরাধীকেও সুযোগ দেন, যেন তাওবা করে নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নেয় এবং ইমান গ্রহণ করে রহমতের উপযুক্ত হয়ে যায়।

📘 ইলা মাগফিরাহ > 📄 সূরাতুয-যারিয়ার

📄 সূরাতুয-যারিয়ার


সূরাতুয-যারিয়াত-এর ১৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-১৮
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
। "আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকে।"
ইস্তিগফারের উত্তম সময় হল- তাহাজ্জুদ তথা রাতের শেষ প্রহর বা সেহরীর সময়। আল্লাহ তা'আলা ঐ সময় ইস্তিগফারকারীদের প্রশংসা করেছেন। নিশ্চয় সেহরীর সময়ের ইস্তিগফার অনেক মাকবুল বা প্রিয় এবং অনেক বড় গনিমত। ঐ ব্যক্তি যার ইমান ও তাকওয়াকে আল্লাহ তা'আলা কবুল করেছেন এবং যাদেরকে জান্নাত দান করেছেন তাদের একটি গুণ বর্ণনা করেছেন—وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ অর্থাৎ তারা রাতের শেষ প্রহর তথা সেহরীর সময় আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মাগফিরাত কামনা করে। অর্থাৎ সেহরীর বরকতময় সময়ে নিজের মু'আমালা আল্লাহ তা'আলার থেকে পরিষ্কার করে নেয়। রাতের অধিকাংশ অংশ ইবাদাত-বন্দেগীতে কাটানোর পরও তাদের মধ্যে গর্ব ও অহংকার সৃষ্টি হয় না। বরং সে যে পরিমাণ ইবাদাত-বন্দেগী করে, এতে তার ইবাদাত-বন্দেগীর আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যায় এবং সে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাতের দরখাস্ত করে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00