📄 সূরা ইয়াসীন
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَগْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
📄 সূরাতুস-সাফ্ফাত
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪
فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
“আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহ পাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
📄 সূরা সোয়াদ
সুরা সোয়াদ-এর ২৪. ২৫. ৩৪. ৩৫ ও ৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২৪-২৫
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَى نِعَاجِهِ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ وَظَنَّ دَاوُودُ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ فَغَفَرْنَا لَهُ ذَلِكَ وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَآبٍ
“দাউদ বলল, তোমার ভেড়ীকে তার ভেড়ীর পালের সাথে যুক্ত করার দাবি করে সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে। আর শরিকদের অনেকেই একে অন্যের উপর সীমালঙ্ঘন করে থাকে। তবে কেবল তারাই এরূপ করে না যারা ইমান আনে এবং নেক আমল করে। আর এরা সংখ্যায় খুবই কম। আর দাউদ জানতে পারল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। তারপর সে তার রবের কাছে ক্ষমা চাইল, সিজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং তাঁর অভিমুখী হল। তখন আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম। আর অবশ্যই আমার কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।”
হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের নিকট একটি মামলা আসল। তিনি তার ফায়সালা করে দিলেন। তখনই তার মনে পড়ল যে, এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আমার জন্য হুঁশিয়ারি। তাই তিনি সাথে সাথে ইস্তিগফার করতে শুরু করলেন এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দিয়েছেন。
আয়াত নং-৩৪
وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ
“আর আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনের উপর রেখেছিলাম একটি নিষ্প্রাণ দেহ, অতঃপর সে আমার অভিমুখী হল।”
হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম একবার কসম খেলেন যে, আজ রাতে তার সকল স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবেন। এর ফলে তাদের গর্ভে যেসব সন্তান আসবে তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তবে তিনি ইন শা' আল্লাহ বলতে ভুলে যান। ফলে একমাত্র এক স্ত্রীর গর্ভেই একটি সন্তান হয়, যে ছিল বিকলাঙ্গ ও নিষ্প্রাণ প্রায়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এ সন্তানকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে তার সিংহাসনে এনে রাখা হলে তিনি স্বীয় ভুল বুঝতে পেরে ইন শা' আল্লাহ না বলার জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা ও ইস্তিগফার করেন। নৈকট্যশীলদের জন্য সামান্য ভুল-ত্রুটির জন্যেও সতর্ক করা হয়。
আয়াত নং-৩৫
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّن بَعْدِى إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
| "সুলাইমান বলল, হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারও জন্যই প্রযোজ্য হবে না। নিশ্চয়ই আপনি বড়ই দানশীল।”
হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণের শক্তির উৎস হল ইস্তিগফার। ইস্তিগফারের গুরুত্ব বুঝার জন্য এটাই যথেষ্ট। আর স্বীয় দু'আ ও প্রয়োজন কামনা করার পূর্বে ইস্তিগফার করা উক্ত দু'আ কবুল হওয়ার একটি কারণ হয়ে যায়。
আয়াত নং-৪৪
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِعْنَا فَاضْرِب بِهِ وَلَا تَحْنَتْ إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّাবٌ
“আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভঙ্গ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয় সে ছিল আমার অভিমুখী।"
হজরত আইউব আলাইহিস সালাম অসুস্থাবস্থায় কোন এক কথার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে কসম খেয়েছিলেন যে, সুস্থ হওয়ার পর তার স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করবেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে তার এই কসম বাস্তবায়নের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। কেননা তার স্ত্রী ছিল নির্দোষ এবং অসুস্থাবস্থার সেবিকা। আল্লাহ তা'আলা হজরত আইউব আলাইহিস সালামের প্রশংসা করেছেন যে, সে বড় ভাল বান্দা এবং তার সবচেয়ে প্রিয় গুণ 'আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন' করা। এত বড় বিপদেও আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারও দিকে প্রত্যাবর্তন করেননি বরং একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সাথেই জুড়ে ছিলেন এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন。
আয়াত নং-৬৬
رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
. “আসমানসমূহ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত যা কিছু রয়েছে সব কিছুর রব তিনি। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা এমন عَزِيزٌ তথা মহাপরাক্রমশালী যে, তার পরাক্রমশালী হাত থেকে কেউ বের হয়ে পলায়ন করতে পারে না এবং তিনি এমন غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীল যে, তাঁর সীমাহীন রহমত ও মাগফিরাতকে কেউ সীমিত করতে পারে না। সুতরাং কিয়ামতের দিন আসবে এবং তোমরা সেই আল্লাহ তা'আলার সামনে উপস্থিত হতে হবে, যিনি মহাপরাক্রমশালী এবং মহাক্ষমাশীলও বটে।
📄 সূরাতুয-যুমার
সূরাতুয-যুমার-এর ৫. ৮. ১৭. ৩৩. ৩৪. ৩৫. ৫২. ও ৫৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
[ আয়াত নং-৫
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى أَلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
“তিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
আল্লাহ তা'আলা আজিজ তথা মহাপরাক্রমশালী ঐ লোকদেরকে আজাব দেওয়ার উপর যারা চন্দ্র এবং সূর্যের আনুগত্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এবং সেই আনুগত্যের ক্ষমতাশীল রবকে মানে না। তিনি গাফ্ফার তথা পরম ক্ষমাশীল ঐ লোকদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে এবং আসমান-জমিন এবং চন্দ্র-সূর্যের পরিচালনাকারী রবের প্রতি ইমান আনে। আরেকটি হল এই যে, এটা আল্লাহ তা'আলার গুণ দয়া ও অনুগ্রহ যে, এত বড় ব্যবস্থাপনা চলছে। আর না হয় মানুষের তো এমনও বহু অপরাধ ও পাপ রয়েছে যে, যার পরিণামে সবকিছু সাথে সাথে ধ্বংস করে দেওয়া হত।
আয়াত নং-৮
وَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ
“আর যখন মানুষকে স্পর্শ করে দুঃখ-দুর্দশা, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে, তারপর তিনি যখন তাকে নিজের পক্ষ থেকে নি'আমত দান করেন তখন সে ভুলে যায় ইতোপূর্বে কী কারণে তাঁর কাছে দু'আ করেছিল, আর আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। বল, তোমার কুফরী উপভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।”
কাফিরদের তাওবা, নৈকট্য ও আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয় ক্ষণস্থায়ী। বিপদাপদ আসলে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আবার যখন বিপদাপদ দূর হয়ে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরক ও অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তিদের ঠিকানা হল জাহান্নাম।
আয়াত নং-১৭
وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ
“আর যারা তাগুতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।”
যে তাগুতকে পরিহার করে এবং এক আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তার জন্য রয়েছে সুসংবাদ।
আয়াত নং-৩৩-৩৫
وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَبِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأُ الَّذِي عَمِلُوا وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
"আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার। যাতে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ঢেকে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত তার প্রতিদানে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন।"
যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন তথা নবি এবং যারা সেই সত্যের সত্যায়ন করেছে তথা ইমানদারগণ, তারা সকলে আল্লাহভীরু এবং অনুগ্রহপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের নেক আমলের প্রতিদান দেবেন এবং ভুলে যেসব মন্দ কাজ তথা গুনাহ হয়েছে তা মাফ করে দেবেন। যিনি সত্যবাণী নিয়ে এসেছেন তিনি নবি আর যারা এই সত্যকে মেনে নিয়েছে তারা হল মুমিন। এই আয়াতে সত্যকে মান্যকারীদের প্রথম উদ্দেশ্য হল হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু।
আয়াত নং-৫৩-৫৪
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ
“বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের উপর আজাব আসার পূর্বেই তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। তার (আজাব আসার) পরে তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।"
এই আয়াত আরহামুর রাহিমীনের সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ এবং ক্ষমার এক মহান ঘোষণা এবং প্রচণ্ড হতাশার রোগীদের জন্য আরোগ্যের এক বাস্তব প্রেসক্রিপশন। এই আয়াত শোনার পরে কারও জন্য আল্লাহ তা'আলার প্রতি নিরাশ হওয়ার কোন কারণ অবশিষ্ট নেই। চাই সে যত বড় কাফির- মুশরিক কিংবা যত বড় ফাসিক-ফাজির ও দুঃশ্চরিত্র এবং গুনাহগারই হোক না কেন। তাই আসো মৃত্যুর পূর্বেই তাওবা কর, আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, তখন যে সকল কাফির ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল, তারা বুঝে ফেলল যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এদিকেই। এটা মনে করে স্বীয় ভুল থেকে পিছু হটল। কিন্তু লজ্জা ও এই ভাবনায় মুসলমান হচ্ছিল না যে, এখন আমাদের মুসলমানী কবুল হবে কি? শত্রুতা করেছে, যুদ্ধ করেছে এবং বহু এক আল্লাহর ইবাদাতকারীকে হত্যা করেছে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- এমন কোন গুনাহ নেই যার তাওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। সুতরাং নৈরাশ না হয়ে তাওবা কর এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। ক্ষমা পেয়ে যাবে। তবে যখন মাথার উপর আজাব চলে আসবে কিংবা মৃত্যু দৃষ্টিগোচর হতে শুরু করবে তখন আর কোন তাওবা কবুল হবে না।
সুরাতুয-যুমার-এর ৫. ৮. ১৭. ৩৩. ৩৪. ৩৫. ৫৩. ও ৫৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৫
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى أَلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
“তিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
আল্লাহ তা'আলা আজিজ তথা মহাপরাক্রমশালী ঐ লোকদেরকে আজাব দেওয়ার উপর যারা চন্দ্র এবং সূর্যের আনুগত্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এবং সেই আনুগত্যের ক্ষমতাশীল রবকে মানে না। তিনি গাফ্ফার তথা পরম ক্ষমাশীল ঐ লোকদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে এবং আসমান-জমিন এবং চন্দ্র-সূর্যের পরিচালনাকারী রবের প্রতি ইমান আনে। আরেকটি হল এই যে, এটা আল্লাহ তা'আলার গুণ দয়া ও অনুগ্রহ যে, এত বড় ব্যবস্থাপনা চলছে। আর না হয় মানুষের তো এমনও বহু অপরাধ ও পাপ রয়েছে যে, যার পরিণামে সবকিছু সাথে সাথে ধ্বংস করে দেওয়া হত。
আয়াত নং-৮
وَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ
“আর যখন মানুষকে স্পর্শ করে দুঃখ-দুর্দশা, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে, তারপর তিনি যখন তাকে নিজের পক্ষ থেকে নি'আমত দান করেন তখন সে ভুলে যায় ইতোপূর্বে কী কারণে তাঁর কাছে দু'আ করেছিল, আর আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। বল, তোমার কুফরী উপভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।”
কাফিরদের তাওবা, নৈকট্য ও আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয় ক্ষণস্থায়ী। বিপদাপদ আসলে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আবার যখন বিপদাপদ দূর হয়ে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরক ও অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তিদের ঠিকানা হল জাহান্নাম。
আয়াত নং-১৭
وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ
“আর যারা তাগুতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।”
যে তাগুতকে পরিহার করে এবং এক আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তার জন্য রয়েছে সুসংবাদ。
আয়াত নং-৩৩-৩৫
وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَبِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأُ الَّذِي عَمِلُوا وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
"আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার। যাতে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ঢেকে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত তার প্রতিদানে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন।"
যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন তথা নবি এবং যারা সেই সত্যের সত্যায়ন করেছে তথা ইমানদারগণ, তারা সকলে আল্লাহভীরু এবং অনুগ্রহপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের নেক আমলের প্রতিদান দেবেন এবং ভুলে যেসব মন্দ কাজ তথা গুনাহ হয়েছে তা মাফ করে দেবেন। যিনি সত্যবাণী নিয়ে এসেছেন তিনি নবি আর যারা এই সত্যকে মেনে নিয়েছে তারা হল মুমিন। এই আয়াতে সত্যকে মান্যকারীদের প্রথম উদ্দেশ্য হল হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু。
আয়াত নং-৫৩-৫৪
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ
“বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের উপর আজাব আসার পূর্বেই তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। তার (আজাব আসার) পরে তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।"
এই আয়াত আরহামুর রাহিমীনের সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ এবং ক্ষমার এক মহান ঘোষণা এবং প্রচণ্ড হতাশার রোগীদের জন্য আরোগ্যের এক বাস্তব প্রেসক্রিপশন। এই আয়াত শোনার পরে কারও জন্য আল্লাহ তা'আলার প্রতি নিরাশ হওয়ার কোন কারণ অবশিষ্ট নেই। চাই সে যত বড় কাফির- মুশরিক কিংবা যত বড় ফাসিক-ফাজির ও দুঃশ্চরিত্র এবং গুনাহগারই হোক না কেন। তাই আসো মৃত্যুর পূর্বেই তাওবা কর, আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, তখন যে সকল কাফির ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল, তারা বুঝে ফেলল যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এদিকেই। এটা মনে করে স্বীয় ভুল থেকে পিছু হটল। কিন্তু লজ্জা ও এই ভাবনায় মুসলমান হচ্ছিল না যে, এখন আমাদের মুসলমানী কবুল হবে কি? শত্রুতা করেছে, যুদ্ধ করেছে এবং বহু এক আল্লাহর ইবাদাতকারীকে হত্যা করেছে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- এমন কোন গুনাহ নেই যার তাওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। সুতরাং নৈরাশ না হয়ে তাওবা কর এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। ক্ষমা পেয়ে যাবে। তবে যখন মাথার উপর আজাব চলে আসবে কিংবা মৃত্যু দৃষ্টিগোচর হতে শুরু করবে তখন আর কোন তাওবা কবুল হবে না।