📄 সূরাতুল কাসাস
সুরাতুল কাসাস-এর ১৬ ও ৬৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে。
আয়াত নং-১৬ قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "সে বলল, হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
হজরত মূসা আলাইহিস সালামের ইস্তিগফার- رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। মূলত হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এক জালেম কিবতীকে ঘুষি মেরে ছিলেন। যার ফলে সে মারা গিয়েছিল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম বুঝতে পারেননি যে এক ঘুষিতে সে মারা যাবে। এর জন্য তিনি অনেক লজ্জিত হলেন যে, নিরপরাধ খুন হয়ে গেল। বস্তুত সে কিবতী হারবী কাফির ও জালেম ছিল এবং হজরত মূসা আলাইহিস সালামেরও তাকে হত্যা করার নিয়ত ছিল না। শুধুমাত্র সতর্ক করাই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তারপরও অনেক পেরেশান ও লজ্জিত হলেন। আর মনে করলেন যে, এতে কোন না কোনভাবে শয়তানের হাত রয়েছে। হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণের স্বভাব-চরিত্র এমন পাক-পবিত্র হয়ে থাকে যে, নবুওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলেরও এমন আত্মসমালোচনা করেন এবং চিন্তা-ভাবনার সামান্য ভুল-ত্রুটি ও বিচ্যুতির জন্যও আল্লাহ তা'আলার নিকট কেঁদে কেঁদে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাইতো হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন।
আয়াত নং-৬৭ فَأَمَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ “তবে যে তাওবা করেছিল, ইমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
অর্থাৎ পরকালের সফলতা একমাত্র ইমান এবং নেক আমলের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানেও যে কেউ কুফর-শিরক থেকে তাওবা করে ইমান গ্রহণ করবে এবং নেক কাজ করবে আল্লাহ তা'আলা তার পেছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাকে সফলতা দান করবেন। আল্লাহ তা'আলার মহান বাণী- عَسَى অর্থাৎ 'আশা করা যায়' বাক্যটি ইয়াকিন তথা নিশ্চিত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সুরাতুল কাসাস-এর ১৬ ও ৬৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে。
আয়াত নং-১৬ قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "সে বলল, হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
হজরত মূসা আলাইহিস সালামের ইস্তিগফার- رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। মূলত হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এক জালেম কিবতীকে ঘুষি মেরে ছিলেন। যার ফলে সে মারা গিয়েছিল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম বুঝতে পারেননি যে এক ঘুষিতে সে মারা যাবে। এর জন্য তিনি অনেক লজ্জিত হলেন যে, নিরপরাধ খুন হয়ে গেল। বস্তুত সে কিবতী হারবী কাফির ও জালেম ছিল এবং হজরত মূসা আলাইহিস সালামেরও তাকে হত্যা করার নিয়ত ছিল না। শুধুমাত্র সতর্ক করাই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তারপরও অনেক পেরেশান ও লজ্জিত হলেন। আর মনে করলেন যে, এতে কোন না কোনভাবে শয়তানের হাত রয়েছে। হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণের স্বভাব-চরিত্র এমন পাক-পবিত্র হয়ে থাকে যে, নবুওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলেরও এমন আত্মসমালোচনা করেন এবং চিন্তা-ভাবনার সামান্য ভুল-ত্রুটি ও বিচ্যুতির জন্যও আল্লাহ তা'আলার নিকট কেঁদে কেঁদে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাইতো হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন।
আয়াত নং-৬৭ فَأَمَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ “তবে যে তাওবা করেছিল, ইমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
অর্থাৎ পরকালের সফলতা একমাত্র ইমান এবং নেক আমলের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানেও যে কেউ কুফর-শিরক থেকে তাওবা করে ইমান গ্রহণ করবে এবং নেক কাজ করবে আল্লাহ তা'আলা তার পেছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাকে সফলতা দান করবেন। আল্লাহ তা'আলার মহান বাণী- عَسَى অর্থাৎ 'আশা করা যায়' বাক্যটি ইয়াকিন তথা নিশ্চিত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
📄 সূরাতুল আনকাবুত
সুরাতুল আনকাবুত-এর
৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৭
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
“আর যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দেব এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই উত্তম আমলের প্রতিদান দেব, যা তারা করত।”
পেছনের আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—আল্লাহ তা'আলা গোটা পৃথিবীবাসী থেকে নির্মোহ, প্রাচুর্যময় ও অমুখাপেক্ষী। এই আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে যে, নির্মোহ, প্রাচুর্যময় ও অমুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও স্বীয় রহমত এবং অনুগ্রহে তোমাদের মেহনতসমূহের মূল্যায়ন করেন ও কবুল করেন এবং এর উপর তোমাদেরকে ক্ষমা, মাগফিরাত ও প্রতিদান দিয়ে থাকেন। পরকালে ইমানের বরকতে নেকি পাওয়া যাবে এবং গুনাহ মাফ হবে। ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের কারণ।
সুরাতুল আনকাবুত-এর
৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৭
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
“আর যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দেব এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই উত্তম আমলের প্রতিদান দেব, যা তারা করত।”
পেছনের আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—আল্লাহ তা'আলা গোটা পৃথিবীবাসী থেকে নির্মোহ, প্রাচুর্যময় ও অমুখাপেক্ষী। এই আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে যে, নির্মোহ, প্রাচুর্যময় ও অমুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও স্বীয় রহমত এবং অনুগ্রহে তোমাদের মেহনতসমূহের মূল্যায়ন করেন ও কবুল করেন এবং এর উপর তোমাদেরকে ক্ষমা, মাগফিরাত ও প্রতিদান দিয়ে থাকেন। পরকালে ইমানের বরকতে নেকি পাওয়া যাবে এবং গুনাহ মাফ হবে। ইমান ও নেক আমল মাগফিরাতের কারণ।
📄 সূরাতুর-রূম
সুরাতুর-রুম-এর ৩১ ও ৩৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং- ৩১ مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ “তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
মুসলমানদের জন্য বিজয় অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা করছেন। তন্মধ্যে একটি পদ্ধতি হল—তাওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জন করা।
আয়াত নং-৩৩ وَإِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرِّ دَعَوْا رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ “আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান, তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরিক করে।"
কোন কোন লোকের 'রুজু ইলাল্লাহ' তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয়ে থাকে কেবলমাত্র বিপদাপদের সময়। বিপদ যখন কেটে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরকে লিপ্ত হয়ে যায়।
সুরাতুর-রুম-এর ৩১ ও ৩৩ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং- ৩১ مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ “তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
মুসলমানদের জন্য বিজয় অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা করছেন। তন্মধ্যে একটি পদ্ধতি হল—তাওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জন করা।
আয়াত নং-৩৩ وَإِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرِّ دَعَوْا رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ “আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান, তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরিক করে।"
কোন কোন লোকের 'রুজু ইলাল্লাহ' তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন হয়ে থাকে কেবলমাত্র বিপদাপদের সময়। বিপদ যখন কেটে যায় তখন পুনরায় কুফর-শিরকে লিপ্ত হয়ে যায়।
📄 সূরা লুকমান
সুরা লুকমান-এর ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৫ صلى وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبُهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَى مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
"পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।"
হজরত লুকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিলেন- وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ
যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অভিমুখী হওয়ার মধ্যে তাওবাও অন্তর্ভুক্ত।
সুরা লুকমান-এর ১৫ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৫ صلى وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبُهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَى مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
"পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।"
হজরত লুকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিলেন- وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ
যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অভিমুখী হওয়ার মধ্যে তাওবাও অন্তর্ভুক্ত।