📄 সূরা হিজর
সূরা হিজর-এর
৪৯ ও ৫০ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৪৯-৫০ نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ
"আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, আমি নিশ্চয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর আমার আজাবই যন্ত্রণাদায়ক আজাব।"
এটা অনেক বড় সুসংবাদ যে, গুনাহগারদেরকেও নিজের বান্দা আখ্যা দিয়ে স্বীয় মাগফিরাত ও রহমতের সুসংবাদ দিয়েছেন। যেন তারা তাওবা করে বাস্তবেও আল্লাহ তা'আলার বান্দা হয়ে যায়।
📄 সূরাতুন নাহল
সূরাতুন-নাহল-এর ১৮. ১১০. ১১৫ ও ১১৯ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৮ وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"আর যদি তোমরা আল্লাহর নি'আমত গণনা কর, তবে তার ইয়ত্তা পাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
অর্থাৎ তোমাদের এত গুনাহ ও পাপ-পঙ্কিলতা সত্ত্বেও ক্ষমা ও অনুগ্রহ করে স্বীয় নি'আমতসমূহ দান করেন। অথবা উদ্দেশ্য হল- আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহ অসংখ্য। তাঁর নি'আমতের পুরোপুরি শুকরিয়া তোমরা আদায় করতে পারবে না। সুতরাং শুকরিয়া আদায়ে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যায়, আল্লাহ তা'আলা তা ক্ষমা করে দেন এবং এই সামান্য শুকরিয়ার উপর অনেক বেশি প্রতিদান দান করেন। অথবা যে ব্যক্তি নাশুকরি থেকে তাওবা করে শুকরগুজার হয়ে যায় আল্লাহ তা'আলা তাকে মাগফিরাত ও রহমত দান করেন।
আয়াত নং-১১০
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُوا مِن بَعْدِ مَا فُتِنُوا ثُمَّ جَاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তারপর তোমার রব তাদের জন্য, যারা বিপর্যস্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং সবর করেছে, এ সবের পর তোমার রব অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
মক্কায় مسلمانوں উপর কাফিররা প্রচণ্ড জুলুম-অত্যাচার করেছে এবং তাদেরকে কুফরী বাক্য উচ্চারণে বাধ্য হয়ে করেছে। কোন কোন মুসলমান বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে কুফরী বাক্য উচ্চারণ করেছে। তারপর তারা হিজরত করেছে, জিহাদ করেছে এবং অনেক দৃঢ়তার সাথে ইসলামের উপর অটল ছিল। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা গাফুরুর রাহিম তথা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তাদের পেছনের ভুল-ভ্রান্তি মাফ হয়ে গেছে এবং আল্লাহ তা'আলার রহমত নসিবহয়েছে। সাথে সাথে এটাও বুঝা গেল যে, হিজরত ও জিহাদ মাগফিরাতের কারণ।
আয়াত নং-১১৫
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْzِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاعٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তিনি তো তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যে জন্তুর জবেহকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম নেওয়া হয়েছে। তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মুতাবেক গ্রহণ করবে) তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
অর্থাৎ বাস্তবিক অক্ষমতাও মাগফিরাতের কারণসমূহের অন্যতম।
আয়াত নং-১১৯
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِن بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তারপর নিশ্চয় তোমার রব তাদের জন্য, যারা অজ্ঞাতসারে মন্দ কাজ করেছে, এরপর তারা তাওবা করেছে এবং পরিশুদ্ধ হয়েছে। নিশ্চয় তোমার রব এসবের পর পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
তাওবার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা। মহান অনুগ্রহ ও দয়া। অজ্ঞাতসারে বলা হয়েছে এজন্য যে, মানুষ যে গুনাহ ও নাফরমানিই করে চাই তা জেনে- বুঝেই করুক মূলত তা আকলহীন ও অজ্ঞ হয়েই করে। যখন বান্দা তাওবা করে নেয় এবং নেক আমলে লিপ্ত হয়ে যায় তখন আল্লাহ তা'আলা পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেন। চাই তা যত মারাত্মক গুনাহই হোক না কেন।
📄 সূরা বনি ইসরাইল
সুরা বনি ইসরাইল-এর ২৫ ও ৪৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-২৫ رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ إِن تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلْأَوَّابِينَ غَفُورًا
“তোমাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্কে তোমাদের রবই অধিক জ্ঞাত। যদি তোমরা নেককার হও তবে তিনি তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের প্রতি অধিক ক্ষমাশীল।”
অর্থাৎ পিতা-মাতার সম্মান, তাদের খিদমত এবং তাদের সামনে বিনয় এসব কিছুই অন্তর থেকে হওয়া চাই। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের অন্তরের হালাত জানেন। তোমরা যদি বাস্তবেই অন্তর থেকে নেক এবং ভাল হও আর কখনো সাময়িকের জন্য পিতা-মাতার ব্যাপারে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, তারপর এর জন্য তাওবা করে নাও তাহলে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাকারী ও দয়ালু। অন্তরের পবিত্রতা, অন্তরের সংশোধন ও অন্তরের ভাল নিয়ত এসবই মাগফিরাতের কারণসমূহের অন্যতম।
আয়াত নং-৪৪
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
"সাত আসমান ও জমিন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু তাঁর তাসবিহপাঠ করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রসংশায় তাসবিহপাঠ করে না; কিন্তু তাদের তাসবিহ তোমরা বুঝ না। নিশ্চয় তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।”
অর্থাৎ এমন মহান সত্তা, সকল সৃষ্টি যার তাসবিহও ইবাদাতে লিপ্ত। তোমরা তাঁর সাথে শরিক কর, তাঁর জন্য (নাউজুবিল্লাহ) সন্তান সাব্যস্ত কর, এটা এমন অপরাধ যার ফলে তোমাদেরকে সাথে সাথেই ধ্বংস করে দেওয়া হত কিন্তু তিনি হালিম তথা সহনশীল অর্থাৎ সাথে সাথেই প্রতিশোধ নেন না। তিনি গাফুর তথা ক্ষমাপরায়ণ অর্থাৎ তাওবা করলে ক্ষমা করে দেন।
📄 সূরাতুল কাহাফ
সূরাতুল কাহাফ-এর ৫৫ ও ৫৮ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৫৫ وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَىٰ وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا
“আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ইমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আজাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।”
মক্কার কাফিররা যারা ইমান গ্রহণ করছে না এবং স্বীয় কুফরী থেকে তাওবাও করছে না। তারা মূলত নিজেদের উপর আজাবকে দাওয়াত দিচ্ছে। যেন তাদের উপরও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ন্যায় আজাব চলে আসে। অতঃপর এমনটাই হয়েছে এবং বদরের যুদ্ধে আজাবের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে।
আয়াত নং-৫৮
وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ بَل لَّهُم مَّوْعِدُ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْبِلًا
“আর তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন তবে অবশ্যই তাদের জন্য আজাব ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।”
আল্লাহ তা'আলা গাফুর তথা ক্ষমাপরায়ণ এবং যুর-রাহমাহ তথা দয়া ও অনুগ্রহকারী। অর্থাৎ কাফির ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ড তো এমন যে, আজাব আসতে একটুও বিলম্ব হবার নয় কিন্তু আল্লাহ তা'আলার ধৈর্য্য এবং মাগফিরাত সাথে সাথে আজাব আসতে দেয় না। তিনি তাঁর রহমতের কারণে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন এবং অনেক বড় বড় অপরাধীকেও সুযোগ দেন, যেন তাওবা করে নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নেয় এবং ইমান গ্রহণ করে রহমতের উপযুক্ত হয়ে যায়।