📄 ইখলাস হাসিল করতে হলে
ইখলাস অর্জন করতে হলে আপনাকে যা করতে হবে—
(১) আল্লাহর নিন্দা থেকে পলায়ন করতে হবে; মানুষের নিন্দা থেকে নয়। কারণ, মানুষের নিন্দা থেকে পলায়নের মানসিকতা রিয়ার অন্যতম কারণ। লোকচক্ষুর নিন্দা থেকে আপনি পালাবেন কেন? বুদ্ধিমান ব্যক্তি বান্দার নয়; আল্লাহর নিন্দা থেকে পালায় এবং এই পালানোটাই উত্তম। যেহেতু আল্লাহর নিন্দিত বিষয়ই প্রকৃত অপরাধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি যেই ব্যাপারটার প্রশংসা করব সেটা অবশ্যই ভালো ও সুন্দর হয়ে থাকবে, আমি যেই জিনিসকে নিন্দা করব, সেটা অবশ্যই অসুন্দর ও দোষের হয়ে থাকবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন—না; এক্ষেত্রে আল্লাহর প্রশংসা ও নিন্দা ধর্তব্য।
অর্থাৎ আল্লাহর প্রশংসিত বিষয়ই মূলত উত্তম ও সৌন্দর্যের বিষয়, তার নিন্দিত বিষয়টাই প্রকৃত দোষ; মানুষের নয়।
মানুষ সমাজের নিন্দা থেকে পলায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্যায়কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যাতে আল্লাহ রাগান্বিত হন।
বান্দা যখন মানুষের ভয়ে, লোকচক্ষু থেকে বাঁচার জন্য (অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে) আল্লাহকে রাগান্বিত করে এবং তাদের খুশি করে, তখন লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। আল্লাহ রাগ করেন এবং অন্যান্য মানুষদেরও তার ওপর ক্ষেপিয়ে দেন। এবার চিন্তা করে দেখেন—আপনি মানুষের ভয়ে আল্লাহকে রাগান্বিত করবেন কি না? সত্যিকারের মুমিন যে তার উচিত—আল্লাহকেই বেশি ভয় করা। আল্লাহর ক্রোধকে বেশি ডরানো; মানুষের ভয়কে নয়।
(২) রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শয়তানের বিষাক্ত হাত; শয়তানই রিয়াসহ যাবতীয় অন্যায়, অনৈতিক কাজের ইন্ধন যোগায়। রিয়া থেকে বাঁচতে হলে তাই শয়তানকে দূর করতে হবে। শয়তান যেসব সৎকাজে লেজ গুটিয়ে পালায় এসব কাজ জানা, মানা, আমল করা এবং ওইসব নেক আমলে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা প্রত্যেকের জন্য জরুরি। আজান, কুরআন তিলাওয়াত, সিজদায়ে তেলাওয়াত, আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রর্থনা, ঘর থেকে আল্লাহর নাম নিয়ে বের হওয়া, মসজিদে আল্লাহর নামে প্রবেশ করা সর্বোপরি সকাল-সন্ধ্যার আমল, সালাতের পরের আমল, অন্যান্য সময়ের যাবতীয় দুআ-জিকির ইত্যাদির মাধ্যমে শয়তান দূর হয়। তাই এসব আমল বেশি বেশি করতে হবে।
(৩) গোপনে গোপনে বেশি বেশি নফল ইবাদত ও কল্যাণমূলক কাজ করা। তাহাজ্জুদ, অন্যান্য নফল সালাত, গোপন সদকা, নীরব কান্না, মুসলিম ভাইদের জন্য কল্যাণের দুআ ইত্যাদি। আল্লাহ নিজের আমল গোপনকারী মুত্তাকি বান্দাকে বেশি ভালোবাসেন। সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
আল্লাহ তাআলা (নিজের আমল, সৎকাজ) গোপনকারী, (মানুষ থেকে) অমুখাপেক্ষী, মুত্তাকি বান্দাকে অধিক ভালোবাসেন।
(৪) মানুষের প্রশংসা বা নিন্দা কোনোটাকেই আপনি কেয়ার করবেন না। মানুষে প্রশংসা আপনার তেমন কোনো উপকার করতে পারে না এবং তার নিন্দাও আপনার কোনো বিশেষ ক্ষতির ক্ষমতা রাখে না। আপনি কেবল আল্লাহর নিন্দাকে ভয় করেন এবং একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহে খুশি হন—
قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون.
বলেন—এটা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা পুঞ্জিভূত করে—তা অপেক্ষা এটা শ্রেয়।
আপনি প্রশংসা, স্তুতিবাদ এড়িয়ে চলেন। আপনার জন্য ইখলাসের পথ সুগম হবে।
আপনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রশংসা আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না, আপনার জীবনকে সুশোভিতও করতে পারবে না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিন্দা আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং আপনার জীবনকে কলুষিত করারও সামর্থ রাখে না। সুতরাং যার প্রশংসা আপনার কোনো উপকার পৌঁছুতে পারবে না, তার প্রশংসাকে ‘না’ বলেন। যার নিন্দা আপনার কোনো ক্ষতি বয়ে আনতে পারে না আপনি তার নিন্দাকে দূরে ছুঁড়ে ফেলেন। আপনার আকর্ষণ থাকবে তার প্রশংসার প্রতি, যার প্রশংসা আপনাকে সুশোভিত করতে পারে, যার নিন্দা আপনার জীবন কলুষিত করবে আপনি তার নিন্দা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন। এর জন্য আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে, আপনাকে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে। তা না হলে আপনার দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে এমন, যে, আপনি নৌকা ছাড়াই সাগর পথে সফর করতে বেরোলেন।
**নিন্দিত হলে আপনি কী করবেন**
কেউ যদি আপনার নিন্দা করে তাহলে ভেবে দেখেন—তার কথা সত্য কি না? পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে দেখেন—সে আপনার কল্যাণকামী কি না? সে যদি তার কথায় সত্যবাদী হয় এবং সে তার নিন্দায় আপনার কল্যাণকামী হয়, তাহলে আপনি তার নিন্দা থেকে শিক্ষা নেন। নির্দেশনা, উপদেশ মেনে চলেন। সে তো আপনার কল্যাণই চায়, সুতরাং তা সাদরে গ্রহণ করে ফেলেন।
আর যদি সে তার কথায় মিথ্যাবাদী হয় তাহলে মূলত সে নিজেই নিজের ক্ষতি করল এবং ফাঁকে আপনার কিছুটা উপকারও হয়ে গেল। আপনি হয়তো আপনার দোষটা বুঝতে পারেননি বা বুঝতে পারলেও তার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, এখন সে সেই দোষগুলোর কথাই তো বলছে। তাহলে সমস্যা কীসের? আপনি এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের ত্রুটিগুলো ঝেড়ে ফেলেন, তাহলেই আপনি সফল।
আর যদি এমন হয়, যে, বাস্তবে আপনার কোনো দোষই নেই, এটা আপনার ওপর নির্জলা মিথ্যা অপবাদ তবুও আপনি এটাকে ভালোভাবে নেন। আপনি হয়তো বর্ণিত দোষ করেন নি, কিন্তু অন্য আরও দশটা দোষ আছে যা আপনি করেছেন, কিন্তু সে বলে নি। এই অপবাদকারী আপনার দোষ সম্পর্কে না জানা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর যে অনুগ্রহ করেছিলেন, আপনি তখন সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেন।
এই যে মিথ্যা অপবাদে আপনি ফেঁসে গেলেন, এখানেও আপনি কিন্তু ঠকেন নি। আপনি সাওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে ধৈর্য ধরতে পারলে তা আপনার গোনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। তাহলে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?
আর জেনে রাখবেন—অপবাদকারী সে নিজের জন্যই ক্ষতি ডেকে এনেছে, আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়েছে সে। আপনি তার এই দুর্বলতা এড়িয়ে চলেন, তার সাথে আপনি তার চেয়ে ভালো আচরণ করেন, নিজে তাকে ক্ষমা করে দেন এবং আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কুরআনে কারিমের বর্ণনা—
ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور الرحيم.
তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
টিকাঃ
৮২. মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৮৮; এবং খন্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩৯৪; জামি তিরমিজি, খণ্ড : ৩২, পৃষ্ঠা: ৬৩; হাদিসের মান: হাদিসটির সনদ হাসান।
৮৩. বিস্তারিত জানতে দেখেন- كتاب مقامع الشيطان في ضوء الكتاب والسنه لسليم الهلالي ، الإخلاص لحسين العوايشه ص٥٧-
৮৪. সহিহ মুসলিম : ২৯৬৫
৮৫. সূরা ইউনুস, আয়াত: ৫৮
৮৬. আল ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কায়্যিম: ৬৭
৮৭. আল ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কায়্যিম ২৬৮
৮৮. সূরা নূর, আয়াত: ২২
ইখলাস অর্জন করতে হলে আপনাকে যা করতে হবে—
(১) আল্লাহর নিন্দা থেকে পলায়ন করতে হবে; মানুষের নিন্দা থেকে নয়। কারণ, মানুষের নিন্দা থেকে পলায়নের মানসিকতা রিয়ার অন্যতম কারণ। লোকচক্ষুর নিন্দা থেকে আপনি পালাবেন কেন? বুদ্ধিমান ব্যক্তি বান্দার নয়; আল্লাহর নিন্দা থেকে পালায় এবং এই পালানোটাই উত্তম। যেহেতু আল্লাহর নিন্দিত বিষয়ই প্রকৃত অপরাধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি যেই ব্যাপারটার প্রশংসা করব সেটা অবশ্যই ভালো ও সুন্দর হয়ে থাকবে, আমি যেই জিনিসকে নিন্দা করব, সেটা অবশ্যই অসুন্দর ও দোষের হয়ে থাকবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন—না; এক্ষেত্রে আল্লাহর প্রশংসা ও নিন্দা ধর্তব্য।
অর্থাৎ আল্লাহর প্রশংসিত বিষয়ই মূলত উত্তম ও সৌন্দর্যের বিষয়, তার নিন্দিত বিষয়টাই প্রকৃত দোষ; মানুষের নয়।
মানুষ সমাজের নিন্দা থেকে পলায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্যায়কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যাতে আল্লাহ রাগান্বিত হন।
বান্দা যখন মানুষের ভয়ে, লোকচক্ষু থেকে বাঁচার জন্য (অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে) আল্লাহকে রাগান্বিত করে এবং তাদের খুশি করে, তখন লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। আল্লাহ রাগ করেন এবং অন্যান্য মানুষদেরও তার ওপর ক্ষেপিয়ে দেন। এবার চিন্তা করে দেখেন—আপনি মানুষের ভয়ে আল্লাহকে রাগান্বিত করবেন কি না? সত্যিকারের মুমিন যে তার উচিত—আল্লাহকেই বেশি ভয় করা। আল্লাহর ক্রোধকে বেশি ডরানো; মানুষের ভয়কে নয়।
(২) রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শয়তানের বিষাক্ত হাত; শয়তানই রিয়াসহ যাবতীয় অন্যায়, অনৈতিক কাজের ইন্ধন যোগায়। রিয়া থেকে বাঁচতে হলে তাই শয়তানকে দূর করতে হবে। শয়তান যেসব সৎকাজে লেজ গুটিয়ে পালায় এসব কাজ জানা, মানা, আমল করা এবং ওইসব নেক আমলে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা প্রত্যেকের জন্য জরুরি। আজান, কুরআন তিলাওয়াত, সিজদায়ে তেলাওয়াত, আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রর্থনা, ঘর থেকে আল্লাহর নাম নিয়ে বের হওয়া, মসজিদে আল্লাহর নামে প্রবেশ করা সর্বোপরি সকাল-সন্ধ্যার আমল, সালাতের পরের আমল, অন্যান্য সময়ের যাবতীয় দুআ-জিকির ইত্যাদির মাধ্যমে শয়তান দূর হয়। তাই এসব আমল বেশি বেশি করতে হবে।
(৩) গোপনে গোপনে বেশি বেশি নফল ইবাদত ও কল্যাণমূলক কাজ করা। তাহাজ্জুদ, অন্যান্য নফল সালাত, গোপন সদকা, নীরব কান্না, মুসলিম ভাইদের জন্য কল্যাণের দুআ ইত্যাদি। আল্লাহ নিজের আমল গোপনকারী মুত্তাকি বান্দাকে বেশি ভালোবাসেন। সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
আল্লাহ তাআলা (নিজের আমল, সৎকাজ) গোপনকারী, (মানুষ থেকে) অমুখাপেক্ষী, মুত্তাকি বান্দাকে অধিক ভালোবাসেন।
(৪) মানুষের প্রশংসা বা নিন্দা কোনোটাকেই আপনি কেয়ার করবেন না। মানুষে প্রশংসা আপনার তেমন কোনো উপকার করতে পারে না এবং তার নিন্দাও আপনার কোনো বিশেষ ক্ষতির ক্ষমতা রাখে না। আপনি কেবল আল্লাহর নিন্দাকে ভয় করেন এবং একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহে খুশি হন—
قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون.
বলেন—এটা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা পুঞ্জিভূত করে—তা অপেক্ষা এটা শ্রেয়।
আপনি প্রশংসা, স্তুতিবাদ এড়িয়ে চলেন। আপনার জন্য ইখলাসের পথ সুগম হবে।
আপনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রশংসা আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না, আপনার জীবনকে সুশোভিতও করতে পারবে না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিন্দা আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং আপনার জীবনকে কলুষিত করারও সামর্থ রাখে না। সুতরাং যার প্রশংসা আপনার কোনো উপকার পৌঁছুতে পারবে না, তার প্রশংসাকে ‘না’ বলেন। যার নিন্দা আপনার কোনো ক্ষতি বয়ে আনতে পারে না আপনি তার নিন্দাকে দূরে ছুঁড়ে ফেলেন। আপনার আকর্ষণ থাকবে তার প্রশংসার প্রতি, যার প্রশংসা আপনাকে সুশোভিত করতে পারে, যার নিন্দা আপনার জীবন কলুষিত করবে আপনি তার নিন্দা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন। এর জন্য আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে, আপনাকে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে। তা না হলে আপনার দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে এমন, যে, আপনি নৌকা ছাড়াই সাগর পথে সফর করতে বেরোলেন।
**নিন্দিত হলে আপনি কী করবেন**
কেউ যদি আপনার নিন্দা করে তাহলে ভেবে দেখেন—তার কথা সত্য কি না? পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে দেখেন—সে আপনার কল্যাণকামী কি না? সে যদি তার কথায় সত্যবাদী হয় এবং সে তার নিন্দায় আপনার কল্যাণকামী হয়, তাহলে আপনি তার নিন্দা থেকে শিক্ষা নেন। নির্দেশনা, উপদেশ মেনে চলেন। সে তো আপনার কল্যাণই চায়, সুতরাং তা সাদরে গ্রহণ করে ফেলেন।
আর যদি সে তার কথায় মিথ্যাবাদী হয় তাহলে মূলত সে নিজেই নিজের ক্ষতি করল এবং ফাঁকে আপনার কিছুটা উপকারও হয়ে গেল। আপনি হয়তো আপনার দোষটা বুঝতে পারেননি বা বুঝতে পারলেও তার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, এখন সে সেই দোষগুলোর কথাই তো বলছে। তাহলে সমস্যা কীসের? আপনি এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের ত্রুটিগুলো ঝেড়ে ফেলেন, তাহলেই আপনি সফল।
আর যদি এমন হয়, যে, বাস্তবে আপনার কোনো দোষই নেই, এটা আপনার ওপর নির্জলা মিথ্যা অপবাদ তবুও আপনি এটাকে ভালোভাবে নেন। আপনি হয়তো বর্ণিত দোষ করেন নি, কিন্তু অন্য আরও দশটা দোষ আছে যা আপনি করেছেন, কিন্তু সে বলে নি। এই অপবাদকারী আপনার দোষ সম্পর্কে না জানা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর যে অনুগ্রহ করেছিলেন, আপনি তখন সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেন।
এই যে মিথ্যা অপবাদে আপনি ফেঁসে গেলেন, এখানেও আপনি কিন্তু ঠকেন নি। আপনি সাওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে ধৈর্য ধরতে পারলে তা আপনার গোনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। তাহলে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?
আর জেনে রাখবেন—অপবাদকারী সে নিজের জন্যই ক্ষতি ডেকে এনেছে, আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়েছে সে। আপনি তার এই দুর্বলতা এড়িয়ে চলেন, তার সাথে আপনি তার চেয়ে ভালো আচরণ করেন, নিজে তাকে ক্ষমা করে দেন এবং আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কুরআনে কারিমের বর্ণনা—
ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور الرحيم.
তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
টিকাঃ
৮২. মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৮৮; এবং খন্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩৯৪; জামি তিরমিজি, খণ্ড : ৩২, পৃষ্ঠা: ৬৩; হাদিসের মান: হাদিসটির সনদ হাসান।
৮৩. বিস্তারিত জানতে দেখেন- كتاب مقامع الشيطان في ضوء الكتاب والسنه لسليم الهلالي ، الإخلاص لحسين العوايشه ص٥٧-
৮৪. সহিহ মুসলিম : ২৯৬৫
৮৫. সূরা ইউনুস, আয়াত: ৫৮
৮৬. আল ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কায়্যিম: ৬৭
৮৭. আল ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কায়্যিম ২৬৮
৮৮. সূরা নূর, আয়াত: ২২