📄 গ্রন্থ পরিচিতি
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে মাগফিরাতকামী বানিয়ে দিন এবং আমাদের সকলকে তাঁর দয়ায় মাগফিরাতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।
মাগফিরাত শব্দটি অনেক ব্যাপক। মাগফিরাত কোন সাধারণ বস্তু নয়। কুরআনুল কারিমে দেখা যায় যে, হজরত আদম আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। হজরত নূহ আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উভয় সম্মানিত পয়গাম্বরই বলছেন যে, হে আল্লাহ! আমি যদি মাগফিরাত বা ক্ষমা না পাই তাহলে তো আমি ধ্বংস হয়ে যাব। আল্লাহ তা'আলার খলিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলার কালিম হজরত মূসা আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
দেখুন কুরআনুল কারিমে কত আশ্চর্যজনক দৃশ্য। ফিরআউন তার পরিপূর্ণ ফিরআউনিয়াতের সাথে ইমান আনয়নকারী জাদুকরদেরকে ধমকাচ্ছে, আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের সাথে উপুড় করে লটকিয়ে রাখব। আমি তোমাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাব। আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিয়ে তিলে-তিলে মারব। ইমান আনয়নকারী জাদুকররা বললেন, কোন অসুবিধা নেই। তুমি এগুলো সবকিছু করে ফেল। আমাদের আকাঙ্ক্ষা শুধু এতটুকুই যে, আমরা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মাগফিরাত তথা ক্ষমা পেয়ে যাই। মাগফিরাত তথা ক্ষমার প্রত্যাশায় তোমার সকল নির্যাতন সহনীয়।
মাগফিরাত তথা ক্ষমার জন্যে জবাই করে হত্যা করা, উল্টো করে ঝুলিয়ে হত্যা করা সবকিছু মনজুর। তারা দেখেছে হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এরা সকলেই নিষ্পাপ পয়গাম্বর।
সগিরা-কবিরা সকল প্রকার গুনাহ থেকেও পবিত্র। তথাপিও তারা কীভাবে ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। কেননা তারা আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন। এত মহান রব। এত মহান। এত মহান। আর আমরা এত ক্ষুদ্ররা এমন মহান রবের হক কি করে আদায় করতে পারি? আমরা কি তাঁর সম্মান ও মর্যাদা অনুযায়ী ইবাদাত করতে পারি? হে আল্লাহ মাফ করে দাও। হে আল্লাহ মাগফিরাত দান কর। কুরআনুল কারিম ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিপূর্ণ মাগফিরাত দান করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মদিনার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনন্দের সীমা নেই। তিনি বললেন আজ তো এমন সুরা নাযিল হয়েছে যা আমার নিকট সকল বস্তু থেকে প্রিয়। অতঃপর মাগফিরাতের শুকরিয়া স্বরূপ পূর্বের চেয়ে ইবাদাত-বন্দেগি আরও বাড়িয়ে দিলেন। মেহনত বাড়িয়ে দিলেন। বলুন তো তাহলে আমাদের মত গুনাহগার ও অকর্মণ্যদেরও কি মাগফিরাত মিলবে? এটা চিন্তা করেই কলিজা কেঁপে উঠে। কখনো ভয়ে চুপসে যাই আবার কখনো আশার আলোও দেখতে পাই। মাগফিরাত! মাগফিরাত! মাগফিরাত।
এই মাগফিরাত কামনা করাকেই ইস্তিগফার বলে। ইস্তিগফার অর্থ হল মাগাফিরাত কামনা করা। ক্ষমা প্রার্থনা করা। মাগফিরাত তালাশ করা। মাগফিরাতের প্রত্যাশায় মনে আগ্রহ জেগেছিল, কুরআনুল কারিমের মাগফিরাত, তাওবা ও ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহকে একত্রিত করব। কুরআনুল কারিমের ইস্তিগফার ও তাওবা সংক্রান্ত দু'আসমূহ একত্রিত করব। বহু বছর যাবৎ অন্তরে এই ইচ্ছা লালন করে আসছি। ইচ্ছাটি শুধু মনে-মনেই পোষণ করছিলাম কিন্তু আমলে রূপান্তর হচ্ছিল না। ইতোমধ্যে তাওবা ও ইস্তিগফারের উপর কিছু লেখার তাওফিক হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! অনেক চমৎকার ফলাফল এসেছে। অতঃপর ইস্তিগফারের ধারাবাহিক আমল চলছে এবং এর উপর লেখারও তাওফিক হয়েছে। মা শা'আল্লাহ! অনেক আশাব্যঞ্জক ফলাফলও পেয়েছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হল, ধারাবাহিক ইস্তিগফার জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে অনেক উপকৃত করেছে। মুজাহিদদের মাঝে নিজেদের জন্য এবং অন্যদের জন্য ইস্তিগফারের উৎসাহ-উদ্দীপনা এক ঝড়ের ন্যায় আবির্ভূত হয়েছে এবং দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর ঐ বান্দাদের প্রশংসা করেন যারা ভোর রাতে মাগফিরাত কামনা করে তথা ইস্তিগফার করে। যেমন কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
। "আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকত।"
আলহামদুলিল্লাহ! এই অবস্থাও মজবুত হয়েছে। ফিদায়ী মুজাহিদরা আবেদন করেছে, ইস্তিগফারের ধারাবাহিকতা বার বার চালানো হোক। একদিনে ত্রিশ হাজার বার ইস্তিগফারের আমলও অনেক হয়েছে। দৈনিক একহাজার বার ইস্তিগফার অসংখ্য ব্যক্তির ওযিফা হয়েছে। ফিদায়ী মুজাহিদদের অন্তর থাকে আয়নার মত পরিষ্কার। আর ইস্তিগফারের মর্যাদা তো আহলে দিলগণই বুঝে থাকেন। প্রিয়তমকে সন্তুষ্ট করা, প্রিয়তমের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, প্রিয়তমের নিকট বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মনযোগ আকর্ষণের সবিনয় অনুরোধ করা, নিজের কোন আমলের উপর অহংকার না করা বরং ক্ষমা প্রার্থনাই করে যাওয়া। এটা ঐ আমল যা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে দেয়। যা নফসকে পবিত্র করে দেয়। যা পর্দাকে ছিন্ন করে বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এ সকল অবস্থা দেখে আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায় যে, ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহ একত্রিত করব।
📄 একটি বিষয় বুঝুন
কুরআনুল কারিম কোন একটি বিষয়ের আয়াতকে একত্রে বর্ণনা করেনি। তাওহিদের আয়াত হোক কিংবা সালাতের। জিহাদের আয়াত হোক কিংবা ইস্তিগফারের। ঘটনাবলী সংক্রান্ত আয়াত হোক অথবা পরকালের চিন্তা-ভাবনা সংক্রান্ত। সবরকম আয়াত পুরো কুরআনুল কারিম জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এমনটি করে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের উপর অনুগ্রহ। [১] করেছেন। কুরআনুল কারিমের যদি মানবরচিত গ্রন্থের ন্যায় প্রতিটি বিষয়ের আয়াত একত্রিত হত। আমরা অনেক কল্যাণ এবং অনেক ইলম থেকে বঞ্চিত হয়ে যেতাম। মানুষের মনে যখন নতুন কোন কথা স্মরণ হয় তখন অতীতের কথা ভুলে যায়। আমরা প্রথমে তাওহিদের আয়াত পাঠ করতাম। যা আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকত। কিন্তু যখন ঐ আলোচনা সমাপ্ত হত আর আমরা নামাজের শত শত আয়াত একত্রে পাঠ করতাম, তখন তাওহিদের সবক স্মৃতি থেতে হারিয়ে যেত। অতঃপর যখন জিহাদের শত শত আয়াত আরম্ভ হত তখন নামাজের শত শত আয়াত দুর্বল হয়ে যেত।
আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেছেন যে, কুরআনুল কারিমে সকল প্রয়োজনীয় বিষয়কে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছেন। যার ফলে প্রতিটি সবক প্রতিটি স্থানে তাজা থাকে এবং মানুষ মনোযোগ ছাড়াই বিবেককে আলোকিত করতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয় যখন পরস্পর একত্রিত হয় এবং একেকটি আয়াতে কয়েক প্রকার সবক পাওয়া যায় তখন মানুষের স্মৃতিশক্তি ও তার ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়ে যায়। আপনি কুরআনুল কারিমের যেকোন পৃষ্ঠা খুলুন। আপনি শুধুমাত্র একটি বিষয়ই পাবেন না বরং প্রতিটি পৃষ্ঠায় মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়ের পথ পেয়ে যাবেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
এটা তো শুধুমাত্র একটি হিকমতের কথা বললাম। মূলত আল্লাহ তা'আলার – প্রতিটি কাজে অসংখ্য হিকমত রয়েছে। মানুষ যখন চিন্তা-ভাবনা করে তখন হিকমতের দরজাসমূহ খুলতে থাকে। এখন দ্বিতীয় বিষয়টি বুঝুন। এটা কি জায়েয আছে যে, কোন ব্যক্তি পরিশ্রম করে কুরআনুল কারিম থেকে একটি বিষয়ের আয়াতসমূহ এক স্থানে একত্রিত করবে? অতঃপর নিজেও এগুলো থেকে উপকৃত হবে এবং অন্যদেরকেও উপকৃত করবে। হ্যাঁ! এটা জায়েয আছে। অনেক উত্তম কাজ এবং বহু উপকারী ও লাভজনক। কুরআনুল কারিমের যেকোন একটি বিধান সংক্রান্ত আয়াত একত্রিত করে তা বুঝলে তখন উক্ত বিধানের সকল নিয়ম-কানুন অন্তর ও বিবেকে বসে যায়। অতঃপর যখন মানুষ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করে তখন তাতে তার আরো অধিক স্বাদ ও উপকার লাভ হয়।
বিশেষ করে বর্তমান যুগে যখন আফসোস যে, অধিকাংশ মুসলমান কুরআনুল কারিমের অর্থ জানে না। অর্থাৎ তাদের এটাও জানা নেই যে, তার খালিক ও মালিক তার হিদায়াতের জন্য যে সংবিধান নাযিল করেছেন তা কী? এমতাবস্থায় কোন একটি বিষয়ের আয়াতসমূহকে একত্রিত করে সেই বিষয়টি মুসলমানদেরকে বুঝানো অতঃপর অন্য আরেকটি বিষয়ের আয়াতসমূহ একত্রিত করে উক্ত বিষয়টি বুঝানো একটি উপকারী ও লাভজনক খিদমত। এটা কুরআনুল কারিম থেকে ছিন্ন করা নয় বরং মুসলমানদেরকে কুরআনুল কারিমের সাথে জোড়া।
টিকাঃ
[১] আয-যারিয়াত- ৫১: ১৮
📄 আলোর ঝলক
তাওবা ও ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহ একত্রিত করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু জীবনের বিশৃঙ্খলা, কূল-কিনারাহীনতা, সাহসের দুর্বলতা এবং সময়ের স্বল্পতার কারণে হচ্ছিল না। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে একটি আসমানী ইশারা যেন দৃষ্টিগোচর হল। একজন মুজাহিদ আমাকে অনেক প্রভাবিত করেছেন। তার ত্যাগ ও কুরবানী, জীবন উৎসর্গ ও শহিদি মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা অন্তরে অনেক প্রভাব বিস্তার করল। তিনি তার কথা এবং তাশকিল শেষ করে চলে গেলেন এবং যাওয়ার সময় কুরআনুল কারিমের চমৎকার একটি কপি হাদিয়া দিয়ে গেলেন। এমন হাদিয়া তো এমনিতেই বরকতময় হয়ে থাকে। আর সেখানে এত বড় ত্যাগ ও কুরবানীদাতা মহান মর্দে মুমিনের হাদিয়া।
ব্যাস! আমি নিয়ত করে ফেললাম যে, ইন শা' আল্লাহ এই পবিত্র কপিটি থেকেই আমি ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহ একত্রিত করব। সেই শহিদ ভাইটি এমন কোন ওসিয়াত কিংবা আবেদন করেননি। তিনি শুধু কুরআনুল কারিমের কপিটি হাদিয়া পাঠিয়েছেন। আমার জানা নেই তিনি কোন দু'আ আশা করেছেন কি-না। প্রিয় মানুষদের তো নিজস্ব ভঙ্গি ও নিজস্ব আন্দাজ থাকে। এই শহিদ ভাই অনেক ত্যাগ ও কুরবানীওয়ালা ছিলেন। তিনি চিঠিতে লিখেছেন যে, আমি আপনাকে কয়েকবারই দেখেছি কিন্তু আপনি আমাকে দেখেননি। আপনার সাথে সাক্ষাতের প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার আবেদন করিনি। আমি আমার এই প্রবল ইচ্ছাটিও আল্লাহ তা'আলার জন্য কুরবানী করছি। ব্যাস! আমি অনুমতি চাই। তিনি চলে গেলেন।
কুরআনুল কারিমের কপিটি দিয়ে গেলেন। কয়েক দিন পরেই আমি আমার এক ভাইয়ের সাথে বসে দুই দফা তিলাওয়াতের সময় তাওবা ও ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহ দাগ দিয়েছি। আমার ধারণা ছিল না যে, এই বিষয়ের উপরও শত শত আয়াত বিদ্যমান। সাধারণ তিলাওয়াত এবং সাধারণ তাফসীরের সময় অধিকাংশই এর ধারণা হয় না। আয়াতের সংখ্যাও ছিল ধারণার চেয়ে অধিক। এজন্য পুনরায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল এবং আমি সফরে-হজরে কুরআনুল কারিমের এই কপিটি সাথে নিয়ে ঘুরতাম।
আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, এ আয়াতসমূহের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা লিখে দেই। এ কাজটি যদিও "ফাতহুল জাওয়াদ” এর কাজের মত কঠিন ছিল না। সেটা অনেক ইলমী সতর্কতা ও পরীক্ষিত কাজ ছিল। একেবারে নতুন এবং নির্বাচিত কাজ ছিল। সেই "ফাতহুল জাওয়াদ"ও যদি সাধারণ দৃষ্টিতে পাঠ করা হয় তাহলে এমনই মনে হবে যে, এটাও সাধারণ একটি কাজ। আয়াত এবং তরজমা লিখে দিয়েছে এবং নিচে তাফসির গ্রন্থসমূহ থেকে ইবারত বা মূলপাঠ সংযোজন করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং এমন কোন আলেম যার জীবনের বহু বছর কেটেছে তাফসির অধ্যয়ন ও তাফসীরের পঠন-পাঠনে। তিনি যদি "ফাতহুল জাওয়াদ" গ্রন্থটি দেখেন তাহলে বুঝবেন যে, এটা কতটা কঠিন কাজ ছিল। একটি বিষয়ের আয়াত একত্রিত করা, উক্ত আয়াতসমূহের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা, উক্ত লক্ষ্যের আলোকে আসলাফ তথা পূর্বসূরীদের মতামত একত্রিত করা, অতঃপর বর্তমানকে অতীতের সাথে সংযোগ এবং জিহাদ অস্বীকারের ফিতনার মূলোৎপাটনের প্রতিটি দলিলকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে খণ্ডন করা। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ছিল তাই কাজ হয়ে গেছে। বাস্তবে না আমার সামর্থ্যের ভেতর ছিল, না প্রকৃতার্থে এতে আমার কোন কৃতিত্ব ছিল। বর্তমান যুগের শুহাদায়ে কেরামের ত্যাগ ও কুরবানীর উপর আল্লাহ তা'আলার দয়া ও অনুগ্রহ হয়েছে যে, জিহাদ এমন গ্রহণযোগ্য দলীল-প্রমাণের দ্বারা আলোকিত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
তবে "ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াত" এর কাজ সহজ ছিল। কেননা কোন মুসলমানই ইস্তিগফারকে অস্বীকার করে না। হ্যাঁ! এ সম্পর্কে অলসতার সমস্যা প্রকট। অস্বীকার আর অলসতার মাঝে অনেক পার্থক্য। অলসতা দূর করার জন্য দলিলের চেয়েও অধিক দাওয়াত এবং স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন হয়। তাই কাজ সহজই ছিল কিন্তু তারপরও কুরআনুল কারিমের প্রতিটি কাজ বিশেষ আদব, বিশেষ মনোযোগ ও বিশেষ সময় কামনা করে। সুতরাং এই বিশেষ মনোযোগ এবং বিশেষ সময়ের সন্ধানে দুই-তিন বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং কুরআনুল কারিমের লাল গিলাফওয়ালা কপিটি সফরে-হজরে আমার সাথেই ছিল।
📄 ইস্তিগফারের উপর দ্বিতীয় মেহনত
এমতাবস্থায় চিন্তা-ভাবনা তো ছিল যে, এ কাজটি অনেক দ্রুতই সমাপ্ত করার যেন নিজের মাগফিরাত তথা ক্ষমার একটু পুঁজি হয়ে যায়। যেহেতু ইস্তিগফার এবং তাওবার বিষয়ে অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত একত্রিত হচ্ছিল। এক তো হল রঙ্গে-নূর ওয়েবসাইটের কোন-কোন আলোচনা। দ্বিতীয়ত ইস্তিগফার সংক্রান্ত প্রবন্ধ-নিবন্ধ। তৃতীয়ত ইস্তিগফারের শাব্দিক আলোচনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ। চতুর্থ হল তাওবা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ। পঞ্চম হল ইস্তিগফারের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ। ষষ্ঠ হল ইস্তিগফার সম্পর্কে ইমাম গাজালী রাহি.-এর জ্ঞানগর্ব আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং ব্যাখ্যা আর সপ্তম হল ইস্তিগফার এবং তাওবার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও পার্থক্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদি।
আলহামদুলিল্লাহ! এ সকল কাজ একত্রিত হচ্ছিল এবং সাথে সাথে তার সংকলনের কাজও চলছিল। অতঃপর তা বিন্যস্তের কাজও সমাপ্ত হয়। বিন্যস্তের পর অধম এই পুরো পাণ্ডুলিপিটি দ্বিতীয়বার পাঠ করার পর অন্তর আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠে। তাই পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে অনেক দূরের একটি মসজিদে চলে যাই এবং সেখানে গিয়ে এই কাজকে দৈনিক নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রতিজ্ঞা করি। আলহামদুলিল্লাহ! আয়াতসমূহের উপর কাজ শুরু হয় এবং দেড় মাসের মধ্যে সমাপ্ত হয়।
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَيْمُ الصَّالِحَاتِ