📄 সমন্বয়হীনতা
একবার কোনো এক মজলিসে ফুজাইল ইবনু ইয়াজ রাহিমাহুল্লাহ বলে উঠলেন—
‘প্রকৃত ইখলাস এটিই এবং এটিই ঠিক মূলত।’
উপস্থিত জনতা প্রশ্ন করল—
‘প্রকৃত ইখলাস ও ঠিক মূলত কী?’
ফুজাইল রাহিমাহুল্লাহ তখন বললেন—
ইখলাসশূন্য বিশুদ্ধ আমল যেমন গ্রহণযোগ্য হয় না, তেমনি ইখলাসপূর্ণ অশুদ্ধ আমলও গ্রহণীয় নয়। গ্রহণযোগ্য আমল সেটাই, যার মধ্য উভয় বিষয়ের সমন্বয় থাকবে। আমলকে ইখলাসপূর্ণ করতে হলে তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই হতে হবে। আমলকে বিশুদ্ধ হতে হলে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নীতি ও আদর্শের আলোকে হওয়া লাগবে। এরপর তিনি এই আয়াতে কারিমা তিলাওয়াত করলেন—
فمن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملا صالحا ولا يشرك بعبادة ربه أحدا
সুতরাং যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে ও তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।
কুরআনে কারিমে বর্ণিত হয়েছে—
ومن أحسن دينا ممن أسلم وجهه الله وهو محسن.
তার অপেক্ষা দ্বীনে কে উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
এখানে 'আত্মসমর্পণ করা'-এর দ্বারা উদ্দেশ্য—ইখলাসের সাথে আমল করা। 'ইহসান' দ্বারা উদ্দেশ্য—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত ও পদ্ধতির অনুসরণ করা।
**তিনটি বিষয়ে সতর্কতা**
সাহাবি আনাস ইবনু মালিক রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— তিনটি ক্ষেত্রে কোনো মুসলিমের অন্তর যেন 'বিদ্বেষপরায়ণ' (এমন বিদ্বেষ, যা সত্য থেকে তাকে দূরে ঠেলে রাখে) না হয়ে ওঠে—
১. এক আল্লাহর জন্যই ইখলাসের সাথে আমল করা;
২. দায়িত্বশীল ও শাসকদের কল্যাণকামী হওয়া;
৩. এবং মুসলিমদের জামাআত আঁকড়ে ধরা;
কারণ, (ইসলামের) দাওয়াত তাদের সবাইকে একত্রে জড়িয়ে রেখেছে। (অর্থাৎ এসব বিষয়ে বিপরীত করে মানুষ যেন নিজেই নিজেকে ক্ষতির সম্মুখীন না করে।)
টিকাঃ
১৫. মাদারিজুস সালিকিন, ইবনুল কায়্যিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৮৯
১৬. সূরা কাহাফ, আয়াত: ১১০
১৭. সূরা নিসা, আয়াত: ১২৫
১৮. মাদারিজুস সালিকিন, ইবনুল কায়্যিম, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৯০
১৯. জামি তিরমিজি: ২৬৫৮; মুসনাদে আহমদ, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৮৩ হাদিসের মান: আলবানি এটাকে সহিহ বলেছেন, দেখেন- মিশকাতুল মাসাবিহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭৮