📄 সূরাতুল ফাতিহা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। দয়াময়, পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা আপনারই ইবাদাত করি এবং আমরা আপনার নিকটই সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল পথ দেখান। পথের হিদায়াত দিন। তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।”১।
টিকাঃ
[১]. ফাতিহা- ১: ১-৭
📄 দরূদ শরিফ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
“হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, যেরূপ রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, যেরূপ বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, সম্মানিত."১।
টিকাঃ
[১]. সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৩৩৭০; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৪০৫; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৯৭৮; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৪৮৩; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ১২৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৯০৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৩৯৬
📄 সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ আপনিই আমার রব, আপনাকে ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে করা প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গিকারের উপর রয়েছি। আমি আমার সকল কৃতকর্মের কুফল থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই। আপনি আমার প্রতি আপনার যে নিয়ামত দান করেছেন তা স্বীকার করছি এবং স্বীকার করছি আমার পাপরাশি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ আপনি ছাড়া কেউ ক্ষমা করতে পারবে না."[১]
টিকাঃ
[১]. সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩০৩; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৫০৭০; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৩; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৫৫২২; সুনানে ইবনে মাজাহঃ হাদিস নং ৩৮৭২; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৭১১১
📄 গ্রন্থ পরিচিতি
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে মাগফিরাতকামী বানিয়ে দিন এবং আমাদের সকলকে তাঁর দয়ায় মাগফিরাতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।
মাগফিরাত শব্দটি অনেক ব্যাপক। মাগফিরাত কোন সাধারণ বস্তু নয়। কুরআনুল কারিমে দেখা যায় যে, হজরত আদম আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। হজরত নূহ আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উভয় সম্মানিত পয়গাম্বরই বলছেন যে, হে আল্লাহ! আমি যদি মাগফিরাত বা ক্ষমা না পাই তাহলে তো আমি ধ্বংস হয়ে যাব। আল্লাহ তা'আলার খলিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলার কালিম হজরত মূসা আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
দেখুন কুরআনুল কারিমে কত আশ্চর্যজনক দৃশ্য। ফিরআউন তার পরিপূর্ণ ফিরআউনিয়াতের সাথে ইমান আনয়নকারী জাদুকরদেরকে ধমকাচ্ছে, আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের সাথে উপুড় করে লটকিয়ে রাখব। আমি তোমাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাব। আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিয়ে তিলে-তিলে মারব। ইমান আনয়নকারী জাদুকররা বললেন, কোন অসুবিধা নেই। তুমি এগুলো সবকিছু করে ফেল। আমাদের আকাঙ্ক্ষা শুধু এতটুকুই যে, আমরা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে মাগফিরাত তথা ক্ষমা পেয়ে যাই। মাগফিরাত তথা ক্ষমার প্রত্যাশায় তোমার সকল নির্যাতন সহনীয়।
মাগফিরাত তথা ক্ষমার জন্যে জবাই করে হত্যা করা, উল্টো করে ঝুলিয়ে হত্যা করা সবকিছু মনজুর। তারা দেখেছে হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এরা সকলেই নিষ্পাপ পয়গাম্বর।
সগিরা-কবিরা সকল প্রকার গুনাহ থেকেও পবিত্র। তথাপিও তারা কীভাবে ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। কেননা তারা আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন। এত মহান রব। এত মহান। এত মহান। আর আমরা এত ক্ষুদ্ররা এমন মহান রবের হক কি করে আদায় করতে পারি? আমরা কি তাঁর সম্মান ও মর্যাদা অনুযায়ী ইবাদাত করতে পারি? হে আল্লাহ মাফ করে দাও। হে আল্লাহ মাগফিরাত দান কর। কুরআনুল কারিম ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিপূর্ণ মাগফিরাত দান করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মদিনার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনন্দের সীমা নেই। তিনি বললেন আজ তো এমন সুরা নাযিল হয়েছে যা আমার নিকট সকল বস্তু থেকে প্রিয়। অতঃপর মাগফিরাতের শুকরিয়া স্বরূপ পূর্বের চেয়ে ইবাদাত-বন্দেগি আরও বাড়িয়ে দিলেন। মেহনত বাড়িয়ে দিলেন। বলুন তো তাহলে আমাদের মত গুনাহগার ও অকর্মণ্যদেরও কি মাগফিরাত মিলবে? এটা চিন্তা করেই কলিজা কেঁপে উঠে। কখনো ভয়ে চুপসে যাই আবার কখনো আশার আলোও দেখতে পাই। মাগফিরাত! মাগফিরাত! মাগফিরাত।
এই মাগফিরাত কামনা করাকেই ইস্তিগফার বলে। ইস্তিগফার অর্থ হল মাগাফিরাত কামনা করা। ক্ষমা প্রার্থনা করা। মাগফিরাত তালাশ করা। মাগফিরাতের প্রত্যাশায় মনে আগ্রহ জেগেছিল, কুরআনুল কারিমের মাগফিরাত, তাওবা ও ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহকে একত্রিত করব। কুরআনুল কারিমের ইস্তিগফার ও তাওবা সংক্রান্ত দু'আসমূহ একত্রিত করব। বহু বছর যাবৎ অন্তরে এই ইচ্ছা লালন করে আসছি। ইচ্ছাটি শুধু মনে-মনেই পোষণ করছিলাম কিন্তু আমলে রূপান্তর হচ্ছিল না। ইতোমধ্যে তাওবা ও ইস্তিগফারের উপর কিছু লেখার তাওফিক হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! অনেক চমৎকার ফলাফল এসেছে। অতঃপর ইস্তিগফারের ধারাবাহিক আমল চলছে এবং এর উপর লেখারও তাওফিক হয়েছে। মা শা'আল্লাহ! অনেক আশাব্যঞ্জক ফলাফলও পেয়েছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হল, ধারাবাহিক ইস্তিগফার জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে অনেক উপকৃত করেছে। মুজাহিদদের মাঝে নিজেদের জন্য এবং অন্যদের জন্য ইস্তিগফারের উৎসাহ-উদ্দীপনা এক ঝড়ের ন্যায় আবির্ভূত হয়েছে এবং দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর ঐ বান্দাদের প্রশংসা করেন যারা ভোর রাতে মাগফিরাত কামনা করে তথা ইস্তিগফার করে। যেমন কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
। "আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকত।"
আলহামদুলিল্লাহ! এই অবস্থাও মজবুত হয়েছে। ফিদায়ী মুজাহিদরা আবেদন করেছে, ইস্তিগফারের ধারাবাহিকতা বার বার চালানো হোক। একদিনে ত্রিশ হাজার বার ইস্তিগফারের আমলও অনেক হয়েছে। দৈনিক একহাজার বার ইস্তিগফার অসংখ্য ব্যক্তির ওযিফা হয়েছে। ফিদায়ী মুজাহিদদের অন্তর থাকে আয়নার মত পরিষ্কার। আর ইস্তিগফারের মর্যাদা তো আহলে দিলগণই বুঝে থাকেন। প্রিয়তমকে সন্তুষ্ট করা, প্রিয়তমের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, প্রিয়তমের নিকট বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মনযোগ আকর্ষণের সবিনয় অনুরোধ করা, নিজের কোন আমলের উপর অহংকার না করা বরং ক্ষমা প্রার্থনাই করে যাওয়া। এটা ঐ আমল যা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে দেয়। যা নফসকে পবিত্র করে দেয়। যা পর্দাকে ছিন্ন করে বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এ সকল অবস্থা দেখে আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায় যে, ইস্তিগফার সংক্রান্ত আয়াতসমূহ একত্রিত করব।