📘 ইখলাস ২ > 📄 মৌলিক পার্থক্য যেমন

📄 মৌলিক পার্থক্য যেমন


মানুষ যখন তার আমলের মাধ্যমে জনপ্রিয় হতে চায়, তার আমলের উদ্দেশ্য থাকে মানুষের প্রশংসা লাভ, দুনিয়ার সুখ্যাতি অর্জন, তখন সেটাকে আপনি ‘রিয়া’ বলতে পারেন। তবে এটাও একপ্রকার ‘দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া অর্জন’। এখানে সরাসরি দুনিয়ার স্বার্থ না চাইলেও সে ভণিতা করছে। সে মানুষের প্রশংসা অর্জন করতে গিয়ে প্রকারান্তরে দুনিয়ার স্বার্থই চাচ্ছে।
আর যে দুনিয়ার হীন স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমল করে, এ ক্ষেত্রে তার লৌকিকতা উদ্দেশ্য থাকে না, দুনিয়া অর্জনই হয় তার মূল লক্ষ্য। যেমন কেউ কারও পক্ষ থেকে বদলি হজ করল, যার উদ্দেশ্য আর্থিক সুবিধা লাভ, মুনাফা। অথবা এক ব্যক্তি গনিমত লাভের উদ্দেশ্য জিহাদ করল, তাহলে সেটা হবে দুনিয়ার জন্য আমল। সহজে বললে, লৌকিকতা প্রদর্শনকারীর আমল হয়ে থাকে মানুষের ‘বাহবা’ পাবার জন্য। আর দুনিয়ার জন্য আমলকারী ব্যক্তির আমল হয় দুনিয়ার স্বার্থকেন্দ্রিক। আকার-প্রকৃতি, রূপ-রঙে দুটো ভিন্ন হলেও ক্ষতির ক্ষেত্রে এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। দুটোই আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে, দুটির কারণেই বান্দার শাস্তি হবে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন।

**দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীন বিক্রীর শাস্তি**
দুনিয়ার বিনিময়ে যারা দ্বীনকে বিক্রী করার দুঃসাহস করে, কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় তাদের ক্ষতি ও মন্দত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। কুরআনের ইরশাদ—
من كان يريد الحياة الدنيا وزينتها نوف إليهم أعمالهم فيها وهم فيها لا يبخسون. أولا ئك الذين ليس لهم في الآخرة إلا النار وحبط ما صنعوا فيها وباطل ما كانوا يعملون.
যে কেউ পার্থিব জীবন ও তার শোভা কামনা করে, দুনিয়ায় আমি তাদের কর্মের পূর্ণফল দান করি এবং সেখানে তাদেরকে কম দেওয়া হবে না। তাদের জন্য আখেরাতে দোযখ ছাড়া অন্য কিছুই নেই এবং তারা যা করে আখেরাতে তা নিষ্ফল হবে এবং তারা যা করে থাকে তা নিরর্থক।
আরও ঘোষিত হয়েছে—
من كان يريد العاجلة عجلنا له فيها ما نشاء لمن نريد ثم جعلنا له جهنم يصلاها مذموما مدحورا.
কেউ আশু সুখ-সম্ভোগ কামনা করলে আমি যাকে যা ইচ্ছা এখানেই দ্রুত দিয়ে থাকি; পরে তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করি; যেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত ও অনুগ্রহ হতে দূরীভূত অবস্থায়।
আরও ঘোষিত হয়েছে—
مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ. وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ.
যে কেউ আখেরাতের ফসল কামনা করে তার জন্য আমি তার ফসল বাড়িয়ে দিই এবং যে কেউ দুনিয়ার ফসল কামনা করে আমি তাকে এরই কিছু দিই; আখেরাতে তার জন্য কিছুই থাকবে না।
কুরআনে কারিমে আরও বর্ণিত হয়েছে—
فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ.
মানুষের মধ্য যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদের ইহকালেই দেন; বস্তুত পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশ নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
যে ব্যক্তি দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম (যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শেখা উচিত) শেখে, কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।
জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—
তোমরা আলেমদের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য, মূর্খদের তর্কে হারানোর জন্য ইলম শিখতে যেয়ো না। মজলিসের বিশেষ আসন পাওয়ার উদ্দেশ্যেও তোমরা ইলম শিখো না। অন্যথায় জাহান্নাম অবধারিত।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
তিন কারণে তোমরা কখনো ইলম শিখবে না:
✓ ১. মূর্খদেরকে বিতর্কে হারিয়ে দেওয়ার জন্য,
✓ ২. আলেমদের সাথে ইলম দ্বারা তর্ক-বিতর্ক করার জন্য
✓ ৩. এবং জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য।
তোমরা তোমাদের কথার (ও কাজের) মাধ্যমে আল্লাহর নিকট যা আছে, তাই চাও। কারণ, তা চিরস্থায়ী এবং বাকি থাকবে। এ ছাড়া অন্য সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৩৯. ফাতহুল মাজিদ: ৪৪২; তাইসিরুল আজিজিল হামিদ: ৫৩৪
৪০. সূরা হুদ, আয়াত: ১৫-১৬
৪১. সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১৮
৪২. সূরা শুরা, আয়াত: ২০
৪৩. সূরা বাকারা, আয়াত: ২০০
৪৪. সুনানু আবি দাউদ: ৩৬৬৪; সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৫২; আলবানি একে সহিহ বলেছেন; বিস্তারিত জানতে দেখেন—সহিহ সুনানু ইবনি মাজাহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৮
৪৫. সুনানু ইবনি মাজাহ : ২৫৪; হাদিসের মান : আলবানি একে সহিহ বলেছেন, বিস্তারিত জানতে দেখেন—সহিহ সুনানু ইবনি মাজাহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৮; সহিহুত তারগিব, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৬
৪৬. সুনানুদ দারিমি, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭০; সুনানু ইবনি মাজাহ : ২৬০; হাদিসের মান: আলবানি একে হাসান বলেছেন, দেখেন—সহিহ সুনানু ইবনি মাজাহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৮; সহিহ্রত তারগিব ওয়াত তারহিব, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00