📄 সূরাতুল ফাতির
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرُ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান।
ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزُ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورُ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرُ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান।
ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزُ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورُ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
📄 সূরা ইয়াসীন
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
📄 সূরাতুস-সাফ্ফাত
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
📄 সূরাতুয-যুমার
সূরাতুয-যুমার-এর ৫. ৮. ১৭. ৩৩. ৩৪. ৩৫. ৫২. ও ৫৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
[ আয়াত নং-৫
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى أَلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ
“তিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
আল্লাহ তা'আলা আজিজ তথা মহাপরাক্রমশালী ঐ লোকদেরকে আজাব দেওয়ার উপর যারা চন্দ্র এবং সূর্যের আনুগত্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এবং সেই আনুগত্যের ক্ষমতাশীল রবকে মানে না। তিনি গাফ্ফার তথা পরম ক্ষমাশীল ঐ লোকদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে এবং আসমান-জমিন এবং চন্দ্র-সূর্যের পরিচালনাকারী রবের প্রতি ইমান আনে। আরেকটি হল এই যে, এটা আল্লাহ তা'আলার গুণ দয়া ও অনুগ্রহ যে, এত বড় ব্যবস্থাপনা চলছে। আর না হয় মানুষের তো এমনও বহু অপরাধ ও পাপ রয়েছে যে, যার পরিণামে সবকিছু সাথে সাথে ধ্বংস করে দেওয়া হত।
আয়াত নং-৮
وَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ
“আর যখন মানুষকে স্পর্শ করে দুঃখ-দুর্দশা, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে, তারপর তিনি যখন তাকে নিজের পক্ষ থেকে নি'আমত দান করেন তখন সে ভুলে যায় ইতোপূর্বে কী কারণে তাঁর কাছে দু'আ করেছিল, আর আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। বল, তোমার কুফরী উপভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।”
কাফিরদের তাওবা, নৈকট্য ও আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয় ক্ষণস্থায়ী। বিপদাপদ আসলে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আবার যখন বিপদাপদ দূর হয়ে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরক ও অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তিদের ঠিকানা হল জাহান্নাম।
আয়াত নং-১৭
وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ
“আর যারা তাগুতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।”
যে তাগুতকে পরিহার করে এবং এক আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তার জন্য রয়েছে সুসংবাদ।
আয়াত নং-৩৩-৩৫
وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَبِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأُ الَّذِي عَمِلُوا وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
"আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার। যাতে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ঢেকে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত তার প্রতিদানে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন।"
যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন তথা নবি এবং যারা সেই সত্যের সত্যায়ন করেছে তথা ইমানদারগণ, তারা সকলে আল্লাহভীরু এবং অনুগ্রহপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের নেক আমলের প্রতিদান দেবেন এবং ভুলে যেসব মন্দ কাজ তথা গুনাহ হয়েছে তা মাফ করে দেবেন। যিনি সত্যবাণী নিয়ে এসেছেন তিনি নবি আর যারা এই সত্যকে মেনে নিয়েছে তারা হল মুমিন। এই আয়াতে সত্যকে মান্যকারীদের প্রথম উদ্দেশ্য হল হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু।
আয়াত নং-৫৩-৫৪
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ
“বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের উপর আজাব আসার পূর্বেই তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। তার (আজাব আসার) পরে তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।"
এই আয়াত আরহামুর রাহিমীনের সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ এবং ক্ষমার এক মহান ঘোষণা এবং প্রচণ্ড হতাশার রোগীদের জন্য আরোগ্যের এক বাস্তব প্রেসক্রিপশন। এই আয়াত শোনার পরে কারও জন্য আল্লাহ তা'আলার প্রতি নিরাশ হওয়ার কোন কারণ অবশিষ্ট নেই। চাই সে যত বড় কাফির- মুশরিক কিংবা যত বড় ফাসিক-ফাজির ও দুঃশ্চরিত্র এবং গুনাহগারই হোক না কেন। তাই আসো মৃত্যুর পূর্বেই তাওবা কর, আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, তখন যে সকল কাফির ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল, তারা বুঝে ফেলল যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এদিকেই। এটা মনে করে স্বীয় ভুল থেকে পিছু হটল। কিন্তু লজ্জা ও এই ভাবনায় মুসলমান হচ্ছিল না যে, এখন আমাদের মুসলমানী কবুল হবে কি? শত্রুতা করেছে, যুদ্ধ করেছে এবং বহু এক আল্লাহর ইবাদাতকারীকে হত্যা করেছে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- এমন কোন গুনাহ নেই যার তাওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। সুতরাং নৈরাশ না হয়ে তাওবা কর এবং আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন কর। ক্ষমা পেয়ে যাবে। তবে যখন মাথার উপর আজাব চলে আসবে কিংবা মৃত্যু দৃষ্টিগোচর হতে শুরু করবে তখন আর কোন তাওবা কবুল হবে না।