📄 সূরাতুস-সাবা
সুরাতুস-সাবা-এর ২. ৪. ৯ ও ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ
“তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ আসমান-জমিনে সকল মাখলুকাত, আমল ও বিধি-বিধান আসা-যাওয়া ধারাবাহিক এক পরিক্রমা চালু আছে। এ সবকিছুর জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার রয়েছে। যা কিছু জমিনে প্রবেশ করে, যেমন: বৃষ্টির পানি, মৃত লাশ, ফসলের বীজ ইত্যাদি এবং যা কিছু জমিন থেকে নির্গত হয়, যেমন: সবুজ-শ্যামল, বৃক্ষ ও খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়, যেমন: বৃষ্টি, ওহী, ফেরেশতা, তাকদীর ও আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধান ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়, যেমন: রূহ বা আত্মাসমূহ, দু'আসমূহ, আমলসমূহ ও ফেরেশতা ইত্যাদি। এ সকল ব্যবস্থাপনা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত, ক্ষমা ও রহমতেই চলছে। আর তিনি তাঁর আউলিয়াদের জন্য গাফুর এবং রাহিম তথা পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। যারা জমিনে আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধানকে জীবিত রাখেন এবং আসমান থেকে অবতীর্ণ বিধি-বিধানকে পালন করেন এবং তাদের উত্তম আমল আসমানে প্রেরণ করেন।
আয়াত নং-৪ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَبِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“(কিয়ামত অবশ্যই আসবে) যাতে তিনি প্রতিদান দেন তাদেরকে যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে। তাদেরই জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।"
কাফিররা বলে যে, কিয়ামত আসবে না। হে নবি আপনি তাদের বলে দিন যে, আমার রবের কসম! কিয়ামত অবশ্যই আসবে যেন ন্যায় ও ইনসাফ হয়ে যায় এবং মানুষ তাদের ভাল ও মন্দের প্রতিদান পায়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমান আনবে এবং নেক আমল করবে তারা মাগফিরাত ও সম্মানজনক রুজি পাবে। আর যারা কুফরের দিকে অগ্রসর হয় এবং মেহনত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আয়াত নং-৯ أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْقَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِن نَّشَأْ نَخْسِفُ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِنَّ فِي ذُلِكَ لَآيَةٌ لِكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
"তারা কি তাদের সামনে ও তাদের পেছনে আসমান ও জমিনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না? যদি আমি ইচ্ছা করি তাহলে তাদেরকে সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আসমান থেকে এক খণ্ড (আজাব) তাদের উপর নিপতিত করব, অবশ্যই তাতে রয়েছে । আল্লাহমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য নিদর্শন।”
আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যশীল বান্দারাই আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ বুঝেন এবং উক্ত নিদর্শনসমূহ থেকে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী হওয়া এবং পরকাল অবশ্যম্ভাবী হওয়ার ফলাফল গ্রহণ করেন।
[[আয়াত নং-১৫
لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٍ وَشِمَالٍ كُلُوا مِن رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةً طَيِّبَةً وَرَبُّ غَفُورٌ
“নিশ্চয় সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল একটি নিদর্শন: দু'টি উদ্যান, একটি ডানে ও অপরটি বামে, (তাদেরকে বলা হয়েছিল) তোমরা তোমাদের রবের রিজক থেকে খাও আর তাঁর শোকর কর। এটি উত্তম শহর এবং (তোমাদের রব) ক্ষমাশীল রব।"
رَبُّ غَفُورُ তথা ক্ষমাশীল রব বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তোমরা যদি ইমান আন এবং শোকর কর, তাহলে তোমাদের থেকে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যাবে, তা ক্ষমার পথ বিদ্যমান। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও ক্ষমার দরজা সর্বদাই খোলা। আল্লাহ তা'আলা ছোটখাট বিষয়ে এমন কঠোরভাবে ধরেন না। বরং স্বীয় অনুগ্রহে ক্ষমা করে দেন।
সুরাতুস-সাবা-এর ২. ৪. ৯ ও ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ
“তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ আসমান-জমিনে সকল মাখলুকাত, আমল ও বিধি-বিধান আসা-যাওয়া ধারাবাহিক এক পরিক্রমা চালু আছে। এ সবকিছুর জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার রয়েছে। যা কিছু জমিনে প্রবেশ করে, যেমন: বৃষ্টির পানি, মৃত লাশ, ফসলের বীজ ইত্যাদি এবং যা কিছু জমিন থেকে নির্গত হয়, যেমন: সবুজ-শ্যামল, বৃক্ষ ও খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়, যেমন: বৃষ্টি, ওহী, ফেরেশতা, তাকদীর ও আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধান ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়, যেমন: রূহ বা আত্মাসমূহ, দু'আসমূহ, আমলসমূহ ও ফেরেশতা ইত্যাদি। এ সকল ব্যবস্থাপনা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত, ক্ষমা ও রহমতেই চলছে। আর তিনি তাঁর আউলিয়াদের জন্য গাফুর এবং রাহিম তথা পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। যারা জমিনে আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধানকে জীবিত রাখেন এবং আসমান থেকে অবতীর্ণ বিধি-বিধানকে পালন করেন এবং তাদের উত্তম আমল আসমানে প্রেরণ করেন।
আয়াত নং-৪ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَبِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“(কিয়ামত অবশ্যই আসবে) যাতে তিনি প্রতিদান দেন তাদেরকে যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে। তাদেরই জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।"
কাফিররা বলে যে, কিয়ামত আসবে না। হে নবি আপনি তাদের বলে দিন যে, আমার রবের কসম! কিয়ামত অবশ্যই আসবে যেন ন্যায় ও ইনসাফ হয়ে যায় এবং মানুষ তাদের ভাল ও মন্দের প্রতিদান পায়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমান আনবে এবং নেক আমল করবে তারা মাগফিরাত ও সম্মানজনক রুজি পাবে। আর যারা কুফরের দিকে অগ্রসর হয় এবং মেহনত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আয়াত নং-৯ أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْقَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِن نَّشَأْ نَخْسِفُ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِنَّ فِي ذُلِكَ لَآيَةٌ لِكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
"তারা কি তাদের সামনে ও তাদের পেছনে আসমান ও জমিনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না? যদি আমি ইচ্ছা করি তাহলে তাদেরকে সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আসমান থেকে এক খণ্ড (আজাব) তাদের উপর নিপতিত করব, অবশ্যই তাতে রয়েছে । আল্লাহমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য নিদর্শন।”
আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যশীল বান্দারাই আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ বুঝেন এবং উক্ত নিদর্শনসমূহ থেকে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী হওয়া এবং পরকাল অবশ্যম্ভাবী হওয়ার ফলাফল গ্রহণ করেন।
[[আয়াত নং-১৫
لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٍ وَشِمَالٍ كُلُوا مِن رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةً طَيِّبَةً وَرَبُّ غَفُورٌ
“নিশ্চয় সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল একটি নিদর্শন: দু'টি উদ্যান, একটি ডানে ও অপরটি বামে, (তাদেরকে বলা হয়েছিল) তোমরা তোমাদের রবের রিজক থেকে খাও আর তাঁর শোকর কর। এটি উত্তম শহর এবং (তোমাদের রব) ক্ষমাশীল রব।"
رَبُّ غَفُورُ তথা ক্ষমাশীল রব বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তোমরা যদি ইমান আন এবং শোকর কর, তাহলে তোমাদের থেকে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যাবে, তা ক্ষমার পথ বিদ্যমান। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও ক্ষমার দরজা সর্বদাই খোলা। আল্লাহ তা'আলা ছোটখাট বিষয়ে এমন কঠোরভাবে ধরেন না। বরং স্বীয় অনুগ্রহে ক্ষমা করে দেন।
📄 সূরাতুল ফাতির
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرُ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান।
ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزُ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورُ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
সুরাতুল ফাতির-এর ৭. ২৮. ৩০. ৩৪. ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৭
الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرُ كَبِيرٌ
“যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; আর যারা ইমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।”
কিয়ামত অবশ্যই আসবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের ধোঁকায় পড়ো না। আর বড় ধোঁকাবাজ তথা শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না। সে তোমাদের শত্রু। তোমরাও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। সে তো তার অনুসারীদেরকে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং যে শয়তানের অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। আর যে তার বিরোধিতা করে ইমান এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহা প্রতিদান।
ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৮
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَاتِ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
"আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই (আলেম-উলামারাই) আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।"
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আলেম-উলামা ও জ্ঞানী-গুণীদের বৈশিষ্ট্য। আর আল্লাহ তা'আলার আচরণও দুই প্রকার। তিনি عَزِيزُ তথা মহাপরাক্রমশালী। প্রতিটি ভুল-ত্রুটির জন্যই ধরবেন। আবার তিনি غَفُورٌ তথা পরম ক্ষমাশীলও বটে। সুতরাং বান্দার আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয়ও থাকবে আবার আশাও থাকবে。
আয়াত নং-৩০
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورُ
"যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে তাঁর বিধি-বিধানসমূহ মানে, তাঁর কিতাবকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাসের সাথে তা পাঠ করে এবং স্বীয় ধন- সম্পদ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে, তাহলে বস্তুত এই লোক এমন এক ব্যবসা করছে, যে ব্যবসায় কোন প্রকার লস কিংবা ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা "শাকূর” তথা মূল্যায়নকারী। যিনি আমলসমূহ কবুলকারী এবং গাফুর তথা অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সামান্য আমলের উপরও ক্ষমাস্বরূপ অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন。
আয়াত নং-৩৪
وَقَالُوا الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ
“আর তারা (জান্নাতীগণ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের রব পরম ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।”
অর্থাৎ আমাদের থেকে দুনিয়ার ও হাশরের পেরেশানি দূর করে দিয়েছেন এবং গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের আমলসমূহের মূল্যায়ন করে সেগুলোর গ্রহণীয়তা দান করেছেন। জান্নাতীগণ দেখবে যে, গুনাহ মাফ হয়ে গেছে এবং আমলসমূহ কবুল করা হয়েছে। তখন অনিচ্ছায়ই বলে উঠবে যে, অবশ্যই আমাদের রব “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল ও “শাকুর” তথা মহাগুণগ্রাহী。
আয়াত নং-৪১
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَبِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।"
এটা আল্লাহ তা'আলার কুদরত যে, এত বড় আসমান এবং এত ভারী জমিন সব স্ব স্ব স্থান ও কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সকল বস্তু যদি নিজ জায়গা থেকে সরে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কার শক্তি আছে যে, তাকে পরাস্ত্র করতে পারে। আল্লাহ তা'আলার এত মহান কুদরত দেখেও অনেক লোক কুফর-শিরকের মত অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধের কারণে উচিত তো ছিল যে, আসমান-জমিনের সকল ব্যবস্থাপনা অচল ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা “হালীম” তথা পরম সহনশীল এবং “গাফুর” তথা পরম ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে সকল ব্যবস্থাপনা চলমান রেখেছেন। সব গুনাহর জন্য যদি ধরতেন তাহলে দুনিয়া বিরান হয়ে যেত।
📄 সূরা ইয়াসীন
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
সুরা ইয়াসীন-এর ১১. ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১১
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন যে, উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে আপনি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।"
কুরআনুল কারিম কে মানা এবং আল্লাহ তা'আলাকে না দেখেই ভয় করা মাগফিরাতের অন্যতম কারণ。
আয়াত নং-২৬-২৭
قيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
। “তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল, হায়! আমার কওম যদি কোনক্রমে জানতে পারত আমার রব আমাকে কিসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
ঐ নেককার ব্যক্তি যে স্বীয় জাতিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, হে আমার জাতি! রাসুলদের কথা মান্য কর। তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। জাতি তার কথা শুনেনি বরং তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। আর যখনই তাকে শহিদ করা হয়েছে তখনই সাথে সাথে নির্দেশ আসল যে, দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ কর। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে—শহিদদের রুহসমূহ কিয়ামতের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করে। জান্নাতে পৌঁছে তারা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাতের গুণ প্রত্যক্ষ করে। কীভাবে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। সে তখন বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি যদি আমার এই সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারত, তাহলে তারা সকলে ইমান আনত।
📄 সূরাতুস-সাফ্ফাত
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।
সুরাতুস-সাফ্ফাত-এর ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৪৩-১৪৪ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ “আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবিহপাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত। তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।”
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছ গিলে ফেলেছিল। তিনি যদি অধিক পরিমাণে তাসবিহপাঠকারী না হতেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেট থেকে বের হতে পারতেন না। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের তাসবীহর মধ্যে ইস্তিগফারও ছিল। যেমন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম।