📄 সূরাতুল ফাতির
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرُ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান।
ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزُ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورُ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرُ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান।
ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزُ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورُ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّগْফِرَةٌ وَأَজْرٌ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়। সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান। ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزٌ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
📄 সূরা ইয়াসীন
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَগْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
📄 সূরাতুস-সাফ্ফাত
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪
فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
“আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহ পাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
📄 সূরা সোয়াদ
সুরা সোয়াদ-এর ২৪. ২৫. ৩৪. ৩৫ ও ৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২৪-২৫
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَى نِعَاجِهِ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ وَظَنَّ دَاوُودُ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ فَغَفَرْنَا لَهُ ذَلِكَ وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَآبٍ
“দাউদ বলল, তোমার ভেড়ীকে তার ভেড়ীর পালের সাথে যুক্ত করার দাবি করে সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে। আর শরিকদের অনেকেই একে অন্যের উপর সীমালঙ্ঘন করে থাকে। তবে কেবল তারাই এরূপ করে না যারা ইমান আনে এবং নেক আমল করে। আর এরা সংখ্যায় খুবই কম। আর দাউদ জানতে পারল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। তারপর সে তার রবের কাছে ক্ষমা চাইল, সিজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং তাঁর অভিমুখী হল। তখন আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম। আর অবশ্যই আমার কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।”
হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের নিকট একটি মামলা আসল। তিনি তার ফায়সালা করে দিলেন। তখনই তার মনে পড়ল যে, এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আমার জন্য হুঁশিয়ারি। তাই তিনি সাথে সাথে ইস্তিগফার করতে শুরু করলেন এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দিয়েছেন。
আয়াত নং-৩৪
وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ
“আর আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনের উপর রেখেছিলাম একটি নিষ্প্রাণ দেহ, অতঃপর সে আমার অভিমুখী হল।”
হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম একবার কসম খেলেন যে, আজ রাতে তার সকল স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবেন। এর ফলে তাদের গর্ভে যেসব সন্তান আসবে তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তবে তিনি ইন শা' আল্লাহ বলতে ভুলে যান। ফলে একমাত্র এক স্ত্রীর গর্ভেই একটি সন্তান হয়, যে ছিল বিকলাঙ্গ ও নিষ্প্রাণ প্রায়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এ সন্তানকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে তার সিংহাসনে এনে রাখা হলে তিনি স্বীয় ভুল বুঝতে পেরে ইন শা' আল্লাহ না বলার জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা ও ইস্তিগফার করেন। নৈকট্যশীলদের জন্য সামান্য ভুল-ত্রুটির জন্যেও সতর্ক করা হয়。
আয়াত নং-৩৫
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّن بَعْدِى إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
| "সুলাইমান বলল, হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারও জন্যই প্রযোজ্য হবে না। নিশ্চয়ই আপনি বড়ই দানশীল।”
হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণের শক্তির উৎস হল ইস্তিগফার। ইস্তিগফারের গুরুত্ব বুঝার জন্য এটাই যথেষ্ট। আর স্বীয় দু'আ ও প্রয়োজন কামনা করার পূর্বে ইস্তিগফার করা উক্ত দু'আ কবুল হওয়ার একটি কারণ হয়ে যায়。
আয়াত নং-৪৪
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِعْنَا فَاضْرِب بِهِ وَلَا تَحْنَتْ إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّাবٌ
“আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভঙ্গ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয় সে ছিল আমার অভিমুখী।"
হজরত আইউব আলাইহিস সালাম অসুস্থাবস্থায় কোন এক কথার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে কসম খেয়েছিলেন যে, সুস্থ হওয়ার পর তার স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করবেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে তার এই কসম বাস্তবায়নের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। কেননা তার স্ত্রী ছিল নির্দোষ এবং অসুস্থাবস্থার সেবিকা। আল্লাহ তা'আলা হজরত আইউব আলাইহিস সালামের প্রশংসা করেছেন যে, সে বড় ভাল বান্দা এবং তার সবচেয়ে প্রিয় গুণ 'আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন' করা। এত বড় বিপদেও আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারও দিকে প্রত্যাবর্তন করেননি বরং একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সাথেই জুড়ে ছিলেন এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন。
আয়াত নং-৬৬
رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
. “আসমানসমূহ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত যা কিছু রয়েছে সব কিছুর রব তিনি। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা এমন عَزِيزٌ তথা মহাপরাক্রমশালী যে, তার পরাক্রমশালী হাত থেকে কেউ বের হয়ে পলায়ন করতে পারে না এবং তিনি এমন غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীল যে, তাঁর সীমাহীন রহমত ও মাগফিরাতকে কেউ সীমিত করতে পারে না। সুতরাং কিয়ামতের দিন আসবে এবং তোমরা সেই আল্লাহ তা'আলার সামনে উপস্থিত হতে হবে, যিনি মহাপরাক্রমশালী এবং মহাক্ষমাশীলও বটে।