📘 ইখলাস > 📄 ইখলাসের পরিচিত:

📄 ইখলাসের পরিচিত:


ইখলাসের শাব্দিক অর্থ হল অন্য জিনিসের সংমিশ্রণের থেকে মুক্ত হয়ে নির্মল, পরিচ্ছন্ন ও আলাদা হওয়া, খালি করা, পরিস্কার করা। যেমন বলা হয়,
هذا الشيء خالص لك: أي لا يشاركك فيه غيرك والخالص من الألوان عندهم ما صفا ونصع. ويقولون خالصة في العشرة: صافاه
“এ জিনিসটি খালেসভাবে তোমার। অর্থাৎ এতে কারো অংশীদার নেই। খালেস রং বলতে বুঝায়, যা নির্মল ও পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যেমন আরো বলা হয়, এটি খালেসভাবে দশজনের, অর্থাৎ শুধু দশজনের জন্যই বিশেষিত।¹
যেমন কুরআনে এসেছে,
وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ﴾ [الكهف: ١١٠]
“এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে”। [সূরা: আল-কাহফ: ১১০]
'ইয্য ইবন আব্দুস সালাম রহ. বলেন, ইখলাস হচ্ছে, বান্দাহ কর্তৃক একমাত্র আল্লাহর জন্যই আনুগত্য করা, এতে মানুষের থেকে কোনো সম্মান ও মর্যাদা প্রত্যাশা না করা, দীনি কোনো ফায়েদা কামনা বা দুনিয়াবী কোন ক্ষতি থেকে রক্ষার কোনো আশা না করা। ²
সাহল ইবন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, বান্দাহর স্থিরতা, নড়াচড়া সব কিছুই একমাত্র মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে করার নাম হলো ইখলাস।
কেউ কেউ বলেন, অন্তরকে একমাত্র আল্লাহর জন্য খালি করাকে ইখলাস বলে। অর্থাৎ তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোনো ব্যস্ততা না রাখা। আর এটা সর্বোচ্চ দরজার ইখলাস। ³
আবার কেউ কেউ বলেন, ইখলাস হলো সৃষ্টজগতের কারো পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনার ভয় না করে একমাত্র আল্লাহর জন্য আমল করা।
হারওয়ী রহ. বলেন, ইখলাস হচ্ছে, (শির্ক, বিদ'আত ইত্যাদির) সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত থেকে পরিচ্ছন্ন আমল করা।
কেউ কেউ বলেন, মুখলিস হলো যিনি তার অন্তরের সঠিকতা ও সততার জন্য আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনে মানুষের সম্মান বা অসম্মানের কোনো পরোয়া করেন না। তার আমলের সামান্য পরিমাণও মানুষের কাছে প্রকাশ করেন না।
আবু আব্দুল্লাহ তুসতারী রহ. কে জিজ্ঞেস করা হলো, “কোন জিনিসটি নফসের সবচেয়ে বেশি কঠিন? তিনি বললেন, ইখলাস; কেননা এতে নফসের কোনো অংশ নেই”।
সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, “আমার নিয়‍্যাতের চেয়ে কোন কিছুতে বেশি প্রচেষ্টা চালাই নি। এটা খুব দ্রুত পরিবর্তনশীল”। ¹
মোটকথা হলো, ইবাদত বন্দেগী, যাবতীয় সৎকর্ম সম্পাদন ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি সব কিছুই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার নাম ইখলাস।

টিকাঃ
১. মাকাসিদুল মুকাল্লিফীন, পৃষ্ঠা ৩৫৯।
২. মাজমু 'উল ফাতাওয়া, ১১/৮১।
৩. মাকাসিদুল মুকাল্লিফীন, পৃষ্ঠা ৩৫৮।
১. কিতাবুল ইখলাস, আব্দুল আযীয আব্দুল লতিফ, সংগৃহীত।

📘 ইখলাস > 📄 ইসলামে ইখলাসের স্থান:

📄 ইসলামে ইখলাসের স্থান:


ইখলাস হলো দীনের মূলভিত্তি। এটা সব রাসূলের দাওয়াতের বিষয়বস্তু ছিল। আল্লাহ বলেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ﴾ [البينة: ٥]
“আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর 'ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়; আর এটিই হল সঠিক দীন”। [সূরা আল্-বায়্যিনা: ৫]
আল্লাহ আরো বলেন,
قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّينَ وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ ﴾ [الزمر: ١١، ١٢]
“বল, 'নিশ্চয় আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমি যেন আল্লাহর ইবাদাত করি তাঁর-ই জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে'। আমাকে আরো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি প্রথম মুসলিম হই”। [সূরা: আয-যুমার: ১১-১২]
আল্লাহ আরো বলেন,
أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَذِبٌ كَفَّارُ ﴾ [الزمر: ٣]
“জেনে রেখ, আল্লাহর জন্যই বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে, 'আমরা কেবল এজন্যই তাদের 'ইবাদাত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।' যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে আল্লাহ নিশ্চয় সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যাবাদী কাফির, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না”। [সূরা আয-যুমার: ৩]
আল্লাহ অন্যত্র বলেন,
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ [الملك: ٢]
“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল”। [সূরা আল্-মুলক: ২]
মুখলিসদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেছেন,
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلصًا وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا ﴾ [مريم: ٥١]
“আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসাকে। অবশ্যই সে ছিল মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী”। [সূরা মারইয়াম: ৫১]
ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ، وَهَمَّ بِهَا لَوْلَا أَن رَّمَا بُرْهَانَ رَبِّهِ كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ ﴾ [يوسف: ٢٤]
“আর সে মহিলা তার প্রতি আসক্ত হল, আর সেও তার প্রতি আসক্ত হত, যদি না তার রবের স্পষ্ট প্রমাণ প্রত্যক্ষ করত। এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দূর করে দেই। নিশ্চয় সে আমার খালেস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত”। [সূরা: ইউসুফ: ২৪]
এমনিভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ ﴾ [البقرة: ١٣٩]
“বল, 'তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করছ অথচ তিনি আমাদের রব ও তোমাদের রব? আর আমাদের জন্য রয়েছে আমাদের আমলসমূহ এবং তোমাদের জন্য রয়েছে তোমাদের আমলসমূহ এবং আমরা তাঁর জন্যই একনিষ্ঠ”। [সূরা আল-বাকারা: ১৩৯]
তাছাড়া ইখলাস ছাড়া কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। হাদীসে এসেছে,
حَدَّثَنِي ابْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ طَلَبَ العِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ العُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ
কা'ব ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্যে ইলম তালাশ করে যে, সে তা দিয়ে আলিমদের সঙ্গে বিতর্ক করবে বা অজ্ঞ-মুর্খদের সামনে বিদ্যা ফলাবে এবং নিজের দিকে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন"।¹
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا، لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইলমকে দুনিয়া লাভের আশায় অর্জন করলো, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না”।²
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشَّرَكَاءِ عَنِ الشَّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي، تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ "
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বরকতময় মহান আল্লাহ বলেন, আমি শরীকদের শির্ক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যাতে আমার সাথে অন্যকে শরীক করে আমি তাকে ও তার শির্ককে প্রত্যাখ্যান করি”।¹
ফুদাইল ইবন 'ইয়াদ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তোমার আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সহীহভাবে করো। তাঁকে বলা হলো, হে আবু আলী, ."أخلصه وأصوبه" এর অর্থ কি? তিনি বলেন, কোনো আমল যদি একমাত্র আল্লাহর জন্য করা হয় কিন্তু তা যদি সহীহভাবে না করা হয় তবে তা কবول করা হবে না। আবার কাজটি যদি সঠিকভাবে করা হয় তবে তাতে যদি ইখলাস না থাকে তবে তাও কবুল করা হবে না। আমলটি একমাত্র আল্লাহর জন্য ও সহীহভাবে করতে হবে। খালিস হলো আল্লাহর জন্য হওয়া আর সাওয়াব মানে সুন্নত অনুযায়ী সম্পাদন করা।²
আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ ﴾ [المائدة: ٢٧]
“আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকে গ্রহণ করেন”। [আল-মায়েদা: ২৭]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, এ আয়াতে মানুষ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। দু'দল বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িতে আছে আর অন্য দল মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। খারেজীরা মনে করেন, কবিরা গুনাহ থেকে বিরত না থাকলে তাদের থেকে আল্লাহ কোনো আমল কবুল করবেন না। তাদের মতে কবিরা গুনাহকারীর কাছ থেকে কোনো ভালো আমল কখনও কবুল করা হয় না।
অন্যদিকে মুরজিয়া সম্প্রদায় মনে করেন, যারা শির্ক থেকে বেঁচে থাকে তাদের থেকে সৎ আমল কবুল করা হয়।
আর সালাফে সালেহীন ও আলেমগণ মনে করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় একমাত্র তাঁর জন্যই কাজটি করে তার থেকেই উক্ত কাজটি কবুল করা হয়।¹

টিকাঃ
১. তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৫৪। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন, হাদীসটি গরীব। আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
২. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৬৬৪। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৫২।
১. মুসলিম, হাদীস নং ২৯৮৫।
২. মিনহাজুস সুন্নাহ, ৬/২১৭।
১. পূর্বসূত্র, মিনহাজুস সুন্নাহ, ৬/২১৭।

📘 ইখলাস > 📄 স্বল্প আমল সত্বেও ইখলাসের কারণে তার সাওয়াব অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়:

📄 স্বল্প আমল সত্বেও ইখলাসের কারণে তার সাওয়াব অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়:


এ ব্যাপারে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে:
عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ المَعَافِرِيّ ثُمَّ الحُبْلِي، قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ العَاصِ ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ سَيُخَلِّصُ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الخَلَائِقِ يَوْمَ القِيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ سِجِلًا كُلُّ سِجِلٌ مِثْلُ مَدَّ البَصَرِ ، ثُمَّ يَقُولُ : أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا؟ أَظَلَمَكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ؟ فَيَقُولُ: لَا يَا رَبِّ، فَيَقُولُ: أَفَلَكَ عُذْرُ؟ فَيَقُولُ: لَا يَا رَبِّ، فَيَقُولُ: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةً، فَإِنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ اليَوْمَ، فَتَخْرُجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، فَيَقُولُ: احْضُرْ وَزْنَكَ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا هَذِهِ البِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السَّجِلَّاتِ، فَقَالَ: إِنَّكَ لَا تُظْلَمُ "، قَالَ: «فَتُوضَعُ السِّجِلَّاتُ فِي كَفَةٍ وَالبِطاقَةُ فِي كَفَّةٍ، فَطَاشَتِ السَّجِلَّاتُ وَثَقُلَتِ البِطَاقَةُ، فَلَا يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ اللَّهِ شَيْءٌ
আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সমস্ত সৃষ্টির সম্মুখে আলাদা করে এনে হাযির করবেন। তার সামনে নিরানব্বইটি (আমলের) নিবন্ধন খাতা খুলে দিবেন। এক একটি নিবন্ধন খাতা হবে যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর তিনি তাকে বললেন, এর একটি কিছুও কি অস্বীকার করতে পার? আমার সংরক্ষণকারী লিপিকারগণ (কিরামান কাতিবীন) কি তোমার উপর কোন জুলুম করেছে? লোকটি বলবে: না, হে আমার পরওয়ারদিগার। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমার কিছু বলার আছে কি? লোকটি বলবে: না, হে পরওয়ারদিগার। তিনি বলবেন: হ্যাঁ, আমার কাছে তোমার একটি নেকী আছে। আজ তো তোমার উপর কোন জুলুম হবে না। তখন একটি ছোট্ট কাগজের টুকরা বের করা হবে। এতে আছে আশহাদু আনলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ ছাড়া আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তা'আলা বলবেন: চল, এর ওযনের সম্মুখে হাযির হও। লোকটি বলবে: ওহে আমার রব, এই একটি ছোট্ট টুকরা আর এতগুলো নিবন্ধন খাতা। কোথায় কি? তিনি বলবেন: তোমার উপর অবশ্যই কোনো জুলুম করা হবে না। অনন্তর সবগুলো নিবন্ধন খাতা এক পাল্লায় রাখা হবে আর ছোট্ট সেই টুকরাটিকে আরেক পাল্লায় রাখা হবে। (আল্লাহর কি মহিমা) সবগুলো দপ্তর (ওযনে) হালকা হয়ে যাবে আর ছোট্ট টুকরাটিই হয়ে পড়বে ভারী। আল্লাহর নামের মুকাবেলায় কোন জিনিসই ভারী হবে না”।¹
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَيْنَمَا كَلْبُ يُطِيفُ بِرَكِيَّةٍ، كَادَ يَقْتُلُهُ العَطَشُ ، إِذْ رَأَتْهُ بَغِيٌّ مِنْ بَغَايَا بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَنَزَعَتْ مُوقَهَا فَسَقَتْهُ فَغُفِرَ لَهَا بِهِ»
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, “একদা একটি কুকুর এক কূপের চারদিকে ঘুরছিল এবং প্রবল পিপাসার কারণে সে মৃত্যুর নিকটে পৌছেছিল। তখন বনী ইসরাঈলের ব্যাভিচারিণীদের একজন কুকুরটির অবস্থা লক্ষ্য করল এবং তার পায়ের মোজার সাহায্যে পানি সংগ্রহ করে কুকুরটিকে পান করাল। এ কাজের প্রতিদানে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন”।¹
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ وَجَدَ غُصْنَ شَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ فَأَخَّرَهُ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ»
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় কাঁটাদার গাছের একটি ডাল রাস্তায় পেল, তখন সেটাকে রাস্তা থেকে অপসারণ করল, আল্লাহ তার এ কাজকে কবুল করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন”।²
عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ الْعَبْدَ لَيَنْصَرِفُ مِنْ صَلَاتِهِ ، وَمَا كُتِبَ لَهُ مِنْهَا إِلَّا عُشْرُهَا أَوْ تُسْعُهَا أَوْ تُمْنُهَا أَوْ سُبْعُهَا أَوْ سُدْسُهَا أَوْ خُمْسُهَا أَوْ رُبْعُهَا أَوْ ثُلُثُهَا أَوْ نِصْفُهَا "
আম্মার ইবন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “বান্দাহ তার সালাত শেষ করে তখন তার আমলনামায় এক দশমাংশ বা এক নবমাংশ বা এক অষ্টাংশ বা এক সপ্তাংশ বা এক ষষ্ঠাংশ বা এক পঞ্চমাংশ বা এক চতুর্থাংশ বা এক তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক সাওয়াব লেখা হয়”।¹
আবার ইখলাসের অভাবে অনেক বড় কাজও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ ، فَأَتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ ، فَقَدْ قِيلَ ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمُ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِيُّ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: هُوَ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ، ثُمَّ أُلْقِيَ في النَّارِ "
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে ফয়সালা হবে যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হবে এবং তাকে যে সব নিয়ামত দেওয়া হয়েছিল তাও তার সামনে পেশ করা হবে। সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমি যে সব নিয়ামত তোমাকে দিয়েছিলাম তার বিনিময়ে তুমি কি কাজ করেছ? সে বলবে, আমি তোমার পথে জিহাদ করে শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তো এ জন্য জিহাদ করেছ যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে। আর দুনিয়াতে তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, সে ইলম অর্জন করেছে, তা লোকদেরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে দেওয়া নিয়ামতের কথা তার সামনে তুলে ধরা হবে, সে তা দেখে চিনতে পারবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি তোমার নিয়ামতের কি সদ্ব্যবহার করেছো? সে বলবে, আমি ইলম অর্জন করেছি, লোকদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। বরং তুমি এ উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করেছিলে যে, লোকেরা তোমাকে আলেম বা বিদ্বান বলবে, এবং কুরআন এ জন্যে পাঠ করেছিলে যে, তোমাকে ক্বারী বলা হবে। আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে মুখের উপর উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে আনা হবে, তাকে অজস্র ধন- সম্পদ দান করা হয়েছে এবং নানা প্রকারের সম্পদ দেওয়া হয়েছে। তাকে দেওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো তার সামনে তুলে ধরা হবে। সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তোমার এ সম্পদ দ্বারা তুমি কি কাজ করেছ? সে বলবে, যেখানে ব্যয় করলে তুমি সন্তুষ্ট হবে এমন কোনো খাত আমি বাদ আমি বাদ দেইনি বরং সেখানেই খরচ করেছি তোমার সন্তুষ্ট লাভের উদ্দেশ্যে। মহান আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। বরং তুমি এ জন্যেই দান করেছ যে, লোকেরা তোমাকে দাতা বলবে। আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তদনুযায়ী তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”¹

টিকাঃ
১. তিরমিযি, হাদীস নং ২৬৩৯, ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব। ইবন হিব্বান, হাদীস নং ২২৫, আলবানী রহ. বলেন, হাদীসটি সহীহ। শু'আইব আরনাউত বলেন, হাদীসের সনদটি সহীহ।
১. বুখারী, হাদীস নং ৩৪৬৭, মুসলিম, হাদীস নং ২২৪৫।
২. বুখারী, হাদীস নং ২৪৭২, মুসলিম, হাদীস নং ১৯১৪।
১. শরহে মুশকিলুল আসার, হদীস নং ১১০৩।
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৫।

📘 ইখলাস > 📄 ইখলাসের স্তরসমূহ:

📄 ইখলাসের স্তরসমূহ:


প্রথম স্তর: আমলের মধ্যে লৌকিকতা বর্জন করা ও তা আল্লাহর দয়ায় ও তাওফিকে হয়েছে বলে মনে করা, প্রতিদান না চাওয়া এবং আমলের কারণে আত্মসন্তুষ্ট না হওয়া; বরং নিজের অক্ষমতা ও স্বল্পতার জন্য সর্বদা লজ্জিত থাকা।
প্রথমত আমলটি আল্লাহর রহমত ও তাওফিকে হয়েছে তার দলিল হলো আল্লাহর বাণী,
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَى مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَن يَشَاءُ ﴾ [النور : ٢١]
“আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকত, তাহলে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারত না; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন”। [সূরা আন্-নূর: ২১]
দ্বিতীয়ত: আমলকারীর মনে রাখা উচিত যে সে আল্লাহর একজন দাস। আর দাস যা করে তার বিনিময়ে মনিবের কাছে কিছু প্রত্যাশা করতে পারে না।
তৃতীয়ত: নিজের আমলের মধ্যে দোষত্রুটি ও কমতি সর্বদা তালাশ করা।
দ্বিতীয় স্তর: নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করার পরেও আমলের ক্ষেত্রে লজ্জাবোধ করা, নিজেকে মনে করা যে আল্লাহর জন্য যথাযথভাবে কাজটি করা হয় নি। আল্লাহ বলেন,
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا ءَاتَوا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ ﴾ [المؤمنون : ٦٠]
“আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল”। [সূরা আল-মুমিনূন: ৬০]
সুতরাং মু'মিন সর্বদা আল্লাহর দয়া কামনা করবে এবং নিজের কমতির জন্য নিজেকে দোষারোপ করবে।
তৃতীয় স্তর: আমলটি ইলম অনুযায়ী বিশুদ্ধ হওয়া, যাতে তা বিদ'আত হতে মুক্ত হয়।¹

টিকাঃ
১. তাহযীবু মাদারিজিস সালেকীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00