📄 কিছু কাজ লোক দেখানো বা শির্ক বলে মনে হয় মূলত তা নয়:
১- ভালো কাজে কাউকে প্রশংসা করা। যেমন:
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْمَلُ الْعَمَلَ مِنَ الْخَيْرِ، وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ؟ قَالَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ»
আবু যার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করা হল, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কি অভিমত, যে নেক আমল করে এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে? তিনি বললেন, এতো মুমিন ব্যক্তির জন্য তা আগাম সুসংবাদ (এতে কাজটি কবুল হওয়ার লক্ষণ বুঝা যায়)।²
২- গুনাহ সম্পর্কে আলোচনা করা, অথচ আল্লাহ গুনাহ প্রকাশ করাকে অপছন্দ করেন এবং গোপন রাখা পছন্দ করেন। হাদীসে এসেছে,
فَمَنْ أَصَابَ مِنْ هَذِهِ الْقَاذُورَاتِ شَيْئًا، فَلْيَسْتَتِرُ بِسِتْرِ اللَّهِ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়েছে সে যেন আল্লাহর গোপনীয়তায় নিজেকে গোপন রাখে”।¹
৩- রিয়া তথা লোকদেখানো ভয়ে ভালো কাজ ছেড়ে দেওয়া। কেননা এটা শয়তানের ষড়যন্ত্র। ইবরাহীম নাখ'য়ী রহ. বলেছেন, “যখন তুমি সালাতে থাকো তখন শয়তান এসে বলে তুমি তো মানুষকে দেখানোর জন্য সালাত পড়ছ, তখন তুমি সালাত আরো দীর্ঘ করো”।
৪- আবেদ বান্দাহকে দেখে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ জন্মানো। ইমাম মাকদিসী রহ. বলেন, “কেউ অধিক ইবাদতকারীর সাথে রাত্রি যাপন করলে তার অল্প ইবাদত করার অভ্যাস থাকলে সে যদি উক্ত ব্যক্তির দ্বারা উৎসাহিত হয়ে বেশি সালাত ও সাওম পালন করে তবে কেউ হয়ত ভাবতে পারে এটা রিয়া তথা লৌকিকতা। আসলে ব্যাপারটা মোটেও এরূপ নয়। বরং এতে ফায়েদা আছে। মূলত সব মু'মিনই আল্লাহর ইবাদত করতে চায়, কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি ও অলসতার কারণে সম্ভব হয়ে উঠে না, তখন অন্যের কারণে সে অলসতা দূর হয়ে যায়”।¹
নিজেকে ইখলাস থেকে নিরাশ মনে করা উচিত নয়, যেমন বলা যে, এটা শক্তিশালী মুখলিস বান্দাই করতে সক্ষম, আমি তাদের তুলনায় কোথায়? এতে ইখলাস অর্জনে সে চেষ্টা ছেড়ে দেয়। অথচ যার মধ্যে ইখলাসের ঘটতি আছে তার ইখলাস সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।²
৫- গুনাহের কথা আলোচনা না করা ও গোপন রাখা:
عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ، وَإِنَّ مِنَ المُجَاهَرَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلًا، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ، فَيَقُولَ: يَا فُلاَنُ، عَمِلْتُ البَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا ، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ ، وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ "
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয়ই এ বড় ধৃষ্টতা যে, কোনো ব্যক্তি রাতে অপরাধ করলো যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে ভোের হলে বলে বেড়াতে লাগলো, হে অমুক! আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করলো যে, আল্লাহ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর পর্দা খুলে ফেললেন"।¹
৬- প্রত্যাশা ছাড়াই সুনাম সুখ্যাতি অর্জিত হলে, শির্কের ভয়ে আমল ছেড়ে দেওয়া। ফুদাইল ইবন 'ইয়াদ রহ. বলেন, “লোক দেখানোর ভয়ে আমল ছেড়ে দেওয়া রিয়া, আর লোক দেখানোর জন্য আমল করা শির্ক, আল্লাহ তোমাকে এ থেকে মুক্ত রাখা হলো ইখলাস”।²
ইমাম নাওয়াবী রহ. এ কথার ব্যাখ্যায় বলেন, তার কথার উদ্দেশ্য হলো কেউ কোনো ইবাদত করার ইচ্ছা পোষণ করলে লৌকিকতার ভয়ে তা ছেড়ে দিলে রিয়া হিসেবে গণ্য হবে, কেননা মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দিলে নফল আমল হলে হয়ত সে নির্জনে সালাত আদায় করবে, আর তা মুস্তাহাবও বটে, কিন্তু ফরয সালাত হলে অথবা ফরয যাকাত হলে বা উক্ত ব্যক্তি এমন বিজ্ঞ আলেম হলে যাকে মানুষ অনুসরণ করে, এরূপ অবস্থায় প্রকাশ্যে ইবাদত করাই উত্তম।³
৭- ব্যক্তির ইচ্ছা ছিল ইবাদত গোপনভাবে করা এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই করা, কিন্তু মানুষ যদি জেনে যায় তবে বুঝতে হবে আল্লাহ তা'আলা তার ইবাদতের সৌন্দর্য মানুষের মাঝে প্রকাশ করেছেন, তখন মানুষের প্রশংসা ও সম্মানের আশা না করে আল্লাহর এ সুন্দর কাজে খুশি হওয়া এবং আল্লাহ তার গুনাহ গোপন করায় আনন্দিত হওয়া প্রয়োজন।
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْمَلُ الْعَمَلَ مِنَ الْخَيْرِ، وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ؟ قَالَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ»
আবু যার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করা হল, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কি অভিমত, যে নেক আমল করে এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে? তিনি বললেন, এতো মুমিন ব্যক্তির জন্য তা আগام সুসংবাদ (এতে কাজটি কবুল হওয়ার লক্ষণ বুঝা যায়)।¹
ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, যে ব্যক্তির নিয়মিত দুহা (চাশত) এর সালাত বা তাহাজ্জুদ বা অন্য সালাতের অভ্যাস আছে সে যেখানেই থাকুক সে সালাত পড়ে নিবে। লোক দেখানো ও ইখলাসের পরিপন্থী না হলে শুধুমাত্র মানুষের মাঝে থাকার তারা তার এ গোপন ইবাদতের কথা জেনে যাবে এ কথা ভেবে উক্ত ইবাদত বাদ দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরো বলেন, কেউ শুধুমাত্র রিয়ার ধারণা করে জায়েয কাজ থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করলে তা নিন্মোক্ত কারণে গ্রহণযোগ্য হবে না:
১- কোনো জায়েয কাজ শুধুমাত্র রিয়ার ভয়ে বাদ দেওয়া যাবে না, বরং তা ইখলাসের সাথে করতে আদেশ দেওয়া হবে।
২- শরি'আত যা নিষেধ করেছে শুধু তাই নিষেধ করা যাবে।
إِنِّي لَمْ أُومَرْ أَنْ أَنْقُبَ عَنْ قُلُوبِ النَّاسِ وَلَا أَشْقَ بُطُونَهُمْ»
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেঁড়ে (ঈমানের উপস্থিতি) দেখার জন্য বলা হয় নি”।¹
৩- এভাবে করতে অনুমতি দিলে শির্ক ও বাতিলপন্থীরা দীনদার ও সৎ লোকের শরি'আতসিদ্ধ ভালো কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। যখনই তারা কোনো জায়েয কাজ দেখবে তখন তারা বলে বেড়াবে 'এটা লোক দেখানোর জন্য করা হচ্ছে'। ফলে হকপন্থীরা জায়েয কাজটি প্রকাশ পেয়ে যাবে এ ভয়ে ছেড়ে দিবে। এভাবে ভালো কাজ বাদ পড়ে যাবে।
৪- তাছাড়া এটা মুনাফিকের চরিত্র। তাদের অভ্যাস হলো, যারা ভালো কাজ প্রকাশ্যভাবে করে তাদেরকে দোষারোপ করা।
الَّذِينَ يَلْمِرُونَ الْمُطَوّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴾ [التوبة : ٧٩]
“যারা দোষারোপ করে সদাকার ব্যাপারে মুমিনদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাদানকারীদেরকে এবং তাদেরকে যারা তাদের পরিশ্রম ছাড়া কিছুই পায় না। অতঃপর তারা তাদেরকে নিয়ে উপহাস করে, আল্লাহও তাদেরকে নিয়ে উপহাস করেন এবং তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব”। [আত্-তাওবা: ৭৯]
শাইখ ইবন 'উসাইমীন রহ. বলেন, ইবাদত নষ্টকারী হিসেবে রিয়া দু'প্রকার:
প্রথমত: যেটা মূল ইবাদতের মধ্যে হবে। এ ধরণের হলে তার আমল বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য হবে।
দ্বিতীয়ত: যা কোনো কারণবশত ইবাদতের মধ্যে পাওয়া গেছে। এ ধরণের রিয়া আবার দু'প্রকার:
প্রথম: রিয়াটি দূর করা হবে। এতে কোনো ক্ষতি হবে না।
দ্বিতীয়: রিয়াটি ইবাদতের সঙ্গে থাকবে। রিয়াটি যদি ইবাদতের সঙ্গে যুক্ত থাকে তা আবার দু'প্রকার:
প্রথমটি: যে সব ইবাদতের শেষ অবস্থা শুরু অবস্থার উপর নির্ভরশীল, যেমন সালাত। তাহলে উক্ত ইবাদতটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
টিকাঃ
২. মুসলিম, হাদীস নং ২৬৪২।
১. মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ১২। সুনানে সগীর লিলবাইহাকী, হাদীস নং ২৭১৯।
১. মিনহাজুল ক্বাসেদীন, পৃষ্ঠা ২৩৪।
২. মিনহাজুল ক্বাসেদীন, পৃষ্ঠা ২২৯।
১. বুখারী, হাদীস নং ৬০৬৯।
২. কিতাবুল ইখলাস, পৃষ্ঠা ২৫-২৭, সংক্ষেপিত।
৩. শরহে আরবা'উন, পৃষ্ঠা ১১।
১. মুসলিম, হাদীস নং ২৬৪২।
১. বুখারী, হাদীস নং ৪৩৫১, মুসলিম, হাদীস নং ১০৬৪।
📄 ইসলাম সম্পর্কিত কিছু সূক্ষ্ম বিষয়:
রিয়া দু'প্রকার। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য।
প্রকাশ্য রিয়া হলো যা সরাসরি আমলটির প্রেরণা যোগায় ও যে কারণে কাজটি করা হয়।
আর অপ্রকাশ্য রিয়া হলো যে কারণে আমলটি করা হয় না, বরং সে আমলটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয় কিন্তু তাতে রিয়ার অনুপ্রবেশ ঘটে, তা আমলটিকে হালকা করে দেয়। যেমন, কোনো ব্যক্তির তাহাজ্জুদ সালাতের অভ্যাস আছে, তবে তা মাঝে মাঝে তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় যদি তার কাছে কোনো মেহমান আসে এবং এতে তার উৎসাহ বাড়ে এবং কাজটি করা সহজ হয়ে দেখা দেয় তবে বুঝতে হবে সেটি রিয়া খফি বা অপ্রকাশ্য রিয়া।
এর চেয়েও খফি রিয়া আছে যা আমল ও সহজ হওয়ার মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলে না। এর উৎকৃষ্ট আলামত হলো মানুষ কাজটি জানলে সে আনন্দিত হয়। কিছু মুখলিস আবেদ আছেন যারা আমলের ক্ষেত্রে রিয়া করেন না, বরং রিয়া অপছন্দ করেন, কিন্তু মানুষ তাদের আমলটি জানলে তারা খুশি হন। এতে করে অন্তর থেকে ইবাদতের তীব্রতা কমে যায়। এ ধরণের খুশি রিয়া খফির অন্তর্ভুক্ত। আর রিয়া হলো মানুষকে দেখানোর জন্য ইবাদত করা।¹
টিকাঃ
১. দেখুন, আল কাওলুল মুফিদ ফি কিতাবিত তাওহীদ।
১. ফাওয়াহদুল আহকাম, ১/১৪৭।
📄 রিয়ার কিছু সূক্ষ্ম ও অপ্রকাশ্য দিক:
ইখলাসের অভাবে মানুষের অনেক ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। এটা হয়ত রিয়া, সুনাম সুখ্যাতি, অহমিকা ইত্যাদির কারণে হতে পারে। রিয়া হলো লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করা, যাতে লোক তার প্রশংসা করে এবং সে এর দ্বারা নিজের বড়ত্ব, প্রশংসা, আকাঙ্ক্ষা ও ভীতি প্রকাশ করেন।
সুম'আ বলতে বুঝায় মানুষের সুনাম সুখ্যাতি শোনার জন্য ইবাদত করা। অতএব রিয়া মানুষের চোখের সাথে সম্পৃক্ত আর সুম'আ শ্রবণের সাথে সম্পৃক্ত।
আর 'উজব তথা অহমিকা বিষয়টি রিয়ার কাছাকাছি। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এ দুয়ের মাঝে পার্থক্যে বলেছেন, রিয়া হলো সৃষ্টি জগতের সাথে শির্ক করা আর 'উজব হলো নিজের নফসের সাথে শির্ক করা।
📄 রিয়ার তিনটি সূক্ষ্ম দিক:
প্রথমত: আবু হামেদ গাযালী রহ. খফি রিয়া সম্পর্কে আলোচনায় বলেছেন, এর চেয়েও খফি কিছু রিয়া আছে যা ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত প্রকাশ করতে চান না এমনকি তার আনুগত্য প্রকাশেও খুশি হন না, তবে মানুষ তার সাথে মিলিত হলে তিনি চান যে, তারা প্রথমে সালাম করুক বা মানুষ তার সাথে হাসি খুশি ও সম্মানের সাথে সাক্ষাৎ করুক, তার প্রশংসা করুক বা তারা তার প্রয়োজন দূর করুক অর্থাৎ তার অবস্থা এমন যে, তিনি সুপ্তভাবে তাদের আনুগত্যে ও সম্মান কামনা করেন। অথচ সে এরূপ না করলেও মানুষ তাকে যথাযথ সম্মান করত।²
দ্বিতীয়ত: ইখলাসকে দুনিয়াবী উদ্দেশ্য যথা প্রজ্ঞা, সম্মান, পার্থিব ধন সম্পদ ইত্যাদি হাসিলের মাধ্যম বানানো।
তৃতীয়ত: ইবন রজব রহ. বলেছেন, মানুষের মাঝে কেউ নিজেকে দোষারোপ করে; যাতে মানুষ তার বিনয় নম্রতা দেখে তাকে আরো সম্মান ও প্রশংসা করে। এটা খুব সূক্ষ্ম রিয়া। আমাদের সৎপূর্বসূরীরা এ ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। মুতাররিফ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন শিখখির রহ. বলেছেন, “মানুষের নিজের প্রশংসার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে লোকের সামনে নিজের দোষারোপ করবে যেন সে এ নিন্দার দ্বারা নিজের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করল, আর এটা আল্লাহর কাছে খুবই বোকামী কাজ”।¹ বস্তুত আল্লাহর আনুগত্যের উপর ধৈর্যধারণ করা তিন প্রকারের। আনুগত্য করার পূর্বে, আনুগত্য করার সময় ও আনুগত্য করার পরে ধৈর্যধারণ করা।
চতুর্থত: কখনও কেউ নিজে রিয়া করাকে অপছন্দ করে তবে অন্য কেউ তার আমলের কথা উল্লেখ করে প্রশংসা করে তখন তার অপছন্দতা লক্ষ্য করা যায় না বরং আনন্দ অনুভব করে এবং এতে ইবাদতের কিছু কষ্ট লাঘব হয় বলে তার মনে হয়। এটাও সুক্ষ্ণ রিয়া²
টিকাঃ
২. আল-ইহইয়া, ৩/৩০৫-৩০৬।
১. কিতাবুল ইখলাস ওয়াশশির্ক, ডঃ আব্দুল আযীয আব্দুল লতিফ, পৃষ্ঠা ৪৬।
২. আল-ইখলাস, আল-'আওয়ায়িশাহ, পৃষ্ঠা ৭১।