📄 সূরাতুর-রূম
সুরাতুর-রুম-এর ৩১ ও ৩৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং- ৩১ مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ “তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
মুসলমানদের জন্য বিজয় অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা করছেন। তন্মধ্যে একটি পদ্ধতি হল—তাওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জন করা।
আয়াত নং-৩৩ وَإِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرِّ دَعَوْا رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ “আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান, তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরিক করে।"
কোন কোন লোকের 'রুজু ইলাল্লাহ' তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয়ে থাকে কেবলমাত্র বিপদাপদের সময়। বিপদ যখন কেটে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরকে লিপ্ত হয়ে যায়।
সুরাতুর-রুম-এর ৩১ ও ৩৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং- ৩১ مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ “তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
মুসলমানদের জন্য বিজয় অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা করছেন। তন্মধ্যে একটি পদ্ধতি হল—তাওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জন করা।
আয়াত নং-৩৩ وَإِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرِّ دَعَوْا رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ “আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান, তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরিক করে।"
কোন কোন লোকের 'রুজু ইলাল্লাহ' তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয়ে থাকে কেবলমাত্র বিপদাপদের সময়। বিপদ যখন কেটে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরকে লিপ্ত হয়ে যায়।
📄 সূরা লুকমান
সুরা লুকমান-এর ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৫ صلى وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبُهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَى مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
"পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।"
হজরত লুকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিলেন- وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ
যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অভিমুখী হওয়ার মধ্যে তাওবাও অন্তর্ভুক্ত।
সুরা লুকমান-এর ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৫ صلى وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبُهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَى مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
"পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।"
হজরত লুকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিলেন- وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ
যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অভিমুখী হওয়ার মধ্যে তাওবাও অন্তর্ভুক্ত।
📄 সূরাতুল আহযাব
সুরাতুল আহযাব-এর ৫. ২৪. ৩৫. ৫০. ৫৯. ৭০. ৭১. ৭২ ও ৭৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৫ ادْعُوهُمْ لِآبَابِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। আর এ বিষয়ে তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নিকট পছন্দনীয় এবং ন্যায়সঙ্গত কথা হল— প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মন্ধ তার প্রকৃত পিতার দিকে করা। কেউ যদি কাউকে পালক আনে অর্থাৎ মৌখিক পুত্র বানায় তাহলে শরয়ী বিধান মতে সে তার পিতা হবে না। আর যদি তার পিতৃ পরিচয় জানা না যায় তাহলে সে তোমাদের দীনি ভাই ও বন্ধু। তাকে ভাই কিংবা বন্ধু হিসেবেই সম্বোধন কর। তবে হ্যাঁ! কেউ যদি ভুলে কিংবা না জেনে কাউকে তার প্রকৃত পিতা ব্যতীত অন্য কারও দিকে সম্বোধন করে ফেলে তাহলে তা ক্ষমাযোগ্য। ভুল-ভ্রান্তির কোন গুনাহ নেই। তবে হ্যাঁ! জেনে-বুঝে ভুল করলে তো অবশ্যই গুনাহ হবে। অবশ্য তাও আল্লাহ তা'আলা চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। এই বিধান নাজিলের পূর্বে যে সকল ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে সেগুলো সব মাফ। কেননা আল্লাহ তা'আলা গাফুরুর রাহিম তথা অধিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
আয়াত নং-২৪
لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ إِن شَاءَ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
"যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার জন্য পুরস্কৃত করতে পারেন এবং তিনি চাইলে মুনাফিকদের আজাব দিতে পারেন অথবা তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
স্বীয় ওয়াদাকে সত্যে পরিণতকারী মুমিনদেরকে আল্লাহ তা'আলা মহা প্রতিদান দেবেন এবং মুনাফিকদেরকে যদি ইচ্ছা করেন শাস্তি দেবেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং তাওবার তাওফিক দেবেন। তাঁর অনুগ্রহে কিছুই অসম্ভব নয়। إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত নং-৩৫
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّابِمِينَ وَالصَّابِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرًا عَظِيمًا
"নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।"
এই আয়াতে মাগফিরাতপ্রাপ্তদের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।
[ আয়াত নং-৫০
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“হে নবি! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবি র কাছে সমর্পণ করে নবি তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।”
আয়াত নং-৫৯ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا “হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কণ্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
অর্থাৎ শরীর ঢাকার সাথে সাথে চেহারাও আবৃত করতে হবে। বর্ণিত আছে যে, এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলিম নারীরা শরীর ও চেহারা ঢেকে এমনভাবে বের হতেন যে, শুধুমাত্র একটি চক্ষু দেখার জন্য খোলা রাখতেন। পর্দাকে স্বাধীন নারীর নিদর্শন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেন বুঝা যায় যে, এই নারী কোন দাসী নয়। এই নারী সম্মানিতা ও নেককার নারী। কোন খারাপ ও দুঃশ্চরিত্রা নারী নয়। وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। অতীতে এ সংক্রান্ত যত ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেছে কিংবা পরিপূর্ণ পর্দা পালনের পরেও যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যাবে তা ক্ষমাকারী। তিনি রাহিম তথা মুসলিম নারীদেরকে স্বীয় রহমত এবং অনুগ্রহের দ্বারা শরয়ী পর্দার মাধ্যমে নিরাপত্তার এমন উত্তম ব্যবস্থা করেছেন।
আয়াত নং-৭০-৭১ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
“হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।"
অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্তরে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে এবং মুখে সহজ-সত্য ও সঠিক কথা বলে তার মাকবুল তথা আল্লাহ তা'আলার দরবারে কবুল ও গ্রহণীয় আমলের তাওফিক হয় এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অন্তরের তাকওয়া এবং মুখের সংশোধন এই দুটি গুণ মাগফিরাতের কারণসমূহের অন্যতম কারণ।
আয়াত নং-৭২-৭৩
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا لِيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ وَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“নিশ্চয় আসমানসমূহ, জমিন ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত পেশ করেছি, অতঃপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে এবং এতে ভীত হয়েছে। আর মানুষ তা বহন করেছে। নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় জালিম, একান্তই অজ্ঞ। যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের আজাব দেন। আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
আল্লাহ তা'আলা মানুষকে একটি আমানত দান করেছেন। আর তা হল ইমান ও আহকামে ইলাহি তথা আল্লাহ তা'আলার বিধানসমূহের আমানত।
সুতরাং যারা এই আমানতের পরিপূর্ণ ও সঠিকভাবে হেফাজত ও সংরক্ষণ করেছে, তাদের জন্য তাওবা তথা আল্লাহ তা'আলার বিশেষ দৃষ্টি ও অনুগ্রহের পুরস্কার রয়েছে। আর যারা আমানতের হেফাজত তো করেছে তবে তা বহন করতে তাদের সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে গেছে তাদের জন্যও রয়েছে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত। আর যারা গাফলত ও শত্রুতা ও বিরোধিতা করে এই আমানতকে ধ্বংস করেছে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তা'আলার আজাব।
সুরাতুল আহযাব-এর ৫. ২৪. ৩৫. ৫০. ৫৯. ৭০. ৭১. ৭২ ও ৭৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৫ ادْعُوهُمْ لِآبَابِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। আর এ বিষয়ে তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নিকট পছন্দনীয় এবং ন্যায়সঙ্গত কথা হল— প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মন্ধ তার প্রকৃত পিতার দিকে করা। কেউ যদি কাউকে পালক আনে অর্থাৎ মৌখিক পুত্র বানায় তাহলে শরয়ী বিধান মতে সে তার পিতা হবে না। আর যদি তার পিতৃ পরিচয় জানা না যায় তাহলে সে তোমাদের দীনি ভাই ও বন্ধু। তাকে ভাই কিংবা বন্ধু হিসেবেই সম্বোধন কর। তবে হ্যাঁ! কেউ যদি ভুলে কিংবা না জেনে কাউকে তার প্রকৃত পিতা ব্যতীত অন্য কারও দিকে সম্বোধন করে ফেলে তাহলে তা ক্ষমাযোগ্য। ভুল-ভ্রান্তির কোন গুনাহ নেই। তবে হ্যাঁ! জেনে-বুঝে ভুল করলে তো অবশ্যই গুনাহ হবে। অবশ্য তাও আল্লাহ তা'আলা চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। এই বিধান নাজিলের পূর্বে যে সকল ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে সেগুলো সব মাফ। কেননা আল্লাহ তা'আলা গাফুরুর রাহিম তথা অধিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
আয়াত নং-২৪
لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ إِن شَاءَ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
"যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার জন্য পুরস্কৃত করতে পারেন এবং তিনি চাইলে মুনাফিকদের আজাব দিতে পারেন অথবা তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
স্বীয় ওয়াদাকে সত্যে পরিণতকারী মুমিনদেরকে আল্লাহ তা'আলা মহা প্রতিদান দেবেন এবং মুনাফিকদেরকে যদি ইচ্ছা করেন শাস্তি দেবেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং তাওবার তাওফিক দেবেন। তাঁর অনুগ্রহে কিছুই অসম্ভব নয়। إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াত নং-৩৫
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّابِمِينَ وَالصَّابِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرًا عَظِيمًا
"নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।"
এই আয়াতে মাগফিরাতপ্রাপ্তদের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।
[ আয়াত নং-৫০
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“হে নবি! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবি র কাছে সমর্পণ করে নবি তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।”
আয়াত নং-৫৯ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا “হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কণ্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
অর্থাৎ শরীর ঢাকার সাথে সাথে চেহারাও আবৃত করতে হবে। বর্ণিত আছে যে, এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলিম নারীরা শরীর ও চেহারা ঢেকে এমনভাবে বের হতেন যে, শুধুমাত্র একটি চক্ষু দেখার জন্য খোলা রাখতেন। পর্দাকে স্বাধীন নারীর নিদর্শন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেন বুঝা যায় যে, এই নারী কোন দাসী নয়। এই নারী সম্মানিতা ও নেককার নারী। কোন খারাপ ও দুঃশ্চরিত্রা নারী নয়। وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। অতীতে এ সংক্রান্ত যত ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেছে কিংবা পরিপূর্ণ পর্দা পালনের পরেও যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যাবে তা ক্ষমাকারী। তিনি রাহিম তথা মুসলিম নারীদেরকে স্বীয় রহমত এবং অনুগ্রহের দ্বারা শরয়ী পর্দার মাধ্যমে নিরাপত্তার এমন উত্তম ব্যবস্থা করেছেন।
আয়াত নং-৭০-৭১ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
“হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।"
অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্তরে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে এবং মুখে সহজ-সত্য ও সঠিক কথা বলে তার মাকবুল তথা আল্লাহ তা'আলার দরবারে কবুল ও গ্রহণীয় আমলের তাওফিক হয় এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অন্তরের তাকওয়া এবং মুখের সংশোধন এই দুটি গুণ মাগফিরাতের কারণসমূহের অন্যতম কারণ।
আয়াত নং-৭২-৭৩
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا لِيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ وَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“নিশ্চয় আসমানসমূহ, জমিন ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত পেশ করেছি, অতঃপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে এবং এতে ভীত হয়েছে। আর মানুষ তা বহন করেছে। নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় জালিম, একান্তই অজ্ঞ। যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের আজাব দেন। আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
আল্লাহ তা'আলা মানুষকে একটি আমানত দান করেছেন। আর তা হল ইমান ও আহকামে ইলাহি তথা আল্লাহ তা'আলার বিধানসমূহের আমানত।
সুতরাং যারা এই আমানতের পরিপূর্ণ ও সঠিকভাবে হেফাজত ও সংরক্ষণ করেছে, তাদের জন্য তাওবা তথা আল্লাহ তা'আলার বিশেষ দৃষ্টি ও অনুগ্রহের পুরস্কার রয়েছে। আর যারা আমানতের হেফাজত তো করেছে তবে তা বহন করতে তাদের সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে গেছে তাদের জন্যও রয়েছে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত। আর যারা গাফলত ও শত্রুতা ও বিরোধিতা করে এই আমানতকে ধ্বংস করেছে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তা'আলার আজাব।
📄 সূরাতুস-সাবা
সুরাতুস-সাবা-এর ২. ৪. ৯ ও ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ
“তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ আসমান-জমিনে সকল মাখলুকাত, আমল ও বিধি-বিধান আসা-যাওয়া ধারাবাহিক এক পরিক্রমা চালু আছে। এ সবকিছুর জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার রয়েছে। যা কিছু জমিনে প্রবেশ করে, যেমন: বৃষ্টির পানি, মৃত লাশ, ফসলের বীজ ইত্যাদি এবং যা কিছু জমিন থেকে নির্গত হয়, যেমন: সবুজ-শ্যামল, বৃক্ষ ও খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়, যেমন: বৃষ্টি, ওহী, ফেরেশতা, তাকদীর ও আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধান ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়, যেমন: রূহ বা আত্মাসমূহ, দু'আসমূহ, আমলসমূহ ও ফেরেশতা ইত্যাদি। এ সকল ব্যবস্থাপনা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত, ক্ষমা ও রহমতেই চলছে। আর তিনি তাঁর আউলিয়াদের জন্য গাফুর এবং রাহিম তথা পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। যারা জমিনে আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধানকে জীবিত রাখেন এবং আসমান থেকে অবতীর্ণ বিধি-বিধানকে পালন করেন এবং তাদের উত্তম আমল আসমানে প্রেরণ করেন।
আয়াত নং-৪ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَبِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“(কিয়ামত অবশ্যই আসবে) যাতে তিনি প্রতিদান দেন তাদেরকে যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে। তাদেরই জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।"
কাফিররা বলে যে, কিয়ামত আসবে না। হে নবি আপনি তাদের বলে দিন যে, আমার রবের কসম! কিয়ামত অবশ্যই আসবে যেন ন্যায় ও ইনসাফ হয়ে যায় এবং মানুষ তাদের ভাল ও মন্দের প্রতিদান পায়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমান আনবে এবং নেক আমল করবে তারা মাগফিরাত ও সম্মানজনক রুজি পাবে। আর যারা কুফরের দিকে অগ্রসর হয় এবং মেহনত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আয়াত নং-৯ أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْقَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِن نَّشَأْ نَخْسِفُ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِنَّ فِي ذُلِكَ لَآيَةٌ لِكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
"তারা কি তাদের সামনে ও তাদের পেছনে আসমান ও জমিনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না? যদি আমি ইচ্ছা করি তাহলে তাদেরকে সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আসমান থেকে এক খণ্ড (আজাব) তাদের উপর নিপতিত করব, অবশ্যই তাতে রয়েছে । আল্লাহমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য নিদর্শন।”
আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যশীল বান্দারাই আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ বুঝেন এবং উক্ত নিদর্শনসমূহ থেকে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী হওয়া এবং পরকাল অবশ্যম্ভাবী হওয়ার ফলাফল গ্রহণ করেন।
[[আয়াত নং-১৫
لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٍ وَشِمَالٍ كُلُوا مِن رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةً طَيِّبَةً وَرَبُّ غَفُورٌ
“নিশ্চয় সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল একটি নিদর্শন: দু'টি উদ্যান, একটি ডানে ও অপরটি বামে, (তাদেরকে বলা হয়েছিল) তোমরা তোমাদের রবের রিজক থেকে খাও আর তাঁর শোকর কর। এটি উত্তম শহর এবং (তোমাদের রব) ক্ষমাশীল রব।"
رَبُّ غَفُورُ তথা ক্ষমাশীল রব বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তোমরা যদি ইমান আন এবং শোকর কর, তাহলে তোমাদের থেকে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যাবে, তা ক্ষমার পথ বিদ্যমান। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও ক্ষমার দরজা সর্বদাই খোলা। আল্লাহ তা'আলা ছোটখাট বিষয়ে এমন কঠোরভাবে ধরেন না। বরং স্বীয় অনুগ্রহে ক্ষমা করে দেন।
সুরাতুস-সাবা-এর ২. ৪. ৯ ও ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ
“তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ আসমান-জমিনে সকল মাখলুকাত, আমল ও বিধি-বিধান আসা-যাওয়া ধারাবাহিক এক পরিক্রমা চালু আছে। এ সবকিছুর জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার রয়েছে। যা কিছু জমিনে প্রবেশ করে, যেমন: বৃষ্টির পানি, মৃত লাশ, ফসলের বীজ ইত্যাদি এবং যা কিছু জমিন থেকে নির্গত হয়, যেমন: সবুজ-শ্যামল, বৃক্ষ ও খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়, যেমন: বৃষ্টি, ওহী, ফেরেশতা, তাকদীর ও আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধান ইত্যাদি এবং যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়, যেমন: রূহ বা আত্মাসমূহ, দু'আসমূহ, আমলসমূহ ও ফেরেশতা ইত্যাদি। এ সকল ব্যবস্থাপনা আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত, ক্ষমা ও রহমতেই চলছে। আর তিনি তাঁর আউলিয়াদের জন্য গাফুর এবং রাহিম তথা পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। যারা জমিনে আল্লাহ তা'আলার বিধি-বিধানকে জীবিত রাখেন এবং আসমান থেকে অবতীর্ণ বিধি-বিধানকে পালন করেন এবং তাদের উত্তম আমল আসমানে প্রেরণ করেন।
আয়াত নং-৪ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَبِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“(কিয়ামত অবশ্যই আসবে) যাতে তিনি প্রতিদান দেন তাদেরকে যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে। তাদেরই জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।"
কাফিররা বলে যে, কিয়ামত আসবে না। হে নবি আপনি তাদের বলে দিন যে, আমার রবের কসম! কিয়ামত অবশ্যই আসবে যেন ন্যায় ও ইনসাফ হয়ে যায় এবং মানুষ তাদের ভাল ও মন্দের প্রতিদান পায়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমান আনবে এবং নেক আমল করবে তারা মাগফিরাত ও সম্মানজনক রুজি পাবে। আর যারা কুফরের দিকে অগ্রসর হয় এবং মেহনত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আয়াত নং-৯ أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْقَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِن نَّشَأْ نَخْسِفُ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِنَّ فِي ذُلِكَ لَآيَةٌ لِكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
"তারা কি তাদের সামনে ও তাদের পেছনে আসমান ও জমিনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না? যদি আমি ইচ্ছা করি তাহলে তাদেরকে সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আসমান থেকে এক খণ্ড (আজাব) তাদের উপর নিপতিত করব, অবশ্যই তাতে রয়েছে । আল্লাহমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য নিদর্শন।”
আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যশীল বান্দারাই আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ বুঝেন এবং উক্ত নিদর্শনসমূহ থেকে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী হওয়া এবং পরকাল অবশ্যম্ভাবী হওয়ার ফলাফল গ্রহণ করেন।
[[আয়াত নং-১৫
لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٍ وَشِمَالٍ كُلُوا مِن رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةً طَيِّبَةً وَرَبُّ غَفُورٌ
“নিশ্চয় সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল একটি নিদর্শন: দু'টি উদ্যান, একটি ডানে ও অপরটি বামে, (তাদেরকে বলা হয়েছিল) তোমরা তোমাদের রবের রিজক থেকে খাও আর তাঁর শোকর কর। এটি উত্তম শহর এবং (তোমাদের রব) ক্ষমাশীল রব।"
رَبُّ غَفُورُ তথা ক্ষমাশীল রব বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তোমরা যদি ইমান আন এবং শোকর কর, তাহলে তোমাদের থেকে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যাবে, তা ক্ষমার পথ বিদ্যমান। আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত ও ক্ষমার দরজা সর্বদাই খোলা। আল্লাহ তা'আলা ছোটখাট বিষয়ে এমন কঠোরভাবে ধরেন না। বরং স্বীয় অনুগ্রহে ক্ষমা করে দেন।