📄 সূরাতুস-সাফ্ফাত
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
📄 সূরাতুয-যুমার
সূরাতুয-যুমার-এর ৫. ৮. ১৭. ৩৩. ৩৪. ৩৫. ৫২. ও ৫৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
[ আয়াত নং-৫
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى أَلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
“তিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
আল্লাহ তা'আলা আজিজ তথা মহাপরাক্রমশালী ঐ লোকদেরকে আজাব দেওয়ার উপর যারা চন্দ্র এবং সূর্যের আনুগত্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এবং সেই আনুগত্যের ক্ষমতাশীল রবকে মানে না। তিনি গাফ্ফার তথা পরম ক্ষমাশীল ঐ লোকদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে এবং আসমান-জমিন এবং চন্দ্র-সূর্যের পরিচালনাকারী রবের প্রতি ইমান আনে। আরেকটি হল এই যে, এটা আল্লাহ তা'আলার গুণ দয়া ও অনুগ্রহ যে, এত বড় ব্যবস্থাপনা চলছে। আর না হয় মানুষের তো এমনও বহু অপরাধ ও পাপ রয়েছে যে, যার পরিণামে সবকিছু সাথে সাথে ধ্বংস করে দেওয়া হত।
আয়াত নং-৮
وَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ
“আর যখন মানুষকে স্পর্শ করে দুঃখ-দুর্দশা, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে, তারপর তিনি যখন তাকে নিজের পক্ষ থেকে নি'আমত দান করেন তখন সে ভুলে যায় ইতোপূর্বে কী কারণে তাঁর কাছে দু'আ করেছিল, আর আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। বল, তোমার কুফরী উপভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।”
কাফিরদের তাওবা, নৈকট্য ও আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয় ক্ষণস্থায়ী। বিপদাপদ আসলে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আবার যখন বিপদাপদ দূর হয়ে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরক ও অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তিদের ঠিকানা হল জাহান্নাম।
আয়াত নং-১৭
وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ
“আর যারা তাগুতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।”
যে তাগুতকে পরিহার করে এবং এক আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তার জন্য রয়েছে সুসংবাদ।
আয়াত নং-৩৩-৩৫
وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَبِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأُ الَّذِي عَمِلُوا وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
"আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার। যাতে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ঢেকে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত তার প্রতিদানে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন।"
যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন তথা নবি এবং যারা সেই সত্যের সত্যায়ন করেছে তথা ইমানদারগণ, তারা সকলে আল্লাহভীরু এবং অনুগ্রহপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের নেক আমলের প্রতিদান দেবেন এবং ভুলে যেসব মন্দ কাজ তথা গুনাহ হয়েছে তা মাফ করে দেবেন। যিনি সত্যবাণী নিয়ে এসেছেন তিনি নবি আর যারা এই সত্যকে মেনে নিয়েছে তারা হল মুমিন। এই আয়াতে সত্যকে মান্যকারীদের প্রথম উদ্দেশ্য হল হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু।
আয়াত নং-৫৩-৫৪
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ
“বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের উপর আজাব আসার পূর্বেই তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। তার (আজাব আসার) পরে তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।"
এই আয়াত আরহামুর রাহিমীনের সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ এবং ক্ষমার এক মহান ঘোষণা এবং প্রচণ্ড হতাশার রোগীদের জন্য আরোগ্যের এক বাস্তব প্রেসক্রিপশন। এই আয়াত শোনার পরে কারও জন্য আল্লাহ তা'আলার প্রতি নিরাশ হওয়ার কোন কারণ অবশিষ্ট নেই। চাই সে যত বড় কাফির- মুশরিক কিংবা যত বড় ফাসিক-ফাজির ও দুঃশ্চরিত্র এবং গুনাহগারই হোক না কেন। তাই আসো মৃত্যুর পূর্বেই তাওবা কর, আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, তখন যে সকল কাফির ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল, তারা বুঝে ফেলল যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এদিকেই। এটা মনে করে স্বীয় ভুল থেকে পিছু হটল। কিন্তু লজ্জা ও এই ভাবনায় মুসলমান হচ্ছিল না যে, এখন আমাদের মুসলমানী কবুল হবে কি? শত্রুতা করেছে, যুদ্ধ করেছে এবং বহু এক আল্লাহর ইবাদাতকারীকে হত্যা করেছে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- এমন কোন গুনাহ নেই যার তাওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। সুতরাং নৈরাশ না হয়ে তাওবা কর এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। ক্ষমা পেয়ে যাবে। তবে যখন মাথার উপর আজাব চলে আসবে কিংবা মৃত্যু দৃষ্টিগোচর হতে শুরু করবে তখন আর কোন তাওবা কবুল হবে না।
📄 সূরাতুল মু‘মিন
সূরাতুল মু'মিন-এর ৩. ৭. ৮. ৯. ১৩. ২৪ ও ৫৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৩
غَافِرِ الذَّنبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي القَوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ
"তিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর আজাবদাতা, অনুগ্রহ বর্ষণকারী। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন।"
আল্লাহ তা'আলা গুনাহসমূহ ক্ষমাকারী ও তাওবা কবুলকারী। অর্থাৎ তাওবা কবুল করে গুনাহসমূহকে এমন পাক-পবিত্র করে দেন, যেন কখনো কোন গুনাহই ছিল না এবং সর্বোপরি তাওবাকে একটি ইবাদাত আখ্যা দিয়ে তার উপর প্রতিদান দেন। তবে হ্যাঁ! যে মানবে না তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আরশ বহনকারী এবং নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের তাওবাকারী ইমানদারদের জন্য ইস্তিগফার করা
আয়াত নং-৭-৯
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَابِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহপাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ইমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে যে, হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আজাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন। হে আমাদের রব, আর আপনি তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নি ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়। আর আপনি তাদের অপরাধের আজাব হতে রক্ষা করুন এবং সেদিন আপনি যাকে অপরাধের আজাব থেকে রক্ষা করবেন, অবশ্যই তাকে অনুগ্রহ করবেন। আর এটিই মহাসাফল্য।"
যে ইমানদার আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা করতে থাকে এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তার মর্যাদা এত উঁচু যে, আল্লাহ তা'লার নৈকট্যশীল ফেরেশতারাও তার জন্য ইস্তিগফার করে। সেই নৈকট্যশীল ফেরেশতা যে আরশকে কাঁধে নিয়ে রাখছেন এবং যে ফেরেশতা আরশের তাওয়াফ তথা প্রদক্ষিণ করে থাকে। তাওবাকারী ইমানদারের জন্য এটা কত বড় সৌভাগ্যের কথা যে, জমিনের উপর যদি তার থেকে কোন ভুল- ত্রুটি হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তা'আলার বিশেষ ফেরেশতারা তার জন্য গায়েবানা ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর ফেরেশতারা কোন কাজকে আল্লাহ তা'আলার বিধান হিসেবে করে না। তাহলে বুঝা গেল উক্ত কাজের জন্যও আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আদিষ্ট।
কুরআনুল কারিমে বর্ণিত একটি দু'আ যার মধ্যে তাওবাকারী ইমানদারদের জন্য ইস্তিগফারও রয়েছে। দু'আটি হল-
رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আয়াত নং-১৩
هُوَ الَّذِي يُرِيكُمْ آيَاتِهِ وَيُنَزِّلُ لَكُم مِّنَ السَّمَاءِ رِزْقًا ۚ وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَن يُنِيبُ
"তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিজক পাঠান। আর যে আল্লাহ অভিমুখী সে-ই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।"
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুদরতের অনেক নিদর্শন তোমাদেরকে দেখান। বস্তুত যাদের অন্তরে ইনাবাত ইলাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য রয়েছে, তারা সাথে সাথেই মেনে নেয় এবং আল্লাহ তা'আলার নিদর্শন দেখে আল্লাহ তা'আলাকে পেয়ে যায়।
আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ থেকে ঐ লোকেরাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা শিরক থেকে তাওবা করে এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
আয়াত নং-৪২
تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ
“তোমরা আমাকে ডাকছ আমি যেন আল্লাহর সাথে কুফরী করি, তাঁর সাথে শরিক করি যে ব্যাপারে আমার কোন জ্ঞান নেই; আর আমি তোমাদেরকে ডাকছি মহাপরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীলের দিকে।"
ফিরআউনের বংশধরদের মধ্য থেকে ইমানদার এক ব্যক্তি স্বীয় কওমকে বললেন- তোমরা আমাকে কুফর ও শিরকের দিকে ডাকো। অথচ আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহ তা'আলার দিকে ডাকি যিনি আজিজ তথা মহাপরাক্রমশালী ও গাফ্ফার তথা পরম ক্ষমাশীল। সুতরাং যার মধ্যে এই দুই গুণ থাকবে সে-ই উপযুক্ত যে, তাকে উপাস্য বানানোর এবং তাঁকে ভয় করার এবং তাঁর প্রতি আশা-ভরসা করার।
বুঝা গেল যে, দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে ভয় ও আশা উভয় দিকই সামনে রাখতে হবে। আর আশার দিক হল-আল্লাহ তা'আলা মাফকারী, ক্ষমাকারী ও অনুগ্রহকারী।
আয়াত নং-৫৫
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
"অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গুনাহের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সকাল- সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।"
হজরত রাসুলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে শত শত বার ইস্তিগফার করতেন। প্রত্যেক বান্দার ভুল-ত্রুটির জন্য তার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ইস্তিগফার করা জরুরি।
এই আয়াতে ব্যাপক একটি রুটিন বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সান্ত্বনা রেখেছেন-যে ওয়াদা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রয়েছে তা অবশ্যই পূর্ণ হবে। আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এবং তাঁর উসিলায় তাঁর অনুসারীগণকে বিজয়ী রাখবেন।
প্রয়োজন শুধু আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বপ্রকার দুঃখে-কষ্টে এবং সর্বাবস্থায় ধৈর্যধারণ করা এবং যার থেকে যে পরিমাণ ভুল-ত্রুটি ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাইতে থাকা এবং রাত-দিন, সকাল-সন্ধ্যা সর্বদা পালনকর্তার তাসবিহ তথা পবিত্রতা ও “তাহমীদ” তথা প্রশংসা জারি রাখা। প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর স্মরণ থেকে উদাসীন না হওয়া। তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলার সাহায্য আসবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়ে মূলত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতকেই ইস্তিগফারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার নুসরাত তথা সাহায্য লাভের এই রুটিনে তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত। যথা-
ক. সবর তথা ধৈর্য।
খ. ইস্তিগফার।
গ. সকাল-বিকাল তাসবিহতথা আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও “তাহমীদ” তথা আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করা। অর্থাৎ সালাত কায়েম করা।
📄 সূরা হা-মিম আস-সিজদা
সূরা হা-মিম আস-সিজদা-এর ৬. ২৪. ৩৬ ও ৪৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৬
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَاسْتَقِيمُوا إِلَيْهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ وَوَيْلٌ لِلْمُشْرِكِينَ
"বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের ইলাহ কেবলমাত্র এক ইলাহ। অতএব তোমরা তাঁর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্য রয়েছে ধ্বংস।”
ইস্তিগফারের নির্দেশ তাওহিদের নির্দেশের সাথেই ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ আমাকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, তোমাদের সকলের ইলাহ ও প্রকৃত বিচারক শুধুমাত্র এক আল্লাহ তা'আলা। যাকে ব্যতীত অন্য আর কারও উপাসনা নেই। এজন্য তোমাদের সকলের উপর কর্তব্য হল তোমাদের সর্ববিষয়ে সোজা এক ইলাহের দিকে প্রত্যাবর্তন করে চলা এবং তাঁর পথ থেকে একটুও এদিক-সেদিক পা না বাড়ানো। আর অতীতে যত ভুল-ত্রুটি ও গুনাহ হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে যত ভুল-ত্রুটি ও গুনাহ তোমাদের থেকে সংঘটিত হবে তার উপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে মাফ চাওয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।
■ আয়াত নং-২৪
فَإِن يَصْبِرُوا فَالنَّارُ مَثْوًى لَّهُمْ وَإِن يَسْتَعْتِبُوا فَمَا هُم مِّنَ الْمُعْتَبِينَ
"অতঃপর তারা যদি ধৈর্যধারণ করে তবে জাহান্নামই হবে তাদের আবাস এবং যদি তারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়, তবুও তারা আল্লাহর সন্তোষপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।"
কেউ যদি তাওবা, ইস্তিগফার এবং সবর বা ধৈর্যধারণ করে তাহলে তা উপকারী। মৃত্যুর পরে আখিরাতে না ধৈর্যধারণের কোন ফল পাওয়া যাবে, না ক্ষমা প্রার্থনার দ্বারা কোন ফায়দা হবে।
অর্থাৎ দুনিয়াতে ধৈর্যধারণ করলে কোন কোন বিপদাপদ দূর হয়ে থাকে। আর আখিরাতে ধৈর্যধারণ করুক আর না করুক জাহান্নামই তার আবাস হবে। আর দুনিয়াতে কোন কোন বিপদাপদ মান্নতের দ্বারা দূর হয়ে থাকে। কিন্তু আখিরাতে কোন মান্নতও কাজে আসবে না।
■ আয়াত নং-৩৬
نُزُلًا مِنْ غَفُوْرٍ رَّحِيمٍ
"(পূর্বের আয়াতে বর্ণিত সকল নি'আমত) পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়নস্বরূপ।"
অর্থাৎ ঐ সকল লোক যারা দুনিয়তে বলত যে, আমাদের রব আল্লাহ তা'আলা, অতঃপর এ কথার উপর অটল ছিল তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। যেখানে তারা সবকিছু পাবে। যা কিছু তাদের মনে চাইবে কিংবা যা কিছু তারা মুখে বলবে, সবকিছু তাদের "গাফুরুর রাহিম” তথা পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আপ্যায়ন করা হবে। সেই ক্ষমাশীল যিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সেই অসীম দয়ালু যিনি তাদের উপর এমন মহা অনুগ্রহ করেছেন।
আয়াত নং-৪৩
مَا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِن قَبْلِكَ إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ
“আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা বলা হত পূর্ববর্তী রাসুলগণকে। নিশ্চয় আপনার রব একান্তই ক্ষমাশীল এবং যন্ত্রণাদায়ক আজাবদাতা।"
অর্থাৎ যারা আপনাকে অস্বীকার করে, আপনাকে কষ্ট দেয়, এটা সবযুগের নবিদের সাথেই সে যুগের অস্বীকারকারীই এমনটি করেছে। আপনিও পূর্বের পয়গাম্বরদের ন্যায় ধৈর্যধারণ করুন। যার ফলাফল হবে- কিছু লোক তাওবা করে সঠিক পথে চলে আসবে। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত। আর কিছু স্বীয় অস্বীকার ও জেদের উপর অটল থাকবে। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তা'আলার নিকট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।