📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সূরাতুল আ’রাফ

📄 সূরাতুল আ’রাফ


সূরাতুল আ'রাফ-এর ২৩. ১৪৩. ১৪৯. ১৫১. ১৫৩. ১৫৫. ১৬১. ১৬২. ১৬৭. ১৬৯ ও ১৯৯ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-২৩
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّমْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“তারা বলল, হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।"

এটি হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও মা হাওয়া আলাইহাস সালামের মাকবুল ইস্তিগফার। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্দেশিত জীবনের ওপর অত্যন্ত প্রভাব সৃষ্টিকারী একটি ইস্তিগফার।

আয়াত নং-১৪৩
وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَكِنِ انظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكَّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ
“আর যখন আমার নির্ধারিত সময়ে মূসা এসে গেল এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন। সে বলল, হে আমার রব, আপনি আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখব। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কখনো দেখবে না। বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, অতঃপর তা যদি নিজ স্থানে স্থির থাকে তবে তুমি অচিরেই আমাকে দেখবে। অতঃপর যখন তার রব পাহাড়ের উপর নূর প্রকাশ করলেন তখন তা চূর্ণ করে দিল এবং মূসা বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। অতঃপর যখন তার হুঁশ আসল তখন সে বলল, আপনি পবিত্র মহান, আমি আপনার নিকট তাওবা করলাম এবং আমি মুমিনদের মধ্যে প্রথম।”

হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করলেন যে, আমি নিজ চোখে আপনাকে দেখতে চাই। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- তুমি আমাকে দেখতে পারবে না। তবে তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও। যদি পাহাড় স্থির থাকে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পারবে। আল্লাহ তা'আলা পাহাড়ের উপর তাজাল্লি দিলেন। পাহাড় তখন টুকরো টুকরো হয়ে গেল এবং হজরত মূসা আলাইহিস সালাম বেহুঁশ হয়ে গেলেন। যখন তার হুঁশ আসল তখন তিনি আল্লাহ তা'আলার তাসবিহাতের মধ্যে লিপ্ত হয়ে গেলেন এবং শোকে বিহ্বল হয়ে সাক্ষাতের যে আবেদন করেছিলেন তার জন্য তাওবা করতে লাগলেন।

سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ
আমি আপনার নিকট তাওবা করলাম এবং আমি মুমিনদের মধ্যে প্রথম।

আয়াত নং-১৪৯
وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
"আর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং দেখল যে, তারা তো পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তারা বলল, যদি আমাদের রব আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।"

বনী ইসরাইলের মধ্যে যে লোকেরা বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছিল তারা যখন হজরত মূসা আলাইহিস সালাম ফিরে আসার পর অনুতপ্ত হল, তাদের অন্তর থেকে ভ্রান্তির জোশ ঠাণ্ডা হয়ে গেল এবং নিজেদের এত বড় গুনাহকে দেখে তাদের জান বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম তখন তারা এই ভাষায় ইস্তিগফার করেছিলেন-

لَئِن لَّমْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
যদি আমাদের রব আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।

আয়াত নং-১৫১
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
"সে বলল, হে আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"

হজরত মূসা আলাইহিস সালাম যখন তাওরাত নিয়ে স্বীয় কওমের নিকট ফিরে আসলেন তখন দেখতে পেলেন যে, তারা বাছুরের উপাসনায় লিপ্ত। তা দেখে হজরত মূসা আলাইহিস সালামের খুব রাগ হল। তখন তিনি তার ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামের উপর রাগ করলেন। হজরত হারুন আলাইহিস সালাম নিজের আপত্তি পেশ করে বললেন যে, আমি এই কওমকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু তারাতো আমার কথা শুনেইনি। বরং উল্টো আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। এখন আপনি আমার সাথে কঠোর আচরণ করে তাদের নিকট আমাকে হাসির পাত্র বানাবেন না এবং আমাকে উক্ত জালিম ও অপরাধীদের মধ্যে গণ্য করবেন না। তার এই আপত্তি শুনে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম নিজের জন্য এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার করলেন। এটি কুরআনুল কারিমে বর্ণিত একটি কার্যকরী ইস্তিগফার-

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْখِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
হে আমার রব, ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াত নং-১৫৩
وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِن بَعْدِهَا وَآمَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"আর যারা খারাপ কাজ করল, তারপর তাওবা করল এবং ইমান আনল, নিশ্চয় আপনার রব এরপরও ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

আয়াত নং-১৫৫
وَاخْتَارَ مُوسَى قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا لِّمِيقَاتِنَا فَلَمَّا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُم مِّن قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَاءُ وَتَهْدِي مَن تَشَاءُ أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ
"আর মূসা নিজ কওম থেকে সত্তরজন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানের জন্য নির্বাচন করল। অতঃপর যখন ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল তখন সে বলল, হে আমার রব, আপনি চাইলে ইতঃপূর্বে এদের ধ্বংস করতে পারতেন এবং আমাকেও। আমাদের মধ্যে নির্বোধরা যা করেছে তার কারণে কি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? এটাতো আপনার পরীক্ষা ছাড়া কিছু না। এর মাধ্যমে যাকে চান আপনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াত দান করেন। আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আপনি উত্তম ক্ষমাশীল।”

বনী ইসরাইলের উপর আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাদের ভুলের কারণে অনেক বড় একটি পরীক্ষা এসেছে। উক্ত পরীক্ষার সময় হজরত মূসা আলাইহিস সালাম দু'আ করেছেন এবং নিজের জন্য ও নিজের কওমের জন্য ইস্তিগফার করেছেন। তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত এসেছে।

এটিও কুরআনুল কারিমে বর্ণিত একটি কার্যকরী ইস্তিগফার-
أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ
আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আপনি উত্তম ক্ষমাশীল।

কী ছিল সেই পরীক্ষা?
হজরত মূসা আলাইহিস সালাম তার নিজ কওমের সত্তরজন বিশেষ ব্যক্তিকে তুর পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা আল্লাহ তা'আলার কালাম তথা কথাবার্তা শুনলেন। কিন্তু তারা বলতে লাগলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আল্লাহ তা'আলাকে স্বচক্ষে না দেখব ততক্ষণ আমরা বিশ্বাস করব না। তখন তাদের উপর প্রচণ্ড ভূমিকম্প আসলো এবং বিজলি চমকানো শুরু হল। তারা সব ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে মারা গেল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম অনেক পেরেশান হয়ে গেলেন। কারণ তার কওম মনে করবে তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে আমিই মেরে ফেলেছি। এর ফলে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম দু'আ করলেন এবং ইস্তিগফার করলেন। তখন তাদের সকলকে দ্বিতীয় বার জীবন দান করা হল। বুঝা গেল যে, সম্মিলিত সমস্যার সমাধানও আল্লাহ তা'আলার দিকে মনোযোগ এবং ইস্তিগফার।

আয়াত নং-১৬১-১৬২
وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ وَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ وَقُولُوا حطَّةُ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطِيئَاتِكُمْ سَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْرًا مِّنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَظْلِمُونَ
"আর স্মরণ করুন, যখন তাদেরকে বলা হল, তোমরা এ জনপদে (বাইতুল মুকাদ্দাস অঞ্চলে) বসবাস কর এবং বল আমাদের ক্ষমা করুন। আর অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ কর। আমি তোমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেব। অবশ্যই আমি সৎকর্মশীলদের বাড়িয়ে দেব। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে যারা জুলুম করেছিল, তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে তারা অন্য কথা বলল। ফলে আমি আসমান থেকে তাদের উপর শাস্তি পাঠালাম, কারণ তারা জুলুম করত।”

বনি ইসরাইলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, বিজিত শহরে প্রবেশ করার সময় ইস্তিগফার করে প্রবেশ করতে। তাহলে এর বরকতে গুনাহ মাফ হবে এবং আরও অধিক বিজয় মিলবে। কিন্তু তারা এই নির্দেশ অমান্য করেছে। তখন আসমান থেকে তাদের উপর আজাব নাজিল হয়েছে।

আয়াত নং-১৬৭
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"আর যখন তোমার রব ঘোষণা দিলেন, অবশ্যই তিনি তাদের উপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত এমন লোকদেরকে পাঠাবেন, যারা তাদেরকে আস্বাদন করাবে নিকৃষ্ট আজাব। নিশ্চয় তোমার রব আজাব প্রদানে খুব দ্রুত এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

ইহুদিদেরকে বলা হয়েছিল যে, আল্লাহ তা'আলা "সারীউল ইকাব” তথা দ্রুত শাস্তিদানকারী। তোমরা যদি অবাধ্যতায় লিপ্ত থাক তাহলে তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের উপর এমন ব্যক্তিকে চাপিয়ে দিতে থাকবেন। যে তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি দেবেন। আর আল্লাহ তা'আলা গাফুরুর রাহিম তথা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তোমরা যখনই অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসবে তখনই তোমাদের মাগফিরাত এবং রহমত নসিব হবে। যে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন যখন অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করবে তখনই আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং রহমত আসতে একটুও বিলম্ব হবে না।

আয়াত নং-১৬৯
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضُ مَّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَاقُ الْكِتَابِ أَن لَّا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
"অতঃপর তাদের পরে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এমন বংশধর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা এ নগণ্য (দুনিয়ার) সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, শীঘ্রই আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। বস্তুত যদি তার অনুরূপ সামগ্রী (আবারও) তাদের নিকট আসে তবে তারা তা গ্রহণ করবে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া বলবে না? আর তারা এতে যা পাঠ করেছে এবং আখিরাতের আবাস তাদের জন্য উত্তম, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। তোমরা কি বুঝ না?"

এই আয়াতে ঐ সকল অপদার্থের বর্ণনা করা হয়েছে, যারা অপরাধ থেকে ফিরে আসে না। তাওবা-ইস্তিগফার করে না। কিন্তু তথাপিও বিশ্বাস করে যে, তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এমন লোকদের জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত মাগফিরাত নেই যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার তাওবা না করবে।

আয়াত নং-১৯৯
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ
“আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করুন এবং ভালো কাজের আদেশ দিন। আর মূর্খদের থেকে বিমুখ থাকুন।”

অর্থাৎ ক্ষমা ও অনুগ্রহের অভ্যাস করুন। কঠোরতা এবং নিষ্ঠুরতা থেকে বেঁচে থাকুন। মানুষের জন্য সহজ করুন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَسِرُّوا وَلَا تُعَسَّرُوا । মানুষের উপর সহজ কর কঠিন করো না।

হজরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেন- وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ । যে আপনার উপর জুলুম করেছে আপনি তাকে ক্ষমা করুন।

কোন কোন সালাফ বলেছেন যে, এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে "মাকারিমে আখলাক তথা উত্তম চরিত্র" শিক্ষা দিয়েছেন এবং কুরআনুল কারিমে মাকারিমে আখলাক তথা উত্তম চরিত্রের উপর এরচেয়ে অধিক ব্যাপক আয়াত আর কোনটাই নেই। ক. ক্ষমা, অনুগ্রহ ও সহজ করার অভ্যাস করা। খ. ভালো কাজের আদেশ এবং দাওয়াত। আর ভালো কাজ হল সে সকল কাজ যেগুলোকে শরীয়াত গ্রহণ করে এবং বিবেক পছন্দ করে। গ. মূর্খ লোকদের থেকে দূরে থাকা। অর্থাৎ তাদের মূর্খতার জবাব মূর্খতা দিয়ে না দেওয়া। তাদের সাথে তর্ক না করা এবং তাদের সাথে চলাফেরায় ধৈর্য্য অবলম্বন করা। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
صِلْ مَنْ قَطَّعَكَ وَاعْطِ مَنْ حَرَمَكَ وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ
ঐ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাকে দান কর যে তোমাকে বঞ্চিত করে এবং তাকে মাফ কর যে তোমার উপর জুলুম করে।

টিকাঃ
[১]. সহিহ বুখারী: হাদিস নং- ৬৯; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং- ১৭৩৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং-১২৩৩৩
[২]. মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং- ১৭৩৩৪

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সূরাতুল আনফাল

📄 সূরাতুল আনফাল


সুরাতুল আনফাল-এর ৪. ২৯. ৩৩. ৩৮. ৬৯. ৭০ ও ৭৪ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৪
أُولَبِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفিরাَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
"তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট উচ্চ মর্যাদাসমূহ এবং ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।"

গনিমতের মাল নিয়ে ঝগড়া করো না। আর এমন পাক্কা মুমিন হও যে সকল কর্মকাণ্ডে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করবে। পরস্পরে সৎ ও কল্যাণকামিতার সাথে চলাফেরা করবে। সামান্য বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ করো না। নিজের আগ্রহ ও নিজের মতামতের উপর নয় বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের উপর চলবে। আল্লাহ তা'আলার আয়াত ও বিধান শুনে তাঁর ইমান ও ইয়াকিন মজবুত হবে। নামাজের পরিপূর্ণ পাবন্দী করবে। সকল কাজে আল্লাহ তা'আলার উপর তাওয়াক্কুল এবং ভরসা করবে। তাঁর নামেই ধন-সম্পদ খরচ করবে। এমন ইমানদারদের জন্য অনেক বড় মর্যাদা, মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিজিকের ওয়াদা।

আয়াত নং-২৯
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّরْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
“হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদের জন্য ফায়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপসমূহ দূর করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।"

ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততির জন্যে আল্লাহ তা'আলার বিধান লঙ্ঘন করো না। যে সম্পদ ও সন্তানের উপর আল্লাহ তা'আলার বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে তাকওয়া অবলম্বন করবে তাকে আল্লাহ তা'আলা বিচারিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং ক্ষমা ও মাগফিরাত দান করবেন।

আয়াত নং-৩৩
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
"আর আল্লাহ এমন নন যে, তাদেরকে আজাব দেবেন এ অবস্থায় যে, তুমি তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাদেরকে আজাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।"

মক্কাবাসীরা বলত যে, হে আল্লাহ! দীন ইসলাম যদি সত্যিই হয় তাহলে আমাদের উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করুন অথবা আমাদেরকে ভয়াবহ আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দিন। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, আজাবের জন্য দুটি বস্তু প্রতিবন্ধক। এক হল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র উপস্থিতি। আর দ্বিতীয় হল কিছু লোকের ইস্তিগফার। মক্কাবাসীরা তাওয়াফের মধ্যে গুফরানাকা গুফরানাকা তথা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন বলত। অথবা মক্কায় যে সকল দুর্বল মুসলমান বিদ্যমান ছিল তারা ইস্তিগফার করতেন। গুনাহগার যখন যখন অনুতপ্ত হয় তখন তাদেরকে পাকড়াও করা হয় না। যদিও অনেক বড় বড় পাপই হোক না কেন।

আয়াত নং-৩৮
قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ وَإِن يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الْأَوَّلِينَ
“যারা কুফরী করেছে আপনি তাদেরকে বলুন, যদি তারা বিরত হয় তাহলে অতীতে যা হয়েছে তাদেরকে তা ক্ষমা করা হবে। আর যদি তারা পুনরায় করে তাহলে পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আল্লাহর) রীতি তো গত হয়েছে।”

অর্থাৎ কাফিররা যদি ইসলামের শত্রুতা ও কুফরী থেকে ফিরে আসে তাহলে তাদের পেছনের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

আয়াত নং-৬৯
فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“অতএব তোমরা যে গনিমত পেয়েছ, তা থেকে হালাল পবিত্র হিসেবে খাও, আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, গনিমতের মাল নিয়ে ঝগড়া করা উচিত নয় এবং বদরের বন্দীদেরকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে না দেওয়া উচিত নয়। এজন্য মুসলমানরা অনেক ভয় পেয়েছে যে, এখন আমরা গনিমতের মালের মধ্যে এবং মুক্তিপণের মালের মধ্যে হাত লাগাতে পারব না। তখন ইরশাদ হয়েছে যে, যা হালাল ও পবিত্র (গনিমতের মাল ও মুক্তিপণের মাল) তোমরা পেয়েছ তা খাও এবং আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। তোমাদের নিয়ত যেহেতু ভাল ছিল তাই আল্লাহ তা'আলা গাফুরুর রাহিম তথা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তোমাদের ঐ সকল ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়েছেন।

আয়াত নং-৭০
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّمَن فِي أَيْدِيكُم مِّنَ الْأَسْرَى إِن يَعْلَمُ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمْ خَيْرًا يُؤْتِكُمْ خَيْرًا مِّمَّا أُخِذَ مِنكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবি, তোমাদের হাতে যে সব যুদ্ধবন্দি আছে, তাদেরকে বলে দাও, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহকে কোন কল্যাণ আছে বলে জানেন, তাহলে তোমাদের থেকে যা নেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে উত্তম কিছু দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে বন্দি হওয়া ব্যক্তিদের জন্য ঘোষণা- তোমাদের অন্তরে যদি বাস্তবেই ইমান এবং কোন কল্যাণ থাকে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মুক্তিপণ হিসেবে প্রদত্ত সম্পদের চেয়ে অধিক সম্পদ এবং তাঁর মাগফিরাত দান করবেন।

কোন কোন বন্দি বলেছিল যে, আমাদেরকে কুরাইশের কাফেলায় বাধ্য করে নিয়ে আসা হয়েছে। মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করার নিয়ত আমাদের ছিল না। অথবা আমরা তো পূর্ব থেকেই মুসলমান ছিলাম। তাদেরকে বলা হয়েছে যে, তোমরা যদি বাস্তবেই মুসলমান হয়ে থাক কিংবা মুসলমান হয়ে যাবে তাহলে দুনিয়াতে সম্পদও মিলবে এবং মাগফিরাত ও রহমতও মিলবে। (মাগফিরাতের শর্ত হল ইমান)।

আয়াত নং-৭৪
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوا وَنَصَرُوا أُولئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“আর যারা ইমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।”

ইমান, হিজরত, জিহাদ ও মুহাজিরদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা এ সবই মাগফিরাতের কারণ।
লَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
| তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজক।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সূরাতুত-তাওবাহ

📄 সূরাতুত-তাওবাহ


সুরাতুত-তাওবাহ-এর ৩. ৫. ১১. ১৫. ২৭. ৪৩. ৬৬. ৭৪. ৮০. ৯১. ১০২. ১০৩. ১০৪. ১০৬. ১১২. ১১৩. ১১৪. ১১৭. ১১৮ ও ১২৬ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৩
وَأَذَانٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ ۚ فَإِن تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيم
“আর মহান হজের দিন (জিলহজের ১০ তারিখ কুরবানীর দিন) মানুষের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুলও। অতএব, যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর যারা কুফরী করেছে, তাদের তুমি যন্ত্রণাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও।”

আয়াত নং-৫
فَإِذَا انسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা করো এবং তাদেরকে পাকড়াও করো, তাদেরকে অবরোধ করো এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাকো। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর জাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

যখন নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন চুক্তি ভঙ্গকারী মুশরিকদেরকে যেখানে পাও সেখানে হত্যা করো, গ্রেপ্তার করো ও ঘেরাও করো এবং তাদেরকে কঠিনভাবে আঘাত কর যেন তাদের কেউ বেঁচে না থাকে। কিন্তু তারা যদি তাওবা করে নেয় এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্বের মধ্যে প্রবেশ করে ফেলে যার বড় নিদর্শন হল সালাত আদায় করা এবং জাকাত প্রদান করা। তখন মুসলমানদের জন্য তাদের সাথে লড়াই করার এবং তাদেরকে হত্যা করার ও গ্রেপ্তার করার কোন অধিকার নেই।

আয়াত নং-১১
فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
"অতএব যদি তারা তাওবা করে, সালাত আদায় করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে দীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই। আর আমি আয়াতসমূহ যথাযথভাবে বর্ণনা করি এমন কওমের জন্য যারা জানে না।"

এমন প্রচণ্ড শত্রুতা, জুলুম ও অপরাধ করা সত্ত্বেও যদি এই মুশরিকরা তাদের কুফর ও শিরক থেকে তাওবা করে নেয়। আর সত্যিকার তাওবার নিদর্শন প্রকাশ করে তথা সালাত এবং জাকাতের যথাযথ গুরুত্বারোপ করে তাহলে তারা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্মানজনক অংশে পরিণত হবে। তারা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে ঐ সকল অধিকারও পাবে যা একজন পুরাতন মুসলমান পেয়ে থাকে।

আয়াত নং-১৫
وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
"আর তাদের অন্তরসমূহের ক্রোধ দূর করবেন এবং আল্লাহ যাকে চান তার তাওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।"

মুসলমান যখন আল্লাহর রাস্তায় কিতাল করে তখন এই বরকতময় আমলের অসংখ্য উপকারীতা প্রকাশ পায়। এই আয়াত ও তার পূর্বের আয়াতে ছয়টি উপকারিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যার মধ্যে ষষ্ঠ উপকারিতা হল জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বরকতে অনেক কাফির এবং অপরাধী তাওবা অভিমুখী হয়ে থাকে এবং ইসলাম গ্রহণ করে চিরস্থায়ী ব্যর্থতা থেকে বেঁচে যায়। আর আল্লাহ তা'আলা যাকে চান তার তাওবা কবুল করেন। অর্থাৎ মুসলমানদের জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বরকতে অনেক কাফিরের সত্যিকারের তাওবার সুযোগ হয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এমনটাই হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে গোটা আরব খাঁটি অন্তরে ইসলামে প্রবেশ করেছে। জিহাদ কুফরের অহংকারকে চূর্ণ করে। তখন তাওবার পথ খোলে।

আয়াত নং-২৭
ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِن بَعْدِ ذَلِكَ عَلَى مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“এরপর আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা তাদের তাওবা কবুল করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বরকতে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মুসলমানদের উপর নুসরাত অবতীর্ণ হয়। সাকিনা নাজিল হয়। কাফিরদের শাস্তি হয়। এর দ্বারা কাফিররা তাওবা অভিমুখী হয় এবং তাদের মধ্য থেকে অনেকেরই সত্যিকারের তাওবা নসিব হয়।

আয়াত নং- ৪৩
عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ
“আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন। তুমি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলে, যতক্ষণ না তোমার কাছে স্পষ্ট হয় তারা যারা সত্য বলেছে এবং তুমি জেনে নাও মিথ্যাবাদীদেরকে।”

তাবুকের যুদ্ধের সময় মুনাফিকরা মিথ্যা উজর বর্ণনা করে মদিনায় থেকে যাওয়ার এবং জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি চাইলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেও না দেখে অনুমতি দিয়ে দিতেন। কেননা তারা সাথে গেলে মুসলমানদের ক্ষতিই হবে। এর উপর বলা হয়েছে যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি অনুমতি না দিতেন তাহলে ভাল ছিল। তাহলে তাদের নিফাক প্রকাশ হয়ে যেত। তারা তো কোন অবস্থাতেই যেত না। যখন ছুটি না পাওয়া সত্তেও তারা ঘরে বসে থাকত, তখন তাদের মিথ্যা প্রকাশ হয়ে যেত।

عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ
“আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন। তুমি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলে।
আয়াতের এই বাক্য থেকে অনুমান করুন ক্ষমা এবং মাগফিরাত কত পছন্দনীয় এবং মহান নিয়ামত যে, তার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধনের শুরুতেই ক্ষমার শব্দ দ্বারা অন্তরের আনন্দ দান করেছেন।

আয়াত নং-৬৬
لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةٌ بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ
“তোমরা ওজর পেশ করো না। তোমরা তোমাদের ইমানের পর অবশ্যই কুফরী করেছ। যদি আমি তোমাদের থেকে একটি দলকে ক্ষমা করে দেই, তবে অপর দলকে আজাব দেব। কারণ তারা হচ্ছে অপরাধী।”

অর্থাৎ মিথ্যা বাহানায় কাজ হবে না। তোমাদের নিফাক এবং দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করার শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। হ্যাঁ! তবে তোমাদের মধ্যে যারা তাওবা করবে এবং নিফাক ছেড়ে সঠিক ইমানের উপর আসবে সে এখনো ক্ষমা পাবে।

আয়াত নং-৭৪
يَحْلِفُونَ بِاللهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِن فَضْلِهِ ۚ فَإِن يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهمْ وَإِن يَتَوَلَّوْا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِن وَلِي وَلَا نَصِيرٍ
“তারা আল্লাহর কসম করে যে, তারা বলেনি, অথচ তারা কুফরী বাক্য বলেছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর কুফরী করেছে। আর মনস্থ করেছে এমন কিছুর যা তারা পায়নি। আর তারা একমাত্র এ কারণেই দোষারোপ করেছিল যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তাঁর স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এরপর যদি তারা তাওবা করে, তবে তা হবে তাদের জন্য উত্তম, আর যদি তারা বিমুখ হয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে বেদনাদায়ক আজাব দেবেন, আর তাদের জন্য জমিনে নেই কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী।"

মুনাফিকরা কুফরি কথাও বলেছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শহিদ করার চেষ্টাও করেছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগ্রহের কারণেই আজ এরা ভাল অবস্থায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিয়েছে। অতঃপর এ সকল অপরাধ সত্ত্বেও তারা যদি তাওবা করে নেয়, তাহলে এটাই তাদের জন্য উত্তম। আর না হয় দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছিত হবে এবং আল্লাহর আজাব থেকে তাদেরকে কেও বাঁচাতে পারবে না। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, 'জুলাস' নামক এক ব্যক্তি এই আয়াত শুনে খাঁটি অন্তরে তাওবা করেছে এবং তার বাকি জীবন ইসলামের খিদমতে উৎসর্গ করে দিয়েছে।

আয়াত নং-৮০
اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ذُلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
“তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দেন না।"

মুনাফিকদের জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যতবারই ইস্তিগফার করুক, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তারা মাগফিরাত পাবে না। কেননা তারা তাদের কুফরের উপর অটল রয়েছে।

আয়াত নং-৯১
لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"কোন দোষ নেই দুর্বলদের উপর, অসুস্থদের উপর ও যারা দান করার মত কিছু পায় না তাদের উপর, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। সৎকর্মশীলদের উপর (অভিযোগের) কোন পথ নেই, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

যে ব্যক্তি বাস্তবেই দুর্বল, অসুস্থ, অক্ষম কিংবা দরিদ্র এবং এই বাস্তব সমস্যার কারণে জিহাদে যেতে পারছে না এবং বাড়িতে থেকে কোন প্রকার মন্দ আচরণ করে না যেমন: অপপ্রচার ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো কিংবা জিহাদে গমণকারীদের নিরুৎসাহিত করা। এমন লোকদের জন্য কোন গুনাহ নেই বরং ক্ষমা ও মাগফিরাত রয়েছে।

আয়াত নং-১০২
وَآخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللهُ أَن يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"আর অন্য কিছু লোক তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে, সৎকর্মের সঙ্গে তারা অসৎকর্মের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। আশা করা যায়, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

একদিকে ঐ সকল মুনাফিকরা যারা তাদের অপরাধকে নিফাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এবং নিজেদের নিফাকের উপর কঠিনভাবে অটল থাকে। এমন লোকেরা ক্ষমার অযোগ্য। কিন্তু অপর দিকে ঐ সকল মুসলমান যারা নেক আমলও করে আবার তাদের থেকে কিছু মন্দ কাজ এবং ভুল-ভ্রান্তিও হয়ে যায়। তবে তারা স্বীয় ভুল-ভ্রান্তির জন্য অনুতপ্ত হয় এবং তা স্বীকার করে। যেমন: ঐ সকল মুসলমান যারা নিফাকের কারণে নয় বরং অলসতার কারণেই তাবুকের যুদ্ধে যায়নি। পরে তাদের এই ভুলের জন্য অনুতপ্ত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো নিজেকে মসজিদে নববীর খুঁটির সাথে বেঁধে রেখেছে। তাদের অতীতে অনেক নেক আমলও ছিল। যেমন: পূর্বের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এই আয়াতে এমন মুসলমানদেরকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই আয়াতে ঐ মুসলমানদের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সুসংবাদ যারা নেক আমল করে তবে তাদের থেকে কিছু গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তিও হয়ে যায়। কিন্তু তারা তাদের গুনাহকে বৈধ মনে করে না এবং উক্ত গুনাহের উপর অটলও থাকে না। বরং তাদের অন্তর এটা স্বীকার করে যে, আমার থেকে বাস্তবেই ভুল হয়ে গেছে। এর জন্য সে তাওবা-ইস্তিগফার করে এবং এর জন্য সদকা করে পবিত্রতা অর্জন করে।

আয়াত নং-১০৩
خُذْ مِنْ أَمْوالِهِمْ صَدَقَةً تُطهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَلٌّ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দু'আ কর, নিশ্চয় তোমার দু'আ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"

সাদাকা মানুষকে গুনাহের ক্ষতি থেকে পাক-পবিত্র করে এবং ধন-সম্পদের মধ্যে বরকত বৃদ্ধি করে। আর ঐ যুগে তো সাদাকার সাথে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু'আও পাওয়া যেত। যার মধ্যে সাদাকা গ্রহণকারীদের জন্য অনেক সুখ ও প্রশান্তির ব্যাপার ছিল। বর্তমানেও মুসলমান নেতৃবৃন্দের উচিত সাদাকা গ্রহণকারী মুসলমানদের জন্য দু'আ করা।

তাওবার দ্বারা গুনাহ মাফ হয়ে যায়। অর্থাৎ এর উপর শাস্তি ও জবাবদিহিতা অবশিষ্ট থাকে না। কিন্তু সম্ভবত গুনাহের স্বভাবজাত প্রভাব ও ক্ষতি কিছুটা হলেও অবশিষ্ট থেকে যায়। যা সাধারণ নেক আমলের দ্বারা বিশেষভাবে সাদাকা করার মাধ্যমে বিদূরিত হয়।

আয়াত নং-১০৪
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
"তারা কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং সাদাকা গ্রহণ করেন। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।"

ইমানদারদের জন্য সুসংবাদ, তাওবা ও সাদাকার গুরুত্বারোপ। কোন কোন লোকের তাওবা এবং সাদাকা কবুল না হওয়ার কারণ।

কত বড় অনুগ্রহ যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং সাদাকাও কবুল করেন। পাক-পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির এই উভয় দরজাই সর্বদা খোলা রেখেছেন। আর আল্লাহ তা'আলা 'আত-তাওয়্যাব' তথা তাওবা কবুলকারী এবং 'আর-রাহিম' তথা পরম দয়ালু। দ্বিতীয় ইশারা হল তাওবা ও সাদাকা কবুল করা, এটা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছাধীন এবং তিনিই জানেন যে, কার তাওবা প্রকৃত তাওবা এবং কার সাদাকা একনিষ্ঠ। এজন্য মুনাফিকদের তাওবা ও তাদের সাদাকা গ্রহণযোগ্য নয়। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলাই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

আয়াত নং-১০৬
وَآخَرُونَ مُرْجَوْنَ لِأَمْرِ اللَّهِ إِمَّا يُعَذِّبُهُمْ وَإِمَّا يَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
"আর আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হল। তিনি তাদেরকে আজাব দেবেন নয়তো তাওবা কবুল করবেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।"

তাবুকের যুদ্ধে না যাওয়া কিছু মুসলমান যারা তাদের অবস্থা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বর্ণনা করেছে। এরা ছিল মোট তিনজন। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাদের বিষয়টি আপাতত স্থগিত। যার ফলে এই ব্যক্তিদের সাথে মুসলমানগণ সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। দীর্ঘ পঞ্চাশ দিন পরে তাদের তাওবা কবুল হয়েছে।

আয়াত নং-১১২
القَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ
“তারা তাওবাকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হেফাজতকারী। আর মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।”

ঐ সকল মুখলিস এবং মুজাহিদ ইমানদারগণ যাদের জীবন ও সম্পদ আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। আর তাদের জন্য অনেক বড় সফলতার সুসংবাদ দিয়েছেন। তাদের অনেক গুণের মধ্যে প্রথম গুণ হল তারা তাওবাকারী।

আয়াত নং-১১৩-১১৪
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ
"নবি ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী। নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহিম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল।"

মুসলমানদের জন্য একদমই জায়েজ নেই যে, ঐ মুশরিকদের জন্য ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা যারা শিরকে লিপ্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। চাই তারা তাদের অনেক নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়টি মূলত তিনি তাঁর পিতার সাথে এ বিষয়ে ওয়াদাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে যায় যে, এটা আল্লাহ তা'আলার দুশমন তখন তার জন্য ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা ছেড়ে দেন।

আয়াত নং-১১৭-১১৮
لقَد تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيعُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَن لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
“অবশ্যই আল্লাহ নবি, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তার অনুসরণ করেছে সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তে। তাদের মধ্যে এক দলের হৃদয় সত্যচ্যুত হওয়ার উপক্রম হবার পর। তারপর আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু। আর সে তিন জনের (তাওবা কবুল করলেন), যাদের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এমনকি পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের নিকট তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। আর তারা নিশ্চিত বুজেছিল যে, আল্লাহর আজাব থেকে তিনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই। তারপর তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন, যাতে তারা তাওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।”

আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাওবার বৃষ্টি। তাওবা তথা বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ, বিশেষ তাওয়াজ্জুহ বা মনোযোগ।

তাবুকের যুদ্ধের সময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ও তাঁর ঐ সকল সঙ্গী-সাথীদের উপর যারা এমন কঠিন মুহূর্তেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সঙ্গ দিয়েছেন। এটা আল্লাহ তা'আলার তাওবা তথা বিশেষ অনুগ্রহের ফসল ছিল যে, তারা এমতাবস্থায়ও দৃঢ়পদ ছিল।

অতঃপর ঐ তিন সাহাবীরও তাওবা কবুল হয়ে গেল যাদের বিষয়টি স্থগিত ছিল। আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর তাওবা তথা বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। এই অনুগ্রহের ফলে তারা প্রকৃত তাওবা করেছে। আল্লাহ তা'আলা তাওবা কবুলকারী। এই দুই আয়াতে তাওবা শব্দটি তার নিজস্ব জ্যোতি ও অর্থের সাথে সমুজ্জ্বলভাবে আলোকিত হয়ে এসেছে।

সম্মানীত পাঠকদেরকে এই দুই আয়াতে বর্ণিত তিন সাহাবীর তাওবার ঘটনাটি অন্য কোন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে পাঠ করে নেওয়ার অনুরোধ রইল।

আয়াত নং-১২৬
أَوَلَا يَرَوْনَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُونَ فِي كُلِّ عَامٍ مَّرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوبُونَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ
“তারা (মুনাফিকরা) কি দেখে না যে, তারা প্রতি বছর এক বার কিংবা দু'বার বিপদগ্রস্ত হয়? এরপরও তারা তাওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।"

পরীক্ষা তো এজন্য আসে যে, বান্দার অন্তর কোমল হবে এবং তাওবা ও নেক কাজের প্রতি মনোযোগী হবে। কিন্তু যাদের অন্তরে পুরোপুরিভাবে নিফাক বেঁকে বসেছে তাকে বার বার পরীক্ষা করা সত্ত্বেও তাওবার তাওফিক হয় না। এটা বড়ই দুর্ভাগ্যের কথা।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সূরা ইউনুস

📄 সূরা ইউনুস


সুরা ইউনুস-এর ৯০. ৯১. ৯৮ ও ১০৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত নং-৯০-৯১ وَجَاوَзْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْرًا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ الْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
“আর আমি বনি ইসরাইলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফির'আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন বলল, আমি ইমান এনেছি যে, সে সত্তা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যার প্রতি বনি ইসরাইল ইমান এনেছে। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। এখন অথচ ইতঃপূর্বে তুমি নাফরমানী করেছ, আর তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত।”
ফির'আউন তার বাহিনী নিয়ে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর কওমের পিছু ধাওয়া করল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর কওমকে আল্লাহ তা'আলা সমুদ্র পার করে দিলেন। কিন্তু ফির'আউন এবং তার বাহিনী যখন সমুদ্রের মাঝখানে পৌছল তখন পানি মিলে গেল এবং তারা সবাই ডুবে যেতে লাগল। ঐ সময় ফির'আউন জীবন বাঁচানোর জন্য ইমানের স্বীকারোক্তি দিল। তাকে বলা হয়েছে যে, গোটা জীবন নাফরমানী করে এখন আজাব দেখে তাওবা করে, ইমান আনছো? এমন তাওবা আর এমন ইমান গ্রহণযোগ্য নয়। রূহ বের হওয়ার সময় এবং আজাব দেখার পর যে ইমান আনা হয় সেই ইমান গ্রহণযোগ্য নয়।
আয়াত নং-৯৮ فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ
“সুতরাং কেন হল না এমন এক জনপদ, যে ইমান এনেছে এবং তার ইমান তার উপকারে এসেছে? তবে ইউনুসের কওম ছাড়া যখন তারা ইমান আনল, তখন আমি তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাকর আজাব সরিয়ে দিলাম এবং আমি তাদেরকে একটি সময় পর্যন্ত ভোগ করতে দিলাম।"
খোদায়ী আজাবের নিদর্শন প্রকাশ হওয়ার পর কোন কওমের এমন ইমান গ্রহণের অবকাশ হয়নি যা আজাবকে টলাতে পারে। তবে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের কওম আজাবের নিদর্শন দেখে খাঁটি অন্তরে ইমান গ্রহণ করে ফেলেছে। তাদের ইমানের কারণে তারা খোদায়ী আজাব থেকে বেঁচে গেছে।
আয়াত নং-১০৭ وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।”
আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে কোন ক্ষতি করতে চান তাহলে তা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কেউ টলাতে পারে না। আর আল্লাহ তা'আলা যার উপর তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ করতে চান তাহলে কারও শক্তি নেই যে, তাকে বঞ্চিত করে। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপর ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহ করেন এবং উক্ত বান্দার গুনাহসমূহও ক্ষমা করে দেন।

সুরা ইউনুস-এর ৯০. ৯১. ৯৮ ও ১০৭ নং আয়াতে তাওবা, ইস্তিগফার ও মাগফিরাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত নং-৯০-৯১
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْرًا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ الْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
“আর আমি বনি ইসরাইলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফির'আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন বলল, আমি ইমান এনেছি যে, সে সত্তা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যার প্রতি বনি ইসরাইল ইমান এনেছে। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। এখন অথচ ইতঃপূর্বে তুমি নাফরমানী করেছ, আর তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত।”

ফির'আউন তার বাহিনী নিয়ে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর কওমের পিছু ধাওয়া করল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর কওমকে আল্লাহ তা'আলা সমুদ্র পার করে দিলেন। কিন্তু ফির'আউন এবং তার বাহিনী যখন সমুদ্রের মাঝখানে পৌছল তখন পানি মিলে গেল এবং তারা সবাই ডুবে যেতে লাগল। ঐ সময় ফির'আউন জীবন বাঁচানোর জন্য ইমানের স্বীকারোক্তি দিল। তাকে বলা হয়েছে যে, গোটা জীবন নাফরমানী করে এখন আজাব দেখে তাওবা করে, ইমান আনছো? এমন তাওবা আর এমন ইমান গ্রহণযোগ্য নয়। রূহ বের হওয়ার সময় এবং আজাব দেখার পর যে ইমান আনা হয় সেই ইমান গ্রহণযোগ্য নয়।

আয়াত নং-৯৮
فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ
“সুতরাং কেন হল না এমন এক জনপদ, যে ইমান এনেছে এবং তার ইমান তার উপকারে এসেছে? তবে ইউনুসের কওম ছাড়া যখন তারা ইমান আনল, তখন আমি তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাকর আজাব সরিয়ে দিলাম এবং আমি তাদেরকে একটি সময় পর্যন্ত ভোগ করতে দিলাম।"

খোদায়ী আজাবের নিদর্শন প্রকাশ হওয়ার পর কোন কওমের এমন ইমান গ্রহণের অবকাশ হয়নি যা আজাবকে টলাতে পারে। তবে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের কওম আজাবের নিদর্শন দেখে খাঁটি অন্তরে ইমান গ্রহণ করে ফেলেছে। তাদের ইমানের কারণে তারা খোদায়ী আজাব থেকে বেঁচে গেছে।

আয়াত নং-১০৭
وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عিবَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।”

আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে কোন ক্ষতি করতে চান তাহলে তা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কেউ টলাতে পারে না। আর আল্লাহ তা'আলা যার উপর তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ করতে চান তাহলে কারও শক্তি নেই যে, তাকে বঞ্চিত করে। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপর ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহ করেন এবং উক্ত বান্দার গুনাহসমূহও ক্ষমা করে দেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px