📄 সূরা রা‘আদ
সুরা রা'আদ-এর
৬. ২৭ ও ৩০ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-৬ وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ وَقَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِمُ الْمَثَلَاتُ وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِلنَّاسِ عَلَى ظُلْمِهِمْ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ الْعِقَابِ
"আর তারা আপনার নিকট মঙ্গলের পরিবর্তে মন্দের জন্য তাড়াহুড়া করে, অথচ তাদের পূর্বে অনেক (অনুরূপ লোকদের) শাস্তি গত হয়েছে। আর নিশ্চয় তোমার রব মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল তাদের জুলুম সত্ত্বেও এবং নিশ্চয় তোমার রব কঠিন শাস্তিদাতা।"
এই কাফিররা রাগ ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বলে যে, আমরা ইমান আনব না। আমাদের উপর দ্রুত শাস্তি নিয়ে আসো। অথচ পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উপর শাস্তির ঘটনা তাদের সম্মুখে বিদ্যমান। তথাপিও শাস্তি অবতীর্ণ করা কোন কঠিন কাজ নয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা মানুষের গুনাহ ও অপরাধ ক্ষমাকারী। আল্লাহ তা'আলার ক্ষমার এই গুণটিই আজাবকে বাধা দিয়ে রেখেছে। তবে জুলুম-অত্যাচার ও পাপের ধারাবাহিকতা যখন সীমাতিরিক্ত বেড়ে যায় তখন কিন্তু আল্লাহ তা'আলা কঠোর শাস্তিদাতাও বটে।
আয়াত নং-২৯ وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ قُلْ إِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ
"আর যারা কুফরী করেছে, তারা বলে, তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন নাজিল হয় না? বল, নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে তিনি তাঁর দিকে পথ দেখান।"
হিদায়াত সে-ই পায় যে আল্লাহ তা'আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। হিদায়াত নৈকট্যশীলদের জন্য।
আয়াত নং-৩০ كَذَلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهَا أُمَمٌ لِتَتْلُو عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ
“এমনিভাবে আমি আপনাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির নিকট, যার পূর্বে অনেক জাতি গত হয়েছে, যেন আমি আপনার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করেছি, তা তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন। অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বলুন, তিনি আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।”
📄 সূরা ইবরাহিম
সুরা ইবরাহিম-এর ১০. ৩৬ ও ৪১ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
■ আয়াত নং-১০ قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٍّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُوا إِنْ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
"তাদের রাসুলগণ বলেছিল, আল্লাহর ব্যাপারেও কি সন্দেহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেন যাতে তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেন। তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, তোমরা আমাদেরকে আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদাত করত, তা থেকে ফিরাতে চাও। অতএব তোমরা আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আস।"
আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ডাকছেন যে, তোমাদেরকে মাগফিরাত দান করব এবং তোমাদেরকে দুনিয়ার এই আজাব থেকেও বাঁচাব যা কুফর ও পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তিদের উপর নাজিল হয়।
আয়াত নং-৩৬ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ “হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ করেছে, নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হয়েছে, তবে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম দু'আ করেছেন- হে আল্লাহ! আমাকে এবং আমার সন্তানদেরকে মূর্তিসমূহ থেকে বাঁচান। এই মূর্তি ও প্রতীমাসমূহ অনেক লোকের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ। হে আল্লাহ! তাদের মধ্য হতে যে বিশুদ্ধ তাওহিদের উপর চলে এসেছে সে আমার দলভুক্ত। আর যে আমার কথা মানেনি, আপনি তো গাফুরুর রাহিম তথা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আপনি আপনার দয়া ও অনুগ্রহে তাদের তাওবার তাওফিক দিতে পারেন।
আয়াত নং-৪১ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ “হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।"
নিজের জন্য, নিজের পিতা-মাতার জন্য ও সকল ইমানদারের জন্য ইস্তিগফার করা। এই দু'আ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম করেছেন। তবে তিনি পরবর্তীতে তাঁর পিতার জন্য ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা ছেড়ে দিয়েছেন।
📄 সূরা হিজর
সূরা হিজর-এর
৪৯ ও ৫০ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৪৯-৫০ نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ
"আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, আমি নিশ্চয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর আমার আজাবই যন্ত্রণাদায়ক আজাব।"
এটা অনেক বড় সুসংবাদ যে, গুনাহগারদেরকেও নিজের বান্দা আখ্যা দিয়ে স্বীয় মাগফিরাত ও রহমতের সুসংবাদ দিয়েছেন। যেন তারা তাওবা করে বাস্তবেও আল্লাহ তা'আলার বান্দা হয়ে যায়।
📄 সূরাতুন নাহল
সূরাতুন-নাহল-এর ১৮. ১১০. ১১৫ ও ১১৯ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-১৮ وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"আর যদি তোমরা আল্লাহর নি'আমত গণনা কর, তবে তার ইয়ত্তা পাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
অর্থাৎ তোমাদের এত গুনাহ ও পাপ-পঙ্কিলতা সত্ত্বেও ক্ষমা ও অনুগ্রহ করে স্বীয় নি'আমতসমূহ দান করেন। অথবা উদ্দেশ্য হল- আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহ অসংখ্য। তাঁর নি'আমতের পুরোপুরি শুকরিয়া তোমরা আদায় করতে পারবে না। সুতরাং শুকরিয়া আদায়ে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যায়, আল্লাহ তা'আলা তা ক্ষমা করে দেন এবং এই সামান্য শুকরিয়ার উপর অনেক বেশি প্রতিদান দান করেন। অথবা যে ব্যক্তি নাশুকরি থেকে তাওবা করে শুকরগুজার হয়ে যায় আল্লাহ তা'আলা তাকে মাগফিরাত ও রহমত দান করেন।
আয়াত নং-১১০
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُوا مِن بَعْدِ مَا فُتِنُوا ثُمَّ جَاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তারপর তোমার রব তাদের জন্য, যারা বিপর্যস্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং সবর করেছে, এ সবের পর তোমার রব অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
মক্কায় مسلمانوں উপর কাফিররা প্রচণ্ড জুলুম-অত্যাচার করেছে এবং তাদেরকে কুফরী বাক্য উচ্চারণে বাধ্য হয়ে করেছে। কোন কোন মুসলমান বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে কুফরী বাক্য উচ্চারণ করেছে। তারপর তারা হিজরত করেছে, জিহাদ করেছে এবং অনেক দৃঢ়তার সাথে ইসলামের উপর অটল ছিল। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা গাফুরুর রাহিম তথা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তাদের পেছনের ভুল-ভ্রান্তি মাফ হয়ে গেছে এবং আল্লাহ তা'আলার রহমত নসিবহয়েছে। সাথে সাথে এটাও বুঝা গেল যে, হিজরত ও জিহাদ মাগফিরাতের কারণ।
আয়াত নং-১১৫
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْzِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاعٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তিনি তো তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যে জন্তুর জবেহকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম নেওয়া হয়েছে। তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মুতাবেক গ্রহণ করবে) তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
অর্থাৎ বাস্তবিক অক্ষমতাও মাগফিরাতের কারণসমূহের অন্যতম।
আয়াত নং-১১৯
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِن بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তারপর নিশ্চয় তোমার রব তাদের জন্য, যারা অজ্ঞাতসারে মন্দ কাজ করেছে, এরপর তারা তাওবা করেছে এবং পরিশুদ্ধ হয়েছে। নিশ্চয় তোমার রব এসবের পর পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
তাওবার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা। মহান অনুগ্রহ ও দয়া। অজ্ঞাতসারে বলা হয়েছে এজন্য যে, মানুষ যে গুনাহ ও নাফরমানিই করে চাই তা জেনে- বুঝেই করুক মূলত তা আকলহীন ও অজ্ঞ হয়েই করে। যখন বান্দা তাওবা করে নেয় এবং নেক আমলে লিপ্ত হয়ে যায় তখন আল্লাহ তা'আলা পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেন। চাই তা যত মারাত্মক গুনাহই হোক না কেন।