📄 আমলের প্রাণ ইখলাস
ইখলাস মুমিনের যাবতীয় আমলের প্রাণ এবং গুরত্বপূর্ণ অংশ। ইখলাসহীন আমল বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতোই মূল্যহীন। সব আলিমের মতেই ইখলাস মানুষের মনোগত গুরত্বপূর্ণ একটি আমল। মনোজাগতিক সব আমল তথা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি নির্মল ভালোবাসা, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, ইখলাসের সাথে ইবাদত, আল্লাহর শাস্তির ভয় ও রহমতের আশা ইত্যাদি এসব বিষয়ই মূল এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বাহ্যিক আমল তা মনের আমলের তাবে (অনুগামী)। সহজে বললে, মানুষের মনের নিয়্যাত রুহের মতো। আর বাহ্যিক আমলকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা যায়। রুহের শূন্যতায় যেমন বাহ্যিক দেহ অচল হয়ে পড়ে, তার মূল্য থাকে না, তেমনি ইখলাস না থাকলে সব আমলই মূল্যহীন। তাই বলা যায়, ভেতরগত আমল সম্পর্কে জানা বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কিত আমল থেকেও জানা বেশি গুরত্বপূর্ণ।
**মুমিনের সফলতা যেখানে**
একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা তো এখানেই, যে, সে একনিষ্ঠভাবে ইখলাসের সাথে কেবল আল্লাহরই ইবাদত করবে। তার কোনো আমলে মানুষ দেখানোর বিষয় থাকবে না। মানুষের প্রশংসা পাওয়ার হীন উদ্দেশ্যে ঘিরে তার কোনো ইবাদত হবে না। সে যত সৎকাজ করবে, সবগুলোর উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্যলাভ। সে আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই। যেমন, কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
قل هذه سبيلي ادعو إلي الله.
বলেন—এটিই আমার পথ : আল্লাহর প্রতি আমি মানুষকে আহ্বান করি।
আরও ঘোষিত হয়েছে—
ومن أحسن قولا ممن دعا إلى الله.
কথায় কে উত্তম ওই ব্যক্তি অপেক্ষা, যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে।
এজন্য ইখলাস মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ বিষয়। সমস্ত মুসলিমের জন্য তা আবশ্যকীয় ব্যাপার। তারা নিজেদের ইবাদত, আমল, দ্বীনের দাওয়াত সবকিছুই ইখলাসের সাথে করবে। একজন দায়ির দাওয়াতের উদ্দেশ্য হবে নিজে এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। অন্যান্য মানুষের সংশোধন ও তাদের আলোর পথ দেখানো; দুনিয়ার কোনো স্বার্থ নয়। এককথায়, মুমিনের জীবনের সবকিছুর উদ্দেশ্যই হবে, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের সফলতা অর্জন।
টিকাঃ
২০. সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮
২১. সূরা হা-মিম সাজদাহ, আয়াত: ৩৩
২২. মাজমুউ ফাতাওয়া, বিন বাজ, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৪৯ এবং খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২২৯