📘 ইখলাস ২ 📄 রিয়া কেন আসে

📄 রিয়া কেন আসে


মান-মর্যাদা, সম্মানের প্রতি আসক্তি এগুলোই হচ্ছে, রিয়া আসার মূল কারণ। ইজ্জত-সম্মান কামানো, মানুষের চোখে বড় হওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছার চোরাপথ বেয়েই আসে রিয়া। ব্যক্তির মাঝে যখন সম্মানের আসক্তি চলে আসে, তাকে মর্যাদা লাভের মাদকতা পেয়ে বসে, তখন তার সব কাজ হয় মানুষকেন্দ্রিক। তার সবকিছুই মানুষের স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তার কথাবার্তা, কাজকর্ম, আচরণ উচ্চারণ সবকিছুতেই মানুষের কাছে গ্রহণীয়তা অর্জনের ছাপ দেখা যায়। মানুষের এই অভিলাষ বড়ো ভয়ানক ব্যাধি! এটাই মানুষকে ইবাদতের ক্ষেত্রে রিয়ায় ঠেলে দেয়। আপনার ভেতরে যখন ওরকম আসক্তি, উচ্চাভিলাষ জন্ম নেবে, তখন বাধ্য হয়েই আপনাকে লৌকিকতা প্রদর্শন করতে হবে। রিয়ার উদ্ভবের ব্যাপারটা আসলে দুর্বোধ্য। সবাই তা বোঝার সামর্থ রাখে না। আলেম, আল্লাহর পরিচয়লাভকারী প্রিয় বান্দারাই এর কারণ ভালো বুঝতে পারে।

**রিয়ার তিনটি মূল কারণ**
রিয়া কেন আসে—এই প্রশ্নের বিশদ জবাব যখন আপনি খুঁজতে যাবেন, তখন তিনটা মূল পয়েন্ট বেরিয়য়ে আসবে—
১. মানুষের প্রশংসা সুনাম-সুখ্যাতির প্রতি আসক্তি;
২. নিন্দা থেকে পলায়নের মানসিকতা;
৩. অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ।
নিচের হাদিসে আমরা উপরের পয়েন্টগুলি খুঁজে পাই: আবু মুসা আশিআরি রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল—ইয়া রাসুলাল্লাহ, মানুষ কখনো বীরত্বের জন্য লড়াই করে, কখনো জাত্যাভিমানে লড়াই করে, কখনো লৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে। তো, এই তিনটার কোনটা আল্লাহর রাস্তার শামিল হবে? তিনি বললেন—(এসবের কোনোটাই না) যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করে, তার লড়াইটাই কেবল আল্লাহর রাস্তায় পরিগণিত।
• এখানে ‘বীরত্বের জন্য লড়াই করে’ মানে সে চায়—এর মাধ্যমে মানুষ তার প্রশংসা করুক, মানুষ তাকে স্যালুট জানাক, মানুষ তার কৃতজ্ঞতা আদায় করুক।
* ‘জাত্যাভিমানে লড়াই করে’ মানে সে কখনো পরাজিত হবে, তার লাঞ্চনা হবে এটা কখনও সে মেনে নিতে পারে না।
* ‘লৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে’ মানে এতে সুউচ্চ অবস্থান তথা মান-মর্যাদা অর্জন, মানুষের চোখে বড় হওয়ার প্রতি তার মনের আসক্তি, অনুরাগ থাকে।
কখনো এমন হয় যে, ব্যক্তি প্রশংসা পেতে খুবই তৎপর, কিন্তু নিন্দার বেলায় তার আগ্রহ থাকে না, নিন্দা থেকে সে পালাতে চায় এবং এ জন্য যা কর্তব্য তা করে। যেমন ধরে নিই, অনেকজন বীর সৈন্যের মাঝে একজন কাপুরুষ সৈনিক, সে শত কষ্ট সত্ত্বেও সবার সাথেই থাকে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিন্দার ভয়ে সে পালায় না। কখনো মানুষ নিন্দিত হবার ভয়ে না জেনেও, অজ্ঞতা সত্ত্বেও ফতোয়া দেয়।
যাক, উপরে যে তিনটি পয়েন্টের কথা বললাম, এগুলোই বিশেষত মানুষকে রিয়ার দিকে আকর্ষণ করে, লৌকিকতার প্রতি মানুষজনকে আহব্বান করে। তাই ধ্বংসাত্মক এসব ব্যাধি থেকে বাঁচুন।

টিকাঃ
৬৮. মুখতাসারু মিনহাজুল কাসেদিন, ইবনু কুদামা : ২২১-২২২
৬৯. সহিহ বুখারি : ২৮১০; সহিহ মুসলিম : ১৯০৪

মান-মর্যাদা, সম্মানের প্রতি আসক্তি এগুলোই হচ্ছে, রিয়া আসার মূল কারণ। ইজ্জত-সম্মান কামানো, মানুষের চোখে বড় হওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছার চোরাপথ বেয়েই আসে রিয়া। ব্যক্তির মাঝে যখন সম্মানের আসক্তি চলে আসে, তাকে মর্যাদা লাভের মাদকতা পেয়ে বসে, তখন তার সব কাজ হয় মানুষকেন্দ্রিক। তার সবকিছুই মানুষের স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তার কথাবার্তা, কাজকর্ম, আচরণ উচ্চারণ সবকিছুতেই মানুষের কাছে গ্রহণীয়তা অর্জনের ছাপ দেখা যায়। মানুষের এই অভিলাষ বড়ো ভয়ানক ব্যাধি! এটাই মানুষকে ইবাদতের ক্ষেত্রে রিয়ায় ঠেলে দেয়। আপনার ভেতরে যখন ওরকম আসক্তি, উচ্চাভিলাষ জন্ম নেবে, তখন বাধ্য হয়েই আপনাকে লৌকিকতা প্রদর্শন করতে হবে। রিয়ার উদ্ভবের ব্যাপারটা আসলে দুর্বোধ্য। সবাই তা বোঝার সামর্থ রাখে না। আলেম, আল্লাহর পরিচয়লাভকারী প্রিয় বান্দারাই এর কারণ ভালো বুঝতে পারে।

**রিয়ার তিনটি মূল কারণ**
রিয়া কেন আসে—এই প্রশ্নের বিশদ জবাব যখন আপনি খুঁজতে যাবেন, তখন তিনটা মূল পয়েন্ট বেরিয়য়ে আসবে—
১. মানুষের প্রশংসা সুনাম-সুখ্যাতির প্রতি আসক্তি;
২. নিন্দা থেকে পলায়নের মানসিকতা;
৩. অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ।
নিচের হাদিসে আমরা উপরের পয়েন্টগুলি খুঁজে পাই: আবু মুসা আশিআরি রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল—ইয়া রাসুলাল্লাহ, মানুষ কখনো বীরত্বের জন্য লড়াই করে, কখনো জাত্যাভিমানে লড়াই করে, কখনো লৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে। তো, এই তিনটার কোনটা আল্লাহর রাস্তার শামিল হবে? তিনি বললেন—(এসবের কোনোটাই না) যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করে, তার লড়াইটাই কেবল আল্লাহর রাস্তায় পরিগণিত।
• এখানে ‘বীরত্বের জন্য লড়াই করে’ মানে সে চায়—এর মাধ্যমে মানুষ তার প্রশংসা করুক, মানুষ তাকে স্যালুট জানাক, মানুষ তার কৃতজ্ঞতা আদায় করুক।
* ‘জাত্যাভিমানে লড়াই করে’ মানে সে কখনো পরাজিত হবে, তার লাঞ্চনা হবে এটা কখনও সে মেনে নিতে পারে না।
* ‘লৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে’ মানে এতে সুউচ্চ অবস্থান তথা মান-মর্যাদা অর্জন, মানুষের চোখে বড় হওয়ার প্রতি তার মনের আসক্তি, অনুরাগ থাকে।
কখনো এমন হয় যে, ব্যক্তি প্রশংসা পেতে খুবই তৎপর, কিন্তু নিন্দার বেলায় তার আগ্রহ থাকে না, নিন্দা থেকে সে পালাতে চায় এবং এ জন্য যা কর্তব্য তা করে। যেমন ধরে নিই, অনেকজন বীর সৈন্যের মাঝে একজন কাপুরুষ সৈনিক, সে শত কষ্ট সত্ত্বেও সবার সাথেই থাকে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিন্দার ভয়ে সে পালায় না। কখনো মানুষ নিন্দিত হবার ভয়ে না জেনেও, অজ্ঞতা সত্ত্বেও ফতোয়া দেয়।
যাক, উপরে যে তিনটি পয়েন্টের কথা বললাম, এগুলোই বিশেষত মানুষকে রিয়ার দিকে আকর্ষণ করে, লৌকিকতার প্রতি মানুষজনকে আহব্বান করে। তাই ধ্বংসাত্মক এসব ব্যাধি থেকে বাঁচুন।

টিকাঃ
৬৮. মুখতাসারু মিনহাজুল কাসেদিন, ইবনু কুদামা : ২২১-২২২
৬৯. সহিহ বুখারি : ২৮১০; সহিহ মুসলিম : ১৯০৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px